৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: খাদ্য সংরক্ষণ বলতে খাদ্যের বৈশিষ্ট্য, গুণগত মান এবং স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য রাখাকে বোঝায়। খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন:
বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)
ক) খাদ্য সংরক্ষণ বলতে কী বোঝায়? খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। খাদ্য সংরক্ষণ না করলে আমাদের শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
উত্তর:
খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, খাদ্যের মান, গুণগত বৈশিষ্ট্য এবং সতেজতা অক্ষুণ্ণ রেখে তা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য রাখা। খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি হলো—
১. শুকিয়ে সংরক্ষণ: ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, মাছ ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে রাখা।
২. ফ্রিজ বা হিমাগারে সংরক্ষণ: মাছ, মাংস, সবজি, ফল ইত্যাদি কম তাপমাত্রায় রাখা।
৩. কিউরিং: লবণ বা লবণের দ্রবণ ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণ করা।
৪. আচার ও জ্যাম-জেলি: লবণ, চিনি, ভিনেগার, সরিষার তেল ব্যবহার করে ফল ও সবজি সংরক্ষণ।
গুরুত্ব:
১. খাদ্য বিষাক্তমুক্ত ও নিরাপদ থাকে।
২. খাদ্যের স্বাদ ও পুষ্টি বজায় থাকে।
৩. সারাবছর খাদ্য সহজলভ্য হয়।
প্রভাব:
১. খাদ্য সংরক্ষণ না করলে খাদ্য সহজেই নষ্ট হয়।
২. পচনশীল খাদ্য খেলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
৩. শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শারীরিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
খ) সুষম খাদ্য বলতে কী বোঝায়? শিশু, গর্ভবতী মা ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সুষম খাদ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। প্রতিদিন কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত?
উত্তর:
সুষম খাদ্য হলো এমন খাদ্য যার মধ্যে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পানি সমানুপাতে থাকে।
শিশুদের জন্য:
১. শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদনের জন্য।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে।
৩. খাদ্য তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য, শাকসবজি ও ফলমূল থাকা প্রয়োজন।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য:
১. শিশুর বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত পুষ্টি।
২. শক্তি প্রদানকারী ও রোগপ্রতিরোধী খাদ্য।
২. খাদ্য ৫-উপাদান (চর্বি ও শক্তি)
রাতের খাবার:
১. রুটি/ভাত ১ কাপ (শর্করা)
২. ডাল ১ কাপ (আমিষ ও শক্তি)
৩. ঘি/তেল ১ টেবিল চামচ (চর্বি, শক্তি)
গুরুত্ব:
১. প্রতিটি খাবারে সুষম পুষ্টি নিশ্চিত হয়।
২. শক্তি উৎপাদন, শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়।
গ) খাদ্য আমাদের দেহে কী কী কাজে লাগে? বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা কর। সুষম খাদ্য কী এবং এর উপাদানগুলো ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
খাদ্য আমাদের দেহের জন্য এক ধরনের জ্বালানির কাজ করে। এটি দেহে শক্তি উৎপাদন করে, যার মাধ্যমে আমরা দৈনন্দিন কাজ যেমন লেখা, পড়া, খেলাধুলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ করতে পারি। এছাড়া খাদ্য দেহের ক্ষয় পূরণ করে এবং বৃদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে। খাদ্য আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়, তাই সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সুষম খাদ্য এমন একটি খাদ্য যা দেহের সব পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। এতে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। শর্করা শক্তির প্রধান উৎস, প্রোটিন দেহ গঠন সাহায্য করে, চর্বি শক্তি ও তাপ উৎপাদনে অবদান রাখে, ভিটামিন ও খনিজ লবণ রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং পানি শরীরের শারীরবৃত্তীয় কাজ ঠিক রাখে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, তেল, শাকসবজি ও ফলমূল থাকা আবশ্যক।
ঘ) গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি প্রয়োজনীয়তা কী এবং কেন? বয়স্ক ব্যক্তিদের খাদ্য কেমন হওয়া উচিত এবং কেন?
উত্তর:
গর্ভবতী মায়েদের শরীরে একটি শিশুর বৃদ্ধি ঘটে, তাই তাদের শরীর গঠন ও শক্তি প্রদানকারী খাদ্যের প্রয়োজন বেশি। তাদের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকা উচিত। এটি মায়ের শরীরকে সুস্থ রাখে, শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
বয়স্ক ব্যক্তিরা সাধারণত কম শক্তি ব্যবহার করেন এবং হজম ক্ষমতাও কমে যায়। তাই তাদের খাদ্য সহজপাচ্য, পুষ্টিকর ও হালকা হওয়া উচিত। এতে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে, হজম ঠিক থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, দুধ, দই, হালকা মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল তাদের খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
ঙ) কিউরিং পদ্ধতি ও এর উদাহরণ ব্যাখ্যা কর। আচার ও জ্যাম-জেলি সংরক্ষণের পদ্ধতি ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। শিশুদের খাদ্যে আমিষের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
কিউরিং হলো লবণ বা লবণের দ্রবণ ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। এটি বিশেষভাবে মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইলিশ মাছকে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে ব্যবহারযোগ্য রাখা যায়।
আচার ও জ্যাম-জেলি তৈরিতে লবণ, তেল, ভিনেগার ও মসলা ব্যবহার করা হয়। ফল ও সবজি সংরক্ষণ করে আচার বা চিনির মিশ্রণে জ্যাম ও জেলি তৈরি করা হয়। এর ফলে খাদ্য দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে এবং স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।
শিশুদের দেহ গঠন ও শক্তির জন্য প্রচুর পরিমাণে আমিষ দরকার। মাছ, ডিম, মাংস ও দুধ তাদের খাদ্যের প্রধান অংশ হওয়া উচিত। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
চ) বয়স্ক ব্যক্তিদের খাদ্য গ্রহণের বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয়তা কী? প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কী ধরনের খাবার থাকা উচিত এবং কেন?
উত্তর:
বয়স্ক ব্যক্তিদের খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা:
i. বয়স বাড়লে শরীরে শক্তি কমে যায়, তাই সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য দরকার।
ii. হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে প্রয়োজনীয় খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য।
iii. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ থাকার জন্য খাদ্য তালিকায় আমিষ, শাকসবজি ও হালকা চর্বি থাকা উচিত।
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে ধরনের খাবার থাকা উচিত:
i. শর্করা: ভাত, রুটি, আলু – শক্তি উৎপাদনের জন্য।
ii. আমিষ: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল – দেহ গঠন ও শক্তির জন্য।
iii. চর্বি/তেল: ঘি, মাখন, ভেজিটেবল তেল – শক্তি ও তাপ উৎপাদনের জন্য।
iv. ভিটামিন ও খনিজ: শাকসবজি ও ফল – রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও হাড়-দাঁত মজবুত করার জন্য।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
ছ) খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী এবং এর উপকারিতা কী? খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি কী কী এবং প্রতিটির উদাহরণ দাও।
উত্তর:
খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:
i. খাদ্যের মান, স্বাদ ও পুষ্টি অক্ষুণ্ণ রাখা।
ii. সারাবছর খাদ্য সহজলভ্য করা।
iii. খাদ্যের অপচয় রোধ করা এবং খাদ্য নিরাপদ রাখা।
iv. খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ফল, সবজি, মাছ ও মাংস সারা বছর ব্যবহারযোগ্য হয়।
খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি:
i. শুকিয়ে সংরক্ষণ – ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, মাছ।
ii. ফ্রিজ বা হিমায়নে সংরক্ষণ – মাছ, মাংস, সবজি, ফল।
iii. কিউরিং – লবণ বা লবণের দ্রবণ ব্যবহার করে সংরক্ষণ।
iv. আচার ও জ্যাম-জেলি – লবণ, চিনি, ভিনেগার, তেল ব্যবহার করে সংরক্ষণ।
জ) সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। শিশুদের জন্য সুষম খাদ্য তালিকা কীভাবে তৈরি করা যায়? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
সময়মতো খাদ্য গ্রহণে শরীরের হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। এতে পাকস্থলী সুস্থ থাকে এবং খাবার সহজে হজম হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ক্ষুধা বা দুর্বলতা হয় না, শরীর কর্মক্ষম থাকে এবং স্থূলতার সম্ভাবনা কমে। এছাড়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শিশুদের খাদ্য তালিকা তৈরি করতে তাদের বয়স ও দৈনন্দিন কাজ বিবেচনা করতে হয়। সুষম খাদ্যের মধ্যে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ৬–১২ বছরের শিশুদের জন্য দৈনন্দিন খাদ্য:
শর্করা: ভাত/রুটি ২টি, আলু/ভাত ১ কাপ
প্রোটিন: মাছ/মাংস ১ টুকরা, ডিম ১টি, ডাল ১–৩ কাপ
দুগ্ধজাত খাদ্য: দুধ/দই ১ গ্লাস
শাকসবজি: আধা কাপ রান্না করা বা কাঁচা
ফল: ১টি মৌসুমি ফল
চর্বি: ১ টেবিল চামচ ঘি বা তেল
ঝ) খাদ্য সংরক্ষণ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণের সুবিধা ও বিধি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
খাদ্য সংরক্ষণ হলো খাদ্যকে দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখা এবং পচন রোধ করা। খাদ্য সংরক্ষণের ফলে খাদ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং খাদ্য নিরাপদ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, শুকিয়ে সংরক্ষণ, ফ্রিজে রাখা, লবণ বা চিনি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা যায়। এটি অপচয় রোধ করে এবং সারা বছর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে।
ফ্রিজে খাদ্য রাখা হলে পচনকারী অণুজীব নিষ্ক্রিয় থাকে। সাধারণভাবে ৪–৮° ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে মাছ, মাংস, সবজি ও ফল দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে খাদ্য সহজে নষ্ট হয় না এবং সারাবছর ব্যবহার উপযোগী থাকে।
Codehorse Learn Free