পঞ্চম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: আল্লাহ তায়ালার পরিচয় – আমরা জানি, কাঠমিস্ত্রি কাঠ দিয়ে চেয়ার, টেবিল, খাটসহ আরও অনেক কিছু তৈরি করে। রাজমিস্ত্রি ইটের ওপর ইট সাজিয়ে দালানকোঠা তৈরি করে। বড় বড় ইমারত তৈরি করে। এসব কোনো কিছুই নিজে নিজে তৈরি হয় না। কেউ সৃষ্টি না করলে কোনো কিছুই সৃষ্টি হয় না। আমাদের মাথার ওপর সুন্দর সুনীল আকাশ, মিটিমিটি তারা, গ্রহ-উপগ্রহ, পৃথিবী থেকে তেরো লক্ষ গুণ বড় প্রখর সূর্য নিজে নিজেই কি সৃষ্টি হয়ে গেছে? না, সবকিছুরই একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। তিনি কে? তিনি মহান আল্লাহ।
পঞ্চম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন (✓) দাও।
১. আমাদের পালনকর্তা কে?
ক) আব্বা-আম্মা
খ) আল্লাহ তায়ালা✓
গ) ডাক্তার
ঘ) পীরমুর্শিদ।
২. আল আসমাউল হুসনা বলা হয় কাকে?
ক) মানুষের গুণাবলিকে
খ) ফেরেশতার গুণাবলিকে
গ) আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহকে✓
ঘ) নবিগণের গুণাবলিকে।
৩. ‘খালিক’ শব্দের অর্থ কী?
ক) পালনকর্তা
খ) সৃষ্টিকর্তা✓
গ) রিজিকদাতা
ঘ) দয়ালু।
৪. ‘বাসিরুন’ শব্দের অর্থ কী?
ক) সর্বশ্রোতা
খ) সহনশীল
গ) সর্বশক্তিমান
ঘ) সর্বদ্রষ্টা।✓
৫. ‘সামীউন’ শব্দের অর্থ কী?
ক) সব শোনেন✓
খ) সব জানেন
গ) সব দেখেন
ঘ) অতিসহনশীল।
৬. সর্বশেষ নবির নাম কী?
ক) হযরত ইউসুফ (আ)
খ) হযরত ঈসা (আ)
গ) হযরত মুহাম্মদ (স)✓
ঘ) হযরত মুসা (আ)।
৭. ‘ক্বাদীরুন’ শব্দের অর্থ কী?
ক) সর্বশক্তিমান✓
খ) সর্বশ্রোতা
গ) সর্বদ্রষ্টা
ঘ) সৃষ্টিকর্তা।
খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:
১. আনুগত্যের জন্য___প্রয়োজন।
২. আল্লাহ তায়ালার গুণে___গুণান্বিত করতে হবে।
৩. আল্লাহ তায়ালা আমাদের___।
৪. আমরা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার___করব।
৫. আমরা কথা দিয়ে কথা___।
উত্তর: ১. ইমানের; ২. নিজেকে; ৩. রব; ৪. আনুগত্য; ৫. ভঙ্গ করব না।
গ. ডান পাশের সঠিক শব্দগুলো দিয়ে বাম পাশের শব্দগুলোর সাথে মিল কর।
| বাম | ডান |
|---|---|
| ১। গাফুরুন অর্থ | অতি সহনশীল |
| ২। হালিমুন অর্থ | অতি ক্ষমাশীল |
| ৩। রাসুল অর্থ | চিরস্থায়ী সুখের স্থান |
| ৪। জান্নাত হলো | চিরস্থায়ী কষ্টের স্থান |
| ৫। জাহান্নাম অর্থ | বার্তাবাহক |
উত্তর:
১. গাফুরুন অর্থ অতি ক্ষমাশীল।
২. হালিমুন অর্থ অতি সহনশীল।
৩. রাসুল অর্থ বার্তাবাহক।
৪. জান্নাত হলো চিরস্থায়ী সুখের স্থান।
৫. জাহান্নাম অর্থ চিরস্থায়ী কষ্টের স্থান।
ঘ. সংক্ষিপ্ত উত্তর-প্রশ্ন:
প্রশ্ন ১। ইমান শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ইমান’ শব্দের অর্থ- বিশ্বাস স্থাপন, আস্থা স্থাপন, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা, মেনে নেওয়া ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২। সারা বিশ্বের পালনকর্তা কে?
উত্তর: সারা বিশ্বের পালনকর্তা আল্লাহ তায়ালা। তিনি এ বিশ্বজগতের অধিপতি বা মালিক। তিনি এক ও অদ্বিতীয় সত্তা।
প্রশ্ন ৩। আমাদের দীনের নাম কী?
উত্তর: আমাদের দীনের নাম ইসলাম। ইসলাম হলো পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানবজীবনের সকল বিষয় ও সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানের দিকনির্দেশনা এতে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ৪। আমরা কী বলে আল্লাহর শোকর আদায় করব?
উত্তর: আমরা “আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” বলে আল্লাহর শোকর আদায় করব।
প্রশ্ন ৫। আখিরাত মানে কী?
উত্তর: আখিরাত আরবি শব্দ। আখিরাত মানে পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়।
ঙ. বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে জানা ‘ও ইমান আনার জন্য আমাদের কী কী জানা জরুরি?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে জানা ও ইমান আনার জন্য আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। যেমন-
i) আমরা আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানব ও ইমান আনব।
ii) আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান অর্জন করব।
iii) আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করার সঠিক পথ সম্পর্কে জানব।
iv) আল্লাহর আইন বিধানের জ্ঞান অর্জন করব এবং তা অনুসরণ করেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করব।
v) আল্লাহর বিধান আছে কুরআন মজিদে। তাই কুরআন মজিদ পড়ব ও অধ্যয়ন করব।
প্রশ্ন ২। মুমিন কাকে বলে? ইমানের ফল কী?
উত্তর: যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ব, তাঁর গুণাবলি, তাঁর বিধান এবং তাঁর পুরষ্কার ও শাস্তি সম্পর্কে জানে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে তাকে মুমিন বলে। ইমানের ফল হলো মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে তোলা। অর্থাৎ ইমান মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। মন্দ অভ্যাস ও খারাপ কার্যাবলি হতে বিরত রাখে। ইমান মানুষকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির ব্যাপারে সতর্ক করে। ফলে সে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৩। সারা বিশ্বের পালনকর্তা কে? তাঁর লালন-পালনের একটি বর্ণনা দাও।
উত্তর: সারা বিশ্বের পালনকর্তা হলেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের লালন-পালন ও জীবনধারণের প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন- আলো, বাতাস, পানি, খাদ্য ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর অনুগ্রহে সবাই বেঁচে আছে। আমাদের চারপাশে রয়েছে জীবজন্তু, পশুপাখি, গাছপালাসহ আরও অনেক কিছু। তিনি এগুলোকে খাদ্য, পানি ও আলো-বাতাস দিয়ে লালন-পালন করেন।
প্রশ্ন ৪। আল্লাহ তায়ালার ৫টি গুণের নাম বাংলা অর্থসহ আরবিতে লেখ।
উত্তর: আল্লাহ তায়ালার ৫টি গুণের নাম বাংলা অর্থসহ নিচে দেওয়া হলো-
| ক্র. নং | আরবি নাম | উচ্চারণ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | اللَّهُ غَفُورٌ | আল্লাহু গাফুরুন | আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল। |
| ২ | اللَّهُ حَلِيمٌ | আল্লাহু হালিমুন | আল্লাহ অতি সহনশীল। |
| ৩ | اللَّهُ سَمِيعٌ | আল্লাহু সামিয়ুন | আল্লাহ সর্বশ্রোতা। |
| ৪ | اللَّهُ بَصِيرٌ | আল্লাহু বাসিরুন | আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা। |
| ৫ | اللَّهُ قَدِيرٌ | আল্লাহু কাদিরুন | আল্লাহ সর্বশক্তিমান। |
প্রশ্ন ৫। আল্লাহ ক্ষমাশীল তা বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: যখন আমরা অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হই এবং ভুল স্বীকার করি তখন অন্যায়ের শাস্তি না দিয়ে মাফ করে দেওয়াকে ক্ষমা বলা হয়। মহান আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল। তাই বলা হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল। আমরা অন্যায় কাজ করে যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই, তাহলে আল্লাহ খুশি হন এবং ক্ষমা করে দেন। এ গুণের জন্য আল্লাহকে গাফুরুন বলা হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মজিদে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল-করুণাময়।”।
প্রশ্ন ৬। নবি-রাসুলগণের শিক্ষার মূল কথাগুলো কী কী?
উত্তর: নবি-রাসুলগণের শিক্ষার মূল কথাগুলো হলো-
১. তাওহিদ: আল্লাহ এক। তাঁর কোনো শরিক নেই।
২. রিসালাত : আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছানো।
৩. দীন: আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে জানানো।
৪. আখলাক: চারিত্রিক গুণ ও ড়ালো ব্যবহারের নিয়মকানুন শিক্ষাদান।
৫. শরিয়ত: হালাল-হারাম ও জায়েজ-নাজায়েজের শিক্ষা প্রদান।
৬. আখিরাত: মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে জানানো।
পৃথিবীর প্রত্যেক এলাকার মানুষকে এই কথাগুলো শেখানোর ‘জন্যই নবি-রাসুলগণ এসেছেন। তাঁরা ছিলেন পথপ্রদর্শক।
প্রশ্ন ৭। আখিরাত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কী কী?
উত্তর: আখিরাত মানে পরকাল। আখিরাত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. কবর: আখিরাতের প্রথম ধাপ হলো কবর। যেখানে পুণ্যবানরা শান্তি পাবে আর পাপীরা শাস্তি পাবে।
২. কিয়ামত: কিয়ামত হলো যেদিন বিশ্বজগৎ ও এর সবকিছু ধ্বংস করা হবে।
৩. হাশর: হাশর হলো কিয়ামতের পর যখন আল্লাহ তায়ালা সবাইকে পাপ-পুণ্যের বিচারের জন্য পুনরায় জীবিত করে একত্রিত করবেন।
৪. মিযান: মিযান দ্বারা হাশরের দিন আমাদের পাপ ও পুণ্যের আমলনামা ওজন করা হবে।
৫. জান্নাত ও জাহান্নাম: যাদের পাপের পাল্লা ভারী হবে তারা
দোযখে যাবে এবং যাদের নেকির পাল্লা ভারী হবে তারা জান্নাতে যাবে।
প্রশ্ন ৮। একজন মুসলিমের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত- এ সম্পর্কে ১০টি বাক্য লেখ।
উত্তর: একজন মুসলিমের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ১০টি বাক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১। একজন মুসলিমের চরিত্র হবে সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ।
২। তিনি সবসময় নম্র ও ভদ্রভাবে কথা বলবেন এবং কারও সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না।
৩। ধৈর্য ও সহনশীলতা একজন প্রকৃত মুসলিমের অন্যতম গুণ।
৪। ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী তিনি সবসময় সততা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখবেন।
৫। মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা মুসলিম চরিত্রের অংশ।
৬। অহংকার ও গর্ব পরিত্যাগ করে বিনয়ী হওয়া একজন মুসলিমের কর্তব্য।
৭। প্রতিটি কাজে ন্যায়ের পথ অনুসরণ করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত।
৮। একজন প্রকৃত মুসলিম কখনো কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করেন না।
৯। তিনি পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হবেন এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করবেন।
১০। সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে সৎ পথে চলা একজন মুসলিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ অনুশীলনী
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Read More: পঞ্চম শ্রেণি আকাইদ অধ্যায় ১ শূন্যস্থান পূরণ
Read More: আকাইদ পঞ্চম শ্রেণি ডান বাম মিলকরণ
Read More: ৫ম শ্রেণি আকাইদ কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নোত্তর
Read More: ৫ম শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ইবাদত প্রশ্ন উত্তর
Codehorse Learn Free