মানবধর্ম কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: মানবধর্ম কবিতা পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে সক্ষম হবে যে, ধর্ম বা সম্প্রদায়গত পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড়। তারা জাত-পাত বা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা মিথ্যে গর্ব করা থেকে বিরত থাকবে।
মানবধর্ম কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:
জ্ঞানমূলক:
প্রশ্ন ১. সব লোকে লালনের কী নিয়ে প্রশ্ন তোলে?
উত্তর: সব লোকে লালনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রশ্ন ২. জগৎ বেড়ে কীসের কথা?
উত্তর: জগৎ বেড়ে জেতের কথা।
প্রশ্ন ৩. লালনের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: লালনের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অধ্যাত্মভাব ও মরমি রসব্যঞ্জনা।
প্রশ্ন ৪. লালন শাহ্ কোনটিকে গুরুত্বহীন মনে করেন?
উত্তর: লালন শাহ্ জাতকে গুরুত্বহীন মনে করেন।
প্রশ্ন ৫. লালন শাহ্ কীসের মাধ্যমে দর্শন প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: লালন শাহ্ গানের মাধ্যমে দর্শন প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন ৬. লালন শাহ গানে নিজেকে কী হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লালন শাহ গানে নিজেকে ফকির লালন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন ৭. লালনের রচিত গানের সংখ্যা কত?
উত্তর: লালনের রচিত গানের সংখ্যা সহস্রাধিক।
প্রশ্ন ৮. ‘মানবধর্ম’ কবিতার মূলকথা কী?
উত্তর: ‘মানবধর্ম’ কবিতার মূলকথা হলো মনুষ্যধর্ম।
অনুধাবনমূলক:
প্রশ্ন ১. ‘লালন সে জেতের ফাতা বিকিয়েছে সাত বাজারে’- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লালন শাহ্ পার্থিব ধর্ম ত্যাগ করে মানবধর্মে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। আলোচ্য চরণের মাধ্যমে ব্যঙ্গার্থে এটিই বোঝানো হয়েছে। লালন জাতপাতে বিশ্বাসী নন। তাঁর কাছে জাত-ধর্ম বড় কথা নয়, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। আর এ বিশ্বাসেই লালন নিজেকে জাত, ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে মানবের পথে চালিত করেছেন। এ বিষয়টি বোঝানোর জন্যই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ২. লালনকে কেন কোনো জাত বা ধর্মের বলা যায় না?
উত্তর: লালন শাহ্ কোনো নির্দিষ্ট জাত ধর্মে নিজেকে আবদ্ধ করেননি, তাই তাকে কোনো নির্দিষ্ট জাত বা ধর্মের বলা যায় না। লালনের কাছে তাঁর প্রকৃত পরিচয় তিনি মানুষ। একজন মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তার জাত বা ধর্ম বোঝা যায় না। পৃথিবীর সব জাতের, সব ধর্মের মানুষ একই প্রক্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। আমাদের মনুষ্যসমাজই তাকে জাত বা ধর্মের খোলস পরিয়ে দেয়। লালনের দৃষ্টিতে জাত বা ধর্ম মানুষই সৃষ্টি করেছে। এজন্যই লালনকে কোনো নির্দিষ্ট জাত বা ধর্মের বলা যায় না।
প্রশ্ন ৩. ‘লালন কয় জেতের কী রূপ, দেখলাম না এ নজরে’- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মরমি কবি লালন একমাত্র মানবজাতি ছাড়া অন্য কোনো জাতে বিশ্বাসী নন বলে তিনি বলেন, জেতের কী রূপ দেখলাম না এ নজরে। ফকির লালনের কাছে মানুষ পরিচয়ই সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি অন্য কোনো জাতিতে বিশ্বাসী নন। কেননা জাতপাত মানুষের বানানো। জাতের মিথ্যা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবধর্মের অবস্থানকে কবি ‘মানবধর্ম’ কবিতায় প্রাধান্য দিয়েছেন। ধর্ম বা স¤প্রদায়গত পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই আসল।
প্রশ্ন ৪. লালন ‘মানবধর্ম’ কবিতায় জাতের সাথে জলের তুলনা করেছেন কীভাবে?
উত্তর: লালনের কাছে জল যেমন শুধুই জল মানুষও তেমনি শুধুই মানুষ। পাত্রভেদে জলের ভিন্নতা ঘটে মাত্র। জল গর্তে গেলে কূপজল আবার গঙ্গায় গেলে গঙ্গাজল। কিন্তু জল শুধু জলই। মানুষেরও তেমনি কোনো জাতভেদ নেই। জাতি-ক‚ল বিচারে মানুষকে মাপা ঠিক নয়। লালনের মতে, সব স্থানে জল যেমন এক সকল মানুষই তেমনি সমান। এভাবে মানবধর্ম কবিতায় লালন জাতের সাথে জলের তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন ৫. মালা, তসবি গলায় থাকলেই জাতি ভিন্ন হয় না- কীভাবে?
উত্তর: অনেকে জাত, ধর্মের গর্ব করার জন্য বিভিন্ন চিহ্ন সাথে রাখে। কেউ তসবি গলায় দিয়ে ঘোরে, আবার কেউ মালা গলায় দিয়ে ঘোরে। কিন্তু তাতে জাত ভিন্ন হয় না।মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই আসল। যতই জাত বা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করুক না কেন জন্ম ও মৃত্যুর সময় মানুষ পরিচয়টাই বহাল থাকে। জাতিভেদের চিহ্ন সাথে নিয়ে কারও জন্ম-মৃত্যু হয় না। শুধু পৃথিবীতে অবস্থানকালে মানুষ নিজের জাত-পরিচয়কে দৃশ্যমান করতেই এসব চিহ্ন পরিধান করে থাকে।
আজ আমরা মানবধর্ম কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা করলাম । পরবর্তীতে এই কবিতার বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন আলোচনা করব। আজকের সমাধান PDF Download করে নাও নিচের দেওয়া Answer Sheet বাটনে ক্লিক করে।
Codehorse Learn Free