শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতার প্রশ্নোত্তর: ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতায় শিক্ষকের মর্যাদা ও ছাত্রের নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। দিল্লির বাদশাহ আলমগীর একদিন দেখেন শাহজাদা তার শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে আর শিক্ষক নিজ হাতে পা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি মর্মাহত হলেন। পরদিন সকালে বাদশাহ্ শিক্ষককে তাঁর কেল্লায় ডেকে পাঠালেন। ডাক পেয়ে শিক্ষাগুরু প্রথমে এই ভেবে ভয় পান যে শাহজাদার হাতে ঢালা পানি দিয়ে তিনি পা ধুয়েছেন বলে বাদশাহ হয়তো অখুশি হয়ে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন। পরক্ষণে শিক্ষকের মনে আত্মসম্মান বোধ জেগে ওঠে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাদশাহকে শিক্ষাগরুর মর্যাদা কী তা তাঁকে ব্যাখ্যা করে বোঝাবেন। কিন্তু দরবারে গেলে বাদশাহ তাঁকে বলেন শাহজাদা শুধু পানি না ঢেলে যদি নিজ হাতে পা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দিত তবে তিনি বেশি খুশি হতেন এবং পুত্র যে নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। কারণ শিক্ষকের মর্যাদা সবার উপরে। যে শিক্ষাগুরুর মর্যাদা দিতে জানে না, সে সমাজ ও দেশের উপযোগী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। এ কবিতায় শিক্ষাগুরুর মর্যাদা দান করে বাদশাহ আলমগীর মহানুভতার পরিচয় দিয়েছেন, যা আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতার প্রশ্নোত্তর:
১. কবিতার মূলভাব জেনে নিই।
‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতায় শিক্ষকের মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কবিতায় শিক্ষক বাদশাহ আলমগীরের ছেলের দ্বারা পায়ে পানি ঢেলে নিয়েছিলেন। কবিতায় একটি ঘটনার সূত্রে কবি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বাদশা আলমগীর একদিন দেখেন তাঁর পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে আর শিক্ষক ওজু করছেন। বাদশাহ আলমগীর এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন তাঁর সন্তান পানি ঢেলে নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দেবেন। তবেই না তাঁর সন্তান নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। কবিতার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদন্ড, আর শিক্ষক হলেন কান্ডারি। তাই সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সবার উপরে।
২. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি। অর্থ বলি।
কুমার, শাহজাদা, বারি, চরণ, শির, শাহানশাহ, প্রক্ষালন, কুর্নিশ;
উত্তর:
কুমার – রাজার ছেলে (রাজকুমার)।
শাহজাদা – বাদশাহ্ পুত্র।
বারি – পানি।
চরণ – পা।
শির – মাথা।
শাহানশাহ – বাদশাহ, রাজাধিরাজ।
প্রক্ষালন – ধোওয়া, পানি দিয়ে পরিষ্কার করা।
কুর্নিশ – মাথা নত করে অভিবাদন করা।
৩. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
কুমার, বারি, চরণ, শির, শাহানশাহ, কুর্নিশ;
ক. পিতার ………… হাত রেখে পুত্র দোয়া চাইল।
খ. বর্ষাকালে প্রবল ………. বর্ষণ হয়।
গ. আগের দিনে হাতি-ঘোড়া চড়ে …… শিকারে যেতেন।
ঘ. উজির বাদশাহকে ……….করলেন।
ঙ. ……….আলমগীর ছিলেন একজন মহৎপ্রাণ শাসক।
চ. অন্যায়ের কাছে কখনো…….. নত করব না।
উত্তর:
ক. পিতার চরণে হাত রেখে পুত্র দোয়া চাইল।
খ. বর্ষাকালে প্রবল বারি বর্ষণ হয়।
গ. আগের দিনে হাতি-ঘোড়া চড়ে কুমার শিকারে যেতেন।
ঘ. উজির বাদশাহকে কুর্নিশ করলেন।
ঙ. শাহানশাহ আলমগীর ছিলেন একজন মহৎপ্রাণ শাসক।
চ. অন্যায়ের কাছে কখনো শির নত করব না।
৪. প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখে বলি ও লিখি।
প্রশ্ন ক. বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে কে পড়াতেন?
উত্তর: বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিল্লির এক মৌলবি পড়াতেন।
প্রশ্ন খ. একদিন সকালে বাদশাহ কী দেখতে পেলেন?
উত্তর: একদিন সকালে বাদশাহ দেখতে পেলেন শাহজাদা একটি পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে পা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন।
প্রশ্ন গ. বাদশাহকে দেখে শিক্ষক প্রথমে কী ভাবলেন?
উত্তর: বাদশাহকে দেখে শিক্ষক প্রথমে ভাবলেন, আজ বুঝি তার নিস্তার নেই, সব বুঝি শেষ হয়ে যাবে। কারণ তিনি শাহজাদাকে পায়ে পানি ঢালতে বলেছিলেন।
প্রশ্ন ঘ. ‘প্রাণের চেয়েও মান বড়’- শিক্ষক এ কথা বললেন কেন?
উত্তর: ‘প্রাণের চেয়েও মান বড়’- কথাটি দ্বারা শিক্ষক আত্মসম্মানের দিকটি বোঝাতে চেয়েছেন। কেননা একজন মানুষের জীবনে মান-সম্মান সবচেয়ে বড় সম্পদ। একজন শিক্ষাগুরুর কাছে জীবনের চেয়েও আত্মসম্মান মূল্যবান। এ কথা বোঝাতেই শিক্ষক উক্ত কথাটি বলেছেন।
প্রশ্ন ঙ. বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে প্রথমে কী বললেন?
উত্তর: বাদশাহ আলমগীর প্রথমে শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলেন যে, শাহজাদা তাঁর কাছে আদব-কায়দা-সৌজন্য কিছু শিখেছে কিনা? বরং শিখেছে বেআদবি আর গুরুজনের প্রতি অবহেলা।
প্রশ্ন চ. শিক্ষক কী বলে বাদশাহর সুনাম করলেন?
উত্তর: শিক্ষক এই বলে বাদাশাহ আলমগীরের সুনাম করলেন যে, তাঁর উদারতা ও মহানুভবতার জন্য আজ থেকে শিক্ষাগুরুর সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষিত হলো।
৫. নিচের কথাগুলো বুঝে নিই।
শিক্ষকে ডাকি বাদশাহ কহেন, ‘শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে
সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?।
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা।’
উত্তর: বাদশা আলমগীর শিক্ষককে ডেকে তাঁর পুত্রের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তাঁর পুত্র ভালো কিছু কি শিখেছে? কারণ তাঁর পুত্রের বেআদবি এবং গুরুজনের প্রতি অবহেলা তিনি সেদিন সকালে নিজের চোখেই দেখেছেন।
৬. ক্ষ, স্ব, স্ম স্ত্র- প্রত্যেকটি যুক্তবর্ণ ব্যবহার করে তিনটি করে শব্দ লিখি। যেমন-
ক্ষ = ক্ + ষ – ক্ষয়, শিক্ষা, সক্ষম
স্ব = স্ + ব – স্বাধীনতা, নিজস্ব, স্বাগতম।
স্ম = স্ + ম – স্মরণ, স্মৃতি, স্মরণীয়।
স্ত্র = স্ + ত্ + র – শাস্ত্র, মিস্ত্রি, স্ত্রী।
৭. বিপরীত শব্দগুলো ঠিকমতো সাজাই।
বড়ো – অপযশ
মান – অবনত
যশ – বিকাল
বিষাদ – অপমান
উন্নত – ছোটো
সকাল – হর্ষ
উত্তর:
বড়ো – ছোটো
মান – অপমান
যশ – অপযশ
বিষাদ – হর্ষ
উন্নত – অবনত
সকাল – বিকাল
Codehorse Learn Free