তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: প্রতিদিন আমরা নানা রকম খাদ্য খেয়ে থাকি। এই খাদ্যগুলো আমরা কেন খাই? খাদ্য আমাদের কী কাজে লাগে? আমাদের খাদ্যগুলো কোথা থেকে আসে? চলো, খাদ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
অধ্যায় ৩: সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য
১। সঠিক উত্তরের পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও।
১) কোন খাদ্যটি শুধু দুধ থেকে তৈরি হয়?
ক) পায়েস
খ) মাখন√
গ) সেমাই
ঘ) ফিরনি
২) আম কোন ঋতুর / সময়কালের ফল?
ক) গ্রীষ্মকাল√
খ) বর্ষাকাল
গ) হেমন্তকাল
ঘ) শরৎকাল
৩) পেয়ারা আমাদের শরীরে প্রধানত কোন ধরনের কাজ করে?
ক) শক্তি যোগায়
খ) দেহের ক্ষয় পূরণ করে
গ) রোগ প্রতিরোধ করে√
ঘ) সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
২। শূন্যস্থান পূরণ করি।
(ফাস্টফুড, শক্তি, চর্বি, খনিজ লবণ, বাদাম, সব ধরনের পুষ্টি)
ক. শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা___ পাই।
খ. টিউবওয়েলের পানিতে বিভিন্ন ধরনের___মিশ্রিত থাকে।
গ. ডিমের সাদা অংশ আমিষ আর কুসুম ___জাতীয় পদার্থ।
ঘ. মানুষ___খেলে, তাদের শরীর মোটা হয়ে যায়।
উত্তর: ক) শক্তি; খ) খনিজ লবণ; গ) চর্বি; ঘ) ফাস্টফুড।
৩। মিলকরণ
বামপাশের শব্দগুচ্ছের সাথে ডান পাশের শব্দের মিল করি।
| বাম | ডান |
| ডাবের পানি কোমল পানীয় শাক-সবজি শিমের বিচি খোলা খাবার |
আমিষ ভিটামিন জীবাণু স্বাস্থ্যকর মোটা |
উত্তর:
১. ডাবের পানি স্বাস্থ্যকর।
২. কোমল পানীয় মোটা।
৩. শাক-সবজি ভিটামিন।
৪. শিমের বিচি আমিষ।
৫. খোলা খাবার জীবাণু।
৪। সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
ক. আমাদের খাদ্যের প্রধান দুটি উৎসের নাম লিখি।
উত্তর: আমাদের খাদ্যের প্রধান দুটি উৎসের নাম হলো-
১) উদ্ভিদ থেকে পাওয়া উৎস।
২) প্রাণী থেকে পাওয়া উৎস।
খ. আমিষ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরে কী ধরনের কাজ করে?
উত্তর: আমিষ জাতীয় খাদ্য আমাদের দেহের গঠন ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে।
গ. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে সকল খাদ্য থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে থাকি এবং যা গ্রহণে দেহের কোনো ক্ষতি হয় না, সে সকল খাদ্যকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলে।
ঘ. নিরাপদ পানীয়ের দুটি উদাহরণ দিই।
উত্তর: নিরাপদ পানীয়ের দুটি উদাহরণ হলো-
i) ডাবের পানি;
ii) লেবুর শরবত।
৫। বর্ণনামূলক প্রশ্ন
ক. আমাদের শরীরে খাদ্যের পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করি।
উত্তর : আমাদের শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব অনেক। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সব ধরনের পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা উচিত। একই খাবার বারবার গ্রহণ করার চেয়ে ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণ করা উত্তম। ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য গ্রহণ করলে দেহ সব ধরনের পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ পায়।
খ. নিচের ফলগুলোকে ঋতুভিত্তিক শ্রেণিকরণ করার জন্য একটি ছক তৈরি করি। ছক অনুযায়ী ফলগুলোকে শ্রেণিকরণ করি।
কলা, পেয়ারা, কাঁঠাল, আম, তাল, বরই, পেঁপে, তরমুজ
উত্তর: উল্লেখিত ফলগুলোকে ঋতুভিত্তিক ছক অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করা হলো–
গ্রীষ্মকালীন ফল-আম, কাঁঠাল, তাল, তরমুজ
শীতকালীন ফল-পেয়ারা, বরই
বারোমাসি ফল-কলা, পেঁপে
অতিরিক্ত বহুনির্বাচনি
১. লুবনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার এই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে কোথা থেকে?
ক. পরিবেশ
খ. খাদ্য√
গ. বিশ্রাম
ঘ. বায়ু
২. দুধ কোন ধরনের উৎস থেকে আসে?
ক. উদ্ভিদ
খ. প্রাণী√
গ. খনিজ
ঘ. জল
৩. মাখন কীসের থেকে তৈরি হয়?
ক. মাংস
খ. গম
গ. দুধ√
ঘ. ডাল
৪. মাংস কোন ধরনের উৎস থেকে আসে?
ক. উদ্ভিদ
খ. প্রাণী√
গ. খনিজ
ঘ. জল
৫. ময়না আম ও লিচু খেতে খুব ভালোবাসে। এগুলো কোন সময়ের ফল?
ক. গ্রীষ্মকালীন√
খ.শীতকালীন
গ. বর্ষাকালীন
ঘ. বারোমাসি
অতিরিক্ত শূন্যস্থান
১. বেঁচে থাকার জন্য আমাদের___প্রয়োজন।
২. আমরা বিভিন্ন___ থেকে খাদ্য পাই।
৩. মাছ, মাংস, ডিম এসব খাদ্যের উৎস হলো_।
৪. আটা-ময়দা, কলা, কাঁঠাল, আম ইত্যাদি খাদ্যের উৎস হলো_।
৫. আম, জাম, কাঁঠাল, আমড়া ইত্যাদি___ ফল।
উত্তর: ১. খাদ্যের; ২. উৎস; ৩. প্রাণী: ৪. উদ্ভিদ: ৫. গ্রীষ্মকালীন।
অতিরিক্ত মিলকরণ
১. বাম পাশ থেকে শব্দ বা বাক্যাংশ নিয়ে ডান পাশের সাথে মিল কর।
| বাম পাশ | ডান পাশ |
| ১. ঘি, মাখন এবং দুধ ২. খাদ্য আমাদের বৃদ্ধি এবং কাজ করার. ৩. মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রয়োজন ৪. আমিষ, শর্করা এবং চর্বি হচ্ছে ৫. দেহের ক্ষয়পূরণ করে মাংসপেশির |
১. উদ্ভিদ থেকে পাই। ২. খাদ্য। ৩. প্রাণী থেকে পাই। ৪. চর্বি। ৫. শক্তি জোগায়। ৬. আমিন। ৭. প্রধান পুষ্টি উপাদান। |
উত্তর:
১. ঘি, মাখন এবং দুধ প্রাণী থেকে পাই।
২. খাদ্য আমাদের বৃদ্ধি এবং কাজ করার শক্তি জোগায়।
৩. মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রয়োজন খাদ্য।
৪. আমিষ, শর্করা এবং চর্বি হচ্ছে প্রধান পুষ্টি উপাদান।
৫. দেহের মাংসপেশির ক্ষয়পূরণ করে আমিষ।
অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত
১. খাদ্যের কাজ কী?
উত্তর: খাদ্যের কাজ হচ্ছে আমাদের দেহের গঠন, বৃদ্ধি সাধন এবং কাজ করার প্রয়োজনীয় শক্তি জোগান দেওয়া।
২. আমরা প্রতিদিন কত ধরনের খাবার খাই?
উত্তর: আমরা প্রতিদিন দুই ধরনের খাবার খাই। উদ্ভিদ থেকে আসা খাবার এবং প্রাণী থেকে আসা খাবার।
৩. উদ্ভিদ থেকে আমরা কী কী খাবার পাই?
উত্তর: উদ্ভিদ থেকে আমরা ভাত, রুটি, ডাল, সবজি, ফল ইত্যাদি খাবার পাই।
8. প্রাণী থেকে আমরা কী কী খাবার পাই?
উত্তর: প্রাণী থেকে আমরা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবার পাই।
৫. পাউরুটি কী থেকে পাই?
উত্তর: পাউরুটি উদ্ভিদ থেকে পাই। পাউরুটি তৈরি করা হয় আটা দিয়ে, আটা আসে গম থেকে, আর গম পাই উদ্ভিদ থেকে।
অতিরিক্ত বর্ণনামূলক
১. ঋতু অনুসারে বাংলাদেশে কী কী ফল পাওয়া যায়?
উত্তর: ঋতু অনুসারে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। যেমন-
গ্রীষ্মকালীন ফল: আম, জাম, কাঁঠাল, বেল, তরমুজ, লিচু, তাল, পেয়ারা, আমড়া, জাম্বুরা, আনারস, লটকন, জামরুল, আপেল, লেবু, আঙ্গুর, পেঁপে, কলা ইত্যাদি।
শীতকালীন ফল: বরই, কমলা, আমলকী, জলপাই, আঙুর, আপেল, পেয়ারা, জাম্বুরা, বেদানা, লেবু, কাঁঠাল, জামরুল ইত্যাদি।
বারোমাসি ফল: কলা, পেঁপে, নারিকেল, লেবু, আমলকী, জাম্বুরা, পেয়ারা, আপেল ইত্যাদি।
২. সুষম খাদ্য কাকে বলে? আমাদের কেন সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত?
উত্তর: যে খাদ্যে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সব উপাদান পরিমাণমতো থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
সুষম খাদ্য দেহকে সুস্থ ও সবল রাখে। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তাই, আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
৩. মাছ এবং মাংসে আমিষের পরিমাণ বেশি কেন?
উত্তর : মাছ এবং মাংস প্রাণীজ উৎস থেকে আসে এবং এগুলো প্রোটিনের উচ্চ মাত্রা সম্বলিত, যা আমিষ হিসেবে পরিচিত। প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, মেরামত এবং বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
৪. ফল খাওয়ার উপকারিতা কী কী?
উত্তর: ফল খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ফলে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ফল খাওয়ার ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি উন্নত হয়, ত্বক সুন্দর হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৫. ভাজা খাবার কেন খাওয়া উচিত নয়?
উত্তর: ভাজা খাবারে অনেক তেল থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত তেল আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, ভাজার সময় খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিকও তৈরি হতে পারে যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
Codehorse Learn Free