কাজলা দিদি চতুর্থ শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
চতুর্থ শ্রেণি: কাজলা দিদি

কাজলা দিদি কবিতার প্রশ্ন উত্তর

কাজলা দিদি কবিতার প্রশ্ন উত্তর: ছোট্ট বোনটির সারাক্ষণের সঙ্গী ছিল তার কাজলা দিদি। তাই সে সন্ধ্যায় তার বড় বোনের খোঁজ করছে মায়ের কাছে। বড় বোনের কথা জিজ্ঞাসা করলেই মা কাঁদেন। কারণ সে মারা গেছে। নানা ছোটখাটো ও সুন্দর ব্যাপারে ছোট মেয়েটি খুশি হয়ে উঠতে চায়; কিন্তু বড় বোনের অভাবে তার সব আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়। মা উত্তর দেয় না বলে মনে তার অভিমান জাগে। তার মনে হয়, বড় বোন লুকিয়ে আছে। সেও লুকিয়ে যাবে তেমন করে। মূলত বড় বোনের অভাবে ছোট বোনের যে মনোভাব তাই এ কবিতায় বেশ সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কাজলা দিদি কবিতার প্রশ্ন উত্তর:

কাজলা দিদি

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?

খাবার খেতে আমি যখন দিদি বলে ডাকি,
তখন ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে –
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!

ভূঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই;
রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

১. জেনে নিই।
ছোট্ট বোনটির সারাক্ষণের সাথি ছিল কাজলা দিদি। দিদি চিরদিনের জন্য তাদের ছেড়ে চলে গেছে, তা সে জানে না, বোঝে না। প্রতি মুহূর্তেই সে তার প্রিয় কাজলা দিদির জন্য অপেক্ষায় থাকে। সে কোথায় গেছে, কেন আসে না তা জানতে চায় মায়ের কাছে। মা উত্তর দিতে পারেন না। মুখ লুকিয়ে শুধু কাঁদেন।

২. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি, অর্থ বলি এবং নতুন বাক্য লিখি।
শোলক, জোনাই, দিদি, নেবু, ভুঁইচাঁপা, মাড়াস নে।
উত্তর:
শোলক – ছড়া, ছোট পদ, শ্লোক। ছন্দে ছন্দে শোলক পড়ি।
জোনাই – জোনাকি পোকা।– রাতের বেলা জোনাই জ্বলে।
দিদি – বড় বোন, আপা। দিদি ছোট বোনটিকে খুব ভালোবাসে।
নেবু – লেবু।- নেবু খাওয়া উপকারী।
ভূঁইচাঁপা – মাটির উপর জন্মানো ছোট চাঁপা ফুল।-ভূঁইচাঁপা ফুল দেখতে খুব সুন্দর।
মাড়াস নে – পা দিয়ে পিষে না যাওয়ার নির্দেশ।-করিম ছেলেগুলোকে বলল, ছোট ফুলগাছগুলো মাড়াস নে।

৩. বিপরীত শব্দগুলো জেনে নিই।
দিন -রাত
ঘুম -জাগরণ
ঢাকা -খোলা
নতুন -পুরানো
জ্বলা -নেভা

৪. ডান দিক থেকে ঠিক উত্তরটি বেছে নিই ও খাতায় লিখি।
ক. কোথায় জোনাকি জ্বলে?
উত্তর: নেবুর তলে

খ. বুলবুলি কোথায় লুকিয়ে থাকে?
উত্তর: ডালিমের ডালে

গ. কে শোলক বলতেন?
উত্তর: দিদি

ঘ. ঝিঁঝিঁ কোথায় ডাকে?
উত্তর: ঝোপে-ঝাড়ে

৬. ঘুম আসে না কেন?
উত্তর: নেবুর গন্ধে

৫. প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।

প্রশ্ন ক. কাজলা দিদি কোথায় গেছে?
উত্তর: কাজলা দিদি এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছে।

প্রশ্ন খ. কখন কাজলা দিদির কথা বেশি মনে পড়ে?
উত্তর: আকাশে চাঁদ উঠে জোছনা ছড়ালে, জোনাকিরা থোকায় থোকায় নেবুর তলে জ্বলে উঠলে কাজলা দিদি ছোট বোনটিকে শ্লোক শোনাত। তাই যখন চাঁদ ওঠে, পুকুর ধারে লেবু গাছের তলে থোকায় থোকায় জোনাকি জ্বলে তখন কাজলা দিদির কথা তার বেশি মনে পড়ে।

