পাঠান মুলুকে চতুর্থ শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর: ভ্রমণপিয়াসী সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমণের উদ্দেশ্যে একবার পেশাওয়ার যান। তিনি দেখেন পাঠানরা অতিথিদের পরম আনন্দে বুকে জড়িয়ে নেন। আসার পথে কোনো কষ্ট হয়েছে কিনা তা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে জিজ্ঞেস করেন। কোলে-পিঠে করে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসান। মালপত্র যা আছে তারাই সব পিঠে বয়ে নিয়ে যান। পেশাওয়ার শহরের নিয়ম অনেকটা অদ্ভুত রকম। এখানে দিনের বেলা থাকে ইংরেজদের দখলে আর রাতের বেলা পাঠানের। লেখক রাত নয়টায় গিয়ে পেশাওয়ার শহরে পৌছেন। এক পাঠান লেখককে অভ্যর্থনা করে টাঙ্গায় বসালে তা এঁকে-বেঁকে চলতে থাকে। কারণ ওখানে লোকজন স্বাধীনভাবে তাদের মতো করে চলাফেরা করে। আর গাড়ি এঁকে-বেঁকে চলে রাস্তা করে নেয়।
পাঠান মুলুকে চতুর্থ শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর:
১. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি। অর্থ বলি।
স্নানাভাবে, একরত্তি, হোল্ডল, ঠা-ঠা আলো, আলিঙ্গন করা, পশতু, অভ্যর্থনা, নির্জলা, বৃথা, খাস, ঘোড়ার নালের চাট, অবজ্ঞা, টাঙ্গা, কসুর, প্ল্যাটফরম;
উত্তর:
স্নানাভাবে – স্নানের অভাবে, গোসল না করতে পারায়।
একরত্তি – একটুখানি।
হোল্ডল – যে বোঁচকার ভেতরে বালিশ, বিছানা ভরে বেঁধে রাখা হয়।
ঠা-ঠা আলো – এত তেজি আলো যে চোখ মেলে তাকানো যায় না।
আলিঙ্গন করা – কোলাকুলি করা।
পশতু – পাঠান এলাকার একটি ভাষার নাম।
অভ্যর্থনা – আদর করে ডেকে আনা।
নির্জলা -নির্ভেজাল, খাঁটি।
বৃথা -নিষ্ফল, অনর্থক।
খাস – আসল, প্রকৃত।
ঘোড়ার নালের চাট – ঘোড়ার পায়ের লাথি।
অবজ্ঞা – তাচ্ছিল্য, তুচ্ছতা।
টাঙ্গা – ঘোড়াবাহিত দুই চাকার গাড়িবিশেষ।
কসুর – দোষ, ত্রুটি।
প্ল্যাটফরম – রেলগাড়ি থামার স্থান, উন্নত সমতল ভূমি।
২. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
বৃথা, আলিঙ্গন, অভ্যর্থনা, একরত্তি, ঠা-ঠা আলো;
ক. আমার চোখে___ঘুম নেই।
খ. এত___চোখ মেলে তাকানো যায় না।
গ. ঈদের সময় আমরা সবাই___করে থাকি।
ঘ. তাদের___অনেক ভালো ছিল।
ঙ.___সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।
উত্তর:
ক. আমার চোখে একরত্তি ঘুম নেই।
খ. এত ঠা-ঠা আলো চোখ মেলে তাকানো যায় না।
গ. ঈদের সময় আমরা সবাই আলিঙ্গন করে থাকি।
ঘ. তাদের অভ্যর্থনা অনেক ভালো ছিল।
ঙ. বৃথা সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।
৩. প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।
প্রশ্ন ক. সর্দারজিকে চেনা যায় কী দেখে?
উত্তর: চুল বাঁধা, দাড়ি সাজানো আর পাগড়ি বাঁধানো দেখলেই সর্দারজিকে চেনা যায়।
প্রশ্ন খ. দিনের বেলায় ও রাত্রে পেশাওয়ার শহরে কী হয়?
উত্তর: পাঠান মুলুকের পেশাওয়ার শহরের নিয়ম একটু অদ্ভুত। কেননা এ শহর দিনে থাকে ইংরেজের দখলে আর রাতের বেলা থাকে পাঠানের দখলে।
প্রশ্ন গ. পাঠানদের অভ্যর্থনা কেমন হয়ে থাকে এবং কেন?
উত্তর: পাঠানরা খুবই অতিথিপরায়ণ। তাঁরা অতিথিকে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার মতো আনন্দ অন্য কোনো জিনিসে পান না। অতিথিকে পাওয়া মাত্র তাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। পরম উৎসাহে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে রাস্তার সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চান। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। কোলে-পিঠে করে নিয়ে গিয়ে টাঙ্গায় বসান। এ রকমই নির্জলা আন্তরিক পাঠানদের অভ্যর্থনা।
প্রশ্ন ঘ. পাঠানেরা কীভাবে টাঙ্গা চালায়?
