এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করব।

প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর:

০১. চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়’- বিশ্লেষণ কর।

উত্তরপত্র (১নং প্রশ্ন)

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।

খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন- বন্দি লোকটির পরোপকারের কথা শুনে তাঁর প্রতিবিধান ভাবনায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ডেমাস্কাসবাসী এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ঈর্ষাবশত দোষারোপের শিকার হয়ে খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। খলিফা মামুন তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। কথা প্রসঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন এই বন্দি ব্যক্তিই তাঁর প্রাণরক্ষাকারী আশ্রয়দাতা। তিনি তাঁকে শৃঙ্খলমুক্ত করে পালিয়ে যেতে বললেন। তখন ওই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে ফেলে চলে যেতে রাজি হলেন না। পরদিন এসব ঘটনা আলী ইবনে আব্বাস সবিস্তারে দরবারে উপস্থাপন করলে খলিফা মামুন বন্দির প্রতি ন্যায়বিচারের ভাবনায় কিছুক্ষণ মৌন হয়ে থাকেন। সারকথা: সব ঘটনা শুনে বন্দি ব্যক্তির কী বিচার করবেন তা ভাবতে গিয়ে খলিফা কিছুক্ষণ মৌন হয়ে রইলেন।

গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দি হওয়ার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ কখনো একা চলতে পারে না। জীবনে চলার পথে বিপদের সম্মুখীন হলে মানুষ মানুষের দ্বারা উপকৃত হয়। মানুষের উচিত উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। উপকারের প্রতি উপকার করার সুযোগ খোঁজা। ‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী আব্বাস। তিনি ডেমাস্কাসে একবার পদচ্যুত শাসনকর্তা দ্বারা আক্রমণের শিকার হন। তখন আলী ইবনে আব্বাস সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করেন। ঘটনাক্রমে আশ্রয়দাতা সেই ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আর আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাঁকে রাখা হয়। তারপর আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন যে ব্যক্তি তার উপকার করেছিলেন তিনিই তার ঘরে বন্দি। উদ্দীপকেও এমন এক বিষয় দেখা যায়। উদ্দীপকের আমজাদের বাসায় বন্দি ব্যক্তিটি দশ বছর আগে তার সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল। যে উপকার করে তাকেই নিজের কাছে বন্দি করে রাখতে হয়- এ ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সারকথা: উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দি হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়’- মন্তব্যটি যথার্থ। অকৃতজ্ঞ লোক অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুবিধাবাদী লোকেরা বিপদের সময় কারও সাহায্যে এগিয়ে আসে না। এমনকি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তার বিরাট উপকার করে থাকলেও তার প্রতিদান দিতে চায় না। উদ্দীপকে একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির কথা এবং পরোপকারী এক ব্যক্তির চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের ব্যক্তি একসময় আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আমজাদ তা জেনেও তাকে মুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা করেনি। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পেয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর উপকারের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের জীবন বাজি রেখে তাঁকে মুক্ত করে দিতে চেয়েছেন। এই দিক থেকে তারা দুজন পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ। এখানে আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর আর আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞ ও নিঃস্বার্থ পরোপকারী। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার স্বীকারকারীদের সার্থক প্রতিনিধি। তিনি উপকারী ব্যক্তির ঋণ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ মানুষের প্রতিনিধি। সে উপকারীর স্বীকার করেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকের আমজাদ চৌকিদার অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হলেও তার প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস তার আশ্রয়দাতার ঋণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে মুক্ত করতে চেয়েছেন।

০২. তারপর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল- “বাপ।
শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।
এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ,
খুনের নেশায় আর কবির না আখেরের পথরোধ।”

ক. আলী ইবনে আব্বাস কোন খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাস হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তরপত্র (২নং প্রশ্ন)

ক. আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদের খলিফা আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।

খ. আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে।
আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায় এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সে কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার কোপের মুখে পড়তে হবে।
সারকথা: আলী ইবনে আব্বাস খলিফার ভয়ে এবং নিজের বিপদ যাতে না হয় সেজন্য অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পৃথিবীতে অনেকেই প্রশংসিত হয়েছেন। প্রতিশোধস্পৃহা দমিয়ে রেখে ক্ষমার মাধ্যমেই মহত্ত্ব প্রকাশিত হয়।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের এক ব্যক্তিকে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন খলিফা মামুন। দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সত্য জানার পর মহামতি ও উন্নতচিত্তের অধিকারী খলিফা মামুনের নির্দেশে ওই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। এতে খলিফা ক্ষমার সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও ক্ষমার এক মহান দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। পুত্র হত্যাকারীকে কাছে পেয়েও তাকে ক্ষমা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রতিশোধস্পৃহা বিসর্জন দিয়ে জনৈক পিতা তার পুত্র হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এজন্যই ক্ষমা প্রদানের মহত্ত্বের দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকে প্রতিফলিত ক্ষমার বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের বড় গুণ। মানুষ জীবনে চলার পথে অনেকের দ্বারা উপকৃত হয়। যারা উপকার করে তাদের প্রতি মানুষের সব সময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। দামেস্কে গিয়ে আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়লে স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে তিনি আশ্রয়লাভ করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাকে রাখা হয়। আলী ইবনে আব্বাস তখন উপকারকারী ওই ব্যক্তির যে প্রতিকার করেন সেটিই আলোচ্য গল্পের মূল বিষয়। এদিকে উদ্দীপকে যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে সেটি গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার দিকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিক মাত্র। গল্পের মূল বিষয় হলো আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়। এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রকাশ ঘটেছে। গল্পের মূল বিষয় প্রতি-উপকারের কাহিনি, যার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

০৩. সকলের মুখ হাসি ভরা দেখে
পার না মুছিতে নয়ন ধার?
পরহিত ব্রতে পার না রাখিতে
চাপিয়া আপন বিষাদ-ভার?

ক. ‘অভিরুচি’ শব্দের অর্থ?’
খ. আলী ইবনে আব্বাস জনৈক ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকটির মাঝে ফুটে ওঠা দিকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটিই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সামগ্রিক দিক নয়- মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই কর।

উত্তরপত্র (৩নং প্রশ্ন)

ক. ‘অভিরুচি’ শব্দের অর্থ ইচ্ছা।

খ. আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য জনৈক ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন।
ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তা বহুসংখ্যক সৈন্য নিয়ে আলী ইবনে আব্বাসকে আক্রমণ করেছিলেন। প্রাণভয়ে তিনি এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় চেয়ে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তাঁর প্রার্থনাবাক্য শুনে তাকে নির্ভয়ে নিজ ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। এতে আলী ইবনে আব্বাস প্রাণে বেঁচে যান।
সারকথা: সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকটির মাঝে ফুটে ওঠা পরোপকারের দিকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে প্রতিফলিত অন্যের উপকারের বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষ শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য পৃথিবীতে আসেনি। অন্যের জন্য কাজ করার মধ্যে জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। অন্যের জন্য মঙ্গলচিন্তা নিজের প্রশান্তির জন্য গুরুত্ব বহন করে।
উদ্দীপকে নিজের জন্য না ভেবে অন্যের জন্য কল্যাণচিন্তার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। নিজেকে অন্যের প্রয়োজনে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই মহানুভবতা প্রকাশ পায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিয়ে পরের জন্য উপকারের দিকটির প্রতিফলন ঘটান। ওই ব্যক্তির জন্য আলী আব্বাসের জীবন রক্ষা পায়। এভাবেই পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার বিষয়টি উদ্দীপকের পাশাপাশি আলোচ্য গল্পেও ফুটে উঠেছে।
সারকথা: ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের জীবন বাঁচিয়ে পরহিত বা পরোপকার করেছেন। এই ভাবধারাই উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটিই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সামগ্রিক দিক নয়- মন্তব্যটি সত্য। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসায় মানবতাবাদী চেতনা প্রকাশিত হয়। ক্ষমা ও মানবতাবাদী চেতনা মানবমৈত্রী সৃষ্টিতে মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা সঞ্চারণ করে। পৃথিবী হয়ে ওঠে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়। উদ্দীপকটিতে পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। নিজের দুঃখকে পেছনে রেখে অন্যের সুখের জন্য কাজ করার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ অন্যের মুখ হাসি-ভরা দেখেই সুখের সন্ধান লাভ করা যায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের কাহিনি প্রতিফলিত হয়েছে। এক ব্যক্তির আশ্রয় পেয়ে জীবন রক্ষা করার দিকটি এখানে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করেন। খলিফা মামুনের মহত্ত্বের বর্ণনাও গল্পে পরিলক্ষিত হয়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টি উদ্দীপকের সঙ্গে মিলে যায়। তবে উক্ত বিষয়টি গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিকমাত্র, সমগ্র বিষয় নয়। আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি এবং খলিফা মামুনের মহত্ত্বের বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল, যার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বার্তার দিকটি রয়েছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্য। সারকথা: উদ্দীপকের প্রতিফলিত পরোপকারী মনোভাবটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে একীভূত। তবে ‘প্রত্যুপকার’ র’ গল্পের উপকারীর প্রতি উপকার এবং ক্ষমার মহত্ত্বও আছে, যা উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

০৪. মারাঠা বীর সেনারা বুন্দেলখণ্ডের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তাদেরকে সাহায্য করতে যুদ্ধে যোগদান করে। একপর্যায়ে বিপক্ষ দলের একজন মারাঠা সেনাপ্রধানকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে আসে। এমন সময় বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা সেনাপ্রধানের জীবন বাঁচান। সেনাপ্রধান রাজকন্যাকে ধন্যবাদ জানালে রাজকন্যা বলেন, আপনার জন্য আমরা যুদ্ধ জয় করতে পেরেছি, আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার জীবন বাঁচাতে আমাদের প্রত্যেকের জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত।

ক. আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়ে কোথায় লুকিয়ে ছিলেন?
খ. কীভাবে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়?
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরপত্র (৪নং প্রশ্ন)

ক. আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়ে ডেমাস্কাসে লুকিয়ে ছিলেন।

খ. ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত লোকের সহযোগিতায় আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়। আব্বাস অনেকদিন আগে ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েন। সেখানে তার প্রাণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তিনি কোনো রকমে এক বাড়িতে গিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে আকুতি-মিনতি করেন। তারপরে বাড়ির মালিক তাকে অত্যন্ত নিরাপদে এক মাস সেই বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এমনকি আব্বাসকে অত্যন্ত সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাগদাদ অর্থাৎ আব্বাসের জন্মস্থানে পাঠিয়ে দেন। এভাবেই আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়।
সারকথা: আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্য দ্বারা আক্রমণের শিকার হলে ডেমাস্কাসের অপরিচিত এক লোকের সহযোগিতায়। তার প্রাণ রক্ষা পায়।

গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ। মানুষ অন্য কারও দ্বারা উপকৃত হলে সারা জীবন সেই উপকার মনে রাখে। প্রয়োজনের সময় সেই ব্যক্তির সার্বিক মঙ্গল ও উপকার করার চেষ্টা করে। এটিই হলো উপকারীর প্রতি প্রতিদান দেওয়া। উদ্দীপকে বুন্দেলখণ্ডের যুদ্ধে মারাঠা সেনাপ্রধান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুন্দেলখণ্ডকে সাহায্য করতে যান। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁর প্রতি আক্রমণ হলে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা তাঁর প্রাণ বাঁচান। কারণ তিনি তাদেরকে বাঁচাতে এসেই বিপদের মুখে পতিত হয়েছেন। এখানে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ দেখা যায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও আমরা আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রে এরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নিদর্শন দেখতে পাই। তাই উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মধ্যে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাদৃশ্য রয়েছে। সারকথা: উদ্দীপকে মারাঠা সেনাপ্রধানের প্রতি রাজকন্যার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও উপকারীর প্রতি আলী, ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বেঁচে থাকতে হলে তাকে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে বাঁচতে হয়। আর তাই মানুষই মানুষের, সবচেয়ে বড় বন্ধু। উদ্দীপকে বুন্দেলখণ্ডের যুদ্ধে মারাঠা সেনাপ্রধান বুন্দেলখণ্ডকে সহযোগিতা করতে গেলে তাঁর প্রাণ বিপদের মুখে পতিত হয়। সেই সময় বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা তাঁর জীবন বাঁচান। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের জীবন রক্ষাকারী ব্যক্তি খলিফার সামনে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত হলে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকটিকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং বাঁচান। উদ্দীপকে মারাঠা সেনাপ্রধানকে বাঁচানোর মধ্য দিয়ে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী আব্বাসের জীবন রক্ষাকারীকে বাঁচানোর মধ্য দিয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং প্রতি-উপকার করা আলোচ্য গল্পের মূলভাব। এ বিষয়টির ইঙ্গিত উদ্দীপকেও রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। সারকথা: উদ্দীপক ও গল্পে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।


📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now


০৫. বাবা আমাদের চোখের সামনে পর পর দুটি গুলি করে কুকুরটিকে মারলেন। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম বাবা দুঃখে বেদনায় কুঁকড়ে উঠেছেন। তবু শান্ত গলায় বললেন, যে আমার ছেলের জীবন রক্ষা করেছে তাকে আমি গুলি করে মারলাম।

ক. অভিযুক্ত লোকটির জন্মস্থান কোথায়?
খ. আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসে কেন এক মাস অবস্থান করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বৈসাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উপকারের দিক থেকে এক হলেও প্রতিদানের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলাদা।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তরপত্র (৫নং প্রশ্ন)

ক. অভিযুক্ত লোকটির জন্মস্থান ডেমাস্কাসে।

খ. আলী ইজ্বনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষা করার জন্য ডেমাস্কাসে এক মাস অবস্থান করেছিলেন।
আলী ইবনে আবাস অনেক আগে ডেমাস্কাসে গেলে পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদলের আক্রমণে প্রাণশঙ্কায় পড়ে যান। তখন সেখানে এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে গিয়ে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই লোকটি তাকে আশ্রয় দেন এবং তিনি এক মাস ওই স্থানে নিরাপদে থাকেন। তারপর সম্ভ্রান্ত সেই লোক আলী ইবনে আব্বাসকে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মূলত আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য বাধ্য হয়েই ডেমাস্কাসে অবস্থান করেছিলেন।
সারকথা: আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষা করার জন্য ডেমাস্কাসে এক মাস অবস্থান করেছিলেন।

গ. জীবন রক্ষাকারীর পরিণতির দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের উপকার করেও অনেক সময় পরিস্থিতির শিকার হয়ে উপকারী যথাযোগ্য মর্যাদা পান না। এরূপ পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিষ্ঠুর। পৃথিবীতে উপকারীর উপকার স্বীকার করার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি কুকুর এক ব্যক্তির ছেলের প্রাণ বাঁচায়। কিন্তু কোনো এক কারণে ওই কুকুরটিকে ব্যক্তিটি হত্যা করেন। পরে তিনি নিজেই মর্মাহত হৃদয়ে আক্ষেপ করেছেন তার সন্তানের প্রাণরক্ষাকারীকে গুলি করেছেন বলে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস একসময় যাঁর কাছে আশ্রয় পেয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন তাঁকে তিনি যথার্থ সময়ে সঠিক প্রতিদান দিয়েছেন। তাঁকে হত্যা বা অসম্মান করেননি। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের উপকারীর পরিণতির দিক দিয়ে অমিল রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের উপকারী কুকুরটিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সাহায্যকারী লোকটিকে সাহায্য করা হয়েছে। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের বৈসাদৃশ্য।

ঘ. “উপকারের দিক থেকে এক হলেও প্রতিদানের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলাদা।” মন্তব্যটি সঠিক।
যে উপকারীর উপকার করে সেই জগতে নন্দিত। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপকারভোগীর নৈতিক দায়িত্ব। তারপরও অনেক সময় উপকার করলেও প্রতিদান হিসেবে উপকারী সমান মর্যাদা পায় না।
উদ্দীপকে কুকুরটি যে ব্যক্তির ছেলের জীবন বাঁচিয়েছে, তিনি কুকুরটিকে গুলি করে মেরে ফেলেন। পরে তিনি অনুতপ্ত হন। কিন্তু কুকুরটির উপকারের মর্যাদা তাকে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে যে লোকটি আলী ইবনে আব্বাসকে সহযোগিতা। করেছিলেন, আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে সঠিক সময়ে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। তার প্রাণ রক্ষাকারীর প্রাণ পরবর্তী সময়ে তিনিই রক্ষা করেছেন।
উদ্দীপকে কুকুরটিকে প্রতিদান দেওয়া হয়নি, বরং মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ বাজি রেখে লোকটির উপকার করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কুকুরের যে পরিণতি হয়েছে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লোকটির সে পরিণতি হয়নি। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক।
সারকথা: উদ্দীপকে যে উপকার করে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে আর ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে যে লোকটি প্রাণ বাঁচায় প্রতি-উপকার হিসেবে তারও প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। এখানেই গল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের প্রতিদানের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

০৬. একবার লালু সামনে ছুটে যাচ্ছে, একবার পিছনে, একবার ডাইনে, একবার বাঁয়ে। সবুজ চোখগুলো যেন আমার চারদিকে ঘিরে ঘিরে লুকোচুরি খেলছে, আর লালু আমাকে বাঁচাচ্ছে সেই রাশি-রাশি ধারালো দাঁতের অন্ধ আদিম হিংসা থেকে।…
তিন মাস পড়ে থাকতে হয়েছিল আমাকে। বুকের পাঁজরার দুটো হাড় ভেঙে গিয়েছিল, খুলে গিয়েছিল বাঁ হাঁটুর জোড়াটা। তবু তার মধ্যে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে বলেছিলুম, কেন মারলে- লালুকে কেন মারলে তুমি?

