লিপির গল্প চতুর্থ শ্রেণি: এখন আমরা যে বর্ণমালা বা বাংলা লিপি দেখতে পাচ্ছি তা প্রাচীনকালে এ রকম ছিল না। সময়ের ব্যবধানে এগুলো পরিবর্তিত হতে হতে আজকের আকার ধারণ করেছে। তবে কবে থেকে লিপির যাত্রা শুরু হয়েছে তা কেউ জানে না। ধারণা করা হয় ব্রাহ্মী লিপি থেকে বাংলা লিপির আগমন ঘটেছে। কেননা মানুষ একসময় মুখে মুখে কথা বলে তাদের ভাব প্রকাশ করত এবং দাদা-দাদি, নানা-নানিরা তাদের নাতি-নাতনিদের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াত, যা ছিল সবই বানানো। কিন্তু সম্রাট অশোক তাঁর আমলে মানুষের কথা লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য লিপি তৈরি করেন। তাঁর লিপিকে বলে অশোক লিপি। তারপর আসে কুটিল লিপি। কুটিল লিপি থেকে তৈরি হয় বঙ্গলিপি। এভাবে লিপির নানা ধাপ পেরিয়ে বঙ্গলিপি থেকেই বাংলা লিপি এসেছে। পৃথিবীতে এমন অনেক লিপি প্রচলিত রয়েছে।
লিপির গল্প চতুর্থ শ্রেণি:
১. জেনে নিই।
লিপির গল্পটি একটি কথোপকথনধর্মী রচনা। ধ্বনির প্রতীক হিসেবে কীভাবে ধীরে ধীরে বর্ণের রূপ পেয়েছে, এই রচনায় তার ধারণা দেওয়া হয়েছে। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আলোচনার মাধ্যমে লিপিমালা আবিষ্কারের তথ্য জানানো হয়েছে।
২. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি। অর্থ বলি।
অভ্যাস, সাক্ষর, বন্ধন, বঙ্গলিপি, রূপান্তর;
উত্তর:
অভ্যাস – স্বভাব।
সাক্ষর – অক্ষরজ্ঞান, বর্ণ চেনে এমন।
বন্ধন – বাঁধন।
বঙ্গলিপি – বাংলা ভাষার বর্ণ বা হরফ।
রূপান্তর – পরিবর্তন।
৩. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
অভ্যাস, বন্ধন, সাক্ষর, রূপান্তর, বঙ্গলিপি;
ক.___লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
খ. চা খাওয়ার সময় বাবার পত্রিকা পড়ার___।
গ. বাক্যটি বংলা থেকে ইংরেজি ভাষায়___করো।
ঘ. বাংলা লিপির পুরোনো নাম___।
ঙ. মানুষের সাথে মানুষের___দৃঢ় হোক।
উত্তর:
ক.সাক্ষর লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
খ. চা খাওয়ার সময় বাবার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস।
গ. বাক্যটি বংলা থেকে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তর করো।
ঘ. বাংলা লিপির পুরোনো নাম বঙ্গলিপি।
ঙ. মানুষের সাথে মানুষের বন্ধন দৃঢ় হোক।
৪. শূন্যস্থান পূরণ করি।
তুমি খুব ___ প্রশ্ন করেছ।
আবার নতুন করে নতুন ___ বানাতে হতো।
লিপিকে কেউ বলেন ___।
বঙ্গলিপি থেকেই ___ এসেছে।
উত্তর:
তুমি খুব ভালো প্রশ্ন করেছ।
আবার নতুন করে নতুন গল্প বানাতে হতো।
লিপিকে কেউ বলেন লিখন পদ্ধতি।
বঙ্গলিপি থেকেই বাংলা লিপি এসেছে।
৫. নিচের শব্দগুলো দিয়ে বিপরীত শব্দ লিখি ও বাক্য রচনা করি।
বিলুপ্ত – বিলুপ্তহীন।- বাংলাদেশের নদীগুলো প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষক – ছাত্র। – শিক্ষককে ছাত্ররা সম্মান করে।
আনন্দ – বেদনা। – আনন্দ-বেদনা নিয়েই মানুষের জীবন।
চিন্তা – চিন্তাহীন।- সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত।
আবিষ্কার – অনাবিষ্কার। – বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু বেতার তরঙ্গ আবিষ্কার করেন।
সাক্ষর – নিরক্ষর। – ছয়-সাত হাজার বছর আগে পৃথিবীতে সাক্ষর লোক ছিল না।
প্রাচীন -আধুনিক। সোনারগাঁও একটি প্রাচীন নগর।
৬. মুখে মুখে উত্তর বলি ও লিখি।
প্রশ্ন ক. লিপি বলতে কী বুঝি?
