৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় বাম ডান মিলকরণ: সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য আমরা সারাবছর বা সবসময় পাই না। কিছু খাদ্য শীতকালে, কিছু গ্রীষ্মকালে আবার কিছু বারো মাসই পাওয়া যায়। খাদ্যদ্রব্য পচনশীল হওয়ায় সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই সারাবছর খাদ্যদ্রব্য পেতে খাদ্য সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়।
৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় বাম ডান মিলকরণ:
৪. খাদ্য সংরক্ষণ-
সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য আমরা সারাবছর বা সবসময় পাই না। কিছু খাদ্য শীতকালে, কিছু গ্রীষ্মকালে আবার কিছু বারো মাসই পাওয়া যায়। খাদ্যদ্রব্য পচনশীল হওয়ায় সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই সারাবছর খাদ্যদ্রব্য পেতে খাদ্য সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়। জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন রোধ করে খাদ্যের স্বাদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রক্রিয়াই হলো খাদ্য সংরক্ষণ।
খাদ্যের বৈশিষ্ট্য ও গুণগত মান ঠিক রেখে খাদ্যকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করা যায়, যেমন-শুকিয়ে, ফ্রিজে রেখে, লবণ দিয়ে ইত্যাদি। এর ফলে খাদ্য বিষক্রিয়ামুক্ত ও নিরাপদ থাকে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। আমরা ধান, সরিষা, গম, ভুট্টা, ডাল, আলু ইত্যাদি ফসল যেমন গুদাম বা হিমাগারে রেখে সংরক্ষণ করে থাকি তেমনি বাড়িতেও বিভিন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ করে থাকি।
শুকিয়ে সংরক্ষণ-
রোদে অথবা ড্রায়ারে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ একটি প্রচলিত পদ্ধতি। খাদ্যদ্রব্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য অনেক প্রকার খাদ্য আমরা শুকিয়ে সংরক্ষণ করি। যেমন- ধান, সরিষা, গম, ভুট্টা, ডাল, মাছ ইত্যাদি। এছাড়ও বিভিন্ন ধরনের মসলা, শিমের বিচি, কাঁচা আম, বরই রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে বীজ শুকানোর পর সাধারণ তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা হয়। শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করা হয়। পাত্রের মুখ কাপড় বা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফ্রিজ বা হিমাগারে রেখে সংরক্ষণ-
সাধারণ তাপমাত্রা ও পরিবেশে মাছ, মাংস, সবজি, ফল ইত্যাদি খুব দ্রুত পচে যায়। এসব খাদ্য ফ্রিজ বা হিমাগারে রেখে সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। বাড়িতে সাধারণত ৪° সে. থেকে -১৮°সে. তাপমাত্রায় রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা হয়। এই তাপমাত্রায় খাদ্য পচনকারী অণুজীবগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজে পচে না এবং কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে হিমাগারে আলু, গাজর, মটরশুঁটি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ বছরব্যাপী সংরক্ষণ করা হয়।
কিউরিং-
কোনো খাদ্যকে খাবার লবণ বা এর দ্রবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে কিউরিং বলে। যখন ফ্রিজের প্রচলন ছিল না তখন কিউরিং খাদ্য সংরক্ষণের খুব জনপ্রিয় পদ্ধতি ছিল। এক সময় দেশে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। তখন লবণ দিয়ে ইলিশ মাছ সংরক্ষণ করে সারা বছর খাওয়া হতো। এই পদ্ধতিতে মাংস, বিভিন্ন ফলমূল ও সবজি সংরক্ষণ করা যায়।
আচার ও জ্যাম-জেলি-
যখন কোনো খাদ্যকে (ফল ও সবজি) সাধারণত লবণ বা চিনি, সরিষার তেল, ভিনেগার এবং মসলা ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হয় তখন প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে আচার বলে। যেমন-আম, জলপাই, আমড়া, রসুন, চালতা, তেঁতুল, লেবু ইত্যাদির আচার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আচার তৈরিতে লবণ, চিনি, ভিনেগার, তেল খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ফল বা ফলের রস চিনির সাথে মিশিয়ে জ্যাম-জেলি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
(i) বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল করো:
| বামপাশ | ডানপাশ |
| ক) সুষম খাদ্য খ) আমিষ জাতীয় খাদ্য গ) ভিটামিন ও খনিজ লবণ ঘ) কিউরিং ঙ) সময়মতো খাদ্য গ্রহণ |
i) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ii) লবণ দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি iii) শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন ও পানি সমৃদ্ধ খাদ্য iv) দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে v) পাকস্থলী সুস্থ রাখে vi) খাদ্যকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা vii) সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ |
উত্তর:
ক + iii – সুষম খাদ্য হলো শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি সমৃদ্ধ খাদ্য।
খ + iv – আমিষ জাতীয় খাদ্য দেহের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ + i – ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ঘ + ii – কিউরিং হলো লবণ ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি।
ঙ + v – সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করলে পাকস্থলী সুস্থ থাকে এবং হজম ভালো হয়।
(ii) বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল করো:
| বামপাশ | ডানপাশ |
| ক) শর্করা জাতীয় খাদ্য খ) স্নেহ বা চর্বি গ) দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য ঘ) অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ঙ) বয়স্ক ব্যক্তির খাদ্য |
i) দেহের তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে ii) হাড় ও দাঁত মজবুত করে iii) ভাত, রুটি, আলু iv) স্থূলতা ও বদহজম সৃষ্টি করে v) সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর হওয়া দরকার vi) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় vii) শরীর গঠন করে |
উত্তর:
ক + iii – শর্করা জাতীয় খাদ্যের উদাহরণ ভাত, রুটি ও আলু।
খ + i – স্নেহ বা চর্বি দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
গ + ii – দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
ঘ + iv – অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণে স্থূলতা ও বদহজম দেখা দেয়।
ঙ + v – বয়স্ক ব্যক্তির জন্য সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রয়োজন।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
(iii) বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল করো:
| বামপাশ | ডানপাশ |
| ক) খাদ্য সংরক্ষণ খ) শুকিয়ে সংরক্ষণ গ) ফ্রিজে সংরক্ষণ ঘ) আচার ঙ) হিমায়ন |
i) খাদ্যের অপচয় রোধ করে ii) মাছ ও মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে iii) রোদে শুকিয়ে খাদ্য রাখা iv) লবণ, তেল ও মসলা ব্যবহার v) কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ vi) খাদ্য দ্রুত পচে যায় vii) মৌসুমি ফল সংরক্ষণ |
উত্তর:
ক + i – খাদ্য সংরক্ষণ খাদ্যের অপচয় রোধ করতে সাহায্য করে।
খ + iii – শুকিয়ে সংরক্ষণ মানে রোদে শুকিয়ে খাদ্য রাখা।
গ + v – ফ্রিজে কম তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
ঘ + iv – আচার তৈরিতে লবণ, তেল ও মসলা ব্যবহার করা হয়।
ঙ + ii – হিমায়নে মাছ ও মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
Codehorse Learn Free