চতুর্থ শ্রেণি বৃষ্টির ছড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর: ‘বৃষ্টির ছড়া’ কবিতায় ফররুখ আহমদ বর্ষার এক অপূর্ব রূপ এঁকেছেন। বৃষ্টি আসায় কাশ বনে ও ঘাস বনে প্রাণের সঞ্চার হয়, আর বকের সারি বাঁশ বনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। মেঘের ডাকে নদী হয়ে পড়ে জনশূন্য, সেখানে কোনো খেয়া নৌকা চলে না। বনের আড়ালে ফুটে ওঠে কেয়া ফুল। হাটখোলা গ্রামের রাখাল ছেলে আকাশের মেঘের আঁধারে মুগ্ধ হয়ে পথ ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে। মেঘের সেই রহস্যময় রূপ তাকে আউশ ধানের মাঠ থেকে আমন ধানের দেশের দিকে টেনে নিয়ে যায়। মূলত বৃষ্টির দিনে গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষের মনের যে চঞ্চলতা, তাই এই ছড়ায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
চতুর্থ শ্রেণি বৃষ্টির ছড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর:
বৃষ্টির ছড়া
ফররুখ আহমদ
বিষ্টি এলো কাশ বনে
জাগল সাড়া ঘাস বনে,
বকের সারি কোথা রে
লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে।
নদীতে নাই খেয়া যে,
ডাকল দূরে দেয়া যে,
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটল আবার কেয়া যে।
গাঁয়ের নামটি হাটখোলা,
বিষ্টি-বাদল দেয় দোলা,
রাখাল ছেলে মেঘ দেখে
যায় দাঁড়িয়ে পথ-ভোলা।
মেঘের আঁধার মন টানে,
যায় সে ছুটে কোন খানে,
আউশ ধানের মাঠ ছেড়ে
আমন ধানের দেশ পানে।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১. বর্ণ বসিয়ে শব্দ তৈরি করি।
আড়াল
রাখাল
কাশবন
আঁধার
বাঙাল
আউশ
২. নতুন বাক্য তৈরি করি।
কাশবন : নদীর ধারে ফুটে থাকা সাদা কাশবন দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
আড়াল : দুষ্ট বিড়ালটি চিলের বাসার কাছে গর্তের মধ্যে আড়াল হয়ে বসে রইল।
গাঁ : আমাদের ছোট গাঁ ছায়া ঢাকা পাখির বাসা।
ফোটা : বাগানজুড়ে লাল গোলাপ ফোটা দেখে মন জুড়িয়ে যায়।
অন্ধকার : সূর্যের আলো চলে গেলে চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে।
৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. বকের সারি কেন বাঁশ বনে লুকিয়েছে?
উত্তর: হঠাৎ বৃষ্টি আসার কারণে বকের সারি বাঁশ বনে লুকিয়ে গেছে। বৃষ্টির তোড় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তারা বাঁশ বাগানকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে।
খ. নদীতে খেয়া নেই কেন?
উত্তর: বৃষ্টি আসার সাথে সাথে আকাশে মেঘ ডেকেছে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে নদী উত্তাল হতে পারে বা দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে, তাই নদীতে কোনো খেয়া বা নৌকা চলাচল করছে না।
গ. কী কী পড়ে বোঝা যায় ছড়াটি বর্ষা ঋতু নিয়ে লেখা?
উত্তর: ছড়াটিতে বর্ষা ঋতুর বেশ কিছু চিরাচরিত লক্ষণ দেখা যায়। যেমন: কাশ বন ও ঘাস বনে বৃষ্টি আসা, দূরে মেঘের ডাক বা ‘দেয়া’র ডাক, বনের আড়ালে কেয়া ফুল ফোটা এবং মেঘের আঁধারে রাখাল ছেলের পথ ভুলে দাঁড়িয়ে থাকা। এই বিষয়গুলো মূলত বর্ষা ঋতুতেই দেখা যায়।
ঘ. রাখাল ছেলে মেঘ দেখে দাঁড়িয়ে যায় কেন?
উত্তর: মেঘের অন্ধকার বা আঁধার রাখাল ছেলের মনকে টানে এবং সে সেই সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে যায়। মেঘের অপরূপ রূপ দেখতে দেখতে সে অভিভূত হয়ে পথ ভুলে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে।
ঙ. বৃষ্টির সময়ে কী কী করতে ভালো লাগে?
উত্তর: বৃষ্টির সময় জানালার পাশে বসে বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে। এছাড়া গরম খিচুড়ি খাওয়া, কাগজের নৌকা বানিয়ে পানিতে ভাসানো এবং প্রিয় কোনো গল্পের বই পড়া আমার খুব পছন্দের কাজ।
৪. গদ্যে লিখি।
ক. বিষ্টি এলো কাশ বনে।
গদ্য রূপ: কাশ বনে বৃষ্টি এলো।
খ. নদীতে নাই খেয়া যে।
গদ্য রূপ: নদীতে কোনো খেয়া নেই।
গ. লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে।
গদ্য রূপ: বাঁশ বনে লুকিয়ে গেল।
ঘ. যায় সে ছুটে কোন খানে।
গদ্য রূপ: সে কোনো এক জায়গায় ছুটে যায়।
ঙ. ডাকল দূরে দেয়া যে।
গদ্য রূপ: দূরে মেঘ ডাকল।
চ. ফুটল আবার কেয়া যে।
গদ্য রূপ: আবার কেয়া ফুল ফুটল।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৫. প্রথম লাইনের সাথে মিলিয়ে পরের লাইন লিখি।
ওই যে দেখো গাড়ি
চলছে তাড়াতাড়ি।
এক যে ছিল রাজা
ভারী ছিল সে তাজা।
গাছে সবুজ পাতা
দাও তো খুলে ছাতা।
আমার মাথায় চুল
বাগানে ফুটেছে ফুল।
ওই দেখা যায় নদী
যাব আমি যদি।
এসো আমার সাথে
চাঁদ উঠেছে রাতে।
৬. শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি করি।
হয় বর্ষাকালেই বৃষ্টি বেশি সাধারণত।
সঠিক বাক্য: সাধারণত বর্ষাকালেই বৃষ্টি বেশি হয়।
পানি করা বেশি গরমে দরকার পান বেশি।
সঠিক বাক্য: গরমে বেশি বেশি পানি পান করা দরকার।
পড়াশোনা বিদ্যালয়ে করি একই আমরা।
সঠিক বাক্য: আমরা একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি।
হলো তোমার সাথে অনেকদিন দেখা পরে।
সঠিক বাক্য: অনেকদিন পরে তোমার সাথে দেখা হলো।
Codehorse Learn Free