পঞ্চম শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা প্রথম অধ্যায় কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নোত্তর: মুসলিম চরিত্রে থাকবে আল্লাহ তায়ালার ভয়। সবকিছুর মালিক আল্লাহ তায়ালা-এ ধারণা নিয়ে পৃথিবীতে সে বাস করবে। সারা পৃথিবীর মানুষের দখলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর দান। কোনো জিনিসের এমনকি আমার নিজের দেহের মালিকও আমি নিজে নই। সবকিছু আল্লাহ তায়ালার দেওয়া আমানত। এ আমানত থেকে খরচ করার যে স্বাধীনতা আমাকে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তা খরচ করাই হলো আমার কর্তব্য। একদিন আল্লাহ তায়ালা আমার কাছ থেকে এ আমানত ফেরত নেবেন। কিয়ামতের দিন আমাকে প্রত্যেকটি জিনিসের হিসাব দিতে হবে।
পঞ্চম শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা প্রথম অধ্যায় কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নোত্তর:
প্রশ্ন ১। আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহকে কী বলে? আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহকে আসমাউল হুসনা বলে। আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. আল্লাহ সাগর সৃষ্টি করেছেন।
২. আল্লাহ জীবজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
৩. চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহ সৃষ্টি করেছেন।
৪. আল্লাহ তায়ালা মেহেরবানি করে মানুষেরই মধ্য থেকে এমন সব মহামানব সৃষ্টি করেছেন, যাঁদের তিনি দিয়েছেন নিজের গুণাবলি সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান।
প্রশ্ন ২। সারা বিশ্বের পালনকর্তা কে? তাঁর একটি গুণবাচক নাম লেখ। তাঁকে সন্তুষ্ট করতে তুমি কর এমন চারটি কাজের নাম লেখ।
উত্তর: সারা বিশ্বের পালনকর্তা আল্লাহ তায়ালা। তাঁর একটি গুণবাচক নাম হলো আল্লাহু গাফুরুন। তাঁকে সন্তুষ্ট করতে আমি করি এমন চারটি কাজ হলো-
১. ভুল হলে সাথে সাথে ক্ষমা চাই।
২. অন্যায় কিছু বলি না।
৩. কাউকে গালি দিই না।
৪. মিথ্যা কথা বলি না।
প্রশ্ন ৩। আল্লাহর গুণবাচক নাম কয়টি? তাঁর পাঁচটি গুণ লেখ।
উত্তর: আল্লাহর গুণবাচক নাম ৯৯টি। তাঁর পাঁচটি গুণ হলো-
১. আল্লাহ পরম দয়ালু।
২. আল্লাহ রিজিকদাতা।
৩. আল্লাহ সবার লালন-পালনকারী।
৪. আল্লাহ সবকিছুর খবর রাখেন।
৫. আল্লাহ সবকিছু দেখেন।
প্রশ্ন ৪। নিখিল বিশ্বের পালনকর্তা কে? তিনি কীভাবে আমাদের লালন-পালন করেন এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: নিখিল বিশ্বের পালনকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি আমাদেরকে যেভাবে লালনপালন করেন সে সম্পর্কে চারটি নিচে বাক্য দেওয়া হলো-
১. আল্লাহ খাদ্যের যোগান দেন।
২. তিনি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করেন
৩. তিনি প্রয়োজনীয় আলো, বাতাস দেন।
৪. তিনি সুপেয় পানি দান করেন।
প্রশ্ন ৫। এ বিশ্ব প্রকৃতির স্রষ্টা কে? পাঁচটি বাক্যে তাঁর পরিচয় লেখ।
উত্তর: মহান আল্লাহ তায়ালা এ বিশ্ব প্রকৃতির স্রষ্টা। তাঁর সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য হলো-
১. মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়।
২. তাঁর কোনো শরিক নেই।
৩. তাঁর সত্তা ও গুণের সাথে তুলনা করা যায় এমন কোনো কিছুই নেই।
৪. তিনি এ বিশ্বের একচ্ছত্র মালিক বা অধিপতি।
৫. তিনি অনাদি, অনন্ত।
প্রশ্ন ৬। পানির অপর নাম কী? আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি সম্পকে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: পানির অপর নাম জীবন। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা আল্লাহর সৃষ্টি।
২. আকাশ, বাতাস, মাটি ও খনিজ দ্রব্য আল্লাহর সৃষ্টি।
৩. সাগর, মহাসাগর, ঝর্ণাধারা, জলপ্রপাত আল্লাহর সৃষ্টি।
৪. বাঘ, ভালুক, সিংহ, হাতি, ফুল-ফল, বন-জঙ্গল, মরুভূমি, ইত্যাদি আল্লাহর সৃষ্টি।
প্রশ্ন ৭। “তিনি এগুলো শুধু সৃষ্টিই করেননি, এগুলো তিনি লালন-পালনও করছেন।” এখানে ‘তিনি’ কে? তাঁর সৃষ্টির লালন-পালন সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: তিনি হলেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টির লালন-পালনকারী। তাঁর সৃষ্টির লালন-পালনকারী সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. পশু-পাখির তিনিই খাদ্যের যোগান দেন।
২. মাতৃগর্ভের শিশুর খাদ্যের ব্যবস্থা তিনি করেন।
৩. গাছপালার খাদ্যের ব্যবস্থাও তিনি করেন।
৪. নীল তিমি, হাঙ্গর, কুমিরসহ যাবতীয় মাছের খাদ্যের যোগানের পাশাপাশি সকল মানুষের রিজিকদাতাও তিনি।
প্রশ্ন ৮। ইমান কাকে বলে? ইমানের জন্য কী প্রয়োজন? আল্লাহর অস্তিত্বের চারটি নিদর্শন লেখ।
উত্তর: ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস স্থাপন। আল্লাহর বিধান, আদেশ নিষেধ মেনে চলার নামই ইমান। ইমানের জন্য আল্লাহর আনুগত্যের প্রয়োজন। আল্লাহর অস্তিত্বের চারটি নিদর্শন হলো-
১. আল্লাহ সাগর সৃষ্টি করেছেন।
২. জীবজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
৩. পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন।
৪. আলো, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন
প্রশ্ন ৯। মুমিন কাকে বলে? একজন মুমিনের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ব, তাঁর গুণাবলি, তাঁর বিধান এবং তাঁর পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কে জানে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে তাকে মুমিন বলে।
একজন মুমিনের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. সবসময় আল্লাহর দীন মেনে চলা।
২. আমানতের খিয়ানত না করা।
৩. আল্লাহর ইবাদতের কোনো কার্পণ্য না করা।
৪. আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা পালন করা।
প্রশ্ন ১০। হাসান সাহেব মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করেন এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী চলেন। হাসান সাহেবের পরিচয় কী? তার চরিত্র কেমন হবে? এরূপ ব্যক্তি সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: ইমান অর্থ বিশ্বাস স্থাপন। মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী চলার নামই ইমান। যিনি ইমান আনেন তাঁকে বলে মুমিন। সুতরাং হাসান সাহেব একজন মুমিন।
একজন মুমিনের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. সবসময় আল্লাহর দীন মেনে চলা।
২. আমানতের খিয়ানত না করা।
৩. আল্লাহর ইবাদতের কোনো কার্পণ্য না করা।
৪. আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা পালন করা।
প্রশ্ন ১১। ‘আল্লাহ্ গাফুরুন’ অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালার পরিচয় সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: আল্লাহ্ গাফুরুন অর্থ হলো- আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ তায়ালার পরিচয় সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়।
২. আল্লাহ সারা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা।
৩. আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল।
৪. আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বশক্তিমান।
প্রশ্ন ১২। দৈনন্দিন জীবনে তুমি কোথায় কোথায় সহনশীলতা দেখাও তা পাঁচটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে যেসব ক্ষেত্রে আমি সহনশীলতা দেখাই তাঁর পাঁচটি বাক্য হলো-
১. লেখাপড়ার সময়।
২. খেলাধুলার সময়।
৩. পারিবারিক কাজের সময়।
৪. বড় বা ছোটদের আদেশ-নিষেধের সময়।
৫. যাতায়াতের সময়।
প্রশ্ন ১৩। কে অতি সহনশীল? আল্লাহর এ গুণের প্রভাবে তুমি কী করবে ৪টি বাক্যে লেখ।
উত্তর: মহান আল্লাহ অতি সহনশীল। তাঁর এ মহান গুণের প্রভাবে আমি যা করব তা হলো-
১. বিপদে ধৈর্যধারণ করব।
২. জুলুমের শিকার হলে সবর করব।
৩. অন্যায়কারীকে শোধরাবার সুযোগ দেব।
৪. শত্রুকে ক্ষমা করে দেব।
প্রশ্ন ১৪। আল্লাহ অতি সহনশীল ছয়টি বাক্যে বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: আল্লাহ অতি সহনশীল। নিচে ছয়টি বাক্যে তা বুঝিয়ে লেখা হলো-
১. আমরা অনেক সময় অপরাধ করে ফেলি।
২. কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে সাথে সাথেই শাস্তি দেন না।
৩. তিনি সহনশীলতার পরিচয় দেন।
৪. অপরাধীকে অনুতপ্ত হওয়ার সময় দেন।
৫. তিনি পুনরায় পাপ কাজ না করার সংকল্প গ্রহণ বা তাওবা করার সুযোগ দেন।
৬. অতএব বলা যায়, আল্লাহ অতি সহনশীল।
প্রশ্ন ১৫। ‘ক্বাদীরুন’ শব্দের অর্থ কী? আল্লাহু কাদীরুন- এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: ‘ক্বাদীরুন’ শব্দের অর্থ সর্বশক্তিমান। আল্লাহ্ ক্বাদীরুন- এ সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. আকাশ ও পৃথিবীর ‘সবকিছু আল্লাহর শক্তির অধীন।
২. আল্লাহ তায়ালা কারও ভালো করতে চাইলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না।
৩. আল্লাহ কারও ক্ষতি করতে চাইলে কেউ তা রোধ করতে পারে না।
৪. আল্লাহ তায়ালা একাই বিশ্বজগৎ পরিচালনা করেন।
প্রশ্ন ১৬। বাসিরুন শব্দের অর্থ কী? মহান আল্লাহর বাসিরুন গুণের প্রভাব সম্পর্কে ৪টি বাক্য লেখ।
উত্তর: বাসিরুন শব্দের অর্থ সর্বদ্রষ্টা। মহান আল্লাহর বাসিরুন গুণের প্রভাব সম্পর্কিত চারটি বাক্য নিচে দেওয়া হলো-
১. আল্লাহ তায়ালা সকল কিছু দেখেন।
২. আমরা যা প্রকাশ্যে করি তা আল্লাহ দেখেন।
৩. আমরা যা গোপনে করি তাও আল্লাহ দেখেন।
৪. সাগরের তলদেশের অতি ক্ষুদ্র প্রাণীর সব অবস্থা তিনি দেখেন।
প্রশ্ন ১৭। রিসালাত কী? নবি-রাসুলগণের শিক্ষা অনুসরণে তুমি কর এমন চারটি কাজ লেখ।
উত্তর: রিসালাত হলো নবি-রাসুলদের আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব। নবি-রাসুলগণের শিক্ষা অনুসরণে আমি যে চারটি কাজ করি তা হলো-
১. সর্বদা সত্য কথা বলি।
২. বাবা-মাকে কষ্ট দিই না।
৩. আল্লাহর হুকুম মেনে চলি।
৪. পাপাচার থেকে বিরত থাকি।
প্রশ্ন ১৮। কবরে মানুষকে কারা প্রশ্ন করবেন? তারা কী কী প্রশ্ন করবেন?
উত্তর: কবরে মুনকার ও নাকির নামক দুজন ফেরেশতা প্রত্যেক মানুষকে তিনটি প্রশ্ন করবেন।
কবরে যে তিনটি প্রশ্ন করা হবে তা হলো-
১. মান রাব্বুকা। অর্থ: তোমার রব কে?
২. মা দীনুকা। অর্থ: তোমার দীন বা জীবনব্যবস্থা কী? অর্থাৎ কোন ধর্মের অনুসারী?
৩. মান হাযার রাজুল। অর্থ: এই ব্যক্তি কে?
প্রশ্ন ১৯। কিয়ামতের ভয়াবহতা জেনে তুমি কোন কাজগুলো থেকে বিরত থাকবে পাঁচটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: কিয়ামতের ভয়াবহতা জেনে আমি যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকব তা হলো-
১. সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকব।
২. সকল অন্যায়-অবিচার ও জুলুম থেকে নিজেকে দূরে রাখব।
৩. আল্লাহর, সাথে কাউকে শরিক করব না।
৪. বেশি বেশি পুণ্যের কাজ করব।
৫. আমানতের খেয়ানত করব না।
প্রশ্ন ২০। জান্নাত ও জাহান্নাম কী? জাহান্নামের ভয়াবহতা জেনে তুমি কী কর তা চারটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: জান্নাত হলো চিরস্থায়ী সুখের স্থান। আর জাহান্নাম হলো চিরস্থায়ী কষ্টের স্থান। জাহান্নামের ভয়াবহতা জেনে আমি যেসব
কাজ করি তা হলো-
১. আল্লাহ ও রাসুল (স.)-এর ওপর ইমান আনি।
২. আল্লাহ ও রাসুল (স.)-এর কথামতো চলি।
৩. ভালো কাজ করি।
৪. সর্বদা সত্য কথা বলি।
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ অনুশীলনী
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Read More: পঞ্চম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ শূন্যস্থান পূরণ
Read More: আকাইদ পঞ্চম শ্রেণি ডান বাম মিলকরণ
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নোত্তর
Codehorse Learn Free