ক. কে ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন?
খ. ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকায় জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি থাকার কথা বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোথায় বৈসাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তরপত্র (৬নং প্রশ্ন)

ক. আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন।

খ. ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকায় জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি থাকার কথা আলী ইবনে আব্বাস বলেছেন একবার সেখানে তার প্রাণরক্ষা হয়েছিল বলে।
অনেক আগে আলী ইবনে আব্বাস একবার বিপদগ্রস্ত হয়ে ডেমাস্কাসের যে অংশে বৃহৎ মসজিদ আছে সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে আশ্রয় লাভ করে জীবন লক্ষা করেন। অনেক দিন পরে এক লোককে আলী ইবনে আব্বাস খলিফার সামনে অপরাধীরূপে পান। লোকটিকে চিনতে না পেরে তিনি তাঁর জন্মস্থান জানতে চাইলেন। লোকটি তখন জানান যে তিনি ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। তখন আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতায় এবং ওই স্থানে তার প্রাণ রক্ষা হওয়ায় জদীশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন সেই স্থানে তাঁর শুভদৃষ্টি থাকে।
সারকথা: ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকার মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের প্রতিদান দেওয়ার দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
অনেক সময় কেউ উপকার করলে তা দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে উপকারীর মর্ম বোঝা যায় না। পরে তার উপকারের কথা মনে হলে আক্ষেপ করতে হয়। সারা জীবন বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় কষ্টের বোঝা।
উদ্দীপকের লালু নামে একটি ঘোড়া গল্পকথককে পশুদের হিংস্রতার হাত থেকে বাঁচায়। গল্পকথকের বাবা ভুল বুঝে লালুকে মেরে ফেলে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাসকে অনেক আগে এক সম্ভ্রান্ত লোক তার জীবন রক্ষায় আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। সেই লোকটিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় সামনে পেয়ে আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন। উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সহযোগিতার বিষয়টি উপস্থিত। কিন্তু প্রতিদানের দিক থেকে অমিল দেখা যায়। সুতরাং উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মধ্যে প্রতিদানের দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকে উপকার করার পরেও ঘোড়াটি যথাযথ প্রতিদান পায়নি। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস তার সাহায্যকারী লোকটিকে যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষ মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের পাশাপাশি আমরা অনেক সময় পশুদেরও দেখি মানুষকে সাহায্য করতে। উপকারকারী মানুষই হোক আর পশুই হোক না কেন, যথাযথ প্রতিদান তার প্রাপ্য। উদ্দীপকে দেখা যায়, লালু হিংস্র প্রাণীদের কবল থেকে গল্পকথককে উদ্ধার করেছে। কিন্তু পরে তার বাবা লালুকে হত্যা করেছে। এখানে লালু যথাযথ প্রতিদান পায়নি। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস অনেকদিন আগে যাঁর আশ্রয় পেয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে পেরেছিলেন, পরে তাঁরই বিপদে তিনি এগিয়ে এসেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন। এখানে উপকারী লোকটি তাঁর যথাযথ প্রতিদান পেয়েছেন। উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের দুই জায়গাতেই সাহায্য করার দিক থেকে মিল পরিলক্ষিত হলেও উপকারকারীরা সমান প্রতিদান পায়নি। উদ্দীপকে সাহায্যকারী ঘোড়াটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস সহযোগিতাকারীকে তাঁর বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি। সারকথা: উদ্দীপকে ঘোড়াটি উপকার করে প্রতিদান পায়নি। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লোকটি উপকার করে প্রতিদান পেয়েছেন। এখানেই উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আরও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং এদের PDF কপি সংগ্রহ করে নাও। নিচের “Answer Sheet” বোতামে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাধান।

Answer Sheet

সকল বিষয়ে সমাধান ও সাজেশন পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটনটি প্রেস করে রাখো এবং সকল গাইড ও সাজেশন মোবাইলে পড়তে আমাদের অ্যাপটি  ইনস্টল করে নাও। এতে তোমাদের পড়াশোনা হবে আরও সহজ ও মজার!!

Read More: সুভা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যুপকার গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যুপকার গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *