৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর: ‘টুকটুক ও চিকু’ গল্পটি মূলত প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র টুকটুক বাগান থেকে একটি আহত ও অসহায় বিড়ালছানা উদ্ধার করে তার নাম রাখে ‘চিকু’। পরম যত্নে ও মমতায় সে চিকুকে সুস্থ করে তোলে এবং চিকুও টুকটুকের প্রিয় বন্ধুতে পরিণত হয়। চিকুর প্রতি এই ভালোবাসা টুকটুকের হৃদয়ে সব প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে। সে পাখিদের খাবার ও পানি দেওয়া শুরু করে এবং যারা প্রাণীদের কষ্ট দেয় তাদের সচেতন করে। বন্ধুদের নিয়ে সে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ক্লাব গড়ে তোলে। গল্পটি আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, পশুপাখিরাও মানুষের বন্ধু হতে পারে এবং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত ভালোবাসা।
৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর:
সেদিন টুকটুক স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল। মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে। কারণ, আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। দুই দিন পর মামাতো ভাইবোনেরা আসবে তাদের বাড়িতে। কী যে মজা হবে! খুশিতে ঝলমল করে উঠল টুকটুকের মুখটা। গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠল, ‘আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি।’
বাড়ির কাছাকাছি এসে টুকটুক হঠাৎ মিউ মিউ শব্দ শুনতে পেল। কৌতূহলী চোখে সে এদিক-ওদিক তাকালো। শব্দ শুনে এগিয়ে যেতেই টুকটুক বাগানের কোণে একটা বিড়ালছানা দেখতে পেল। ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে। কাদামাটি মাখা কঙ্কালসার শরীর নিয়ে মিউ মিউ করে ডাকছে। মনে হচ্ছে, তার একটা পা কেটে গেছে। উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে টুকটুক চারদিকে তাকাল। কাউকে দেখতে পেল না।
টুকটুক এবার বিড়ালছানাটির কাছে গিয়ে বলল, ‘তুমি একা? ভয় পেয়েছ?’ বিড়ালছানাটি মুখ তুলে তাকাল, চোখে যেন পানি। টুকটুকের মন বিড়ালছানার জন্য কেঁদে উঠল। সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে এলো।
দরজায় পা দিয়েই সে মা মা বলে ডাকতে থাকল। মা বিচলিত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। মা দেখলেন, টুকটুক একটি বিড়ালছানা কোলে নিয়ে আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে। আর্তস্বরে বিড়ালটি তখনও কাঁদছে। মাকে দেখে টুকটুক বলল, ‘মা, আমি কি বিড়ালছানাটির একটু যত্ন নিতে পারি?’ মা একটু চিন্তিত হলেন। তারপর বললেন, ‘বিড়ালের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কাজ।’
টুকটুক বলল, ‘মা, আমিই সব করব। তুমি শুধু আমাকে একটু সাহায্য করবে। সুস্থ হয়ে উঠলেই – ছানাটি আবার হাসবে, দেখো।’ মা হেসে বললেন, ‘ঠিক আছে, চেষ্টা করো।’
টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিলো। পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলো। মা একটা ছোট পাত্রে দুধ দিলেন। বিড়ালছানাটি ধীরে ধীরে দুধ খেল। একটু পর ছানাটি টুকটুকের কোলে ঘুমিয়ে পড়ল। টুকটুক ওর নাম রাখল ‘চিকু’।
চিকু দিনে দিনে সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল। ও টুকটুকের পেছন পেছন ঘুরত, রাতে বিছানায় এসে পাশে ঘুমাত। আর সারাদিন চলত তার লম্ফঝম্প। এর মধ্যে এলো টুকটুকের মামাতো ভাইবোন রাতুল ও নীলা। ওরা চড়ুইভাতির আয়োজন করল। ওদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যোগ দিল চিকু। গ্রীষ্মের ছুটির কয়েকটা দিন চিকুকে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটলো ওদের।
একদিন টুকটুক খেলতে গিয়ে দেখল, কয়েকটা ছেলে রাস্তায় একটা বিড়ালছানাকে তাড়া করছে। সে দৌড়ে গিয়ে তাদের থামালো। টুকটুক বলল, ‘ওরা তো ছোট্ট প্রাণী। তোমরা ওকে মারছো কেন?’ একটা ছেলে বলল, ‘আমরা তো মজা করছি।’
টুকটুক রাগ করে বলল, ‘কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?’ ছেলেরা চুপচাপ চলে গেল। টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে মাঠের পাশে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে এলো। তখন বিড়ালছানাটি মিউ মিউ করে ডেকে উঠল, যেন বলছে, ‘ধন্যবাদ বন্ধু!’