উত্তর: পাঠান মুলুকে টাঙ্গা বা গাড়ি চালাতে হয় পাঠানি কায়দায়। কেননা পথিক পাঠানরা কখনো কারও জন্য রাস্তা ছেড়ে দেয় না। তারা যে যেরকম খুশি চলে। গাড়িকেই এঁকে-বেঁকে রাস্তা করে নিতে হয়। এতে ঘোড়ার লাথি খেয়ে কারও এক খাবলা মাংস উড়ে গেলেও পাঠানরা গালাগালি, মারামারি বা পুলিশ ডাকাডাকি না করে শ্রদ্ধা ও বিরক্তিসহকারে ঘাড় বাঁকিয়ে শুধু জিজ্ঞেস করে, ‘দেখতে পাস না?’ গাড়ির চালক গাড়োয়ানও একজন স্বাধীন পাঠান। তাই সেও ততোধিক অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলে, ‘তোর চোখ নেই?’ ব্যস, ওখানেই মিটে গেল, আর যে যার পথে চলল।
৪. ক্রিয়াপদের বিভিন্ন রূপ রয়েছে। যেমন- মূল ক্রিয়াপদ যাওয়া। এই ক্রিয়াপদটি থেকে অনেক শব্দ হতে পারে।
যেমন-
যাই – আমি বাড়ি যাই।
যাব – আমি বিকেলে খেলা দেখতে যাব।
গিয়েছি – আমি ওখানে গতকালও গিয়েছি।
যেতাম – ছোটবেলায় আমি প্রায়ই মামাবাড়ি যেতাম।
এখন নিচের ক্রিয়াপদগুলো দিয়ে একইরকম ভাবে শব্দ ও বাক্য লিখি।
আসা, খাওয়া, করা
আসি – প্রতিবছর আমি মেলায় আসি।
আসব – স্যার, আমি কাল একবার আসব?
এসেছি – আমি এই মাত্র স্কুল থেকে এসেছি।
খেয়েছি – আমি দুপুরের খাবার খেয়েছি।
খাব – আমি এখন ভাত খাব।
করেন – মা রান্না করেন।
করেছি – আমি স্কুলের পড়া শেষ করেছি।
৫. বাক্য রচনা করি।
ভ্রমণ, পেশাওয়ার, ঠা-ঠা আলো, সংবর্ধনা, ডাকাডাকি, অবজ্ঞা।
উত্তর:
ভ্রমণ – ভ্রমণ করা আমার প্রিয় শখ।
পেশাওয়ার – পেশাওয়ার শহর দিনে ইংরেজের দখলে থাকে।
ঠা-ঠা আলো– সূর্যের ঠা-ঠা আলোতে পুড়ে কৃষক ফসল ফলান।
সংবর্ধনা – ভালো ফল করায় শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।
ডাকাডাকি – পাখিরা ভোর না হতেই ডাকাডাকি শুরু করে।
অবজ্ঞা – গরিব বলে কাউকে অবজ্ঞা করা ঠিক নয়।
৬. বিপরীত শব্দ লিখি এবং তা দিয়ে একটি করে বাক্য লিখি।
আরম্ভ – শেষ – আজ আমার পরীক্ষা শেষ হলো।
গরম – ঠান্ডা – শীতকারে প্রচুর ঠান্ডা লাগে।
কঠিন – সহজ – পড়াশুনা ভালো করলে পরীক্ষা সহজ হয়ে যায়।
ভিতর – বাহির – অনেক মানুষ বাহিরে এক ভেতরে আরেক।
দিন – রাত – রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।
দাঁড়ানো – বসা – গুরুজনের সামনে আদবের সঙ্গে বসা উচিত।
আলো – অন্ধকার – জ্ঞানের আলো সব অন্ধকার দূর করে।
উঁচু – নিচু – সন্তান খারাপ হলে সমাজে বাবা-মায়ের মাথা নিচু হয়।
৭. কর্ম-অনুশীলন।
নিজে বেড়িয়ে এসেছি এরকম একটা জায়গা সম্পর্কে বলি।
উত্তর:
সাজেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
সেদিন সকালে আমরা সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম, কারণ সাজেক সম্পর্কে অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প শুনেছিলাম।
আমরা প্রথমে খাগড়াছড়ি গেলাম, তারপর একটা জিপে চড়ে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে সাজেকের দিকে রওনা হলাম। চারপাশে ছিল সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশ। মাঝেমধ্যে রাস্তার পাশে মেঘ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছিল! মনে হচ্ছিল, আমরা যেন মেঘের রাজ্যে চলে এসেছি!
সাজেকে পৌঁছে দেখি, চারপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সন্ধ্যার সময় সূর্য ডোবার দৃশ্য অসাধারণ ছিল! আর রাতে আকাশভরা তারা দেখে খুব ভালো লাগছিল। সকালে যখন সূর্য উঠল, তখন চারপাশে মেঘের ঢেউ ভেসে বেড়াচ্ছিল।
আমরা স্থানীয় গরবা গ্রামে ঘুরতে গেলাম। সেখানকার মানুষ খুব ভালো এবং তারা আমাদের সঙ্গে গল্প করল। সাজেকে আমরা পাহাড়ি খাবারও খেয়েছি।
এই ভ্রমণটা আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা ছিল। আমি আবার সাজেকে যেতে চাই!
Codehorse Learn Free