চতুর্থ শ্রেণি মোদের বাংলা ভাষা প্রশ্ন উত্তর: আমাদের মাতৃভাষা বাংলা সম্বন্ধে এই কবিতাটি লেখা হয়েছে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ঠাকুরদা-ঠাকুমা সকলেই বাংলায় কথা বলেন। দেশের সব মানুষই বাংলায় কথা বলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করেছিল, হরতাল করেছিল।
চতুর্থ শ্রেণি মোদের বাংলা ভাষা প্রশ্ন উত্তর:
১. জেনে নিই।
আমাদের মাতৃভাষা বাংলা সম্বন্ধে এই কবিতাটি লেখা হয়েছে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ঠাকুরদা-ঠাকুমা সকলেই বাংলায় কথা বলেন। দেশের সব মানুষই বাংলায় কথা বলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করেছিল, হরতাল করেছিল। তখন তাঁদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ছাত্রসহ অনেকেই মারা যান। মাতৃভাষার চেয়ে প্রিয় আর কোনো ভাষা হতে পারে না। বাংলাদেশের সব মানুষের মনের কথা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা মাতৃভাষাতেই ভালোভাবে প্রকাশ করা যায়। বাংলায় কথা বলার সময় বিদেশি ভাষা ব্যবহার না করা ভালো।
২. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি, অর্থ বলি এবং নতুন বাক্য লিখি।
কামার, কুমার, সহ্য করা, জ্ঞানী, মনীষী, রক্ত-পিছল, মুক্তি, বিজাতীয়, বেদন, মিটাক
উত্তর:
কামার → যারা লোহা, পিতল ইত্যাদি দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করেন। কামার দা, বঁটি, শাবল ইত্যাদি তৈরি করেন।
কুমার →যারা মাটি দিয়ে হাঁড়ি, পাতিল ইত্যাদি তৈরি করেন।- কুমারদের মৃৎশিল্পী বলা হয়।
সহ্য করা →সওয়া, মেনে নেওয়া। কেউ মিথ্যে বললে তা সহ্য করা যায় না।
জ্ঞানী→যাঁর অনেক জ্ঞান, জ্ঞানবান লোক।-জ্ঞানীর কলমের কালি শহিদের রক্তের চেয়ে উত্তম।
মনীষী -শিক্ষিত জ্ঞানী-গুণী বিখ্যাত মানুষ।-মনীষীদের দেখানো পথেই আমাদের চলা উচিত।
রক্ত-পিছল →রক্তে যা পিছল হয়েছে। ভাষা শহিদদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রক্ত-পিছল হয়েছিল।
মুক্তি →স্বাধীনতা, খোলামেলা অবস্থা। ১৯৭১ সালে আমরা পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।
বিজাতীয় →অন্য জাতির, ভিন্ন জাতির বা দেশের। বাংলায় কথা বলার’ সময় বিজাতীয় শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।
বেদন →বেদনা, দুঃখ, কষ্ট। সন্তানহারা মায়ের বেদন খুবই করুণ।
মিটাক →মিটিয়ে দিক, পূর্ণ করুক। আল্লাহ্ সব মানুষের মনের আশা মিটাক।
৩. প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখে বলি ও লিখি।
প্রশ্ন ক. বাংলাদেশে ‘কামার কুমার জেলে চাষা’ কোন ভাষাতে কথা বলেন?
উত্তর: বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। তাই এ দেশের কামার, কুমার, জেলে, চাষা, ধনী, গরিব, শিশু, বৃদ্ধ সবার মুখের ভাষাই বাংলা। ‘কামার কুমার জেলে চাষা’ এ কারণেই বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
প্রশ্ন খ. এ দেশের মানুষের ‘বেদন’ কী?
উত্তর: বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। এ দেশের কামার, কুমার, জেলে, চাষা, ধনী, গরিব সবাই বাংলা ভাষাতেই কথা বলেন। অথচ শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রেখে উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। তখন এ দেশের দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু বর্তমানে অনেকে বিজাতীয় ভাষায় কথা বলে। এটাই এ দেশের মানুষের বেদনার কারণ।
প্রশ্ন গ. কী সহ্য করতে মানা করা হচ্ছে?
উত্তর: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষায় আমরা সহজেই অন্যের কাছে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। মাকে মা বলে মধুর নামে ডাকতে পারি। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও বিজাতীয় ভাষা ছড়িয়ে আছে। আধুনিকতার নাম করে আমরা সেসব ভাষা ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছি। তাই এ বিজাতীয় ভাষার ছড়াছড়ি সহ্য করতে মানা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ঘ. তাদের কোন মুক্তির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এ দেশের অধিকাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলা। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের এই অন্যায় প্রস্তাব মেনে নেননি। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তাঁরা রাজপথে মিছিলে নামেন। পুলিশ ঐ মিছিলের গুলি চালালে অনেকে শহিদ হন এবং তাঁদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। আর তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। শহিদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষার মুক্তি পাওয়ার কথাই উক্ত বাক্যে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ঙ. বাংলা ভাষাকে সহজ সরল ভাষা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: আমাদের দেশের মানুষের মুখের ভাষা বাংলা। একটি শিশু জন্মের পর প্রথমেই তার মাকে বাংলা ভাষায় মা বলে ডাকে। তাই বাংলাকে আমাদের মাতৃভাষাও বলা হয়। এ দেশের ধনী, গরিব, শিশু, বৃদ্ধ, কামার, কুমার, জেলে, চাষা সবার মাতৃভাষা বাংলা হওয়ায় এ ভাষায় সহজে তাদের মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে। তাই বাংলা ভাষাকে সহজ-সরল ভাষা বলা হয়েছে।
৪. কবিতাটি পড়ে কী বুঝলাম তা সংক্ষেপে লিখি।
উত্তর: কবিতাটি পড়ে যা বুঝলাম: বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। আমাদের দাদা-দাদি, নানা-নানি, ঠাকুরদা-ঠাকুমা- সবাই এ ভাষায় কথা বলেন। এ দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছেও বাংলা ভাষা খুব সহজ-সরল। তাই সবাই এ ভাষায় কথা বলে। তা সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রেখে উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। আমাদের দেশের দামাল ছেলেরা তাদের সেই অন্যায় প্রস্তাব মেনে নেননি। তাঁরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে এ ভাষার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনেন। আমরা যেন তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এবং বাংলা ভাষায় কথা বলতে গিয়ে কোনো বিজাতীয় ভাষা ব্যবহার না করি।
৫. কবিতার প্রথম আট লাইন মুখস্থ বলি।
উত্তর: নিজে মুখস্থ করে বল।
৬. কবিতার প্রথম আট লাইন বই না দেখে ঠিকভাবে লিখি।
উত্তর: প্রথমে দেখে কবিতাটির প্রথম আট লাইন মুখস্থ কর এবং না দেখে লেখ।
৭. আমার প্রিয় মাতৃভাষা নিয়ে পাঁচটি বাক্য লিখি।
উত্তর: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষায় আমরা মাকে মা বলে ডাকি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এ ভাষায় কথা বলেছেন, আমরাও বলছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এ ভাষায় কথা বলবে। এ দেশের কামার, কুমার, জেলে, চাষা সবাই এ ভাষায় সহজে তাদের মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারেন।
৮. ডান দিক থেকে ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে খালি জায়গায় বসাই।
ক) লোহা দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করেন ___। জ্ঞানী
খ) মাটি দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করেন ___। কামার
গ) যাঁর অনেক জ্ঞান আছে তিনি হলেন___। রক্ত-পিছল পথ
ঘ) রক্ত দিয়ে পিছল হয়েছে যে পথ তা হলো ___। কুমার
উত্তর: ক) কামার; খ) কুমার; গ) জ্ঞানী; ঘ) রক্ত-পিছল পথ।
৯. কর্ম-অনুশীলন।
ক. বাংলা ভাষার ওপর লিখিত অন্য কোনো কবিতা বা ছড়া শিখি ও আবৃত্তি করি।
উত্তর: বাংলা ভাষার ওপর লিখিত অন্য যেকোনো একটি কবিতা বা ছড়া নিয়ে দেখে দেখে কয়েকবার পড়ে মুখস্থ কর। তারপর না দেখে আবৃত্তি কর।
খ. শিক্ষকের সাহায্যে বাংলা ভাষা বিষয়ক স্মরণীয় বাণী পোস্টার পেপারে লিখে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে প্রদর্শন করি।
উত্তর: শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে বাংলা ভাষা বিষয়ক বিভিন্ন স্মরণীয় বাণী যেমন- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘বাংলা মোদের মাতৃভাষা’, ‘মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ ইত্যাদি বাণী পোস্টার পেপারে লিখে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে প্রদর্শন কর।
Codehorse Learn Free
nice