৫ম শ্রেণি সাইক্লোন কবিতার প্রশ্ন উত্তর: সাইক্লোন’ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের ধ্বংসাত্মক চিত্র অঙ্কন করেছেন। সাইক্লোনের প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়ার ঝাপটায় চাল, ডাল, খই থেকে শুরু করে গরু, মোষ এবং মূল্যবান বই-বিশ্বকোষ পর্যন্ত সবকিছু খড়কুটোর মতো উড়তে থাকে। খেতের ফসল এবং পশুপাখিরাও এই তণ্ডবলীলার হাত থেকে রক্ষা পায় না।
জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদ-নদীর পানি বেড়ে যায় এবং নৌকার পাল ছিঁড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই চরম বিপদে অসহায় মানুষ আর্তচিৎকার করে এবং রক্ষার জন্য আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়। জলোচ্ছহ্বাসের প্রবল গ্রোতে চম্পাবতীর মতো সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশু ও নদীর চত্রসবই তলিয়ে যায়। কবিতাটি প্রকৃতির প্রলয়ংকরী রূপের সামনে মানুষের চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত দলিল।
৫ম শ্রেণি সাইক্লোন কবিতার প্রশ্ন উত্তর:
সাইক্লোন
-শামসুর রাহমান
চাল উড়ছে, ডাল উড়ছে
উড়ছে গরু, উড়ছে মোষ।
খই উড়ছে, বই উড়ছে
উড়ছে পাঁজি, বিশ্বকোষ।
ময়লা চাদর, ফরসা জামা,
উড়ছে খেতের সরষে, যব।
লক্ষ্মীপ্যাঁচা, পক্ষীছানা
ঘুরছে, যেন চরকি সব।
মাছ উড়ছে, গাছ উড়ছে
ঘূর্ণি হাওয়া ঘুরছে জোর।
খাল ফুলছে, পাল ছিঁড়ছে
রুখবে কারা পানির তোড়?
হারান মাঝি, পরান শেখ
বাতাস ফুঁড়ে দিচ্ছে ডাক।
আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো
উঠল আজান, বাজল শাঁখ।
চম্পাবতীর কেশ ভাসছে
ভাসছে স্রোতে খড়ের ঘর।
শেয়াল কুকুর কুঁকড়ো শালিক
ডুবল সবই, ডুবল চর।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১। শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করি:
বিশ্বকোষ: আমার পড়ার টেবিলে একটি বড় বিশ্বকোষ আছে।
ঘূর্ণি হাওয়া: ঘূর্ণি হাওয়ায় পড়ে পাখির ছানাটি ঘুরছে।
আকাশ ভেঙে: বৃষ্টি নামল যেন আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো পড়ছে।
ধোয়া জামা: উৎসবের দিনে সবাই ধোয়া জামা পরে।
খড়ের ঘর: গ্রামের অনেক গরিব মানুষ এখনো খড়ের ঘরে বাস করে।
২। মিল-শব্দ তৈরি করি:
চাল: ডাল, পাল
খই : বই, মই
গরু : মরু, তরু
মোষ: দোষ, রোষ
জোর: তোড়, ঘোর
ছানা : পানা, দানা
৩। প্রশ্নের উত্তর লিখি:
ক. কবিতায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় ‘সাইক্লোন’ বা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলা হয়েছে।
খ. ঝড়ে কী কী উড়ছে তার তালিকা তৈরি করি।
উত্তর: ঝড়ে উড়ছেচাল, ডাল, গরু, মোষ, খই, বই, পাঁজি, বিশ্বকোষ, ময়লা চাদর, ফরসা জামা, সরষে এবং যব।
গ. চম্পাবতীর কেশ জলে ভাসছে কেন?
উত্তর: সাইক্লোনের ফলে আসা জলোচ্ছাসে চম্পাবতী নামের মেয়েটি ডুবে গেছে, তাই তার মাথার চুল বা কেশ জলে ভাসছে।
ঘ. আজান দেওয়া ও শাঁখ বাজানোর কথা বলা হচ্ছে কেন?
উত্তর: মানুষ যখন বড় কোনো বিপদে পড়ে তখন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে। সাইক্লোনের হাত থেকে বাঁচার জন্য মুসলিমরা আজান দিচ্ছে এবং হিন্দুরা শঙ্খ বা শাঁখ বাজাচ্ছে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৫। কবিতার কাজ-শব্দগুলো আলাদা করি এবং সেগুলো দিয়ে বাক্য লিখি।
ওড়া – সাইক্লোনের প্রচণ্ড বাতাসে টিনের চাল উড়ছে।
ঘোরা – বাতাসের ধাক্কায় পাখির ছানাটি চরকির মতো ঘুরছে।
ফোলা (ফুলছে) – প্রবল বৃষ্টিতে গ্রামের ছোট খালটি ফুলছে।
ছেঁড়া (ছিঁড়ছে) – বাতাসের তীব্র চাপে মাঝির নৌকার পাল ছিঁড়ছে।
ডুবা (ডুবল) – পানির তোড়ে নদীর মাঝখানের চরটি ডুবল।
ভাসা (ভাসছে) – জলোচ্ছ্বাসের গ্রোতে চম্পাবতীর খড়ের ঘর ভাসছে।
বাজা (বাজল) – বিপদ থেকে বাঁচতে মন্দিরে শাঁখ বাজল।
ফোড়া (ফুঁড়ে) – মাঝি বাতাস ফুঁড়ে জোরে ডাক দিচ্ছে।
৬. নিজের দেখা বা শোনা একটি দুর্যোগের বিষয়ে অনুচ্ছেদ লিখি।
একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়
গত বছর আমাদের এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেদিন সকাল থেকেই আকাশ ছিল খুব মেঘলা এবং গুমোট গরম পড়ছিল। দুপুরের পর হঠাৎ চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলাম বড় বড় গাছগুলো বাতাসের তোড়ে খড়কুটোর মতো কাঁপছে এবং মটমট করে ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টির ঝাপটা কাচের গুঁড়োর মতো চোখে-মুখে লাগছিল। আমাদের টিনের চালটি বাতাসের ধাক্কায় এমন শব্দ করছিল যেন মনে হচ্ছিল এই বুঝি উড়ে যাবে। গ্রামের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ও খড়ের গাদা নিমেষেই মাটিতে মিশে গিয়েছিল। পুকুরের পানি উপচে আমাদের উঠানে চলে এসেছিল এবং অনেক গবাদি পশু গ্রোতে ভেসে গিয়েছিল। সেই দুর্যোগের তাণ্ডবলীলা ও মানুষের অসহায়ত্বের কথা মনে পড়লে আজও আমি শিউরে উঠি।
Codehorse Learn Free