উত্তর: মানুষের মুখের কথাকে লিখে রাখার জন্য যে চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় তাই লিপি। লিপি মানে হচ্ছে লিখন পদ্ধতি। শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া কথাকে যে পদ্ধতিতে রেখার বন্ধনে আবদ্ধ করা হয় তাই লিপি।
প্রশ্ন খ. লিপি তৈরির চিন্তা এলো কীভাবে?
উত্তর: একসময় কোনো লিপি ছিল না বলে মানুষ তাদের কথা লিপিবদ্ধ করতে পারতেন না। বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে তারা শিশুদের ঘুম পাড়াতেন। কিন্তু বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে গিয়ে যখন তারা ভুলে যেতেন তখন আর গল্প বলতে পারতেন না। নতুন করে আবার গল্প বানাতে হতো। আর সে জন্যই ভুলে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচার জন্য লিপি তৈরির চিন্তা মাথায় এলো।
প্রশ্ন গ. লিপি আবিষ্কারকদের নাম লিখি।
উত্তর: প্রাগৈতিহাসিক কালে কে কখন কীভাবে লিপি আবিষ্কার করেছিলেন তা কেউ ঠিকভাবে বলতে পারবে না। তবে আধুনিককালে যাঁরা এ ধরনের কাজ করেছেন তাঁদের কারও কারও নাম জানা যায়। যেমন- কোরিয়ার রাজা সে জং এবং ইউরোপের এক ধর্মযাজক সন্ত সিরিল।
প্রশ্ন ঘ. বাংলা লিপি কীভাবে এলো?
উত্তর: বাংলা লিপির প্রচলন কে করেছেন তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে অশোক লিপি, অশোক লিপি থেকে কুটিল লিপি এবং কুটিল লিপি থেকে বঙ্গলিপি। এমনি করে লিপির নানা ধাপ পেরিয়ে বঙ্গলিপি থেকে বাংলা লিপি এসেছে।
প্রশ্ন ঙ. কখন থেকে মানুষের সভ্যতার পথে নতুন যাত্রা শুরু হলো?
উত্তর: মানুষ একসময় শুধু বানিয়ে বানিয়ে কথা বলত ও গল্প করত। কিন্তু তা লিখিত বা লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারত না। পরবর্তীতে মানুষ তাদের কথাগুলো রেখার বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য লিপি তৈরি করে। তারপর সেই লিপি দিয়ে মানুষ একদিন – কথাকে বন্দি করে রাখতে শেখে। আর সেদিন থেকেই মানুষের সভ্যতার পথে নতুন যাত্রা শুরু হলো।
৭. বুঝিয়ে বলি।
শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া কথাকে রেখার বন্ধনে বন্দি করার ফন্দি হলো লিপি।
উত্তর: মানুষ একসময় শুধু বানিয়ে বানিয়ে কথা বলত। কারণ তখন কোনো লিপি বা লিখিত পদ্ধতি ছিল না। কেউ তাদের কথাকে লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারত না। বড়রা বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে ছোটদের শোনাত। এতে অনেক সময় তারা গল্প ভুলে যেত। ফলে আবার তাদের নতুন করে গল্প বানিয়ে শোনাতে হতো। তাই ভুলে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচার জন্য মানুষের মাথায় লিপি তৈরির চিন্তা এলো। চিন্তা করে তারা এমন এক লিখন পদ্ধতি বের করল যা দিয়ে কথাকে লিখিত রেখার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখতে পারা যায়। মানুষের মুখের কথা এভাবে লিখিত পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করে রাখার নামই হচ্ছে লিপি। প্রদত্ত বাক্যে সে কথাই বলা হয়েছে।
৮. কর্ম-অনুশীলন।
উত্তর: তোমার স্কুলের শিক্ষকের সহায়তায় নাটিকাটিতে যতগুলো চরিত্র রয়েছে ততজন ছাত্র-ছাত্রী মিলে এটি অভিনয় করার চেষ্টা কর।
Codehorse Learn Free