চতুর্থ শ্রেণির বাংলা কেমন বড়াই প্রশ্ন উত্তর: জনৈক ব্যক্তি নিজের সাহস ও শক্তির খুব বড়াই করত এবং লড়াই লাগলে সবাইকে দেখে নেবে বলে হুমকি দিত। সে বাহু ঠুকে ও বুক ফুলিয়ে বাঘ-হাতিকে পরোয়া না করার কথা বলত এবং নিজের শক্তি দেখাতে উইঢিবিতে ঘুসি ও ঠুসি মারত। এমনকি সে লোহার কড়াইও ভাঙতে পারে বলে দাবি করত, যা শুনে সাধারণ মানুষ ডরে ঘরে খিল লাগিয়ে থাকত। একদিন ভোরের বেলায় গ্রামের লোক বাইরে এসে দেখে যে, সেই বড়াই করা লোকটা ঢিবির পাশে বাঁধের গোড়ায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। লোকটা তখন চেঁচিয়ে জানায় যে, একটি সামান্য উইপোকা তার নাকের ডগায় কামড়ে ধরেছে। এভাবে সামান্য একটি উইপোকার কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার মাধ্যমে লোকটির মিথ্যা বড়াই ও অহংকারের আসল রূপ সবার সামনে প্রকাশ পায়।
চতুর্থ শ্রেণির বাংলা কেমন বড়াই প্রশ্ন উত্তর:
১. ছড়াটি সবাই একসাথে আবৃত্তি করি।
লোকটা শুধু করত বড়াই-
‘দেখে নিতাম লাগলে লড়াই!’
উইঢিবিতে মারত ঘুসি
চোখ পাকিয়ে জোরসে ঠুসি।
বাহু ঠুকে ফুলিয়ে ছাতি
বলত, ‘আসুক বাঘ কি হাতি!
আমি কি আর কারেও ডরাই?
ভাঙতে পারি লোহার কড়াই।’
শুনে সবে কাঁপত ডরে,
খিল লাগিয়ে থাকত ঘরে।
একদিন এক ভোরের বেলায়
বেবাক লোকের ঘুম ভেঙে যায়,
ঘর ছেড়ে সব বাইরে এসে
বাড়িয়ে গলা দেখল শেষে;
ঢিবির পাশে বাঁধের গোড়ায়,
লোকটা কেবল গড়িয়ে বেড়ায়।
‘ব্যাপার কী ভাই, ব্যাপার কী ভাই’-
ফিসফিসিয়ে বলল সবাই।
লোকটা তখন চেঁচিয়ে জানায়-
‘উই ধরেছে নাকের ডগায়!’
১। সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিই: (অতিরিক্ত)
১. কোন বড়াই ছুটটি কে নিয়েছেন?
ক. জমিমউদ্দিন
খ. হাবিবুর রহমান
গ. সুফিয়া কামাল
ঘ. আহসান হাবিব
২. লোকটি শুধু কী করত?
ক. বড়াই
খ. লড়াই
গ. কামাই
ঘ. বড়াই ও লড়াই
৩. লোকটি গাছের পড়াই কী করবে বলত?
ক. পালিয়ে যেতে
খ. লুকিয়ে থাকতে
গ. দেখে নিই
ঘ. ডাকছ
৪. লোকটি কী তুলে বড়াই করত?
ক. পা
খ. বাহু
গ. মাথা
ঘ. টেবিল
৫. লোকটি কী ফুলিয়ে কথা বলত?
ক. গাল
খ. পেট
গ. ছাতি
ঘ. নাক
৬. লোকটি বাহু কি হাতির নাম নিয়ে কী বলত?
ক. অমুক
খ. তাওই
গ. লড়াই
ঘ. পালাক
৭. লোকটি ঘুষি মারত কোথায়?
ক. গাছে
খ. দেয়ালে
গ. পাহাড়ে
ঘ. উঠোনিতে
৮. চোখ পাকিয়ে লোকটি জোরে কী মারত?
ক. লাথি
খ. ঘুষি
গ. চড়
ঘ. ধাক্কা
৯. লোকটি কী ভেঙে ফেলার দাবি করত?
ক. মাটির বাড়ি
খ. কাঠের তক্তা
গ. লোহার কড়াই
ঘ. পাথরের টুকরো
১০. লোকটির লড়াই দেখলে কী করত?
ক. দরে কাঁপ
খ. হেসে দিত
গ. লড়াই করত
ঘ. ভয় পেত না
১১. লোকজন ঘরের দরজায় কী লাগিয়ে থাকত?
ক. তালা
খ. শিকল
গ. পর্দা
ঘ. শিকল
১২. কখন বোকা লোকের ঘুম ভেঙে গেল?
ক. দুপুর বেলায়
খ. মাঝরাতে
গ. ভোরের বেলায়
ঘ. সাঁঝের বেলায়
উত্তর: ১. খ. হাবীবুর রহমান ২. ক. বড়াই ৩. গ. দেখে নুি ৪. খ. বাহু ৫. গ. ছাতি ৬. ক. আসুক ৭. ঘ. উইঢিবিতে ৮. খ. ঠুসি ৯. গ. লোহার কড়াই ১০. ক. ডরে কাঁপু ১১. খ. খিল ১২. গ. ভোরের বেলায় ;
২। সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)
ক. লোকটি সারাদিন কী করত?
উত্তর: লোকটি সারাদিন শুধু নিজের সাহস আর শক্তির বড়াই করত। সে নিজেকে অনেক বীর মনে করত এবং সবার কাছে সেটা প্রচার করে বেড়াত। সে মনে করত তার মতো শক্তিশালী আর কেউ নেই।
খ. লড়াই লাগলে লোকটি কী করবে বলত?
উত্তর: লোকটি দম্ভ করে বলত যে কোথাও লড়াই লাগলে সে একাই সবাইকে দেখে নেবে। তার সাথে কেউ শক্তিতে পারবে না বলে সে দাবি করত। সে সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার ভান করত।
গ. লোকটি নিজের বীরত্ব দেখাতে কী কী অঙ্গভঙ্গি করত?
উত্তর: লোকটি নিজের বীরত্ব বোঝাতে দুই হাতের বাহু ঠুকত এবং বুক বা ছাতি ফুলিয়ে হাঁটত। সে লোকজনের সামনে নিজেকে খুব ভয়ংকর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করত। তার এই ভঙ্গি দেখে মানুষ মনে করত সে বুঝি অনেক শক্তিশালী।
ঘ. লোকটি বাঘ বা হাতি সম্পর্কে কী বলত?
উত্তর: লোকটি বুক ফুলিয়ে বলত যে সে বাঘ কিংবা হাতি কাউকেই ভয় পায়না। বাঘ বা হাতি সামনে এলেও সে লড়াই করে তাদের হারিয়ে দেবে বলে বড়াই করত। বনের বড় প্রাণীরাও তার কাছে কিছুই না- এমনটাই ছিল তার দাবি।
ঙ. উইঢিবিতে সে কেন ঘুসি মারত?
উত্তর: নিজের গায়ের জোর পরীক্ষার জন্য সে মাঝেমধ্যেই মাটির উইঢিবিতে সজোরে ঘুসি মারত। এর মাধ্যমে সে গ্রামবাসীকে বোঝাতে চাইত তার হাতের আঘাত কতটা শক্তিশালী। এটি ছিল মূলত মানুষকে ভয় দেখানোর একটি কৌশল।
চ. ‘চোখ পাকিয়ে জোরসে ঠুসি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: লোকটি অন্যদের ভয় দেখানোর জন্য চোখ বড় বড় করে তাকাত এবং মাথা দিয়ে সজোরে গুঁতো বা ঠুসি মারার ভঙ্গি করত। সে মাটির ঢিবিতে এভাবে আঘাত করে নিজের মারকুটে স্বভাব প্রকাশ করত। এটি ছিল তার মিথ্যা বীরত্বের একটি উদাহরণ।
ছ. লোকটি লোহার কড়াই নিয়ে কী দম্ভ করত?
উত্তর: লোকটি দাবি করত যে তার গায়ের শক্তি অপরিসীম এবং সে অনায়াসেই লোহার কড়াই ভেঙে ফেলতে পারে। লোহা অনেক শক্ত ধাতু হলেও সে নিজেকে তার চেয়েও শক্তিশালী মনে করত। তার এই অসম্ভব দাবি শুনে মানুষ অবাক হতো।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৩। বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)
ক. লোকটির শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও বড়াই করার ধরণ বর্ণনা করো।
উত্তর: লোকটি নিজেকে গ্রামের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইণ। সে যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটত, তখন দুই হাতের পেশি বা বাহু ঠুকত এবং বুক ফুলিয়ে বীরের মতো ভাব ধরত। কেউ সামনে থাকলে সে চোখ বড় বড় করে তাকাত এবং আস্ফালন করত। সে মুখে মুখে বাঘ, হাতি কিংবা লড়াইয়ের কথা বলে অন্যদের ভয় দেখাত। তার এই উদ্ধত ভঙ্গি দেখে গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে একজন মারকুটে ব্যক্তি বলে ধরে নিয়েছিল।
খ. লোকটির মিথ্যা সাহসের কয়েকটি উদাহরণ ছড়াটির আলোকে দাও।
উত্তর: ছড়াটিতে লোকটির সাহসের বড় বড় বুলি লক্ষ্য করা যায়যা আসলে ছিল পুরোটাই মিথ্যা। সে দাবি করত যে বাঘ কিংবা হাতি সামনে এলেও সে লড়াই করতে ডরায়না। এছাড়া সে লোহার শক্ত কড়াই অনায়াসেই ভেঙে ফেলতে পারে বলে সবাইকে জানাত। নিজের হাত কত শক্ত তা বোঝাতে সে নিরীহ উইঢিবিতে ঘুসি ও ঠুসি মারত। তার এই কর্মকাণ্ডগুলো ছিল মূলত অন্যদের কাছে নিজেকে মহাবীর প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা।
গ. লোকটির বড়াই শুনে গ্রামবাসীদের ওপর কী প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর: গ্রামের সাধারণ মানুষ লোকটির আস্ফালন আর হুংকারকে সত্যি মনে করে খুব ভীত হয়ে পড়েছিল। লোকটা যখন লড়াইয়ের ভয় দেখাত, তখন সবাই ডরে বা ভয়েকাঁপতে শুরু করত। তার সাথে কোনো ঝামেলায় জড়ানোর ভয়ে লোকজন নিজেদের ঘরের ভেতরে বন্দি রাখত। দরজায় খিল দিয়ে তারা তটস্থ থাকত পাছে লোকটা তাদের কোনো ক্ষতি করে বসে। লোকটির এই অহেতুক দম্ভ গ্রামে এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
ঘ. ভোরের বেলা গ্রামের মানুষ কেন অবাক হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: প্রতিদিন ভোরে গ্রাম শান্ত থাকলেও সেদিন একটি বিশেষ ঘটনায় সবার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। ঘর থেকে বেরিয়ে তারা দেখল যে লোকটা সবসময় লড়াইয়ের কথা বলত, সে আজ অসহায় অবস্থায় পড়ে আছে। বাঁধের গোড়ায় তাকে ধুলোয় গড়াগড়ি খেতে দেখে সবার মনে বিস্ময় জাগল। যে মানুষ বাঘ-হাতিকে ভয় পায়না, সে আজ কেন এভাবে মাটিতে লুটাচ্ছে তা কেউ বুঝতে পারছিল না। মানুষের মনে লোকটির প্রতি এক ধরণের কৌতূহল ও কৌতুক তৈরি হয়েছিল।
Codehorse Learn Free