চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান অধ্যায় ১১ প্রশ্ন উত্তর: দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে আমাদের শরীর ও সম্পদের ক্ষতি হয়। আমরা প্রায়ই নানা ধরনের দুর্ঘটনার কথা শুনে থাকি বা দেখে থাকি। আবার নিজেরাও কখনো কখনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই।
১) বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা
আমরা সচরাচর যে সকল দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়া, আগুন লাগা, পুড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, বিষক্রিয়া হওয়া ইত্যদি। অন্যান্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, সাপে কাটা এবং পানিতে ডোবা।
(২) কীভাবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়
বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানিতে ডোবা, সাপে কাটা এবং আগুন লাগা ও আগুনে পোড়াজনিত দুর্ঘটনা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
পানিতে ডোবা:
আমরা অনেকেই পুকুর, খাল বা নদীতে গোসল করতে এবং সাঁতার কাটতে পছন্দ করি। আবার প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবরও শোনা। যায়। তবে সাঁতার শিখে আমরা পানিতে ডোবা প্রতিরোধ করতে পারি। মনে রাখতে হবে, বড়দের সাহায্য ছাড়া একা একা সাঁতার কাটা বা পানিতে ঝাঁপ দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া পানিতে গোসল বা সাঁতার কাটার সময় অন্যদের প্রতিও লক্ষ রাখতে হবে।
সাপে কাটা:
আমাদের দেশে সাধারণত গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি সাপে কাটার শিকার হয়। সাপ বনজঙ্গল ছাড়াও বাড়িঘরের আশেপাশে থাকে। আমরা বিভিন্ন উপায়ে সাপে কাটা প্রতিরোধ করতে পারি। যেমন-
i. সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া বা খেলাধুলা করব না।
ii. সাপ থাকতে পারে এমন জায়গা যেমন- ঘন ঘাস বা ঝোপঝাড়, ইট বা পাথরের ফাঁক, গর্ত ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।
iii. জঙ্গল বা ঝোপঝাড়ে যেতে হলে অবশ্যই লম্বা লাঠি ব্যবহার করতে হবে।
iv. রাতে চলাফেরার সময় টর্চ লাইট বা অন্য বাতি ব্যবহার করতে হবে।
v. বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে সাপ লুকিয়ে থাকতে না পারে।
১। শূন্যস্থান পূরণ কর।
(১) হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা যা আমাদের শরীরের বা সম্পদের ক্ষতি সাধন করে তাই……।
(২) সাপ বনজঙ্গল ছাড়াও……….আশেপাশে থাকে।
(৩) আমরা……..শিখে পানিতে ডোবা প্রতিরোধ করতে পারি।
(৪) শরীরের কোনো অঙ্গ………..উৎসের সংস্পর্শে এলে মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।
উত্তর:
(১) দুর্ঘটনা, (২) বাড়ি-ঘরের, (৩) সাঁতার, (৪) বিদ্যুৎ।
| গাইড ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করো 👉 Install Now |
২। সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔) দাও।
(১) আগুন জনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ভালো উপায় কী?
ক. শুকনো কাপড় বা কাগজ চুলার কাছাকাছি রাখা
খ. আগুন নিয়ে খেলা করা
গ. রান্নার সময় লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরা
ঘ. আগুন থেকে দূরে থাকা √
(২) পুড়ে যাওয়া রোগীর জন্য আমরা কী করব?
ক. পোড়া স্থানে ঠান্ডা পানি ঢালব √
খ. পোড়া স্থানে বরফ লাগাব
গ. পোড়া স্থানে লোশন বা মাখন ব্যবহার করব
ঘ. যত দ্রুত সম্ব ফোস্কা গলিয়ে ফেলব
(৩) সাপে কাটা রোগীর জন্য আমরা কী করব?
ক. চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করব
খ. রোগীকে যথাসম্ভম্ব স্থির রাখব √
গ. ক্ষতস্থানের চারপাশের চামড়া কেটে ফেলব
ঘ. সাপটি ধরার চেষ্টা করব
৩। সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১। বাড়িতে কী কী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে?
উত্তর: বাড়িতে পড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়া, আগুন লাগা, পুড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, বিষক্রিয়া হওয়া ইত্যাদি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রশ্ন-২। আমরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করব?
উত্তর: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে আমরা নিচের উপায়ে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করব-
১. মেইন সুইচ বন্ধ করে বা বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে ফেলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
২. বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভম্ব না হলে প্লাস্টিকের মাদুর, চটের বস্তা বা মোটা কাগজের উপর দাঁড়িয়ে শুকনো কাঠ বা বাঁশ দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করব।
প্রশ্ন-৩। কীভাবে আগুনে পোড়া ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়?
উত্তর: সামান্য আগুনে পোড়া ব্যক্তির পোড়াস্থানে বার্নল বা পানি নারিকেল তেল মিশিয়ে লাগানো হয়। আর বেশি পোড়াস্থানে কমপক্ষে ১০ মিনিট ঠান্ডা পানি ঢেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
৪। বর্ণনামূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১। প্রাথমিক চিকিৎসার সাধারণ নিয়মগুলো কী কী?
উত্তর: প্রাথমিক চিকিৎসার সাধারণ নিয়মগুলো নিম্নরূপ:
১. সাহায্য চাওয়া: সর্বপ্রথম আমাদের বড় কাউকে ডাকতে হবে বা জরুরি সেবার জন্য সাহায্য চাইতে হবে।
২. নিজেকে নিরাপদ রাখা: আহত কোনো ব্যক্তিকে সাহায্যের পূর্বে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আহত ব্যক্তিকে স্থির রাখা: প্রয়োজন ব্যতীত আহত ব্যক্তিকে নাড়াচাড়া না করা।
৪. আহত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা: আহত ব্যক্তিকে উৎসাহমূলক কথা যেমন- “তুমি সুস্থ হয়ে যাবে”; “সব ঠিক হয়ে যাবে” ইত্যাদি বলে শান্ত রাখা।
প্রশ্ন-২। আমরা পানিতে ডুবতে থাকা কোনো মানুষকে কীভাবে উদ্ধার করব?
উত্তর: আমরা পানিতে ডুবতে থাকা কোনো মানুষকে নিম্নলিখিতভাবে উদ্ধার করব-
১. প্রথমে সাহায্যের জন্য বড়দের ডাকব।
২. সম্ভব হলে এবং নিরাপদ মনে করলে পানিতে ডুবতে থাকা ব্যক্তির হাতের নাগালে লম্বা দড়ি বা লাঠি ধরব। তা না হলে ভেসে থাকতে পারে এমন বস্তু যেমন- বড় কাঠের টুকরা, কলাগাছ ইত্যাদি পানিতে ভাসিয়ে দেব। ডুবতে থাকা ব্যক্তি যেন সেটি ধরে ভাসতে ও উঠে আসতে পারে।
প্রশ্ন-৩। সাপে কাটা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
উত্তর: বিভিন্ন উপায়ে সাপে কাটা প্রতিরোধ করা যায়। যেমন-
১. সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া বা খেলাধুলা করা থেকে বিরত থাকা।
২. সাপ থাকতে পারে এমন জায়গা যেমন- ঘন ঘাস বা ঝোপঝাড়, ইট বা পাথরের ফাঁক, গর্ত ইত্যাদি এড়িয়ে চলা।
৩. জঙ্গল বা ঝোপঝাড়ে যেতে হলে লম্বা লাঠি ব্যবহার করা।
৪. রাতে চলাফেরার সময় টর্চলাইট বা অন্য বাতি ব্যবহার করা।
৫. বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যাতে সাপ লুকিয়ে থাকতে না পারে।
প্রশ্ন-৪। দুর্ঘটনায় পড়া কোনো মানুষ শ্বাস না নিলে আমরা কী করব?
উত্তর: দুর্ঘটনায় পড়া কোনো মানুষ শ্বাস না নিলে আমরা যা করব:
১. রোগীকে চিত করে শুইয়ে দিব এবং থুতনি0 আলতো করে উপরে তুলে ধরব।
২. রোগীর নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে কয়েকবার ফুঁ দিব, যতক্ষণ না রোগীর বুক ফুলে ওঠে। তবে মাঝে মাঝে রোগীকে শ্বাস ছাড়ার জন্য সময় দিব।
৩. ফুঁ দেওয়ার পর রোগীর বুক ফুলে উঠছে কি না তা লক্ষ রাখব। রোগীর বুক ফুলে না উঠলে তার মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় ফুঁ দিব।
৪. রোগীর বুকের মাঝখানে হাত রেখে প্রায় ৩০ বার নিচের দিকে চাপ দিব। খেয়াল রাখব চাপ প্রয়োগের সময় বুকের উচ্চতা যেন এক-তৃতীয়াংশ দেবে যায়।
৫. রোগী নিজে নিজে শ্বাস না নেওয়া পর্যন্ত বা ডাক্তার না আসা পর্যন্ত এভাবে ফুঁ দেওয়া ও বুকে চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যাব।
Codehorse Learn Free