জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: জীবনের জন্য সকল জীবের খাদ্য প্রয়োজন। প্রাণী ও উদ্ভিদ খাদ্যের জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতিতে কোনো কোনো প্রাণী ঘাস, লতাপাতা, ফল ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার কোনো প্রাণী অন্য প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। যেসকল প্রাণী অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদকে খায় তারা হলো খাদক। আর যেসকল জিনিস খাওয়া হয় অর্থাৎ যা খেয়ে প্রাণী জীবন ধারণ করে তাকে খাদ্য বলে।
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন:
খাদ্য এবং খাদকের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি হয়। উপরের প্রবাহচিত্রটিতে দেখা যায়, পরিবেশের জীবগুলো খাদ্য গ্রহণের বিবেচনায় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। একটি খাদক অন্য প্রাণীর কাছে খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সম্পর্কটিই খাদ্যশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত।
খাদ্যশৃঙ্খল-
বেঁচে থাকার জন্য জীবের শক্তি প্রয়োজন হয়। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী খাদ্য থেকে এই শক্তি পায়। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এই শক্তি বিভিন্ন প্রাণীতে স্থানান্তরিত হয়। খাদ্য এবং খাদকের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এদেরকে উৎপাদক ও খাদক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উৎপাদক-
সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজেই উৎপাদন করতে পারে। সবুজ উদ্ভিদকে উৎপাদক বলা হয়।
খাদক-
প্রাণীরা নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না। সবুজ উদ্ভিদ এবং তাদের তৈরিকৃত খাদ্যের ওপর প্রাণীরা নির্ভরশীল। এজন্য প্রাণীদের বলা হয় খাদক। যে সকল প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তারা হলো প্রথম স্তরের খাদক। যেমন-ঘাসফড়িং, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি। যে সকল প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে, তারা হলো দ্বিতীয় স্তরের খাদক, যেমন-ব্যাঙ, শিয়াল ইত্যাদি প্রাণী। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদককে যারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তারা হলো তৃতীয় স্তরের খাদক, যেমন- সাপ, ঈগল, বাঘ ইত্যাদি। অধিকাংশ তৃতীয় স্তরের খাদক মাংসভোজী। খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরকে খাদ্যস্তর (Trophic level) বলে।
খাদ্যজাল-
কোনো বাস্তুসংস্থানে বিদ্যমান একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। খাদ্যশৃঙ্খলসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে জালের মতো জটিল যে অবস্থা তৈরি করে, তাকে খাদ্যজাল বলে। খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মাধ্যমে একই পরিবেশে বসবাসকারী বিভিন্ন জীবের মধ্যে শক্তি ও খাদ্যের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)
ক) আবাসস্থল কী?
উত্তর: যে স্থানে কোনো জীব স্বাভাবিকভাবে বাস করে, খাদ্য সংগ্রহ করে এবং বংশবিস্তার করে, তাকে সেই জীবের আবাসস্থল বলে।
খ) জীবের আবাসস্থল কেন প্রয়োজন?
উত্তর: আবাসস্থল থেকে জীব খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা পায়। আবাসস্থল ছাড়া কোনো জীব দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না।
গ) স্থলজ আবাসস্থল কাকে বলে?
উত্তর: যে আবাসস্থল ভূমি বা মাটির উপর অবস্থিত, তাকে স্থলজ আবাসস্থল বলে। মানুষ, বাঘ ও গাছ স্থলজ আবাসস্থলে বাস করে।
ঘ) জলজ আবাসস্থল কী?
উত্তর: পানিতে অবস্থিত আবাসস্থলকে জলজ আবাসস্থল বলে। মাছ, কাঁকড়া ও শাপলা জলজ আবাসস্থলের জীব।
ঙ) জলজ প্রাণীর দুটি উদাহরণ লেখো।
উত্তর: মাছ ও তিমি জলজ প্রাণীর উদাহরণ।
চ) স্থলজ প্রাণীর দুটি উদাহরণ লেখো।
উত্তর: গরু ও বাঘ স্থলজ প্রাণীর উদাহরণ।
ছ) জলজ উদ্ভিদের একটি উদাহরণ লেখো।
উত্তর: শাপলা একটি জলজ উদ্ভিদ।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
জ) মরুভূমির আবাসস্থলের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: মরুভূমিতে পানি খুব কম থাকে এবং তাপমাত্রা বেশি হয়। এখানকার জীবেরা কম পানিতে বেঁচে থাকার উপযোগী অভিযোজন গড়ে তোলে।
ঝ) মরুভূমির একটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: উট মরুভূমির একটি প্রাণী। এটি দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকতে পারে।
ঞ) বনভূমি কাকে বলে?
উত্তর: যেখানে প্রচুর গাছপালা ও নানা প্রাণী থাকে, তাকে বনভূমি বলে। বনভূমি বহু জীবের আবাসস্থল।
ট) বনভূমিতে কেন বেশি জীব দেখা যায়?
উত্তর: বনভূমিতে খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা বেশি থাকে, তাই সেখানে নানা ধরনের জীব বাস করতে পারে।
ঠ) পাহাড়ি অঞ্চলের আবাসস্থল কেমন?
উত্তর: পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা কম এবং ভূমি উঁচু-নিচু হয়। এখানকার জীবেরা ঠান্ডা পরিবেশে মানিয়ে নেয়।
ড) আবাসস্থল পরিবর্তন হলে জীবের কী হয়?
উত্তর: আবাসস্থল নষ্ট বা পরিবর্তিত হলে জীবের জীবন বিপন্ন হয়। অনেক সময় তারা মারা যায় বা অন্য স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়।
ঢ) মানুষের কারণে আবাসস্থল কীভাবে নষ্ট হয়?
উত্তর: গাছ কাটা, বন ধ্বংস ও দূষণের কারণে মানুষের কার্যকলাপে আবাসস্থল নষ্ট হয়। এতে বহু জীব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ণ) পুকুর কোন ধরনের আবাসস্থল?
উত্তর: পুকুর একটি জলজ আবাসস্থল। এখানে মাছ, ব্যাঙ ও জলজ উদ্ভিদ বাস করে।
ত) পাখির আবাসস্থল কোথায়?
উত্তর: পাখিরা সাধারণত গাছে বা পাহাড়ে বাসা বানিয়ে থাকে। সেখানেই তারা নিরাপদে জীবনযাপন করে।
Codehorse Learn Free