এরপর থেকে টুকটুক আশপাশের অন্য পশুপাখির প্রতিও বেশ যত্নবান হয়ে উঠল। পাখিদের জন্য সে প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দেয়। গ্রীষ্মের দাবদাহে বাটি ভরে পানি রেখে দেয়। পাখিরা যেন পানি খেতে পারে। সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে টুকটুক ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে ছোটখাটো একটা ক্লাবও বানিয়ে ফেলল। এই কাজে শ্রেণিশিক্ষক তাদের সহযোগিতা করলেন।
মা একদিন বললেন, ‘তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে!’ টুকটুক হেসে বলল, ‘ও তো শুধু একটা প্রাণী নয় মা, আমার বন্ধুও। আর বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তো সত্যিকারের ভালোবাসা।’
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান
১. ডান পাশ থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য লিখি।
জড়োসড়ো, ঝলমল, আলতো, আনন্দের, জোয়ার, আনন্দ-উচ্ছ্বাস;
ক. মনে তার …………. বইছে।
খ. টুকটুকের মুখটা হাসিতে ………. করে উঠল।
গ. ছানাটি ভয়ে ……….. হয়ে কাঁপছে।
ঘ. চড়ুইভাতির …………. যোগ দিল চিকু।
ঙ. সে ছানাটিকে ……….. করে কোলে তুলে নিল।
উত্তর:
ক. মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে।
খ. টুকটুকের মুখটা হাসিতে ঝলমল করে উঠল।
গ. ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে।
ঘ. চড়ুইভাতির আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যোগ দিল চিকু।
ঙ. সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।
২। প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. টুকটুক গান গেয়ে উঠল কেন?
উত্তর: আগামীকাল থেকে টুকটুকের স্কুলের গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে। ছুটির আনন্দ ও খুশিতে মন ভালো থাকায় টুকটুক গান গেয়ে উঠল।
খ. টুকটুক কোথায় বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল?
উত্তর: বাড়ির কাছাকাছি বাগানে গিয়ে টুকটুক একটি বিড়ালছানাকে দেখতে পেল। ঝোপের আড়ালে ছানাটি ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে কাঁপছিল।
গ. টুকটুকের মন বিড়ালছানাটির জন্য কেঁদে উঠল কেন?
উত্তর: বিড়ালছানাটি ছিল খুবই রোগা এবং ভয়ে কাঁপছিল। তার একটি পা কেটে গিয়েছিল এবং তার চোখের পানি দেখে টুকটুকের খুব মায়া হলো, তাই তার মন কেঁদে উঠল।
ঘ. টুকটুক কীভাবে বিড়ালছানাটির যত্ন নিল?
উত্তর: টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিলো এবং পায়ের কাটা জায়গায় ওষুধ লাগিয়ে দিলো। মা বিড়ালটিকে এক পাত্র দুধ খেতে দিলেন এবং টুকটুক পরম মমতায় তাকে নিজের কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ালো।
ঙ. অন্য পশুপাখির যত্নে টুকটুক কী কী করত?
উত্তর: টুকটুক পাখিদের জন্য প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দিত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে বাটি ভরে পানি রাখত যাতে পাখিরা তৃষ্ণা মেটাতে পারে। এছাড়াও সে কোনো প্রাণীকে কেউ কষ্ট দিলে তাদের বাধা দিত।
চ. ‘প্রাণীদের বন্ধু’ ক্লাবটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা থেকে টুকটুক তার সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ছোটখাটো ক্লাব তৈরি করল। এই ভালো কাজে তাদের শ্রেণিশিক্ষকও পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন।
৩. সঠিক উত্তরসহ বাক্যটি লিখি।
ক. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে –
১. ঈদের ছুটিতে
২. শীতের ছুটিতে
৩. গ্রীষ্মের ছুটিতে
৪. পূজার ছুটিতে
উত্তর: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে গ্রীষ্মের ছুটিতে।
খ. ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে-
১. খিদেয় কাঁপছে
২. ভয়ে কাঁপছে
৩. ৩. ঠান্ডায় কাঁপছে
৪. জ্বরে কাঁপছে
উত্তর: ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে ভয়ে কাঁপছে।
গ. টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল –
১. গামছা দিয়ে
২. জামা দিয়ে
৩. কাপড় দিয়ে
৪. তোয়ালে দিয়ে
উত্তর: টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল তোয়ালে দিয়ে।
ঘ. বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে –
১. রাতুল
২. টুকটুক
৩. নীলা
৪. মা
উত্তর: বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে টুকটুক।
ঙ. চড়ুইভাতির আয়োজন করল –
১. টুকটুক ও নীলা
২. রাতুল ও নীলা
৩. টুকটুক, রাতুল ও নীলা
৪. টুকটুক ও রাতুল
উত্তর: চড়ুইভাতির আয়োজন করল রাতুল ও নীলা
৪. কোন বাক্যে বিবরণ, প্রশ্ন, বিস্ময় বোঝোচ্ছে তা ডান পাশে লিখি।
ক. আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু।-বিবরণ
খ. ভয় পেয়েছ?-প্রশ্ন
গ. অনেক কিছু শিখে গেলে।-বিবরণ
ঘ. টুকটুক ওর নাম রাখল ‘চিকু’।-বিবরণ
ঙ. সত্যি, মাগো!-বিস্ময়
চ. কেন পারবি না?-প্রশ্ন
৫. যতিচিহ্ন বসিয়ে পুনরায় লিখি
ক. টুকটুক স্কুলে পড়ে। (দাঁড়ি)
খ. তোমরা ওদের মারছো কেন? (প্রশ্নচিহ্ন)
গ. কী সুন্দর লাগছে চারদিক! (বিস্ময়চিহ্ন)
ঘ. আহারে, ওর কত কষ্ট! (বিস্ময়চিহ্ন)
ঙ. তুমি কি তার নাম জানো? (প্রশ্নচিহ্ন)
চ. এক্ষুনি চলে আসো। (দাঁড়ি)
৬. গল্পটি শেষ করি (নমুনা)
পাখিটি কিচিরমিচির করে উঠল। আমি বুঝলাম ও খাবার চাইছে। আমি ঘর থেকে কিছু ধান আর একটা ছোট পাত্রে পানি নিয়ে জানালার কার্নিশে রাখলাম। পাখিটি খুশিতে নেচে নেচে খাবার খেল এবং তৃপ্তি ভরে পানি পান করল। তারপর ডানা ঝাপটে নীল আকাশে উড়ে গেল। মনে হলো পাখিটি আমাকে তার ভাষায় ধন্যবাদ জানিয়ে গেল।
৭. আমার প্রিয় প্রাণী (রচনাসংক্ষেপ)
আমার প্রিয় প্রাণী: বিড়াল আমার প্রিয় প্রাণী হলো বিড়াল। আমার একটি পোষা বিড়াল আছে, যার নাম রেখেছি ‘মিনি’। এর সারা শরীর ধবধবে সাদা এবং লোমগুলো খুব নরম। বিড়াল খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণী। এটি মাছ ও দুধ খেতে খুব পছন্দ করে। মিনি সারাদিন আমার আশেপাশে ঘুরে বেড়ায় এবং আমি যখন পড়তে বসি তখন সে আমার পায়ের কাছে এসে ঘুমায়। আমি মিনির খুব যত্ন নিই এবং ওকে অনেক ভালোবাসি।
Codehorse Learn Free