পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান খাদ্য প্রশ্ন উত্তর: খাদ্য আমাদের শরীরে শক্তি, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে। প্রতিটি মানুষের বয়স, লিঙ্গ এবং কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধরন ভিন্ন। খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপযুক্ত মাত্রায় থাকা প্রয়োজন। সুষম খাদ্য হলো এমন খাদ্য যেখানে সব পুষ্টি উপাদান যথাযথ পরিমাণে থাকে। ভাত, রুটি, আলু শর্করা জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস।
পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান খাদ্য প্রশ্ন উত্তর:
খাদ্য আমাদের দেহে শক্তি উৎপাদন, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন এবং রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরি করে। আমরা যেসকল খাবার খাই তার সবই কি পুষ্টিসমৃদ্ধ? স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য ব্যক্তির বয়স, দৈহিক গড়ন বা কাজের ধরন ইত্যাদি অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। গৃহীত খাদ্যে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকতে হয়। অনেক খাদ্য সহজে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। খাদ্যের মান, সতেজতা ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে সারা বছর ব্যবহার-উপযোগী রাখার জন্য আমরা খাদ্য সংরক্ষণ করি।
১. সুষম খাদ্য-
যেসব খাবারে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকে, তাই সুষম খাদ্য। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য হিসেবে ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, তেল, বাদাম ইত্যাদি থাকে। এর সাথে ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস হিসেবে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল থাকতে হয়।
যথাযথ দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে যাতে আমাদের প্রতিদিনের খাবার সুষম হয়।
আমরা তৃতীয় শ্রেণিতে সুষম খাদ্য, খাদ্যদল ও খাদ্যদলের খাদ্যসমূহ আমাদের শরীরে কী কাজে লাগে তা জেনেছি। শিশু, গর্ভবতী মা ও বয়স্ক ব্যক্তির পুষ্টি চাহিদার ভিন্নতা আছে। শিশুরা ধীরে ধীরে বড়ো হয়। এদের বাড়ন্ত শরীরের জন্য শরীর গঠন করে, শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এমন খাদ্যের প্রয়োজন। তাই তাঁদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের আমিষ যেমন- ডিম, মাছ, মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য বেশি করে রাখতে হবে।
গর্ভবতী মায়েদের শরীরে আরেকটি শিশুর বৃদ্ধি হয়, তাই মায়েদের বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের শরীর গঠনকারী, শক্তি প্রদানকারী, রোগ প্রতিরোধী খাদ্যের প্রয়োজন। অন্যদিকে বয়স বাড়লে শরীরে শক্তি কমে যায়, তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য দরকার। এদের সুস্থ থাকার জন্য সহজে হজম হয়, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে এবং রোগপ্রতিরোধী খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এসব কিছু বিবেচনা করেই সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হয়।
১। সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন (√) দাও: (বোর্ড বই)
ক) নিচের কোনটি শর্করা জাতীয় খাদ্য?
i) ডিম
ii) আলু
iii) মাছ
iv) মৌসুমি ফল
খ) পাকা ফলের তুলনায় কোনটিতে অধিক পরিমাণে থাকে?
i) ভিটামিন বি
ii) ভিটামিন ডি
iii) ভিটামিন সি
iv) ভিটামিন কে
গ) কিউরিং পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য—
i) রোদে শুকিয়ে রাখা হয়
ii) লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণ করা হয়
iii) কম তাপমাত্রায় ঠান্ডা স্থানে রাখা হয়
iv) চিনি, তেল ও ভিনেগার মিশিয়ে রাখা হয়
ঘ) অনিয়মিত খাদ্যগ্রহণের ফলে—
i) রোগের সংক্রমণ হলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়
ii) মন সবসময় ভালো ও উৎফুল্ল থাকে
iii) কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা কমে
iv) স্থূলতা ও বিপজ্জনক রোগ দেখা দিতে পারে
উত্তর: ক) ii) আলু; খ) iii) ভিটামিন সি; গ) ii) লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণ করা হয়; ঘ) iv) স্থূলতা ও বিপজ্জনক রোগ দেখা দিতে পারে
Read More: ৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় বাম ডান মিলকরণ
Read More: ৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ খাদ্য সত্য মিথ্যা নির্ণয়
২। সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (বোর্ড বই)
ক) আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ কেন প্রয়োজন?
উত্তর: আমিষ জাতীয় খাদ্য দেহ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরের ক্ষয়পূরণ করে এবং নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেহের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য আমিষ জাতীয় খাদ্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
খ) সুষম খাদ্য গ্রহণের উপকারিতা লেখ।
উত্তর: সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীর সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম থাকে। এতে দেহের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে পাওয়া যায়। সুষম খাদ্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
গ) যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ ও তেল সমৃদ্ধ খাবার খেলেও পুষ্টিহীনতা থাকতে পারে কেন?
উত্তর: শুধু আমিষ ও তেল জাতীয় খাবার খেলেই শরীরের সব পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় না। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির অভাবে শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরেও পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে।
Read More: ৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
Read More: পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় খাদ্য শূন্যস্থান পূরণ
৩। বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: (বোর্ড বই)
ক) খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে? খাদ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন তা লেখ।
উত্তর: খাদ্য সংরক্ষণ বলতে খাদ্যের বৈশিষ্ট্য, গুণগত মান এবং স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য রাখাকে বোঝায়। খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
i. খাদ্য সহজেই নষ্ট হয়ে যায় এবং পচনের কারণে খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ii. সংরক্ষণের মাধ্যমে খাদ্যের পুষ্টি, স্বাদ এবং সতেজতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
iii. খাদ্য সংরক্ষণের ফলে অণুজীব ও ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, যা খাদ্যকে রোগজীবাণুমুক্ত রাখে।
iv. সারা বছর প্রয়োজনীয় খাদ্য পাওয়া যায়, যেমন শীতকালে উৎপাদিত আলু হিমাগারে রেখে সারা বছর ব্যবহার করা যায়।
v. খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে খাদ্য অপচয় রোধ হয় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
খ) নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে?
উত্তর: নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ আমাদের শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী ও কর্মক্ষম রাখে। এটি শুধু পুষ্টি সরবরাহ করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো সময়মতো বজায় রাখে।
i. সময়মতো খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে, পাকস্থলী ও অন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করে।
ii. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সহজে সংক্রমণ ঘটে না।
iii. শিশুরা নিয়মিত খাবার পেলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশ ঠিক থাকে।
iv. নিয়মিত খাবার খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মন ভালো থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
v. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বদহজম, স্থূলতা, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
গ. কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা কীভাবে করা যায়?
উত্তর: কম খরচে খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হলে খাদ্যের গুণ, পরিমাণ এবং পুষ্টি উপাদান বিবেচনা করতে হয়। কম খরচে সুষম খাদ্য তৈরি করা সম্ভব যদি খাদ্যের উপাদান সঠিক নির্বাচন করা হয়।
i. শর্করা-জাতীয় খাদ্য যেমন ভাত, আলু, রুটি পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা।
ii. প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য যেমন ডিম, ডাল, মাছ বা মাংস পরিমিতভাবে ব্যবহার করা।
iii. চর্বি বা স্নেহ যেমন তেল, ঘি, মাখন পরিমিত রাখা।
iv. ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যেমন শাকসবজি, মৌসুমি ফল, লবণ পর্যাপ্ত রাখার মাধ্যমে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা।
v. স্থানীয় ও মৌসুমি খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করলে খরচ কম হয়।
vi. খাদ্য সংরক্ষণের সহজ উপায় যেমন শুকানো, ফ্রিজ বা হিমাগার ব্যবহার করলে খাদ্য দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য থাকে এবং অপচয় রোধ হয়।
Codehorse Learn Free