৫ম শ্রেণির বাংলা সুখু আর দুখু প্রশ্ন উত্তর: সুখু আর দুখু’ গল্পটি দুই বোনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ছোট বোন দুখু ছিল বিনয়ী ও পরোপকারী, অন্যদিকে বড় বোন সুখু ছিল অলস ও অহংকারী। একদিন দুখুর তুলা বাতাসে উড়ে গেলে সে তা খুঁজতে গিয়ে পথিমধ্যে একটি কলাগাছ ও ঘোড়াকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে। তার এই বিনয় ও নিঃস্বার্থ সেবায় খুশি হয়ে বনের বুড়ি ও প্রকৃতি তাকে সোনা-দানায় ভরিয়ে দেয়। কিন্তু সুখু যখন একই লোভে বাতাসের পিছু নেয়, সে পথে কাউকে সাহায্য না করে বরং সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ফলস্বরূপ, সুখু গয়নার বদলে অসুখ এবং সম্পদের বদলে শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফেরে। এই গল্পটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে সৎ পথে চললে এবং অন্যের উপকার করলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, কিন্তু লোভ মানুষকে ধ্বংস করে।
৫ম শ্রেণির বাংলা সুখু আর দুখু প্রশ্ন উত্তর:
এক ছিল তাঁতি। তাঁর দুই মেয়ে। বড়ো মেয়ের নাম সুখু। আর ছোটো মেয়ের নাম দুখু। বড়ো মেয়ে ঘরের কোনো কাজ করে না। শুধু বসে বসে খায়। দুখু ঘরের সব কাজ করে। সময় পেলে বাবার জন্য সুতা কেটে দেয়।
একদিন দুখু তুলা রোদে দিয়ে উঠানে বসে আছে। এমন সময়ে দমকা বাতাস এসে দুখুর তুলা উড়িয়ে নিয়ে গেল। দুখু মনের দুঃখে কাঁদতে লাগল।
তখন বাতাস বলল, ‘দুখু, কেঁদো না। আমার সাথে এসো। তোমাকে তুলা দেবো।’ দুখু কাঁদতে কাঁদতে বাতাসের পিছু পিছু গেল।
যেতে যেতে একটা কলাগাছের সাথে দেখা হলো। কলাগাছ বলল, ‘দুখু, কোথায় যাচ্ছ? আমাকে অনেক লতাপাতা ঘিরে ধরেছে। এগুলোকে একটু সরিয়ে দিয়ে যাবে?’
কলাগাছের কথা শুনে দুখু থামল। তারপর কলাগাছের গায়ে থাকা লতাপাতা সরিয়ে দিলো।
খানিক দূর যেতেই এক ঘোড়া দুখুকে ডাকল। বলল, ‘দুখু, কোথায় যাচ্ছ? আমাকে কিছু কচি ঘাস দিয়ে যাবে?’
ঘোড়ার কথা শুনে দুখু দাঁড়াল। কচি ঘাস কেটে ঘোড়াকে খেতে দিলো। তারপর বাতাসের সাথে চলতে লাগল।
চলতে চলতে দুখু ধবধবে সাদা একটা বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো। সেই বাড়ির দাওয়ায় বসে এক বুড়ি চরকা কাটছে। গায়ে সাদা শাড়ি। চুলগুলোও দুধের মতো সাদা।
বাতাস বলল, ‘দুখু, তুমি বুড়ির কাছে যাও। তার কাছে তুলা চাও, পাবে।’
দুখু তখন বুড়ির কাছে গেল। নরম গলায় বলল, ‘বুড়ি মা, তুমি কেমন আছ?’
বুড়ি তাকিয়ে দেখে, ছোট্ট একটা মেয়ে। কী মিষ্টি তার কথা! বুড়ি বলল, ‘ভালো আছি, বাছা। ডাকছ কেন?’
দুখু বলল, ‘আমার সব তুলা বাতাস উড়িয়ে তোমার কাছে এনেছে।’
বুড়ি বলল, ‘ও ঘরে গামছা আছে, কাপড় আছে। ওগুলো নিয়ে ওই পুকুরে ডুব দিয়ে এসো। তারপর এই ঘরে খাবার আছে, খাও। এরপর তুলা নিয়ো।’
ঘরে গিয়ে দুখু দেখে কত দামি দামি গামছা, কাপড়। কিন্তু সে লোভ করল না। সাধারণ একটা গামছা আর একটা কাপড় নিল। তারপর পুকুরে ডুব দিতে গেল।
কিন্তু কী অদ্ভুত! একটা ডুব দিতেই দুখুর গা সোনার গয়নায় ভরে গেল।
পুকুর থেকে উঠে খাবার ঘরে গেল দুখু। এত এত মজার খাবার সেখানে! দুখু লোভ করল না। শুধু একটু পান্তা ভাত খেলো। তারপর বুড়ির কাছে এলো।
বুড়ি বলল, ‘এখন তুমি ওই ঘরে যাও। যত তুলা লাগে নিয়ে যাও।’
তুলার ঘরে গিয়ে দুখু অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সব তুলা সে নিলো না। যতটুকু তুলা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে এসেছিল, ততটুকু তুলা সে প্যাটরায় ভরে নিলো। তারপর সে বুড়ির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলো
ফেরার পথে ঘোড়ার সাথে দেখা। ঘোড়া বলল, ‘দুখু, এসো এসো। তোমাকে আমি আর কী দেবো? এই নাও।’ এই বলে সে একটা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার বাচ্চা দিলো।
একটু পরে কলাগাছের সাথে দেখা হলো। কলাগাছ বলল, ‘দুখু, এসো, এসো। তোমাকে আর কী দেবো? এই নাও।’ এই বলে কলাগাছ মস্ত এক ছড়া সোনার কলা দিলো।
দুখু তুলার প্যাটরা, ঘোড়ার বাচ্চা আর কলার ছড়া নিয়ে বাড়ি ফিরল। এত কিছু দেখে সবাই অবাক! তার উপর দুখুর গা ভরতি গয়না।
সব শুনে সুখুর লোভ হলো। পরদিন সে উঠানে বসল চরকা কাটতে। কিন্তু চরকা ঘুরানোর আগেই জোরে বাতাস এলো। সেই বাতাস সুখুর সব তুলা উড়িয়ে নিয়ে গেল। সুখু বাতাসের পিছন পিছন ছুটল।
পথের পাশের কলাগাছ সুখুকে ডাকল। বলল, ‘সুখু, কোথায় যাচ্ছ? একটু শুনে যাও।’
সুখু ফিরেও তাকাল না। বলল, ‘আমার সময় নেই। আমি যাচ্ছি বুড়ির কাছে।’
একটু পরে সেই ঘোড়াও সুখুকে ডাকল। সুখু তার দিকেও ফিরে তাকাল না। শুধু কঠিন গলায় বলল, ‘আমি যাচ্ছি বুড়ির বাড়ি। তোমার কথা শুনতে আমার বয়েই গেছে!’
বাতাসের সাথে সাথে সুখু গেল বুড়ির বাড়ি। গিয়েই বুড়িকে বলল, ‘ও বুড়ি! তুই বসে বসে কী করছিস? আগে আমার জিনিস দে। তারপর সুতা কাটিস।’
সুখুর কথা শুনে বুড়ি মনে কষ্ট পেল। তবু বলল, ‘ও ঘরে গামছা আছে, কাপড় আছে। ওগুলো নিয়ে পুকুরে ডুব দিয়ে এসো। তারপর এই ঘরে খাবার আছে, খাও। এরপর দেবো।’
সুখু তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকল। সবচেয়ে দামি গামছা আর দামি কাপড় নিলো। তারপর পুকুরে গেল ডুব দিতে।
সে ভাবল, বেশি বেশি ডুব দিলে বেশি বেশি গয়না পাবে। তাই ইচ্ছামতো ডুব দিতে লাগল। একটু পরে বুঝতে পারল তার সারা শরীর চুলকাচ্ছে। কথা বলতে গিয়ে দেখল এমন শোনাচ্ছে, ‘আঁমাঁর সাঁরী শরীর চুলকাচ্ছে কেন?
বুড়ির নামে খারাপ কথা বলে সুখু খাওয়ার ঘরে গেল। সেখানে পায়েস, পিঠা আর ভালো ভালো খাবার ছিল। সুখু সেগুলো গপ গপ করে খেতে লাগল। পেট ঢোল করে খেয়ে এলো বুড়ির কাছে। কঠিন গলায় সুখু বলল, ‘আর দেরি করতে পাঁরব না। আঁমাঁর তুলী তাঁড়ীতাঁড়ি দে।’
বুড়ি বলল, ‘ওই ঘরে যাও। তোমার তুলা তুমি নিয়ে যাও।’
সুখু তুলার ঘরে গেল। বিশাল এক প্যাটরা ভরে ইচ্ছামতো তুলা নিলো। তারপর সেটা কাঁধে নিতেই কুঁজো হয়ে গেল। তারপর গা চুলকাতে চুলকাতে বাড়ির পথ ধরল।
খানিক পরে পথে ঘোড়ার সাথে দেখা হলো। সুখুকে দেখে ঘোড়া দিলো একটা লাথি। লাথি খেয়ে সুখু ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে হাঁটতে লাগল।
এরপর দেখা হলো কলাগাছের সাথে। কলাগাছের একটা বড়ো পাতা ভেঙে পড়ল সুখুর মাথায়। সুখু ‘মলীম মঁলাম’ বলে সেখান থেকে পালাল।
বাড়িতে ফিরে সুখু ভারী প্যাটরা নিচে রাখল। তারপর ইচ্ছামতো গা চুলকিয়ে নিলো। এরপর সবাইকে ডেকে বলল, ‘আমি চলে এঁসেছি।’
সুখুর অবস্থা দেখে আর কথা শুনে সবাই থ হয়ে গেল।
প্যাটরা খুলে সুখু কোনো তুলাও পেল না।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১। ‘কাটা’ শব্দের বিভিন্ন অর্থ পড়ি ও বাক্য গঠন করি ।
কর্তন করা: এই গাছটা কেটো না।
খনন করা: শ্রমিকেরা পুকুর কাটছে।
অতিবাহিত হওয়া: ভালোই তো সময় কাটছে!
দূর হওয়া: বিপদ কেটে গেল।
তৈরি করা: দুখু চরকায় সুতা কাটছে।
ভেসে এগিয়ে যাওয়া: তিনি পুকুরে সাঁতার কাটছেন।
ক্রয় করা: মা সিলেট যাওয়ার টিকিট কেটেছেন।
২। প্রশ্ন তৈরি করি:
ক. বড় মেয়ের নাম কী?
খ. দুখু রোদে কী দিয়ে উঠানে বসে ছিল?
গ. পথের ধারে দুখুর সাথে প্রথমে কার দেখা হয়েছিল?
ঘ. বুড়ির গায়ের শাড়ি ও চুল কেমন ছিল?
ঙ. প্যাটরা খুলে সুখু কী দেখতে পেল?
৩। প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি
ক. বাড়িতে সুখু ও দুখু কী কী কাজ করে তা লিখি।
উত্তর: বড় মেয়ে সুখু অলস প্রকৃতির, তাই সে ঘরের কোনো কাজ করে না; কেবল বসে বসে খায়। অন্যদিকে, ছোট মেয়ে দুখু অত্যন্ত পরিশ্রমী। সে ঘরের সব কাজ করার পাশাপাশি সময় পেলে বাবার জন্য চরকায় সুতা কাটে।
খ. বাতাসের সঙ্গে যেতে যেতে দুখু কাদের কী কী উপকার করল?
উত্তর: বাতাসের সঙ্গে যাওয়ার সময় দুখু প্রথমে একটি কলাগাছকে ঘিরে ধরা লতাপাতা সরিয়ে পরিষ্কার করে দেয়। এরপর একটি ক্ষুধার্ত ঘোড়াকে কচি ঘাস কেটে খেতে দিয়ে তার ক্ষুধা মেটায়।
গ. চরকা কাটা বুড়ি দেখতে কেমন? সে কেমন বাড়িতে থাকে?
উত্তর: চরকা কাটা বুড়ি দেখতে খুব সুন্দর, যার গায়ের শাড়ি এবং মাথার চুল দুধের মতো সাদা। সে ধবধবে সাদা রঙের একটি সুন্দর বাড়িতে থাকে।
ঘ. দুখু বাড়িতে ফেরার সময় কলাগাছ ও ঘোড়ার কাছ থেকে কী উপহার পেল?
উত্তর: দুখু বাড়িতে ফেরার সময় ঘোড়ার কাছ থেকে একটি পঙ্খিরাজ ঘোড়ার বাচ্চা উপহার পেল। আর কলাগাছ তাকে খুশি হয়ে এক ছড়া সোনার কলা উপহার দিল।
ঙ. সুখু কেন ভালো কিছু পেল না?
উত্তর: সুখু ছিল অত্যন্ত অলস, অভদ্র এবং লোভী। সে পথের কাউকে সাহায্য করেনি এবং বুড়ির সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিল; তাই সে কোনো ভালো উপহার পেল না।
৪। দুটি বাক্য জোড়া দিয়ে এক বাক্য বানাই
খ. প্রশ্ন: দুখু ঘোড়ার কথা শুনল। তারপর তাকে কচি ঘাস এনে দিলো।
উত্তর: দুখু ঘোড়ার কথা শুনে তাকে কচি ঘাস এনে দিলো।
গ. প্রশ্ন: আমি তোমার সাথে শিউলিতলায় যাব। তারপর ফুল কুড়াব।
উত্তর: আমি তোমার সাথে শিউলিতলায় গিয়ে ফুল কুড়াব।
ঘ. প্রশ্ন: তিনি তোমার কথা শুনেছেন। তিনি একটি বই কিনে এনেছেন।
উত্তর: তিনি তোমার কথা শুনে একটি বই কিনে এনেছেন।
ঙ. প্রশ্ন: পাখিরা খড়কুটা নিয়ে এলো। তাদের বাসা বানাল।
উত্তর: পাখিরা খড়কুটা নিয়ে এসে তাদের বাসা বানাল।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৫। মানুষের জন্য করতে পারি এমন তিনটি ভালো কাজ
ক. বয়স্ক বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা।
খ. সহপাঠী বা বন্ধু পড়া বুঝতে না পারলে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া।
গ. ক্ষুধার্ত কোনো প্রাণীকে বা মানুষকে সাধ্যমতো খাবার দেওয়া।
Codehorse Learn Free