পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: আমাদের চারপাশ ঘিরে আছে পানি। পানি ছাড়া কোনো জীব বেঁচে থাকতে পারে না। তাপ প্রয়োগ ও ঠান্ডা করার মাধ্যমে পানি এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। পানি এক উৎস থেকে অন্য উৎসে চক্রাকারে ঘোরে। এ চক্রাকার ঘূর্ণনের ধাপগুলো হলো- ভূপৃষ্ঠের পানি থেকে জলীয় বাষ্প, জলীয় বাষ্প থেকে মেঘ, মেঘ থেকে বৃষ্টি হিসেবে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসা। পুরো চক্রটি পানিচক্র নামে পরিচিত। মানুষের অসাবধানী নানা কাজের ফলে এ পানি দূষিত হচ্ছে। এ দূষিত পানি পান করার ফলে কলেরা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এসব রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই নিরাপদ পানি পান ও ব্যবহার করতে হবে।
পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔) দিই।
১) উদ্ভিদের পুষ্টি শোষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
ক. পানি✔
খ. মাটি
গ. আলো
ঘ. বায়ু
২) কোনটি পানি দূষণের কারণ?
ক. ধোঁয়া
খ. ক্ষতিকর গ্যাস
গ. হর্ন বাজানো
ঘ. নর্দমার বর্জ্য✔
৩) পানিতে মিশে থাকা বালি, কাদা ইত্যাদি সরানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক. ছাঁকন
গ. ফুটানো
খ. থিতানো✔
ঘ. ঘনীভবন
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১। পানিচক্র কী?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় পানি বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে তাই পানিচক্র।
প্রশ্ন ২। পানি দূষণ প্রতিরোধের ৩টি উদাহরণ দাও।
উত্তর: পানি দূষণ প্রতিরোধের ৩টি উদাহরণ হলো-
১. কৃষিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে।
২. রান্নাঘরের নিষ্কাশন নালায় ও টয়লেটে রাসায়নিক বর্জ্য এবং তেল না ফেলে।
৩. পুকুর, নদী, হ্রদ কিংবা সাগরে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে।
প্রশ্ন ৩। অনিরাপদ পানি থেকে নিরাপদ পানি পাওয়ার চারটি উপায় লেখ।
উত্তর: অনিরাপদ পানি থেকে নিরাপদ পানি পাওয়ার চারটি উপায় হলো-১. ছাঁকন, ২. থিতানো, ৩. ফুটানো ও ৪. রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ।
প্রশ্ন ৪। বৃষ্টির পর মাটিতে পানি জমা হয়। কিছুক্ষণ পর সেই পানি অদৃশ্য হয়ে যায়। ওই পানি কোথায় যায়?
উত্তর: বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সাধারণত মাটিতে শোষিত হয় অথবা নদীতে গড়িয়ে পড়ে। মাটিতে শোষিত পানি ভূগর্ভস্থ পানি হিসেবে জমা থাকে। আর নদীতে গড়িয়ে পড়া পানি সমুদ্রে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে তা বাষ্পীভূত হয়ে আবার বায়ুতে ফিরে আসে।
প্রশ্ন ৫। পানির তিনটি অবস্থা কী কী?
উত্তর: পানির তিনটি অবস্থা হলো- ১. কঠিন, ২. তরল ও ৩. বায়বীয়।
৩. বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১। বরফসহ পানির গ্লাসের বাইরের পৃষ্ঠ কেন ভিজে যায় তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ্লাসে বরফ রাখলে গ্লাসটি ঠান্ডা হয়ে যায়। বরফসহ গ্লাসের বাইরের অংশও স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা হবে। গ্লাসের বাইরের বায়ু যখন এ ঠান্ডা গ্লাসের সংস্পর্শে আসে, তখন বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তা বিন্দু বিন্দু পানিতে পরিণত হয়ে গ্লাসের গায়ে জমা হয়। ফলে গ্লাসের বাইরের পৃষ্ঠ ভিজে যায়।
প্রশ্ন ২। পানিচক্র ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় পানি বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে তাই পানিচক্র। নিচে পানিচক্র ব্যাখ্যা করা হলো- পানিচক্রের মাধ্যমে সর্বদাই পানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। সাগর ও নদীর পানি বাষ্পীভূত হয়ে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পীভূত পানি উপরে উঠে ঠাণ্ডা ও ঘনীভূত হয়ে পানির বিন্দুতে পরিণত হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দু একত্রিত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে। এ মেঘের পানিকণা বড় হয়ে বৃষ্টিপাত হিসেবে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। এভাবেই একটি পানিচক্র সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন ৩। জীবের কেন পানি প্রয়োজন?
উত্তর: পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া অধিকাংশ জীব বাঁচতে পারে না। তাই জীবের জন্য পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জীবের জীবনধারণে পানির প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ-
১. পানি উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি উপাদান পরিবহনে সাহায্য করে।
২. উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে।
৩. প্রাণীর গ্রহণকৃত খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
৪. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে পানির প্রয়োজন হয়।
৫. পানি ছাড়া উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না।
৬. প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পানি সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৪। বাতাসে পানি আছে তা আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি?
উত্তর: বাতাসে সর্বদাই পানি বিদ্যমান। নিচের পরীক্ষাটির সাহায্যে তা সহজেই প্রমাণ করা যায়।
একটি কাচের গ্লাসে কয়েক টুকরা বরফ নিই। তারপর কিছুক্ষণ রেখে দিই। এবার লক্ষ করলে দেখা যাবে যে গ্লাসের বাইরের অংশে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে। এর কারণ হলো ঠান্ডা গ্লাসটির চারপাশের বায়ুতে থাকা বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তা পানিতে পরিণত হয়েছে। এ পরীক্ষার দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে বাতাসে পানি রয়েছে।
প্রশ্ন ৫। পুকুরের পানি থেকে আমরা কীভাবে নিরাপদ পানি পেতে – পারি?
উত্তর: চারটি উপায়ে আমরা পুকুরের পানি থেকে নিরাপদ পানি পেতে পারি। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো-
কলসি বা পাত্রে পুকুরের পানি রেখে দিলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে পাত্রের তলায় তলানি জমেছে। ফলে উপরের অংশের পানি পরিষ্কার হয়েছে। এ পানিকে ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ফুটিয়ে আমরা নিরাপদ পানি পেতে পারি। এছাড়া পুকুরের পানিতে ফিটকিরি, ব্লিচিং পাউডার বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি পরিমাণ মত মিশিয়েও আমরা নিরাপদ পানি পেতে পারি।
প্রশ্ন ৬। ঠান্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানির কণা এবং শিশির কেন একই রকম?
উত্তর: একটি ঠান্ডা পানির গ্লাস কিছুক্ষণ রেখে দিলে বায়ু গ্লাসের সংস্পর্শে আসে। ফলে বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তা পানির কণায় পরিণত হয়। আবার শীতকালে যখন তাপমাত্রা কমে যায় তখন ঘাস, গাছপালার সংস্পর্শে বায়ুর জলীয়বাষ্প এসে ঘনীভূত হয়ে তা শিশির বিন্দুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ ঠান্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানি এবং শিশির একই উৎস তথা জলীয়বাষ্প থেকে এসেছে। তাই এরা একই রকম।
অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১। প্রচন্ড গরমে কোন উপাদানটি উদ্ভিদের দেহ শীতল রাখতে সাহায্য করে?
উত্তর: প্রচন্ড গরমে পানি উপাদানটি উদ্ভিদের দেহ শীতল রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২। তোমার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে প্রকৃতির কোন উপাদান গ্রহণ করবে?
উত্তর : আমার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে প্রকৃতির উপাদান পানি গ্রহণ করব।
প্রশ্ন ৩। উদ্ভিদের জন্য পানির দুটি ব্যবহার লেখ।
উত্তর: উদ্ভিদের জন্য পানির দুটি ব্যবহার হলো- ১. উদ্ভিদ খাদ্য তৈরিতে পানি ব্যবহার করে। ২. মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহে পানি ব্যবহার করে।
প্রশ্ন ৪। প্রকৃতিতে পানির দুটি উৎসের নাম লেখ।
উত্তর: প্রকৃতিতে পানির দুটি উৎসের নাম হলো- ১. নদী ও ২. বৃষ্টির পানি।
প্রশ্ন ৫। মানুষের তৈরি দুটি পানির উৎসের নাম লেখ।
উত্তর: মানুষের তৈরি দুটি পানির উৎসের নাম হলো- ১. দিঘি ও ২. পুকুর।
প্রশ্ন ৬। বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীর পানি প্রয়োজন। মানবদেহে এর পরিমাণ কতটুকু?
উত্তর: মানবদেহে পানির পরিমাণ ৬০-৭০ ভাগ।
প্রশ্ন ৭। উদ্ভিদ কীভাবে পানি গ্রহণ করে?
উত্তর: উদ্ভিদ মূল বা শিকড়ের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৮। ঘরের টবে লাগানো ফুল গাছটির পাতা ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তুমি কী করবে?
উত্তর: ঘরের টবে লাগানো ফুল গাছটির পাতা হলুদ হওয়া শুরু হলে আমি ফুল গাছটি বাইরে সূর্যের আলোতে রাখব।
প্রশ্ন ৯। দেহে খাদ্য পরিপাক কীসের সাহায্যে ঘটে?
উত্তর: দেহে খাদ্য পরিপাক পানির সাহায্যে ঘটে।
প্রশ্ন ১০। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ লবণ উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছার জন্য উদ্ভিদের কী প্রয়োজন?
উত্তর: বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ লবণ উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছার জন্য উদ্ভিদের পানি প্রয়োজন।
প্রশ্ন ১১। উদ্ভিদের দেহে শতকরা কত ভাগ পানি থাকে?
উত্তর: উদ্ভিদের দেহে শতকরা ৯০ ভাগ পানি থাকে।
প্রশ্ন ১২। বৃষ্টির পর মাটিতে পানি জমা হয়। কিছুক্ষণ পর সেই পানি অদৃশ্য হয়ে যায়। ঐ পানি কোথায় যায়?
উত্তর: বৃষ্টির পর মাটিতে জমা পানি মাটিতে শোষিত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৩। জলীয়বাষ্প থেকে কী তৈরি হয়?
উত্তর: জলীয়বাষ্প থেকে বৃষ্টি ও শিশির তৈরি হয়।
প্রশ্ন ১৪। পানির ৩টি অবস্থা কীভাবে পরিবর্তিত করা যায়?
উত্তর: তাপ প্রয়োগ ও ঠান্ডা করার মাধ্যমে পানির ৩টি অবস্থা পরিবর্তন করা যায়।
প্রশ্ন ১৫। তরল পদার্থ একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়। প্রক্রিয়াটির নাম কী?
উত্তর: বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৬। বরফকে তাপ দিলে পানি হয়, পানিকে তাপ দিলে কী হয়?
উত্তর: পানিকে তাপ দিলে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৭। পৃথিবীতে সর্বদাই পানির অবস্থার পরিবর্তন কোন প্রক্রিয়ায় ঘটছে?
উত্তর : পৃথিবীতে পানিচক্র প্রক্রিয়ায় সর্বদাই পানির অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।
প্রশ্ন ১৮। সূর্যতাপ পানিকে কীসে পরিণত করে?
উত্তর: সূর্যতাপ পানিকে জলীয়বাষ্পে পরিণত করে।
প্রশ্ন ১৯। পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপ সরিয়ে নিলে পানি কীসে পরিণত হয়?
উত্তর: পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপ সরিয়ে নিলে পানি বরফে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ২০। শীতের সকালে ঘাসের উপর জমে থাকা পানি বিন্দুগুলোর উৎস কী?
উত্তর: শীতের সকালে ঘাসের উপর জমে থাকা বিন্দু বিন্দু পানির উৎস হলো বায়ুর জলীয়বাষ্প।
প্রশ্ন ২১। একটি গ্লাসে ঠান্ডা পানি কিছুক্ষণ রেখে দিলে গ্লাসের বাইরের পানির কণা গ্লাসটিকে আবছা করে দিল। এর জন্য দায়ী কোনটি?
উত্তর: এর জন্য দায়ী জলীয় বাষ্প।
প্রশ্ন ২২। শিশির কী?
উত্তর: রাতে ঘাস, গাছপালা ইত্যাদির উপর যে বিন্দু বিন্দু পানি জমে তাই শিশির।
প্রশ্ন ২৩। দুটি পানিবাহিত রোগের নাম লেখ।
উত্তর: দুটি পানিবাহিত রোগ হলো- ১. কলেরা ও ২. ডায়রিয়া।
পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
২. শূন্যস্থান পূরণ কর ।
প্রশ্ন ১। উদ্ভিদের দেহের শতকরা প্রায়___পানি।
প্রশ্ন ২। জীবের জন্য পানি___প্রয়োজনীয়।
প্রশ্ন ৩। মানবদেহের___ভাগ পানি।
প্রশ্ন ৪। প্রাণিদেহে পানি খাদ্য___সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৫। পানি আমাদের দেহের স্বাভাবিক___ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৬। পানি দেহের বিভিন্ন অংশে___উপাদান পরিবহন করে।
প্রশ্ন ৭। পানি খাদ্য পরিপাকে___করে।
প্রশ্ন ৮। খাদ্য তৈরিসহ নানা কাজে উদ্ভিদ___ব্যবহার করে।
প্রশ্ন ৯ । সুস্থ থাকার জন্য সকলের___পানি প্রয়োজন।
প্রশ্ন ১০। ___ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না।
প্রশ্ন ১১। পানি ছাড়া উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান___করতে পারে না।
প্রশ্ন ১২। বরফকে তাপ দিলে___পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৩। পানিকে___দিলে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৪। পানি শীতল হয়ে জমে___বরফে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৫। বায়ুতে___বাষ্প আছে।
প্রশ্ন ১৬। ভূপৃষ্ঠের পানি সূর্যের তাপে___হয়।
প্রশ্ন ১৭। বাষ্পীভূত পানি ___ও ___হয়ে পানির বিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৮। পানিচক্রের মাধ্যমে সর্বদাই পানির ___পরিবর্তন ঘটছে।
প্রশ্ন ১৯। মেঘের পানিকণা বড় হয়ে___হিসেবে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
প্রশ্ন ২০। তরল থেকে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে___।
উত্তরমালা: ১। ৯০ ভাগ; ২। অত্যন্ত; ৩। ৬০-৭০; ৪। পরিপাকে; ৫। তাপমাত্রা; ৬। পুষ্টি; ৭। সাহায্য; ৮। পানি; ৯। নিরাপদ; ১০। পানি; ১১। শোষণ; ১২। পানিতে; ১৩। তাপ; ১৪। কঠিন; ১৫। জলীয়; ১৬। বাষ্পীভূত; ১৭। ঠাণ্ডা, ঘনীভূত; ১৮। অবস্থার; ১৯। বৃষ্টিপাত; ২০। বাষ্পীভবন;
পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
৩. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ মিল কর।
প্রশ্ন ১। বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ
মিল কর:
| বাম পাশ | ডান পাশ |
|---|---|
| (ক) পানি দূষণ | (১) মেঘ সৃষ্টি করে |
| (খ) পানি দূষণের প্রধান কারণ | (২) জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে |
| (গ) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দু একত্রিত হয়ে | (৩) বাষ্প পরিণত হয় |
| (ঘ) পানি দূষণের ফলে | (৪) জীবের জন্য ক্ষতিকর |
| (ঙ) মাটিতে শোষিত পানি | (৫) পানি বিশুদ্ধ করে |
| (৬) মানুষের কর্মকান্ড | |
| (৭) ভূ-গর্ভস্থ পানি হিসেবে জমা থাকে |
উত্তরমালা:
(ক) পানি দূষণ জীবের জন্য ক্ষতিকর।
(খ) পানি দূষণের প্রধান কারণ মানুষের কর্মকান্ড।
(গ) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দু একত্রিত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে।
(ঘ) পানি দূষণের ফলে জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।
(ঙ) মাটিতে শোষিত পানি ভূগর্ভস্থ পানি হিসেবে জমা থাকে।
প্রশ্ন ২। বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশ
মিল কর:
| বাম পাশ | ডান পাশ |
|---|---|
| (ক) প্রাকৃতিক পানির উৎস | (১) নানা কাজে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে |
| (খ) খাদ্য তৈরিসহ উদ্ভিদ | (২) পানিতে পরিণত হয় |
| (গ) বাতাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয় | (৩) বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র ইত্যাদি |
| (ঘ) বাষ্প থেকে তরলে পরিণত হওয়াকে বলা হয় | (৪) মেঘ সৃষ্টি হয় |
| (ঙ) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দু একত্রিত হয় | (৫) দিঘি, পুকুর, নলকূপ ইত্যাদি |
| (৬) নানা কাজে পানি ব্যবহার করে | |
| (৭) ঘনীভবন |
উত্তরমালা:
(ক) প্রাকৃতিক পানির উৎস বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র ইত্যাদি।
(খ) খাদ্য তৈরিসহ উদ্ভিদ নানা কাজে পানি ব্যবহার করে।
(গ) বাতাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়।
(ঘ) বাষ্প থেকে তরলে পরিণত হওয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
(ঙ) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দু একত্রিত হয়ে মেঘ সৃষ্টি হয়।
৪. কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন ১। পানির দুটি প্রাকৃতিক উৎসের নাম লেখ। প্রাণিদেহে পানির চারটি প্রয়োজনীয়তা লেখ।
উত্তর: পানির দুটি প্রাকৃতিক উৎসের নাম হলো- ১. বৃষ্টি ও ২. নদী।
প্রাণিদেহে পানির চারটি প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. মানবদেহের ৬০-৭০ ভাগ পানি। পানি ছাড়া কোনো প্রাণীই বেঁচে থাকতে পারে না।
২. যখন আমরা খাদ্য গ্রহণ করি তখন পানি সেই খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
৩. পুষ্টি উপাদান শোষণ ও দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গে পরিবহনের জন্য পানি প্রয়োজন।
৪. পানি আমাদের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২। পানিচক্র কী? জীবের কেন পানি প্রয়োজন তা পাঁচটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় পানি বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে তাই পানিচক্র।
জীবের জীবনধারণে পানির প্রয়োজনীয়তা পাঁচটি বাক্যে নিচে লেখা হলো-
১. পানি উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি উপাদান পরিবহনে সাহায্য করে।
২. উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে।
৩. প্রাণীর গ্রহণকৃত খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
৪. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে পানির প্রয়োজন হয়।
৫. পানি ছাড়া উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না।
প্রশ্ন ৩। বাষ্পীভবন কী? তুমি কীভাবে একটি বরফ খণ্ডকে পানিতে পরিণত করবে- সে সম্পর্কে একটি বাক্য লেখ। জীবের জন্য পানির তিনটি প্রয়োজনীয়তা লেখ।
উত্তর: কোনো পদার্থ তরল অবস্থা থেকে বায়বীয় অবস্থায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো বাষ্পীভবন।
একটি বরফ খণ্ডকে তাপ দিলে তা পানিতে পরিণত হয়।
জীবের জন্য পানির তিনটি প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. বেঁচে থাকার জন্য জীবের পানি প্রয়োজন।
২. মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ ও বিভিন্ন অংশে পরিবহনের জন্য উদ্ভিদের পানি প্রয়োজন।
৩. পানি প্রাণীর খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৪। পানি দূষণের তিনটি কারণ লেখ। পানি দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখ।
উত্তর: পানি দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. ফসলের জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার।
২. নদী-বা পুকুরে গরু ছাগল গোসল করানো।
৩. গৃহস্থালির বর্জ্য পানিতে ফেলা।
পানি দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব নিম্নরূপ:
১. পানি দূষণের ফলে জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।
২. জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের ব্যাঘাত ঘটছে।
৩. দূষিত পানি পান করে মানুষ ডায়রিয়া বা কলেরার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
প্রশ্ন ৫। পানি দূষণ কী? পানি দূষণের ৪টি কারণ লেখ।
উত্তর: প্রাকৃতিক পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যখন জীবের জন্য ক্ষতিকর হয় তখন তাকে পানি দূষণ বলে।
পানি দূষণের ৪টি কারণ হলো-
১. কৃষিকাজে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার করা।
২. কলকারখানার রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে ফেলা।
৩. গৃহস্থালির বর্জ্য পানিতে ফেলা।
৪. নদী বা পুকুরে গরু-ছাগল গোসল করানো ও কাপড়-চোপড় ধোয়া।
প্রশ্ন ৬। পানিবাহিত দুটি রোগের নাম লেখ। পানি দূষণ রোধে তুমি কী করবে সে সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: পানিবাহিত দুটি রোগের নাম হলো- ১. ডায়রিয়া ও ২. কলেরা।
পানি দূষণ রোধে আমি যা করব তা চারটি বাক্যে নিচে দেওয়া হলো-
১. কৃষিতে কীটনাশক এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাবো।
২. রান্নাঘরের নিষ্কাশন নালায় ও টয়লেটে বর্জ্য এবং তেল ফেলব না।
৩. পুকুর, নদী, হ্রদ কিংবা সাগরে ময়লা আবর্জনা ফেলব না।
৪. সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকা ময়লা এবং খাল-বিল কিংবা নদীতে ভাসমান ময়লা আবর্জনা কুড়িয়ে আমরা পানি দূষণ রোধ করতে পারি।
প্রশ্ন ৭। পানি বিশুদ্ধকরণের দুটি পদ্ধতির নাম লেখ। বন্যার সময় পানি কীভাবে নিরাপদ করবে তা চারটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: পানি বিশুদ্ধকরণের দুটি পদ্ধতি হলো-
১. ছাঁকন ও ২. থিতানো।
বন্যার সময় পানি নিরাপদ করার চারটি প্রক্রিয়া হলো-
১. পানিতে ফিটকিরি মিশিয়ে,
২. পানিতে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে,
৩. পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মিশিয়ে ও
৪. ফুটানো সম্ভব হলে পানি ফুটিয়ে।
প্রশ্ন ৮। পানি দূষণের দুটি কারণ লেখ। বর্ষাকালে যদি তোমার গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে যায় তাহলে তুমি কিভাবে খাবার পানি বিশুদ্ধ করবে? পানি বিশুদ্ধকরণের চারটি উপায়ের নাম লেখ।
উত্তর: পানি দূষণের ২টি কারণ হলো-
১. কৃষিকাজে কীটনাশকের ব্যবহার।
২. গৃহস্থালির বর্জ্য পানিতে ফেলা।
বর্ষাকালে যদি আমার গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে যায় তাহলে আমি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ফিটকিরি, ব্লিচিং পাউডার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি পরিমাণমতো ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করব।
পানি বিশুদ্ধকরণের চারটি উপায়ের নাম হলো-
১. ছাঁকন,
২. থিতানো,
৩. ফুটানো ও
৪. রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ।
প্রশ্ন ৯। দূষিত পানি কাকে বলে? পানি শোধনের একটি উপায়ের নাম লেখ। পানি পুরোপুরি নিরাপদ করতে কোন উপায় সবচেয়ে গ্রহণীয়? কেন?
উত্তর: পানিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রিত হয়ে থাকলে তাকে দূষিত পানি বলে।
পানি শোধনের একটি উপায়ের নাম হলো- ফুটানো।
পানি পুরোপুরি নিরাপদ করতে যে উপায় সবচেয়ে গ্রহণীয় তা হলো ফুটানো। কারণ পানি ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ফুটালে পানি জীবাণু মুক্ত হয়।
প্রশ্ন ১০। জীবের কেন পানি প্রয়োজন দুইটি বাক্যে লিখ। পানি বিশুদ্ধকরণের চারটি প্রক্রিয়া লেখ।
উত্তর: জীবের কেন পানি প্রয়োজন তা দুইটি বাক্যে লেখা হলো-
১. আমরা যখন খাদ্য গ্রহণ করি তখন পানি সেই খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
২. পুষ্টি উপাদান শোষণ ও দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গে পরিবহনের জন্য পানি প্রয়োজন।
পানি বিশুদ্ধকরণের ৪টি প্রক্রিয়ার নাম হলো- ১. ছাঁকন, ২. থিতানো, ৩. ফুটানো ও ৪. রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ।
Codehorse Learn Free