পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর
পঞ্চম শ্রেণি বিজ্ঞান

৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান জীবের আবাসস্থল বর্ণনামূলক প্রশ্ন

৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান জীবের আবাসস্থল বর্ণনামূলক প্রশ্ন: সামুদ্রিক জলজ পরিবেশে লবণাক্ত পানি থাকে, যেখানে প্রাণীরা দীর্ঘ সময় খাদ্য ধরে রাখতে পারে এবং আলো, রং বা বিষাক্ত তরল ব্যবহার করে শিকার বা আত্মরক্ষা করে। জলাভূমি হলো এমন এলাকা যা বছরের বেশিরভাগ সময় জলমগ্ন থাকে; এখানে সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়। এছাড়া কুমিরের শক্ত ও লম্বাটে পা মাটি খুঁড়ে চলতে সাহায্য করে এবং হাঁসের পাতার মতো পর্দাবিশিষ্ট পা পানিতে সহজে সাঁতার কাটতে সহায়ক। এই সব বৈশিষ্ট্যই জীবের অভিযোজনের উদাহরণ, যার মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকে।

৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান জীবের আবাসস্থল বর্ণনামূলক প্রশ্ন:

তৃণভূমি-

স্খলজ পরিবেশের মধ্যে অনেক স্থানে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের প্রাধান্য থাকে। এই ধরনের আবাসকে বলে তৃণভূমি। এখানে থাকে শণ, নলখাগড়া, বীরুৎ ও গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। প্রাণীদের মধ্যে থাকে হরিণ, কুকুর, খরগোশ, শেয়াল, বাজপাখি, পেঁচা, হায়েনা ইত্যাদি।

মরুজ আবাসস্থল-

মরুভূমি হলো স্খলজ আবাসস্থলের মধ্যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চল। উচ্চ তাপমাত্রা, কম বৃষ্টিপাত, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য এবং শুষ্ক আবহাওয়া মরুজ আবাসস্থলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। খেজুর, ফণীমনসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস ও গুল্ম এই অঞ্চলের উদ্ভিদ। মরুজ আবাসস্থলের প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে উট, গিরগিটি, টিকটিকি, সান্ডা ও বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ।

বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)

ক) জীবের আবাসস্থল কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:
জীবের আবাসস্থল হলো সেই স্থান বা পরিবেশ যেখানে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ স্বাচ্ছন্দ্যে জন্মায়, বৃদ্ধি পায় এবং তার জীবনক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে পারে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই স্থান জীবের খাদ্য, নিরাপত্তা, প্রজনন এবং অন্যান্য জীবনধারণের কার্যকলাপের জন্য উপযোগী। বিভিন্ন জীবের আবাসস্থল ভিন্ন হতে পারে, যেমন স্থলজ, জলজ, উভচর বা জলাভূমি পরিবেশ। জীবের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং টিকে থাকার জন্য এই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত অপরিহার্য।

খ) স্থলজ আবাসস্থল কী এবং এতে কোন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে?

উত্তর:
স্থলজ আবাসস্থল হলো মাটির উপর বা স্থলভাগে গঠিত পরিবেশ, যেখানে উদ্ভিদ ও প্রাণী মাটির সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকে। উদ্ভিদ যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, নারিকেল, নিম, কদম, মেহগনি, ফার্ন, মস। প্রাণী যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, হাতি, বাঘ, শেয়াল, ইঁদুর, পিঁপড়া, বিভিন্ন ধরনের পাখি। এই পরিবেশে বসবাসরত জীবরা তাদের পরিবেশের সাথে অভিযোজন করে খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় গ্রহণ এবং বংশবিস্তার করে।

গ) বনজ আবাসস্থলের বৈশিষ্ট্য কী এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদাহরণ উল্লেখ করো।

উত্তর:
বনজ আবাসস্থল হলো এমন স্থান যেখানে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায় এবং ঘনভাবে অবস্থান করে। উদ্ভিদ যেমন: শাল, গজারি, সুন্দরী, গেওয়া, মেহগনি, বেল, তুঁত, মস, ফার্ন। বনজ পরিবেশে শিকারি প্রাণী যেমন: বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, বিভিন্ন ধরনের পাখি বাস করে। বনজ পরিবেশের প্রাণীরা তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস, দেহের শক্তি, দৃষ্টি ও অভিযোজন ব্যবহার করে খাদ্য সংগ্রহ এবং আত্মরক্ষা করে।

📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now

ঘ) তৃণভূমি কী এবং সেখানে বাস করা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর:
তৃণভূমি হলো বিস্তীর্ণ এলাকা যেখানে মূলত ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায় এবং বড় গাছ কম থাকে। উদ্ভিদ যেমন: ঘাস, লম্বাঘাস, রাইগ্রাস। প্রাণী যেমন: হরিণ, খরগোশ, শেয়াল, বাঘশাপী, পেঁচা, হায়েনা। এই অঞ্চলের প্রাণীরা ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় গ্রহণ এবং দ্রুত দৌড়ে বাঁচার কৌশল শিখেছে।

ঙ) মরুভূমি পরিবেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর অভিযোজন কীভাবে ঘটে?

উত্তর:
মরুভূমি হলো এমন অঞ্চল যেখানে উচ্চ তাপমাত্রা, কম বৃষ্টিপাত এবং শুষ্ক আবহাওয়া প্রধান। উদ্ভিদ যেমন: ক্যাকটাস, খেজুর। এদের কাণ্ড মোটা, রসালো এবং পানি সংরক্ষণে সক্ষম। পাতা কাঁটাযুক্ত হওয়ায় পানি ক্ষয় কম হয়। প্রাণী যেমন: উট, গিরগিটি, টিকটিকি, সাপ। এরা শরীরে পানি সংরক্ষণ করতে পারে এবং সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে মাটির নিচে গর্ত করে থাকে। এসব অভিযোজন মরুভূমির কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।

চ) মেরু অঞ্চলের আবাসস্থল ও সেখানে বসবাসরত প্রাণীর অভিযোজন ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
মেরু অঞ্চল বরফে ঢাকা এবং অত্যন্ত ঠান্ডা। উদ্ভিদ কম জন্মায়, যেমন: আর্কটিক উইলো, কটন গ্রাস, লাইকোন। প্রাণী যেমন: শ্বেত ভল্লুক, সিল, পেঙ্গুইন। এসব প্রাণীর দেহে পুরু চর্বির স্তর ও সাদা লোম থাকে, যা বরফের সাথে মিশে আত্মরক্ষা ও শিকার সহজ করে। পা শক্ত ও প্রশস্ত হওয়ায় বরফে চলাচল সুবিধাজনক। দেহ দীর্ঘ ঠান্ডা সহ্য করার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত।

ছ) সুন্দরী গাছের মূল কেন মাটির উপরে উঠে আসে এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর:
সুন্দরবনের মাটি লবণাক্ত, ভেজা এবং প্রায়শই জলমগ্ন থাকে। মাটির নিচে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকায় সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসে। শ্বাসমূলের মধ্যে অনেক ছিদ্র থাকে, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। এটি উদ্ভিদকে টিকে থাকতে সাহায্য করে, কারণ মাটি ভেজা ও নরম। এছাড়া শ্বাসমূল উদ্ভিদকে স্থিতিশীল রাখে, দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে এবং শ্বাসকার্য চালাতে সক্ষম হয়।
অর্থাৎ, সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল হলো জলাবদ্ধ মাটির জন্য বিশেষ অভিযোজন, যা উদ্ভিদকে টিকে থাকা, শ্বাসকার্য চালানো ও স্থিতিশীল থাকার জন্য অপরিহার্য।

Read More: ৫ম শ্রেণি জীবের আবাসস্থল সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

Read More: ৫ম শ্রেণির বিজ্ঞান জীবের আবাসস্থল বর্ণনামূলক প্রশ্ন

Read More: ৫ম শ্রেণি জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

পঞ্চম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর

৫ম শ্রেণি টুকটুক ও চিকু প্রশ্ন উত্তর: ‘টুকটুক ও চিকু’ গল্পটি মূলত প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *