চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
৩য় অধ্যায়-আখলাক

চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: আখলাক অর্থ চরিত্র, স্বভাব, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি। আখলাক দুই প্রকার- ১. আখলাকে হামীদা ও ২. আখলাকে যামীমা। আখলাকে হামীদা মানে প্রশংসনীয় আখলাক। যেমন-সৎ স্বভাব, সৎ চরিত্র, সৎ গুণাবলি ইত্যাদি। আর আখলাকে যামীমা হলো নিন্দনীয় আখলাক। যেমন- কুস্বভাব, দুশ্চরিত্র, খারাপ অভ্যাস ইত্যাদি।

চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর: 
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দাও।
১) সুন্দর স্বভাব ও ভালো চরিত্রকে আরবিতে কী বলে?
ক. মুনাজাত
খ. আখলাক✓
গ. ইবাদত
ঘ. সালাত
২) সচ্চরিত্র কোনটি?
ক. পরনিন্দা করা
খ. লোভ করা
গ. মিথ্যা বলা
ঘ. সত্য কথা বলা✓
৩) সত্যিকার মুমিনের চরিত্র কেমন?
ক. সুন্দর✓
খ. অসুন্দর
গ. মিথ্যুক
ঘ. অসৎ
৪) অসৎ চরিত্রের কাজ কোনটি?
ক. রোগীর সেবা করা
খ. শিক্ষককে সম্মান না করা✓
গ. ইবাদত করা
ঘ. শিক্ষককে সম্মান করা
৫) মহানবি (স) সকলের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন?
ক. মন্দ ব্যবহার
খ. খারাপ ব্যবহার
গ. ভালো ব্যবহার✓
ঘ. অসৎ ব্যবহার
৬) যে সত্য কথা বলে তাকে কী বলা হয়?
ক. সততা
খ. সৎ
গ. সত্যবাদী✓
ঘ. সত্যবাদিতা
৭) মিথ্যা মানুষকে কী করে?
ক. উপকার করে
খ. ধ্বংস করে✓
গ. খাবার দেয়
ঘ. সাহায্য করে
৮) যে ওয়াদা পালন করে, সকলে তাকে কী করে?
ক. অসম্মান করে
খ. ঘৃণা করে
গ. অবিশ্বাস করে
ঘ. বিশ্বাস করে✓
৯) “যত পায় আরও চায়”-এর নাম কী?
ক. লোভ✓
খ. অপচয়
গ. শান্তি
ঘ. ভালোবাসা

খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্রকে __ চরিত্র বলা হয়।
২. মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের __।
৩. যাঁরা বয়সে __ আমরা তাঁদের সালাম দেব।
৪. লোভ আমাদের অনেক __করে।
৫. আমরা কোনো কিছু __করব না।
উত্তর: ১. অসৎ, ২. জান্নাত, ৩. বড়, ৪. ক্ষতি, ৫. অপচয়।

গ. বাম পাশের কথাগুলোর সাথে ডান পাশের কথাগুলো মিল কর:
বাম পাশ → ডান পাশ
চরিত্র ভালো হলে → চলতে শেখান
আব্বা-আম্মার সাথে সুন্দর → ফেলব না
শিক্ষক সৎ ও ন্যায়ের পথে → জীবন সুন্দর হয়
যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা → তার ধর্ম নেই
যে ওয়াদা পালন করে না → ব্যবহার কর

উত্তর:


চরিত্র ভালো হলে → জীবন সুন্দর হয়।
আব্বা-আম্মার সাথে সুন্দর → ব্যবহার কর।
শিক্ষক সৎ ও ন্যায়ের পথে → চলতে শেখান।
যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা → ফেলব না।
যে ওয়াদা পালন করে না → তার ধর্ম নেই।

সংক্ষেপে উত্তর দাও:

১. আমাদের মহানবি (স)-এর পিতার নাম কী?
উত্তর: মহানবি (স)-এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ ।

২. মহানবি (স) বড়দের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন?
উত্তর: মহানবি (স) বড়দের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।

৩. মহানবি (স) ছোটদের কী করতেন?
উত্তর: মহানবি (স) ছোটদেরকে স্নেহ ও আদর করতেন। ভালোবাসতেন।

৪. আমরা কাজের লোকদের সাথে কেমন ব্যবহার করব?
উত্তর: আমরা কাজের লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করব। তাদেরকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বলব না।

৫. প্রতিবেশীর ঘরে খাবার না থাকলে আমরা কী করব?
উত্তর: প্রতিবেশীর ঘরে খাবার না থাকলে আমরা তাদের খাবার দিব।

৬. ওয়াদা পালন করা মানে কী?
উত্তর: ওয়াদা পালন মানে কথা দিয়ে কথা রাখা। কথামতো কাজ করা।

৭. কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা বলার নাম কী?
উত্তর: কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা বলার নাম গীবত বা পরনিন্দা ।

চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:

বর্ণনামূলক প্রশ্ন:

১. সচ্চরিত্র কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: সুন্দর ও ভালো চরিত্রই হলো সচ্চরিত্র। যেমন- সত্য কথা বলা, রোগীর সেবা করা, বাবা-মাকে সম্মান করা ইত্যাদি। চরিত্র ভালো হলে আখিরাতে সুখ ও শান্তি পাওয়া যায়। সচ্চরিত্র মানুষকে মুক্তি দেয়। একজন সচ্চরিত্রবান লোক সবসময় পিতামাতার কথা শুনে, শিক্ষককে সম্মান করে, সৃষ্টির সেবা করে, সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করে, সালাত আদায় করে, ওয়াদা পূরণ করে

২. বড়দের সাথে আমাদের কেমন ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: আমরা বড়দের সম্মান করব। শ্রদ্ধা করব। দেখা হলে সালাম দেব। আদবের সাথে কথা বলব। ভালো ব্যবহার করব। তাদের আদেশ-উপদেশ মেনে চলব।

৩. প্রতিবেশী কারা? আমরা প্রতিবেশীর সাথে কীরূপ ব্যবহার করব?
উত্তর: আমাদের আশপাশে যারা বসবাস করে তারা আমাদের, প্রতিবেশী। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমারে সহযাত্রী আমাদের প্রতিবেশী। বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী ছাত্রছাত্রীরা একে অপরের প্রতিবেশীর মতো। আমরা প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করব। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করব। কেউ ক্ষুধার্ত হলে তাকে খাদ্য দেব। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) বলেছেন, “যে নিজে পেটভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে সে মুমিন নয়।” অসুস্থ হলে সেবা করব। বিপদে সাহায্য করব। তাদের কষ্ট দেব না। প্রতিবেশীর সুবিধার জন্য জোরে রেডিও, টেলিভিশন বাজাব না। তাদের সাথে মিলেমিশে থাকব।

৪. ওয়াদা পালন করার উপকারিতা কী?
উত্তর: ওয়াদা পালন করা অর্থ কথা দিয়ে কথা রাখা। আমরা কথাবার্তায় বা কাজকর্মে কারও সাথে কোনো কথা দিয়ে থাকলে বা চুক্তি করলে তা পূরণ করব। তাহলে সবাই আমাদের বিশ্বাস করবে, ভালোবাসবে। বিপদে পড়লে সকলে ওয়াদা পালনকারীকে সাহায্য করে। আল্লাহ তার প্রতি খুশি থাকে। আখিরাতে সে সুখ পায় এবং জান্নাত লাভ করে।

৫. লোভ মানুষের কী কী ক্ষতি করে?
উত্তর: মানুষ যত পায় আরও বেশি বেশি চায়। এর নামই লোভ। লোভ করা পাপ। লোভ আমাদের অনেক ক্ষতি করে। অনেক অশান্তি সৃষ্টি করে। দুঃখ-কষ্ট বাড়ায়। লোভের কারণে মানুষ নানা অন্যায়ে লিপ্ত হয়। পাপ করে। সে সুখী হয় না। শান্তি পায় না। বিপদে লোভী ব্যক্তিকে কেউ সাহায্য করে না। সে পাপী। এ পাপ তাকে মৃত্যুর দিকে টেনে নেয়। ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কথায় বলে, “লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।”

৬. অপচয় থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা কী করব?
উত্তর: অপচয় অর্থ ক্ষতি, অপব্যয় ও নষ্ট। বিনা প্রয়োজনে কোনোকিছু নষ্ট করাকে অপচয় বলে। আমরা কোনোকিছু অপচয় করব না। প্রয়োজনের বেশি কিছু করব না। নেব না। নষ্ট করব না। অপব্যয় করব না। অপচয় করা থেকে বিরত থাকব। তাহলে কম খরচ হবে। অভাব দূর হবে। সুখ-শান্তি থাকবে। ব্যক্তিগত ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা পাবে। আল্লাহ খুশি হবেন।

৭. আল্লাহ পরনিন্দা না করার জন্য কী বলেছেন?
উত্তর: পরনিন্দা করা অর্থ গিবত করা, পরচর্চা করা, দুর্নাম রটানো ইত্যাদি। কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা বলার নাম গিবত বা পরনিন্দা। মহান আল্লাহ পরনিন্দা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।” আল্লাহ তায়ালা পরনিন্দা করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। কোনো ভাই তার মৃত ভাইয়ের গোশত কখনো খেতে পারে না। এটা জঘন্যতম অপরাধ। এটা মহাপাপ। যে ব্যক্তি পরনিন্দা বা গিবত করে সে জান্নাতে যেতে পারবে না।

পরীক্ষা উপযোগী অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর:

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন ১। আখলাক আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: আখলাক অর্থ চরিত্র, স্বভাব, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২। আখলাক কাকে বলে?
উত্তর: সুন্দর স্বভাব ও ভালো চরিত্রকে আরবিতে আখলাক বলে।
প্রশ্ন ৩। মানুষ ভালো ও মন্দ কাজ করে। এ দিক থেকে আখলাককে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
উত্তর: ভালো-মন্দ বিবেচনায় আখলাককে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- ১. আখলাকে হামিদা ও ২. আখলাকে যামিমা।
প্রশ্ন ৪। মাসুদ ভালো চরিত্রের অধিকারী হতে চায়। এ গুণ অর্জন করলে কী লাভ হয়?
উত্তর: চরিত্র ভালো হলে জীবন সুন্দর হয়।
প্রশ্ন ৫। আখলাকে যামিমাহ বা অসচ্চরিত্র কাকে বলে?
উত্তর: মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্রকে আখলাকে যামিমাহ বা অসচ্চরিত্র বলে।
প্রশ্ন ৬। রনি আব্বা-আম্মার কথামতো চলে না। রনির এ আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: রনি আব্বা-আম্মার কথামতো চলে না। রনির এ আচরণে অসচ্চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৭। আব্বা-আম্মার মতো কে আমাদের প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন?
উত্তর: আব্বা-আম্মার মতো শিক্ষক আমাদের প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন।
প্রশ্ন ৮। আব্বা-আম্মার প্রতি আমাদের কর্তব্য কী?
উত্তর: সবসময় আব্বা-আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করা আমাদের কর্তব্য।
প্রশ্ন ৯। আমাদের সবচেয়ে আপনজন বলতে কাদের বোঝায়?
উত্তর: আমাদের সবচেয়ে আপনজন বলতে আব্বা-আম্মাকে বোঝায়।
প্রশ্ন ১০। আব্বা-আম্মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন। তাদের জন্য কী বলে দোয়া করতে হয়?
উত্তর: আব্বা-আম্মার জন্য এই দোয়া করতে হয়, “রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী সাগীরা।”
প্রশ্ন ১১। মুক্তাদের পাশের বাড়িতে কুলসুম বাস করে। মুক্তা ও কুলসুম একে অপরের কী হয়?
উত্তর: মুক্তা ও কুলসুম একে অপরের প্রতিবেশী হয়।
প্রশ্ন ১২। রুমি কেয়ার প্রতিবেশী। কেয়ার সাথে রুমি কেমন ব্যবহার করবে?
উত্তর: কেয়ার সাথে রুমি ভালো ব্যবহার করবে।
প্রশ্ন ১৩। প্রতিবেশী বলতে কাদের বোঝায়?
উত্তর: প্রতিবেশী বলতে বোঝায় আমাদের আশপাশে যারা বসবাস করে।
প্রশ্ন ১৪। তাযকিয়া সবসময় সত্য কথা বলে। এজন্য তাযকিয়া কী পেতে পারে?
উত্তর: তাযকিয়া সবসময় সত্য কথা বলার জন্য জান্নাত পেতে পারে ।
প্রশ্ন ১৫। মহানবি (স) সব সময় সত্য কথা বলতেন। এ কাজকে আরবিতে কী বলে?
উত্তর: সত্য কথা বলাকে আরবিতে ‘সিদক’ বলে।
প্রশ্ন ১৬। মিথ্যাবাদী কাকে বলে?
উত্তর: যে মিথ্যা কথা বলে বা প্রকৃত বিষয়কে গোপন করে তাকে মিথ্যাবাদী বলে।
প্রশ্ন ১৭। রুমা মিথ্যা কথা বলে। আরবিতে তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: আরবিতে মিথ্যাবাদীকে কাযিব বলা হয়।
প্রশ্ন ১৮। রাইসা পড়া না শিখেই তার মাকে বলে পড়া শিখেছে। রাইসার এ কাজটিকে কী বলে?
উত্তর: রাইসা পড়া না শিখেই তার মাকে বলে পড়া শিখেছে। রাইসার এ কাজটিকে মিথ্যা বলে।
প্রশ্ন ১৯। সাদেক সবসময় সত্য কথা বলে। এজন্য তাকে কী বলা যায়?
উত্তর: সাদেক সবসময় সত্য কথা বলার কারণে তাকে সত্যবাদী বলা যায়।
প্রশ্ন ২০। ঐশী প্রায়ই মিথ্যা বলে। মিথ্যার পরিণাম কী?
উত্তর: মিথ্যার পরিণাম হলো ধ্বংস।
প্রশ্ন ২১। ওয়াদা পালন করা মুমিনের লক্ষণ। এটি পালন না করলে তার কী থাকে না?
উত্তর: ওয়াদা পালন না করলে দ্বীন বা ধর্ম থাকে না।
প্রশ্ন ২২। রাস্তায় তোমার শিক্ষকের সাথে দেখা হলো। তুমি তাকে কী করবে?
উত্তর: আমি তাকে সালাম দেব।
প্রশ্ন ২৩। সত্যবাদী বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে সত্য কথা বলে তাকে সত্যবাদী বলে।

চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:

কাঠামোবদ্ধ (যোগ্যতাভিত্তিক) প্রশ্ন:

প্রশ্ন ১। জাহিদ উত্তম চরিত্রের অধিকারী। সে সাধারণত কোন ধরনের আখলাক অনুসরণ করে? ছয়টি বাক্যে লেখ।
উত্তর: জাহিদ যে ধরনের আখলাক অনুসরণ করে তা হলো-
১. জাহিদ সাধারণত আখলাকে হামিদা অনুসরণ করে চলে।
২. আখলাকে হামিদা বলতে উত্তম চরিত্র, বা প্রশংসনীয় চরিত্রকে বোঝায়।
৩. আখলাকে হামিদার অন্তর্ভুক্ত হলো- সৎ স্বভাব, সচ্চরিত্র, সৎ গুণাবলি ইত্যাদি।
৪. নামাজ পড়া, রোজা রাখা, ভালো কাজ করা, সত্য কথা বলা, রোগীর সেবা করা, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা, দেখা-সাক্ষাতে সালাম দেওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ইত্যাদি সবই আখলাকে হামিদা।
৫. তদ্রূপ মেহমানদের আপ্যায়ন করা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের আদর করা, গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করাও আখলাকে হামিদা বা প্রশংসনীয় চরিত্র, সৎ গুণাবলি।
৬. তাই সে এগুলোর অনুসরণ করে।

প্রশ্ন ২। পৃথিবীতে আমাদের অতি আপনজন কে? আব্বা-আম্মা আমাদের জন্য কী কী করেন? পাঁচটি বাক্যের তালিকা তৈরি কর।
উত্তর: পৃথিবীতে আব্বা-আম্মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন। আব্বা-আম্মা আমাদের জন্য যা যা করেন তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
১. আব্বা-আম্মা স্নেহ-মমতা ও দরদ দিয়ে আমাদের লালন-পালন করেন।
২. আব্বা-আম্মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেন।
৩. আমাদের অসুখ-বিসুখে আব্বা-আম্মা রাতদিন সেবাযত্ন করেন।
৪. আমাদের রোগমুক্তির জন্য আব্বা-আম্মা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
৫. আব্বা-আম্মা সবসময় আমাদের কল্যাণ কামনা করেন।

প্রশ্ন ৩। কারা আমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন? শিক্ষকের সাথে তুমি কেমন ব্যবহার করবে? পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর: শিক্ষকগণ আমাদেরকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষকের সাথে আমি যে রকম ব্যবহার করব তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. শিক্ষককে ভক্তি-শ্রদ্ধা করব।
২. শিক্ষকের সাথে দেখা হলে সালাম দেব।
৩. শিক্ষকের আদেশ-উপদেশ মেনে চলব।
৪. বিপদে-আপদে-খোঁজখবর নেব, সেবা করব।
৫. শিক্ষকের সাথে কখনো বেয়াদবি করব না।

প্রশ্ন ৪। তুমি কীভাবে আব্বা-আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করবে? এ বিষয়ে ছয়টি বাক্য লেখ।
উত্তর: আমি আব্বা-আম্মার সাথে যেভাবে ভালো ব্যবহার করব তাহলো-
১. আব্বা-আম্মার আদেশ-উপদেশ মেনে চলব, তাঁদের সাথে ভালো ব্যবহার করব ও তাঁদের সম্মান করব;
২. আমি এমন কোনো কাজ করব না, যাতে তাঁদের মনে কষ্ট লাগে;
৩. তাঁদের অসুখ-বিসুখ হলে এবং বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সেবাযত্ন করব;
৪. আব্বা-আম্মার জন্য দোয়া করব;
৫. আব্বা-আম্মাকে সালাম দেব।
৬. আব্বা-আম্মার ঋণ পরিশোধ করব।

প্রশ্ন ৫। ছোটদের সাথে তুমি কেমন ব্যবহার করবে ছয়টি বাক্যে লেখ।
উত্তর: আমি ছোটদের সাথে যেরূপ ব্যবহার করব-
১. আমি ছোটদের আদর-স্নেহ করব।
২. ছোটদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলব এবং ভালো উপদেশ দেব।
৩. ছোটদেরকে পড়াশুনায় সাহায্য করব।
৪. ছোটদের ভালো কথা শোনাব ও ভালো কাজ শেখাব।
৫. ছোটদেরকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলব।
৬. ছোটদের মারধর করব না, গালি দেব না।

প্রশ্ন ৬। শিলা মিথ্যা কথা বলে। সে মিথ্যা পরিহার করবে কেন? ছয়টি বাক্য লেখ।
উত্তর: শিলা যে কারণে মিথ্যা পরিহার করবে তাহলো-
১. মিথ্যা সকল পাপের মূল।
২. মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না, ভালোবাসে না।
৩. মিথ্যার ধ্বংস অনিবার্য।
৪. মিথ্যা বলা মুনাফিকের লক্ষণ।
৫. মিথ্যাবাদীকে সবাই ঘৃণা কারে।
৬. মিথ্যার পরিণাম জাহান্নাম।

প্রশ্ন ৭। রাসুলদের মধ্যে কে পশুপাখির ভাষা বুঝতেন? দাউদ (আ)-এর সময়ের লোভী লোকগুলো কী অপরাধ করেছিল এবং তাদের পরিণাম কী হয়েছিল? পাঁচটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: রাসুলদের মধ্যে হযরত দাউদ (আ) পশুপাখির ভাষা বুঝতেন। দাউদ (আ)-এর সময়ে লোভী লোকগুলো যে অপরাধ করেছিল এবং তার পরিণামে যা হয়েছিল তাহলো-
১. শনিবার ছিল দাউদ (আ)-এর অনুসারীদের জন্য ইবাদতের দিন।
২. ঐ দিন মাছ ধরা নিষেধ ছিল।
৩. কিন্তু লোভী লোকেরা ঐ দিন মাছ ধরত না ঠিক, কিন্তু ফাঁদ পেতে মাছ আটকে রাখত।
৪. অতঃপর তারা পরের দিন ঐ মাছ ধরত।
৫. তাই তাদের ওপর আল্লাহর আজাব এল এবং তারা ধ্বংস হয়ে গেল।

প্রশ্ন ৮। কোন রাসুলের কণ্ঠ অতি মধুর ছিল? তাঁর সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর: নবি ও রাসুল হযরত দাউদ (আ)-এর কণ্ঠ অতি মধুর ছিল। তাঁর সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য হলো-
১. হযরত দাউদ (আ)-এর ওপর আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাব নাযিল করেন।
২. তিনি খুব সুন্দর করে মধুর কণ্ঠে কিতাব পড়তেন।
৩. তার তিলাওয়াত শোনার জন্য শনিবারে সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত তীরে আসত।
৪. তিনি লৌহবর্ম তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।।
৫. তিনি ছিলেন ন্যায় পরায়ন শাসক।

প্রশ্ন ৯। গিবত বা পরনিন্দা কী? পরনিন্দার কুফল পাঁচ বাক্যে লেখ।
উত্তর: গিবত বা পরনিন্দা হলো- কারো নামে বদনাম করা বা দুর্নাম রটানো, অর্থাৎ কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা অন্যের নিকট প্রকাশ করা বা বলাই হলো গিবত।
গিবত বা পরনিন্দার কুফল-
১. পরনিন্দা কবিরাহ গুনাহ।
২. পরনিন্দার ফলে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়।
৩. সমাজের শান্তি নষ্ট হয়।
৪. আর পরনিন্দাকারীকে কেউ পছন্দ করে না, ভালোবাসে না।
৫. পরনিন্দার কুফল থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।”

আরও পড়ুন: ৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন: চতুর্থ শ্রেণীর কোরআন মজিদ শিক্ষা প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের …

2 comments

  1. জুনায়েদ

    হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পিতার নাম তো আব্দুল্লাহ ওখানে আব্দুল মুত্তালিব দেওয়া আছে কেন সংশোধন করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *