তৃতীয় শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় দশম অধ্যায় আমাদের দেশ: মানচিত্রের চারটি দিক থাকে-উপরের দিকটি উত্তর, নিচের দিকটি দক্ষিণ, ডানের দিকটি পূর্ব ও বামের দিকটি পশ্চিম। এছাড়াও মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থাকে। উপরে যে মানচিত্রটি দেখা যাচ্ছে তা বাংলাদেশের মানচিত্র। বাংলাদেশের মানচিত্রটিতেও চারটি দিক রয়েছে। বাংলাদেশের ৯টি বিভাগের অধীনে ৬৪টি জেলা রয়েছে। প্রতিটি জেলারই নির্দিষ্ট সীমানা আছে।
আমরা প্রতিদিন নানা কাজে নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করি। এর মধ্যে কিছু পণ্য কৃষি থেকে ও কিছু পণ্য শিল্প থেকে পেয়ে থাকি। কৃষি থেকে যে সমস্ত পণ্য পাওয়া যায় তাই কৃষিজাত পণ্য। আর শিল্প থেকে প্রাপ্ত পণ্যই হলো শিল্পজাত পণ্য। বাংলাদেশের প্রধান কৃষিজাত পণ্য হলো ধান, পাট, আখ এবং চা। দেশের সব অঞ্চলেই ধান জন্মে। পাট ও চা অর্থকরী ফসল। এগুলো বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এছাড়া আমাদের দেশে গম, ভুট্টা, সরিষা, ডাল, তামাক, তুলা, শাকসবজি, মসলা, ফল ইত্যাদি উৎপন্ন হয়। মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু আমাদের অন্যতম কৃষিজাত পণ্য।
বাংলাদেশের প্রধান শিল্পজাত পণ্য হলো তৈরি পোশাক, চিনি, সিমেন্ট, সার ও ঔষধ। বর্তমানে তৈরি পোশাক বা গার্মেন্ট শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। দেশের অধিকাংশ পোশাক শিল্প ঢাকা এবং চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বিদেশে পোশাক রপ্তানি করে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পেয়ে থাকে। পোশাক শিল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও সম্পদ:
কোনো দেশে যত মানুষ বাস করে, তাদের মোট সংখ্যাকে বলা হয় সেদেশের জনসংখ্যা। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি ৫১ লক্ষ। আমাদের দেশে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে সামান্য বেশি। নারীর সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লক্ষ এবং পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ১৭ লক্ষ। পৃথিবীর সব দেশের জনসংখ্যা সমান নয়; কোনো দেশের জনসংখ্যা বেশি, আবার কোনো দেশের কম। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সব দেশের মধ্যে অষ্টম। আমরা প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজনে জমি, পানি, প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল ইত্যাদি সম্পদ ব্যবহার করি।
জনসংখ্যা বেশি হলে এসব সম্পদও বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে মানুষ নিজেও সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তার কাজ করার ক্ষমতা ও মেধা রয়েছে। একজন দক্ষ কর্মী একজন অদক্ষ কর্মীর চেয়ে অনেক ভালোভাবে কোনো কাজ করতে পারেন। শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ হচ্ছে মানবসম্পদ। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বেশি মানবসম্পদ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যে দেশে মানবসম্পদ যত উন্নত, সে দেশ তত উন্নত।
তৃতীয় শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় দশম অধ্যায় আমাদের দেশ:
অধ্যায়: ১০ আমাদের দেশ
ক. সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিই।
১. পঞ্চগড় বাংলাদেশের মানচিত্রের কোন দিকে অবস্থিত?
ক. সর্ব উত্তর√
খ. সর্ব দক্ষিণ
গ. উত্তর-পূর্ব
ঘ. দক্ষিণ-পশ্চিম
২. জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সব দেশের মধ্যে কততম?
ক. ৫ম
খ. ৬ষ্ঠ
গ. ৭ম
ঘ. ৮ম√
৩. কোনটি শিল্পজাত পণ্য?
ক. চিনি√
খ. আখ
গ. মসলা
ঘ. তুলা
খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. চা-কে অর্থকরী ফসল বলা হয় কেন?
উত্তর: চা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় বলে, একে অর্থকরী ফসল বলা হয়।
২. কয়েকটি কৃষিজাত পণ্যের নাম লিখি।
উত্তর: কয়েকটি কৃষিজাত পণ্য হলো- ধান, পাট, আখ, চা ইত্যাদি।
৩. শিল্পজাত পণ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : শিল্পজাত পণ্য বলতে শিল্প থেকে প্রাপ্ত পণ্যকে বোঝায়।
৪. মানবসম্পদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মানবসম্পদ বলতে শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষকে বোঝায়।
| গাইড পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করো 👉 Install Now |
গ. বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. যে দেশের মানবসম্পদ যত উন্নত সে দেশ তত উন্নত কেন?
উত্তর : শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ হচ্ছে একটি দেশের মানবসম্পদ। একজন দক্ষ কর্মী একজন অদক্ষ কর্মীর চেয়ে অনেক ভালোভাবে কোনো কাজ করতে পারেন। তাই যে দেশের মানবসম্পদ যত উন্নত, সে দেশ তত উন্নত।
২. নিচের কৃষিজাত পণ্যগুলোকে খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও প্রাণিজাত শিরোনামে পৃথক করি।
ধান, ডাল, দুধ, ডিম, মাখন, মাংস, গম, শসা, ভুট্টা, লাল শাক, গাজর, শিম, পালং শাক, সরিষা, ঢেঁড়শ।
উত্তর: কৃষিজাত পণ্যগুলোকে খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও প্রাণিজাত শিরোনামে পৃথক করা হলো-
খাদ্যশস্য
ধান, ডাল, গম, ভুট্টা, সরিষা।
শাকসবজি
শসা, লাল শাক, গাজর, শিম, পালংশাক, ঢেঁড়শ।
প্রাণিজাত
দুধ, ডিম, মাখন, মাংস।
Codehorse Learn Free