পঞ্চম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন উত্তর
পঞ্চম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রশ্ন উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু এবং গৌরবের প্রতীক, যা মূলত সুন্দরবনে বাস করে। বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড় এই প্রাণীটি দেখতে যেমন রাজসিক, তেমনি দক্ষ শিকারি হিসেবেও ভয়ংকর। এর গায়ে হলুদ-কমলা রঙের ওপর কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে এবং এর প্রখর ইন্দ্রিয়শক্তি (দৃষ্টি, ঘ্রাণ ও শ্রবণ) একে অনন্য করেছে। বাঘের থাবা নরম হওয়ায় সে নিঃশব্দে শিকারের কাছে পৌঁছাতে পারে।

বনের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অপরিসীম, কারণ এটি সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে বর্তমানে চোরাশিকারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাঘের জীবন চরম বিপন্ন। আমাদের অমূল্য সম্পদ এই রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব।

৫ম শ্রেণি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রশ্ন উত্তর:

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু। এ দেশের মানুষের কাছে এটি বাঘ নামে পরিচিত। বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমন ভয়ংকর এর আচরণ। বাংলাদেশের সুন্দরবনে এই প্রাণী দেখা যায়। পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির বাঘ আছে। কিন্তু রয়েল বেঙ্গল টাইগার সবচেয়ে রাজসিক।

বাঘের গায়ের রং হলুদ থেকে গাঢ় কমলা হয়ে থাকে। এর গায়ে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ আছে। বাঘের পেটের দিকটা সাদা। একটি বাঘের দৈর্ঘ্য ২২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর লেজ ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার। কাঁধের দিকে বাঘের উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটারের মতো। পুরুষ বাঘের গড় ওজন ২২০ কেজি, আর বাঘিনীর গড় ওজন ১৪০ কেজি।

বাঘ বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড়ো প্রাণী। তাই বিড়ালকে বলা হয় বাঘের মাসি। বাঘ খুব দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরতে পারে। এদের দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রখর। বাঘের আছে শক্তিশালী থাবা। থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু। তাই চলার সময় শব্দ হয় না। শিকার ধরার সময় থাবা থেকে নখর বেরিয়ে আসে। খাবার চিবানোর জন্য এদের রয়েছে তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত আর মজবুত চোয়াল। একটি বাঘ সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি খাবার খায়। হরিণ, শূকর, বানরের মাংস ইত্যাদি বাঘের প্রধান খাদ্য।

বাঘ খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। বলা হয়ে থাকে, সে নদী বা খাল পার হওয়ার সময়ে ঠিক সোজাসুজি এগিয়ে যায়। যদি স্রোতের কারণে কিছুদূর সরে যায়, তবে আবার ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসে।

এরা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর বাঁচে। বাঘিনী তিন বছর অন্তর ৩-৪টি করে বাচ্চা দেয়। বাচ্চারা প্রায় এক বছর তাদের মায়ের সঙ্গে থাকে। একেকটি পুরুষ বাঘ বনের একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে রাজত্ব করে। সেই রাজত্বে সে অন্য পুরুষ বাঘকে ঢুকতে দেয় না।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা আছে। যেমন- বাঘের কারণে মানুষ সুন্দরবনে ঢুকতে ও বনের গাছ কাটতে ভয় পায়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বাঘের জীবন বিপন্ন হয়। তাছাড়া কিছু লোক চামড়া ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের লোভে বাঘ মেরে ফেলে। তাই সুন্দরবনে দিন দিন বাঘের সংখ্যা কমছে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। পৃথিবীতে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গৌরব বাড়িয়েছে এই প্রাণী। আমাদের দায়িত্ব সুন্দরবনকে রক্ষা করা। না হলে বাঘ বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-

১। খালি জায়গায় শব্দ বসাই

প্রখর, রাজকীয়, ভারসাম্য, বিপন্ন, নখর, ক্ষিপ্র, নির্দিষ্ট;

ক. বাঘটি ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়ে শিকার ধরল।
খ. শিকার ধরার সময়ে বাঘের থাবা থেকে বেরিয়ে আসে নখর
গ. মেয়েটির স্মরণশক্তি রাজকীয়
ঘ. বাঘটি রাজকীয় ভঙ্গিমায় বসে আছে।
ঙ. সুন্দরবন ধ্বংস হতে থাকলে বাঘের জীবন বিপন্ন হবে।
চ. কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
ছ. পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

২। প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি

ক. বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী?
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এটি সাধারণত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবনে বসবাস করে।

খ. কোন কোন বৈশিষ্ট্য বাঘকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে?
উত্তর: বাঘের প্রখর দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি তাকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে। এছাড়াও তার শক্তিশালী থাবা, থাবা থেকে বেরিয়ে আসা নখর, ধারালো দাঁত এবং মজবুত চোয়াল তাকে শিকার ধরতে ও চিবিয়ে খেতে সাহায্য করে। তার থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু হওয়ায় সে নিঃশব্দে চলাফেরা করে শিকারের কাছে পৌঁছাতে পারে।

গ. রয়েল বেঙ্গল টাইগার কমে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো কিছু লোভী মানুষের বাঘ শিকার। তারা বাঘের চামড়া ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের লোভে বাঘ মেরে ফেলে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বনের গাছ কাটার ফলেও বাঘের আবাস্থল নষ্ট হয়ে তাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

ঘ. বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয় কেন?
উত্তর: বাঘ হলো বিড়াল প্রজাতির প্রাণী এবং বিড়াল প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে বাঘই সবচেয়ে বড়। বাঘ ও বিড়ালের মধ্যে আকারগত বড় ব্যবধান থাকলেও এদের শারীরিক গঠন ও অনেক আচরণে মিল থাকায় মজার ছলে বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়।

ঙ. বাঘের সাঁতারের ব্যাপারে কী বলা হয়?
উত্তর: বাঘের সাঁতারের ব্যাপারে বলা হয় যে, বাঘ খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। সে নদী বা খাল পার হওয়ার সময় ঠিক সোজাসুজি এগিয়ে যায়। যদি গ্রোতের কারণে কিছুটা সরেও যায়, তবুও সে আবার ঠিক আগের অবস্থানে ফিরে এসে সাঁতরে গন্তব্যে পৌঁছায়।


৩। পাঠ থেকে প্রশ্ন তৈরি করি

কে: রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে কে না চেনে?
কী: বাঘের প্রধান খাদ্য কী?
কখন: বাঘিনী কখন বা কত বছর অন্তর বাচ্চা দেয়?
কোথায়: রয়েল বেঙ্গল টাইগার কোথায় বাস করে?
কেন: বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমছে কেন?
কীভাবে: বাঘ কীভাবে শব্দহীনভাবে চলাচল করে?

📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now

৪। বিপরীত শব্দ লিখি এবং সেই শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করি

শব্দ-বিপরীত শব্দ-বাক্য গঠন
নরম-শক্ত-পাথর খুব শক্ত বস্তু।
সুন্দর-কুৎসিত-মিথ্যা বলা একটি কুৎসিত অভ্যাস।
সোজা-বাঁকা-নদীটি অনেক বাঁকা পথে চলেছে।
তীক্ষ্ণ-ভোঁতা-এই দা-টি খুব ভোঁতা, কিছু কাটা যাচ্ছে না।
মজবুত-নড়বড়ে-পুরনো টেবিলটি খুব নড়বড়ে হয়ে গেছে।


৫। চারপাশে কোন কোন পশুপাখি দেখি তার একটি তালিকা করি।

পশু: বিড়াল, কুকুর, গরু, ছাগল, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি।
পাখি: চড়ুই, শালিক, কাক, কবুতর, বক, ফিঙে, টিয়া।

Read More: ৫ম শ্রেণি সাইক্লোন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

Read More: ৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

পঞ্চম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর: ‘টুকটুক ও চিকু’ গল্পটি মূলত প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *