পঞ্চম শ্রেণি জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা শূন্যস্থান: মানুষের মতো অন্যান্য সকল প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড়বস্তুর ওপর নির্ভরশীল। মাটি এবং পানি অনেক জীবের বাসস্থান। অনেক পোকামাকড়, কেঁচো, ইঁদুর ইত্যাদি প্রাণী মাটির নিচে বাস করে। মাছ, কুমির, কাছিম ইত্যাদি পানিতে বাস করে। বায়ুতে যে অক্সিজেন রয়েছে প্রাণীরা তা দিয়ে শ্বাসকার্য চালায়।
পঞ্চম শ্রেণি জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা শূন্যস্থান পূরণ:
উদ্ভিদের নির্ভরশীলতা-
প্রাণীদের মতো উদ্ভিদও জড়বস্তুর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। প্রাণীর মতো উদ্ভিদেরও শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। অধিকাংশ সবুজ উদ্ভিদের দেহে (৭০-৯০)% পানি থাকে। মাটিতে উদ্ভিদের জন্য যে পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে তা পানির মাধ্যমেই উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। শাপলা, কচুরিপানা, টোপাপানা প্রভৃতি উদ্ভিদের আবাসস্থল হলো পানি।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সম্পর্কে–
পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অন্যের পরিপূরক। প্রাণী শ্বাসক্রিয়ায় যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, উদ্ভিদ তা ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। প্রাণী এই খাদ্য গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে যে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় তা প্রাণী শ্বাসগ্রহণের সময় ব্যবহার করে।
উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর আবাসস্থল। যেমন- গাছের ডালে পাখি, বানর, মৌমাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি বাস করে। উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণ প্রাণীদের ওপর নির্ভরশীল। মৌমাছি, পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে। এদের মাধ্যমে এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয়ে পরাগায়ন ঘটায়। পরাগায়ন না হলে অধিকাংশ উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি সম্ভব হবে না।
পাখিরা ফল খায়। ফল খাওয়ার সময় পাখির মাধ্যমে প্রকৃতিতে ফলের বীজ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বীজের বিস্তরণ ঘটে। কিছু কিছু উদ্ভিদের বীজের সরাসরি অঙ্কুরোদ্গম হয় না। এসব উদ্ভিদের বীজ পাখি খাওয়ার পর তার মলের মাধ্যমে আবার মাটিতে ফিরে আসে। তারপর সেগুলো থেকে উদ্ভিদের নতুন চারাগাছ জন্ম নেয়। যেমন-বট, পাকুর প্রভৃতি উদ্ভিদ। বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচে প্রকৃতিতে জড় উপাদানে পরিণত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এদেরকে পুষ্টি উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পরিবেশে গতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় থাকে।
শূন্যস্থান পূরণ: (অতিরিক্ত)
ক) পরিবেশের উপাদানগুলোকে ________ ও জড়—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
খ) মাটি, পানি ও বায়ু হলো পরিবেশের ________ উপাদান।
গ) বেঁচে থাকার জন্য সকল জীব ________ বস্তুগুলোর উপর নির্ভরশীল।
ঘ) শ্বাসকার্য চালানোর জন্য প্রাণীদের ________ প্রয়োজন।
ঙ) পানি ছাড়া মানুষের জীবন ________ হয়ে পড়ে।
চ) মাটি থেকে আমরা ______ পাই ।
ছ) মাছ, কুমির ও কাঁকড়া ______ বাস করে ।
জ) বায়ুতে থাকা ______ প্রাণীরা শ্বাসের সময় ব্যবহার করে ।
ঝ) উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের ______ তৈরি করে ।
ঞ) অধিকাংশ সবুজ উদ্ভিদের দেহে ______ শতাংশ পর্যন্ত পানি থাকে ।
ট) শাপলা ও কচুরিপানার আবাসস্থল হলো ______ ।
ঠ) উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর ______ করে বেঁচে থাকে ।
ড) প্রাণীরা শ্বাসক্রিয়ায় ______ ত্যাগ করে ।
ঢ) উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে যে গ্যাস ব্যবহার করে তা হলো ______ ।
ণ) মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে ______ ঘটাতে সাহায্য করে ।
ত) খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম স্তরের খাদকরা হলো ______ প্রাণী ।
থ) সবুজ উদ্ভিদকে খাদ্যশৃঙ্খলে বলা হয় ______ ।
দ) একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল মিলিত হয়ে তৈরি হয় ______ ।
ধ) জীবজগতের সকল শক্তির মূল উৎস হলো ______ ।
ন) পরিবেশের কোনো উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে পরিবেশের ______ নষ্ট হয় ।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
উত্তর:
ক) জীব, খ) জড়, গ) জড়, ঘ) বায়ু, ঙ) আলো, চ) খাদ্যশৃঙ্খল,
ছ) পানিতে, জ) অক্সিজেন, ঝ) খাদ্য, ঞ) ৭০–৯০, ট) পানি,
ঠ) নির্ভরশীল, ড) কার্বন ডাইঅক্সাইড, ঢ) কার্বন ডাইঅক্সাইড,
ণ) পরাগায়ন, ত) তৃণভোজী, থ) উৎপাদক, দ) খাদ্যজাল, ধ) সূর্য, ন) ভারসাম্য ।
Codehorse Learn Free