বাওয়ালিদের গল্প চতুর্থ শ্রেণি: আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। এর প্রায় পুরোটাই সমতলভূমি। আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, বঙ্গোপসাগরের তীরে সুন্দরবন। এই বনের সব গাছই বঙ্গোপসাগরের নোনা পানিতে বেঁচে আছে। এই বন হাজার রকমের পশু ও পাখিতে পূর্ণ। সুন্দরবনের কোনো কোনো জায়গায় গাছপালা এত ঘন যে, সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছায় না। সুন্দরবনের তিনপাশে ছড়িয়ে আছে অনেক গ্রাম। গ্রামের মানুষ কৃষিকাজ করে। গ্রামের অনেক মানুষ বন থেকে গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করে। মৌমাছিরা গাছে গাছে তাদের মৌচাক বানায়। যারা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন, তাদের বলে মৌয়াল।
বাওয়ালিদের গল্প চতুর্থ শ্রেণি:
১. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি, অর্থ বলি এবং বাক্য তৈরি করে লিখি।
জন্মভূমি, মাংসাশী, সমতলভূমি, সতর্ক, কৃষিকাজ, লবণাক্ত, চাষাবাদ, সংগ্রহ করা , পরিশ্রম, হিংস্র;
উত্তর:
জন্মভূমি – মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সেটিই তার জন্মভূমি।- বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।
মাংসাশী – যে মাংস আহার করে, মাংসই যার প্রধান খাদ্য। সিংহ মাংসাশী প্রাণী।
সমতলভূমি – সমান ভূমি।- আমাদের দেশের অধিকাংশ স্থানই সমতলভূমি।
সতর্ক – সাবধান, হুঁশিয়ার। সতর্ক হয়ে রাস্তা পার হওয়া উচিত।
কৃষিকাজ – চাষাবাদ।- কৃষক কৃষিকাজ করেন।
লবণাক্ত – লবণ মেশানো, নোনতা স্বাদের।-সাগরের পানি লবণাক্ত।
চাষাবাদ – কৃষিকাজ। চাষি চাষাবাদ করেন।
সংগ্রহ করা – আহরণ করা, সঞ্চয় করা। মৌয়ালরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন।
পরিশ্রম – খাটাখাটুনির কাজ। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।
হিংস্র – কারও ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো রাগ যার রয়েছে, প্রাণহারক।- বাঘ খুব হিংস্র প্রাণী।
২. প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রথমে বলি ও পরে লিখি।
প্রশ্ন ক. সুন্দরবন বাংলাদেশের কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত।
প্রশ্ন খ. সুন্দরবনের গাছপালা কোথা থেকে পানি পায়?
উত্তর: সুন্দরবন আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। তাই এ বনের গাছপালা বঙ্গোপসাগর থেকেই পানি পায়।
প্রশ্ন গ. বাওয়ালি কারা?
উত্তর: বন থেকে অনেকে কাঠ কেটে সংগ্রহ করেন এবং তা বিক্রি করে তাদের সংসার চালান। যারা সুন্দরবন থেকে কাঠ কাটেন ও বিক্রি করেন তারাই বাওয়ালি।
প্রশ্ন ঘ. বাওয়ালিদের কাজ এত বিপজ্জনক কেন?
উত্তর: সুন্দরবনে নানা রকমের গাছগাছালির পাশাপাশি বাঘ, ভালুক, বনবিড়াল, বুনো শুয়োর, কুমির, সাপ ইত্যাদি হিংস্র জীবজন্তু রয়েছে। এরা আক্রমণ করে মানুষের প্রাণনাশ করতে পারে। তাই বাওয়ালিদের কাজ এত বিপজ্জনক।
প্রশ্ন ঙ. কীভাবে মানুষ এই বন থেকে অর্থ আয় করে, দুটো উপায় বলি।
উত্তর: বিভিন্ন উপায়ে সুন্দরবন থেকে অর্থ আয় করা যায়। প্রধান দুটি উপায় হচ্ছে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা ও কাঠ কেটে বিক্রি করা। সুন্দরবনের তিনপাশের গ্রামের অনেকে অনেক আগে থেকেই এ ধরনের কাজ করে আসছে।
প্রশ্ন চ. সুন্দরবনে কাজ করার সময় কোনটি বাওয়ালিদের কাছে বেশি মূল্যবান, খাবার না খাবার পানি? কেন?
উত্তর: সুন্দরবনে কাজ করার সময় বাওয়ালিদের কাছে খাবারের চেয়ে পানি বেশি মূল্যবান। কারণ সুন্দরবনের কোথাও একটু খাবার পানি পাওয়া যাবে না। আশপাশে যে পানি রয়েছে সবই সাগরের লবণাক্ত পানি। তাই তাদের কাছে খাওয়ার পানি বেশি মূল্যবান।
প্রশ্ন ছ. বাওয়ালিরা কোথায় রাত কাটান?
উত্তর: বাওয়ালিরা সুন্দরবন থেকে অনেক দূরে গ্রামে বাস করেন। যে কারণে রোজ রোজ তাদের বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। তাই তারা রাতে নিরাপদে থাকার জন্য নদীর মাঝখানে নৌকার মধ্যে রাত কাটান।
প্রশ্ন জ. সরকার সুন্দরবন থেকে কাঠ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে কেন?।
উত্তর: সুন্দরবনের হাজারো গাছপালা উপকূলীয় এলাকার জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এজন্য ১৯৮৯ সাল থেকে সরকার সুন্দরবন থেকে কাঠ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে।
প্রশ্ন ঝ. মৌয়াল ও বাওয়ালিদের কাজ বর্ণনা করি।
উত্তর: সুন্দরবনে মৌয়ালরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা লতা-পাতার কুণ্ডলী তৈরি করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেন এবং সেই আগুনের ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বাওয়ালিরাও সুন্দরবনে গিয়ে যেসব কাঠ দিয়ে নানা রকম জিনিসপত্র তৈরি করা যায় তা বাছাই করেন। তারপর সেগুলো করাত, দা; কুড়াল ইত্যাদি দিয়ে কেটে সংগ্রহ করেন ও বিক্রি করেন।
৩. খাতায় লিখে ছকটি পূরণ করি।
(একটি ছক বা টেবিল তৈরি করে শিক্ষার্থীরা পূরণ করবে।)
উত্তর:
| পেশার নাম | কাজ | কাজের স্থান | এই কাজের কতটা বিপদ | এই বিপদে চলার জন্য কী কী সমাধান আছে |
|---|---|---|---|---|
| বাওয়ালি | বন থেকে কাঠ কেটে নিয়ে আসা। | সুন্দরবন | জীবননাশের ভয় রয়েছে। | চোখ-কান খোলা রেখে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। |
| মৌয়াল | মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা। | সুন্দরবন | জীবন হারানোর বিপদ আছে। | সর্বদা চোখ-কান খোলা রেখে খুব সতর্কতার সাথে হাতিয়ারসহ কাজ করতে হবে। |
৪. নিজের জানা যেকোনো কাজ নিয়ে ছকটি পূরণ করি।
(একটি ছক বা টেবিল তৈরি করে শিক্ষার্থীরা পূরণ করবে।)
উত্তর:
| পেশার নাম | কাজ | কাজের স্থান | এই কাজের কতটা বিপদ | এই বিপদ এড়ানোর জন্য কী কী সমাধান আছে |
|---|---|---|---|---|
| কৃষি | চাষাবাদ করা। | চাষের জমি (যেকোনো আবাসস্থল)। | এই কাজে ব্যবহৃত নিড়ানি, কোদাল, যন্ত্রপাতি, লাঙ্গল ইত্যাদি আছে। সঠিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার না করলে হাত-পা কাটাসহ যেকোনো বিপদ ঘটতে পারে। | কৃষিকাজের জন্য সমস্ত সরঞ্জাম সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। |
৫. উপরের ছকের তথ্য ব্যবহার করে কাজটি সম্বন্ধে একটি অনুচ্ছেদ লিখি।
উত্তর: বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কৃষিকাজ করেই এসব মানুষ তাদের সংসার চালান। বিশেষ করে গ্রামবাংলার প্রায় মানুষই কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত।
কৃষকরা তাদের আবাদি জমিতে ধান, গম, পাট ইত্যাদি নানা ধরনের ফসল ফলানোর জন্য জমিতে লাঙল দিয়ে চাষ করেন। তারপর যে বীজটি রোপণ করবেন তা জমিতে ছিটিয়ে দেওয়ার আগে জমির আগাছা পরিষ্কার করেন। এরপর বীজ জমিতে ছিটিয়ে দেন। নানা জৈব সার ব্যবহার করেন। বীজ জন্মালে নিড়ানি দেন। এমনি করে ফসল উৎপাদন হলে সেগুলো কাঁচি, দা ইত্যাদি দিয়ে কেটে সংগ্রহ করেন। আর যেগুলো উপড়িয়ে সংগ্রহ করতে হয় সেগুলো তুলতে হাতে গামছা বা অন্য কোনো কাপড় পেঁচিয়ে সংগ্রহ করেন। এভাবেই বাংলার কৃষকরা তাদের কৃষিকাজ যুগ যুগ ধরে করে আসছেন।
বাওয়ালিদের গল্প চতুর্থ শ্রেণি:
৬. ছবির নিচে পেশার নাম লিখি এবং পেশাটি সম্পর্কে একটি করে বাক্য তৈরি করি।
উত্তর:
গাড়িচালক: গাড়ি চালানোর সময় চালককে রাস্তা দেখে, চারপাশে খেয়াল করে, চোখ-কান খোলা রাখতে হয়।
ডাক্তার: ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা করেন।
ব্যবসায়ী: ব্যবসায়ী ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
কামার: কামার লোহা দিয়ে দা, বঁটি, কাঁচি, খন্তা, কুড়াল ইত্যাদি তৈরি করেন।
শিক্ষক: শিক্ষক মানুষকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেন।
Codehorse Learn Free