চতুর্থ শ্রেণি চিল ও বিড়াল প্রশ্ন উত্তর: এক গাছে খড়কুটো দিয়ে তৈরি বড় এক বাসায় চিল পরিবার বাস করত। চিলের তিনটি বাচ্চা খুব পেটুক ও দুষ্ট ছিল, যারা সারাক্ষণ খাওয়ার জন্য চেঁচামেচি ও মারামারি করত। তাদের চিৎকারে পাশের বাসার কোকিল ছানারা অস্থির হয়ে যেত। একদিন মা-চিল বাইরে গেলে এক দুষ্ট বিড়াল একটি বাচ্চাকে খেতে আসে। মা-চিল ফিরে এসে বিড়ালকে তাড়া করলে সে ভয় পেয়ে লাফ দিয়ে নিচের পুকুরে পড়ে গিয়ে ভিজে চুপসে যায়। মা-চিল আবার খাবার খুঁজতে রূপসা নদীর দিকে যাওয়ার সময় ঘর আটকে দিয়ে যায়। ধূর্ত বিড়ালটি ফিরে এসে ‘গাংচিল খালা’ সেজে বাচ্চাদের দরজা খুলতে বলে। বাচ্চারা রাজি না হওয়ায় বিড়াল লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তখন বাচ্চাদের চিৎকার শুনে মা-বাবা চিল ও অন্য পাখিরা ছুটে এসে বিড়ালকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পাখিদের ঠোকরের ভয়ে বিড়ালটি গাছ থেকে নেমে দৌড় দেয় এবং কাশবনে উধাও হয়ে যায়। এরপর বিড়ালটি আর কখনো আসেনি।
চতুর্থ শ্রেণি চিল ও বিড়াল প্রশ্ন উত্তর:
এক গাছে ছিল এক চিলের বাসা। খড়কুটো দিয়ে তৈরি বেশ বড়ো একটা বাসা। বাসায় থাকত বাবা-চিল, মা-চিল আর তিনটি বাচ্চা। মা-বাবা সবসময় বাসায় থাকত না। মাঝে মাঝে তারা খাবার আনতে বের হয়ে যেত।
চিলের বাচ্চাগুলো ছিল খুব দুষ্ট। তারা সবসময় মারামারি আর চেঁচামেচি করত। পেটুকও ছিল ওরা খুব। খাওয়ার জন্যও ওরা রাতদিন চিঁ চিঁ করত। বাবা-মা ওদের থামাতে না পেরে কেবল খাবার এনে ওদের খাওয়াত। খাবার যতক্ষণ ওদের মুখে থাকত, ততক্ষণ ওরা চুপ থাকত। খাবার ফুরিয়ে গেলে মারামারি আর চেঁচামেচি শুরু করত।
পাশের গাছে কোকিলের বাসা। কোকিলের বাচ্চারা মার কাছে গান শিখত। চিলের বাচ্চাদের চেঁচামেচিতে তারা অস্থির হয়ে যেত। তারা ঠিকমতো গান শিখতে পারত না। মাঝে মাঝে এসে কোকিল ভাবত চিলদের পাড়া থেকে সে চলেই যাবে। আবার মাঝে মাঝে এসে কোকিল চিলদের বলত বাচ্চাদের চিৎকার থামাতে। চিল বলত, ওদের নিয়ে আর পারি না। সারাক্ষণ তো খাবার এনে দিচ্ছি, তবুও ওরা থামে না।
একদিন চিলেরা বাসায় নেই। এমন সময় একটা দুষ্ট বিড়াল সেখানে এসে হাজির। বাসার দরজা খোলা রেখে মা-চিল অল্প সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিল। দুষ্ট বিড়ালটা বাসায় ঢুকেই চিলের একটা বাচ্চাকে তাড়া করেছে তাকে খাওয়ার জন্য। বাচ্চাটি পড়ি কি মরি করে চেঁচিয়ে উঠেছে। মা-চিল তখুনি বাসায় এসে ঢুকেছে। বাচ্চাকে চেঁচাতে দেখে মা ভাবল বাচ্চা বুঝি খাবার জন্য কাঁদছে। না, ভালো করে তাকিয়ে দেখে কি-একটা বিড়াল বাচ্চাটাকে তাড়া করেছে
চিল তখন তার বড়ো বড়ো নখ আর ঠোঁট দিয়ে বিড়ালটাকে ধরতে গেল। চিলের সেই চেহারা দেখে বিড়াল ভয়ে দিল এক লাফ। চিলের বাসার নিচে ছিল একটা পুকুর। বিড়াল গিয়ে পড়ল সেই পুকুরের মধ্যে। পুকুরে পড়ে গিয়ে পানি-কাদা খেয়ে বিড়াল ঢোল হয়ে গেল। ওর গা-টা সব ভিজে চুপসে গেল। ও তখন সত্যি একটা ভিজে বিড়াল হয়ে গেল।
চিলের বাচ্চারা আবার চিঁ চিঁ করতে শুরু করল। চিল তখন আবার খাবার খুঁজতে বের হলো। যাওয়ার সময় ঘরের দরজা ভালো করে আটকে দিয়ে বাচ্চাদের বলল, কাউকে বাসায় আসতে দিবি না। কেউ যদি এসে ডাকে বলবি, মা-বাবা বাসায় নেই। আর খবরদার, দরজা খুলবি না।
বাচ্চারা বলল, আচ্ছা। চিল বাসার বাইরে বের হয়ে গাছের উঁচু ডালে বসে কিছুক্ষণ চারদিক তাকিয়ে দেখল, তারপর ডানা মেলে উড়ে গেল রূপসা নদীর দিকে।
সেই বিড়ালটা পুকুর থেকে কোনো রকমে উঠে এসে ঘাসের মধ্যে রোদে বসে গা শুকাল। আর চেটে চেটে হাত-পা পেট-পিঠ সাফ করল। তারপর? তারপর সে চিলের বাসার দিকে রওনা হলো। চিলের বাচ্চার চেহারাটা সে মোটেই ভুলতে পারছিল না। প্রায় তো বাচ্চাটাকে সে ধরেই ফেলেছিল! অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেল। বাচ্চাটাকে খাওয়ার জন্য তার জিভ থেকে প্রায় টপটপ করে… আচ্ছা থাক সে কথা।
ঘাসের বন থেকে বের হয়ে বিড়াল চিলের বাসার প্রায় কাছাকাছি গিয়ে রাস্তার ধারের এক গর্তের মধ্যে কিছু সময় লুকিয়ে রইল। সেখান থেকে সে দেখতে পেল, চিল দরজা বন্ধ করে গাছের মগডালে কিছু সময় বসে থেকে তারপর উড়ে গেল।
চিল চোখের আড়াল হয়ে গেলে বিড়াল জোরে জোরে হেঁটে চিলের বাসার দিকে গেল। তারপর গাছ বেয়ে উঠে গেল তরতর করে। উঠে গিয়ে চিলের বাসায় কড়া নাড়াতে লাগল। বাচ্চারা বলল, কে? কে? কে ওখানে?
বিড়াল ভিজে গলায় বলল, আমি তোমাদের খালা গাংচিল। দরজাটা খুলে দে বাছা। অনেক দূর থেকে এসেছি তোদের দেখতে। তোর মা কোথায় রে? তোর বাবা কোথায় রে? তাদের একটু ডেকে দে। কতদিন দেখা হয়নি। বাচ্চারা বলল, মা-বাবা বাসায় নেই। খালা হও আর যেই হও, দরজা খুলব না। বিড়াল খুব নরম করে বলল, মাকে দরকার নেই, তোদের একটু দেখব। একটু দেখেই আবার চলে যাব। তোদের দেখার জন্য মনটা কেমন করছে।
বাচ্চারা বলল, তা করুক। তোমার মন যেমন ইচ্ছে তেমনি করুক। দরজা আমরা খুলব না। মা মানা করেছে দরজা খুলতে। বিড়ালের তখন খুব রাগ হয়ে গেছে। সে এক লাথি দিয়ে ওদের বাসার দরজা ভেঙে ফেলে বাসার ভিতরে ঢুকে পড়েছে। চিলের বাচ্চারা তাকে দেখে ‘খালা না, বিড়াল!’ বলে হাউমাউ করে চেঁচিয়ে উঠেছে। ওদের চিৎকার শুনে আশপাশের বাসা থেকে পাখি ছুটে এসেছে ওদের বাসায়। বাবা-চিল ও মা-চিলও তখন বাসায় ফিরে এসেছে।
পাখি আর চিলকে দেখে বিড়াল খুব ভয় পেয়ে গেল। সে এদিক ওদিক পালাবার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু চেষ্টা করলে কী হবে! সব পাখি চারদিক দিয়ে তাকে ঘিরে ফেলল। পাখিরা মিলে দুষ্ট বিড়ালকে ঠোকর মারতে গেল। বিড়াল তখন গাছ থেকে তাড়াতাড়ি নেমে চোখ বুজে দৌড় দিল। তারপর একদম উধাও হয়ে গেল কাশবনে।
সেই বিড়াল আর কোনো দিন চিলদের বাসার কাছে যায়নি। চিলের বাচ্চারা এখন আর টি চি করে না। কোকিলের বাচ্চারা এখন মন দিয়ে গান শেখে।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১. শব্দ নিয়ে খালি ঘর পূরণ করি।
হাতছাড়া, পড়িমরি, তরতর, টপটপ, চটপট;
ক. বিড়ালটি তরতর করে গাছ বেয়ে উঠে গেল।
খ. ভয়ে সে পড়িমরি করে দিল দৌড়।
গ. চটপট উত্তর দাও।
ঘ. লোভে জিভ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
ঙ. বেশি লোভ করতে গিয়ে তার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল।
২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. চিলের বাসায় কে কে থাকত?
উত্তর: চিলের বাসায় বাবা-চিল, মা-চিল এবং তাদের তিনটি ছানা বা বাচ্চা থাকত।
খ. চিলের মা-বাবা কেন সবসময় বাসায় থাকত না?
উত্তর: চিলের মা-বাবা সবসময় বাসায় থাকত না কারণ তাদের বাচ্চাদের জন্য খাবারের প্রয়োজন হতো। সেই খাবার সংগ্রহ করার জন্যই তারা মাঝে মাঝে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।
গ. কোকিলের বাচ্চারা কেন ঠিকমতো গান শিখতে পারত না?
উত্তর: কোকিলের বাচ্চারা চিলের বাচ্চাদের চেঁচামেচির কারণে ঠিকমতো গান শিখতে পারত না। চিলের বাচ্চাগুলো ছিল খুব দুষ্ট এবং পেটুক, তাই তারা খাবারের জন্য রাতদিন সারাক্ষণ চিৎকার ও মারামারি করত। তাদের এই অসহ্য শব্দে কোকিলের বাচ্চারা অস্থির হয়ে যেত।
ঘ. বিড়াল নিজেকে গাংচিল বলল কেন?
উত্তর: চিলেরা বাসায় নেই দেখে দুষ্ট বিড়ালটি চিলের বাচ্চাদের ধোঁকা দিয়ে বাসার ভেতরে ঢোকার পরিকল্পনা করে। চিলের বাচ্চারা যাতে তাকে ভয় না পেয়ে আপনজন ভেবে দরজা খুলে দেয়, সেজন্য বিড়ালটি নিজেকে তাদের ‘গাংচিল খালা’ বলে পরিচয় দিয়েছিল।
ঙ. চিলের বাচ্চারা কেন দরজা খুলতে চাইল না?
উত্তর: চিলের বাচ্চারা দরজা খুলতে চায়নি কারণ তাদের মা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কড়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিল যে, তারা যেন কাউকে বাসায় আসতে না দেয়। মা তাদের আরও বলেছিল যে, কেউ এসে ডাকলে বলতে মা-বাবা বাসায় নেই এবং খবরদার যেন দরজা না খোলে। মায়ের সেই আদেশ পালন করতেই তারা দরজা খুলতে চায়নি।
৩. গল্পটি নিজের ভাষায় বলি।
এক বিশাল গাছে খড়কুটো দিয়ে বানানো একটি বড় বাসায় বাবা-চিল, মা-চিল আর তাদের তিনটি দুষ্টু ও পেটুক বাচ্চা থাকত। বাচ্চাগুলো সারাক্ষণ খাবারের জন্য চিৎকার আর মারামারি করত। তাদের এই চেঁচামেচিতে পাশের বাসার কোকিল ছানারা ঠিকমতো গান শিখতে পারত না।
একদিন মা-বাবা চিল খাবারের সন্ধানে বাইরে গেলে একটি দুষ্ট বিড়াল সেই বাসায় ঢুকে বাচ্চাদের আক্রমণ করে। ঠিক সেই সময় মা-চিল ফিরে আসে এবং বিড়ালটিকে তাড়া করে। ভয়ে লাফ দিতে গিয়ে বিড়ালটি নিচে পুকুরের কাদা-পানিতে পড়ে একদম ‘ভিজে বিড়াল’ হয়ে যায়। চিল তখন বাচ্চাদের সাবধান করে দিয়ে বলে যে, মা-বাবা বাসায় না থাকলে তারা যেন ভুলেও কারও জন্য দরজা না খোলে।
কিছুক্ষণ পর বিড়ালটি নিজেকে শুকিয়ে নিয়ে আবারও চিলের বাসায় ফিরে আসে। এবার সে বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেকে তাদের ‘গাংচিল খালা’ পরিচয় দিয়ে মিষ্টি গলায় দরজা খুলতে বলে। কিন্তু বাচ্চারা তাদের মায়ের আদেশ মেনে দরজা খুলতে রাজি হয় না। এতে বিড়ালটি রেসে গিয়ে এক লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
চিল ছানারা তখন ভয় পেয়ে চিৎকার শুরব করলে আশপাশের সব পাখি এবং তাদের বাবা-মা চিল দ্রবত ফিরে আসে। সব পাখি মিলে বিড়ালটিকে ঘিরে ধরে ঠোকর দিতে শুরব করলে বিড়ালটি জান বাঁচিয়ে দৌড়ে কাশবনে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে সেই বিড়াল আর কোনোদিন চিলের বাসার কাছে আসেনি, আর চিল ছানারাও শান্ত হয়ে যাওয়ায় কোকিল ছানারা শান্তিতে গান শেখার সুযোগ পায়।
৪. আগের বাক্যের সাথে মিল রেখে পরের বাক্য লিখি।
ক. বিড়ালটি পালানোর চেষ্টা করল। কেননা অন্য পাখিরা তাকে তাড়া করেছে।
খ. আমি আরও খেতে চাই। কেননা আমার খুব খিদে পেয়েছে।
গ. আমি বৃষ্টিতে ভিজে গেছি। সেজন্য আমার খুব শীত করছে।
ঘ. রাতে ঝড় হয়েছে। তাই চারদিকের গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
ঙ. গাছগুলো ভেঙে পড়েছে। কারণ গতরাতে প্রচ- ঘূর্ণিঝড় হয়েছে।
চ. বিড়ালের পেট ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। ফলে সে আর নড়াচড়া করতে পারছে না।
৫. শেষে বিরামচিহ্ন বসিয়ে বাক্যটি আবার লিখি।
| প্রদত্ত বাক্য | বিরামচিহ্নসহ সঠিক বাক্য |
| তোমার কলমটি আমায় দেবে | তোমার কলমটি আমায় দেবে? |
| এবার চলো খেলতে যাই | এবার চলো খেলতে যাই। |
| কে ওখানে | কে ওখানে? |
| এত সুন্দর পাখি | এত সুন্দর পাখি! |
| বাচ্চারা বলল, আচ্ছা | বাচ্চারা বলল, “আচ্ছা।” |
| বৃদ্ধ লোকটি আমার নাম জানতে চাইলেন | বৃদ্ধ লোকটি আমার নাম জানতে চাইলেন। |
| রিনা কত সুন্দর গান করে | রিনা কত সুন্দর গান করে! |
| আমি আজ ছবি আঁকব না | আমি আজ ছবি আঁকব না। |
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৬. শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি করি।
ক. থাকত বাসায় মা-বাবা সবসময় না।
সঠিক বাক্য: মা-বাবা সবসময় বাসায় থাকত না।
খ. মারামারি চিলের করত বাচ্চারা।
সঠিক বাক্য: চিলের বাচ্চারা মারামারি করত।
গ. অনেক এসেছি থেকে তোদের দেখতে দূর।
সঠিক বাক্য: তোদের দেখতে অনেক দূর থেকে এসেছি।
ঘ. লাফ পড়ল মধ্যে বিড়াল পুকুরের দিয়ে।
সঠিক বাক্য: বিড়াল লাফ দিয়ে পুকুরের মধ্যে পড়ল।
ঙ. কি চিনতে পারছ তুমি আমাকে?
সঠিক বাক্য: তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ?
Codehorse Learn Free