প্রশ্ন গ. কাজলা দিদির কথা উঠলে মা আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকেন কেন?
উত্তর: কাজলা দিদি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ পৃথিবী থেকে চলে গেছে। আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না। তাই কাজলা দিদির কথা উঠলে মা তার সন্তান হারানোর ব্যথা লুকাতে আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকেন।

প্রশ্ন ঘ. পুতুলের বিয়ের সময় দিদির কথা মনে পড়ে কেন?
উত্তর: ছোট বোনটির সারাক্ষণের খেলার সঙ্গী ছিল তার কাজলা দিদি। দিদি তাকে পুতুল বানিয়ে দিত। পুতুলের বিয়ে দিয়ে দিত। তাই পুতুলের বিয়ের সময় দিদির কথা ছোট বোনটির মনে পড়ে।

প্রশ্ন ঙ. আমিও নাই, দিদিও নাই, কেমন মজা হবে- এ কথা বলে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কাজলা দিদি মৃত্যুবরণ করে এ পৃথিবী থেকে চলে গেছে। কিন্তু তার ছোট্ট বোনটি তা জানে না। তাই দিদিকে না দেখতে পেয়ে মায়ের কাছে বারবার সে দিদির কথা জানতে চায়। দিদির কথা বললেই মা আঁচলে মুখ লুকান। ছোট্ট বোনটি এর কোনো মানে বোঝে না। তাই সে মনে করে দিদি বোধহয় কোথাও লুকিয়ে আছে। সেও দিদির মতো লুকাতে চায়। দিদির মতো সেও যদি লুকায় তখন তার মায়ের কেমন লাগবে, এ চরণটি দ্বারা তাই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন চ. খুকি মাকে কেন শিউলি ফুলের গাছের নিচে সাবধানে যেতে বলেছে?
উত্তর: ছোট বোনটি বুঝতে পারে না হঠাৎ করে তার দিদি কোথায় চলে গেছে। দিদিকে ছাড়া তার কিছুই ভালো লাগে না। এদিকে শিউলি গাছের তলা ভূঁইচাঁপা ফুলে ভরে গেছে। মা যেন জল আনতে গিয়ে ভূঁইচাঁপা না মাড়ায়, পাখিকে উড়িয়ে না দেয় সেজন্য খুকি মাকে শিউলি ফুলের গাছের নিচ দিয়ে সাবধানে যেতে বলেছে। কারণ সে মনে করে দিদি এসে এসব শুনলে খুব রাগ করবে।

প্রশ্ন ছ. ডালিম গাছের ফল ছিঁড়তে বারণ করেছে কেন?
উত্তর: ডালিম গাছ ফলে ভরে উঠেছে। বুলবুলি পাখি ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে লুকিয়ে আছে। দিদি এ সবকিছু পছন্দ করত। তাই খুকি ডালিম গাছের ফল ছিঁড়তে মাকে বারণ করেছে যাতে বুলবুলি পাখি উড়ে না যায়। কারণ বুলবুলি উড়ে গেলে দিদি রাগ করতে পারে বলে সে মনে করে।

৬. নিচের শব্দগুলো ঠিকভাবে সাজাই (যেমন- বাঁশবাগান।)
উত্তর:
পুতুল – বিয়ে
থোকায় – থোকায়
পুকুর – ধারে
নেবুর – তলে
শোলক – বলা
কাজলা – দিদি
বাঁশ – বাগান
নতুন – ঘরে

৭. কবিতাটি বিরামচিহ্ন দেখে ও ভাব বজায় রেখে পড়ি।
উত্তর: কবিতাটির যেখানে যে বিরামচিহ্ন আছে সেখানে সেই বিরামচিহ্নের ব্যবহার সমন্ধে জেনে সঠিকভাবে তার ভাব বজায় রেখে পড়ার চেষ্টা কর।

Read More: পাখির জগৎ চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা

Read More: পাঠান মুলুকে চতুর্থ শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *