পাহাড়পুর রচনা চতুর্থ শ্রেণি (PDF)
পাহাড়পুর রচনা চতুর্থ শ্রেণি (PDF)

পাহাড়পুর রচনা চতুর্থ শ্রেণি (PDF)

পাহাড়পুর রচনা চতুর্থ শ্রেণি (PDF): প্রিয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা সুন্দর একটি রচনা লিখব যার নাম—পাহাড়পুর/প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। চলো, এখন রচনাটি শুরু করি!

পাহাড়পুর রচনা চতুর্থ শ্রেণি (PDF):

পাহাড়পুর

অথবা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ। এদেশের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এমনি একটি স্থান পাহাড়পুর।

অবস্থান: পাহাড়পুরের অবস্থান বর্তমান রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায়। নওগাঁ থেকে বাসে করে গেলে ৩৪ কি.মি., তবে বদলগাছি থানা সদর থেকে ১৬ কি.মি.। আর পাশের জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে গেলে মাত্র ৫ কিলোমিটার।

বিখ্যাত হওয়ার কারণ: পাহাড়পুর মূলত বৌদ্ধ বিহারের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে একটি সুপ্রাচীন বৌদ্ধবিহার। প্রায় ১৪শ বছর আগে বৌদ্ধ ধর্মের ভিক্ষুগণ কোনো বিশেষ একটা জায়গায় থাকতেন। সেখানে থেকে তারা নিজেদের ধর্মচর্চা করতেন, নিজেদের শিক্ষা দিতেন। এ রকম বিহার বাংলাদেশের ভিতরে ও বাইরে অনেক আছে। কিন্তু পাহাড়পুরের মতো বড় বৌদ্ধ বিহার আর নেই।

পাহাড়পুরের নামকরণ: বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ এক সময় চলে গেলে বিহারটি খালি পড়ে থাকে। অনেকের ধারণা, যুগ যুগ ধরে উড়ে আসা ধুলাবালি ও মাটি বিহারের চারদিকে জমতে থাকে। একসময় মাটির স্তূপে বিহারটি ঢাকা পড়ে পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। সেই থেকে এর নামকরণ হয়ে যায় পাহাড়পুর।

বিহারটির আয়তন: পাহাড়পুর বিহারটি প্রায় ৪০ একর জায়গা -জুড়ে লালচে মাটির ভূমিতে বিস্তৃত। ২৭ একর জমির ওপর এক বিশাল দালান। উত্তর-দক্ষিণে এটি ৯২২ ফুট আর পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট বিস্তৃত।

বিহারটির আকৃতি: একদম নিচের মাটির অংশে বিহারটি চারকোণা আকারের। বাইরের দেয়ালের গায়ে পোড়ামাটি দিয়ে নানা রকম ফুল-ফল, পাখি, পুতুল, মূর্তি ইত্যাদি বানানো আছে। উত্তর দিকের ঠিক মাঝখানে মূল দরজা। তারপরেই বড় হলঘর। পাশে দুটি ছোট হলঘর। চারদিকের দেয়ালের ভিতরে সুন্দর সার বাঁধা ১৭৭টি ছোট ছোট ঘর। সামনে দিয়ে আছে লম্বা বারান্দা। বিহারটিতে আছে পুকুর, স্নানঘাট, কূপ, রান্নাঘর, খাবার ঘর, টয়লেট।

সন্ধ্যাবতীর ঘাট: সন্ধ্যাবতীর ঘাট পাহাড়পুর বিহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিহারের ভেতরটায় বিশাল উঠানের মাঝখানে বড় একটি সুন্দর মন্দির। ধাপে ধাপে উঁচু করে বড় মন্দিরটা বসানো হয়েছে। পোড়ামাটির দুই হাজার ফলকের চিত্র দিয়ে মন্দিরের ভেতর আর বাহির সাজানো। বিহারটির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে দেয়ালের বাইরে একটা বাঁধানো ঘাট আছে। এটাই সন্ধ্যাবতীর ঘাট।

উপসংহার: পাহাড়পুর প্রকৃত অর্থেই একটি দর্শনীয় স্থান। এএটি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা যারা “পাহাড়পুর/প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন” রচনাটি পড়েছ, তারা এখন চাইলে এর PDF কপি সংগ্রহ করতে পারো। নিচের “Answer Sheet” বোতামে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাধান।

Answer Sheet

সকল বিষয়ে সমাধান পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করো এবং সকল গাইড মোবাইলে পড়তে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করে নাও। এতে তোমাদের পড়াশোনা হবে আরও সহজ ও মজার!

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *