চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর: 
চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর: 

চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান একাদশ অধ্যায় বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান একাদশ অধ্যায় বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর: মানব দেহের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। শরীরের কোনো অঙ্গ বিদ্যুৎ উৎসের সংস্পর্শে এলে আমরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারি। যেমন- পুড়ে যেতে পারি অথবা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারি। এই ধরনের দুর্ঘটনাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বলে।


উদ্ধার এবং চিকিৎসা:

১. যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের উৎস থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে আলাদা করতে হবে। মেইন সুইচ বন্ধ করে বা বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে ফেলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ বা বাঁশ দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। এসময় প্লাস্টিকের মাদুর, চটের বস্তা বা মোটা কাগজের উপর দাঁড়িয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। কোনোভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে ধরা বা স্পর্শ করা যাবে না। এতে উদ্ধারকারী নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়বে।

২. যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার ডাকতে হবে অথবা রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

৩. ডাক্তার না আসা পর্যন্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, নাড়ির স্পন্দন এবং ক্ষতস্থান পরীক্ষা করতে হবে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির দেহ পুড়ে গেলে আগুনে পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। যদি আহত ব্যক্তি শ্বাস না নেয় তাহলে পানিতে ডোবা রোগীর মতো শ্বাস দিতে হবে এবং বুকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।


৪) সাপে কাটা:

আমরা কী করব:

সাপ বসবাস করতে পারে এধরনের স্থান এড়িয়ে চলতে হবে। সাপের রং এবং গড়ন মনে রাখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।


সাপে কাটলে কী করব:

রোগীকে যথাসম্ভব স্থির অবস্থায় রাখতে হবে। শরীরের যে অংশে সাপে কেটেছে তা বুকের অবস্থান থেকে যথেষ্ট নিচে রাখতে হবে। কাটা স্থানের একটু উপরে দড়ি বা কাপড় দিয়ে এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তি অস্বস্তি বা ব্যথা বোধ না করে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।


সাপে কাটলে যা করা যাবে না:

বিষ বের করার জন্য ক্ষতস্থানে মুখ দিয়ে চোষা যাবে না। ক্ষতস্থানের চারপাশে ত্বক কাটা যাবে না। ক্ষতস্থানে বরফ লাগানো যাবে না। প্রয়োজন না হলে রোগীকে নাড়াচাড়া করা যাবে না। সাপটি ধরার চেষ্টা করা যাবে না। ওঝা বা সাপুড়ের কাছে চিকিৎসার জন্য যাওয়া যাবে না।

বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন-১। তোমাদের গ্রামের জনসংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় তাদের চাহিদা পূরণে বনভূমি কেটে ফেলছে। এর ফলে কীসের পরিবর্তন হচ্ছে? গ্রামবাসীদের এই কাজটি করার কারণ লেখ।
উত্তর: বনভূমি কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন হচ্ছে।
আমার গ্রামবাসীদের বনভূমি কেটে ফেলার কারণ হলো:
১. চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো।
২. গোখাদ্য সরবরাহ করা।
৩. বাসস্থান নির্মাণ করা।
৪. রাস্তাঘাট তৈরি করা ও
৫. কলকারখানা নির্মাণ করা।

প্রশ্ন-২। যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনের কারণ কী? মানুষ বনভূমি। ধ্বংস করছে কেন? বনভূমি ধ্বংসের ক্ষতিকর দিকগুলো উল্লেখ কর।
উত্তর: যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনের কারণ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি।
চাষের জমি, গোখাদ্য, বাসস্থান ও রাস্তাঘাট তৈরি করার জন্য মানুষ বনভূমি ধ্বংস করছে।
বনভূমি ধ্বংসের ক্ষতিকর দিকগুলো হলো-
১. বিভিন্ন গাছপালা ও পশুপাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।
২. ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস হচ্ছে।
৩. বন্যা, খরা ও ঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
৪. পশুপাখি বিলুপ্তি হচ্ছে।
৫. বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে।

গাইড ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করো 👉 Install Now

প্রশ্ন-৩। পৃথিবীতে কোন সম্পদের পরিমাণ সীমিত? অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের দুইটি ক্ষতিকর দিক লেখ। বনভূমি ধ্বংসের তিনটি প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পৃথিবীতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ সীমিত।
অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের দুইটি ক্ষতিকর দিক হলো:
১. প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটছে।
২. বন্যা, খরা ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বনভূমি ধ্বংসের তিনটি প্রভাব হলো:
১. গাছপালা ও পশুপাখির আবাসস্থল নষ্ট হওয়া।
২. ধীরে ধীরে গাছপালা ও পশুপাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৩. ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস হওয়া।

প্রশ্ন-৪। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বললেন, দিন দিন প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটছে ফলে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। কীসের ফলে এটি হচ্ছে? জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের কী কী চাহিদা বাড়তে থাকে- এ সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর: বনভূমি ধ্বংসের ফলে এটি হচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের নিম্নলিখিত চাহিদা বাড়তে থাকে-
১. মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদির চাহিদা বাড়তে থাকে।
২. নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের চাহিদা বাড়তে থাকে।
৩. গাড়ি, বাস, ট্রেন ইত্যাদি যানবাহনের চাহিদা বাড়তে থাকে।
৪. বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন- কাঠ, গাছপালা, মাটি, বায়ু ইত্যাদির চাহিদা বাড়তে থাকে।
৫. নতুন নতুন রাস্তাঘাট তৈরির প্রয়োজন পড়ে।

প্রশ্ন-৫। বনভূমি ধ্বংস হয় এরকম চারটি কাজ উল্লেখ কর। প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তনের চারটি কারণ লেখ।
উত্তর: বনভূমি ধ্বংস হয় এরকম চারটি কাজ হলো-
১. চাষের জমি তৈরি,
২. গো-খাদ্য আহরণ,
৩. রাস্তা-ঘাট তৈরি ও
৪. বাসস্থান তৈরি।
প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তনের চারটি কারণ হলো-
১. অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ,
২. বনভূমি ধ্বংস,
৩. বন্যা, খরা ও ঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
৪. গাছ কেটে আসবাবপত্র তৈরি।

প্রশ্ন-৬। উত্তরবঙ্গে এবার খরার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কোন পরিবর্তনটি এর জন্য দায়ী? প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বাড়তি জনসংখ্যার প্রভাব লেখ।
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন এর জন্য দায়ী।
বাড়তি জনসংখ্যা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
যেমন-
১. চাষের জমি, গোখাদ্য, বাসস্থান ও রাস্তাঘাট তৈরির জন্য বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটছে।
২. বনভূমি ধ্বংসের ফলে বিভিন্ন গাছপালা ও পশুপাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে তারা বিলুপ্ত হচ্ছে।
৩. জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
৪. মাটি ও পানি দূষিত হওয়ায় খাদ্যে বিষক্রিয়া বাড়ছে। নিরাপদ পানির অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
৫. পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে।

প্রশ্ন-৭। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ কী? ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য কী প্রয়োজন? জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের কী কী চাহিদা বাড়তে থাকে?
উত্তর: জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য ও বাসস্থান প্রয়োজন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের নিম্নলিখিত চাহিদা বাড়তে থাকে-
১. মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদির চাহিদা বাড়তে থাকে।
২. প্রাকৃতিক সম্পদের চাহিদা বাড়তে থাকে।
৩. নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের চাহিদা বাড়তে থাকে।
৪. গাড়ি, বাস, ট্রেন ইত্যাদি যানবাহনের চাহিদা বাড়তে থাকে।

প্রশ্ন-৮। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ কী? জনসংখ্যার উপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুইটি ইতিবাচক দিক লেখ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি না হলে জনসংখ্যা কী অবস্থায় থাকত এ সম্পর্কে লেখ।
উত্তর: জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি।
জনসংখ্যার উপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুইটি ইতিবাচক দিক হলো-
১. মানুষ এখন যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে।
২. মানুষ বিভিন্ন রোগ ও দুর্ঘটনা থেকে সহজেই বাঁচতে পারছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি না হলে অধিক মানুষের জন্য খাদ্যের যোগান দেওয়া সম্ব হতো না। অধিক জনসংখ্যার ফলে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো চাহিদাগুলো মেটানো সম্ব হতো না।


প্রিয় শিক্ষার্থী, তোমাদের ক্লাসের সকল বইয়ের সমাধান পেতে আমাদের অ্যাপটি👉 Install করো।


আরও পড়ুন: জীবনের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

আরও পড়ুন: ৪র্থ শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ১২ অনুশীলনী সমাধান

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *