চতুর্থ শ্রেণি আমাদের পরিবেশ ও সমাজ প্রশ্ন উত্তর: আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। আর এসব পরিবেশ প্রাকৃতিক ও সামাজিক উপাদান নিয়ে গঠিত। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের উপাদান পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এগুলো নানাভাবে আমাদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো অঞ্চলে ঠাণ্ডা বেশি, কোনো অঞ্চলে গরম বেশি।
চতুর্থ শ্রেণি আমাদের পরিবেশ ও সমাজ প্রশ্ন উত্তর
অনুশীলনী সমাধান:
অল্প কথায় উত্তর দাও:
১. প্রাকৃতিক পরিবেশের তিনটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশের তিনটি উপাদান হলো পানি, মাটি, বাতাস।
২. বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি বন্যা হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি।
৩. সামাজিক পরিবেশের তিনটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর: সামাজিক পরিবেশের তিনটি উপাদান হলো বাড়ি, বিদ্যালয়, খেলার মাঠ।
৪. বেশি বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন কেন?
উত্তর: প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বেশি বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১. বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি কীভাবে আলাদা?
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি যে কারণে আলাদা:
ক) উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু এবং দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু ।
খ) উত্তর অঞ্চলে নদ-নদীর সংখ্যা কম এবং দক্ষিণ অঞ্চলে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি ।
গ) উত্তর অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে এবং দক্ষিণ অঞ্চলে শীতকালে বেশ ঠাণ্ডা বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া
২. আমাদের সামাজিক পরিবেশে আর্দ্র জলবায়ুর প্রভাব কী?
উত্তর: আর্দ্র জলবায়ুর কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, গাছ ও ফসল ভালো জন্মে, জলাশয় ও নদ-নদী পানিতে ভরে যায়, তখন প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং ফসলের জমিতে সেচ দেওয়ার পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়। ফলে আমাদের সামাজিক পরিবেশ আরও উন্নত হয়।
অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
ক. গাছপালা কমে গেলে→রোগ ব্যাধি হয়
খ. সমাজে মানুষ বেশি হলে→সমাজ জীবনে পার্থক্য সৃষ্টি করে
গ. বাতাস দূষিত হলে→মাটির ক্ষয় হয়
ঘ. প্রাকৃতিক পরিবেশের পার্থক্য→অনেক ঘরবাড়ি লাগে
ক. গাছপালা কমে গেলে →মাটির ক্ষয় হয়।
খ. সমাজে মানুষ বেশি হলে →অনেক ঘরবাড়ি লাগে।
গ. বাতাস দূষিত হলে →রোগ-ব্যাধি হয়।
ঘ. প্রাকৃতিক পরিবেশের পার্থক্য →সমাজজীবনে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে শীতকালে প্রচুর শীত পড়ে।
প্রশ্ন ২। বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি?
উত্তর: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি।
প্রশ্ন ৩। রিপনের এলাকার ভূমি উঁচু। নদ-নদীর সংখ্যা কম। গ্রীষ্মকালে রিপনের এলাকার তাপমাত্রা কেমন থাকে?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে রিপনের এলাকার তাপমাত্রা বেশি থাকে।
প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি?
উত্তর: বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি।
প্রশ্ন ৫। প্রাকৃতিক পরিবেশের কয়েকটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর: মাটি, পানি, গাছপালা, সাগর, নদী, পশু-পাখি ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান।
প্রশ্ন ৬। সামাজিক পরিবেশের কয়েকটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর: ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, রাস্তা, হাট-বাজার, যানবাহন ইত্যাদি সামাজিক পরিবেশের উপাদান।
প্রশ্ন ৭। তোমার দেশের কোন অঞ্চলের ভূমি উঁচু এবং নদ-নদী কম?
উত্তর: আমার দেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু এবং নদ-নদী কম।
উত্তর: আমার দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি বেশ নিচু এবং অনেক নদ-নদী, খাল-বিল রয়েছে।
প্রশ্ন ৯। গাছপালা থেকে আমরা কী পেয়ে থাকি?
উত্তর: গাছপালা থেকে আমরা বাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পেয়ে থাকি।
প্রশ্ন ১০। আমাদের সমাজ জীবন নানাভাবে কিসের ওপর নির্ভরশীল?
উত্তর: আমাদের সমাজ জীবন নানাভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন ১১। কোন এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: সাধারণত যে এলাকায় গাছপালা বেশি থাকে সেই এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
প্রশ্ন ১২। প্রাকৃতিক পরিবেশের দুটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশের দুটি উপাদান হচ্ছে- মাটি, গাছপালা।
প্রশ্ন ১৩। প্রচুর গাছপালা থাকলে কী হয়?
উত্তর: প্রচুর গাছপালা থাকলে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে এবং বৃষ্টিপাত হয়।
উত্তর: মানুষের সৃষ্ট উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে।
প্রশ্ন ১৫। পরিবেশ নিয়ে কেন আমাদের সচেতন হতে হবে?
উত্তর: সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পরিবেশ নিয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন ১৬। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন?
উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। কোনো অঞ্চল তুষারে ঢাকা আবার কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি।
প্রশ্ন ১৭। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি কেমন?
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু। উঁচ এ এবং নদ-নদীর সংখ্যা কম।
প্রশ্ন ১৮। মনে কর, তুমি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বাস কর। তুমি যেখানে বাস কর সেখানকার ভূমি কেমন?
উত্তর: আমি যে অঞ্চলে বাস করি সেখানকার ভূমি নিচু। সেখানে অনেক নদী মিলিত হয়েছে। নদীর কারণে এ অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি।
উত্তর: প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত পরিবেশকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। অঞ্চল বা অবস্থানগত ভিন্নতার কারণে আমরা প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বৈচিত্র্য দেখি।
চার ধরনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হলো-
১. পৃথিবীর কোনো অঞ্চল তুষারে ঢাকা।
২. পৃথিবীর কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি।
৩. কোথাও শীতল জলবায়ু।
৪. কোথাও শুষ্ক জলবায়ু।
উত্তর: আমাদের দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু। এ অঞ্চলে নদীর কারণে বন্যার প্রবণতা বেশি।
আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. আমাদের দেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি, উঁচু।
২. উত্তর অঞ্চলে নদ-নদীর সংখ্যা কম।
৩. উত্তর অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অনেক অনেক গরম পড়ে এবং শীতকালে অনেক ঠান্ডা পড়ে।
৪. দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু।
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত। প্রকৃতির চারটি উপাদান হলো- মাটি, পানি, বাতাস ও তাপ। আমাদের দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের তিনটি ভিন্নতা হলো-
১. দেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু।
২. উত্তর অঞ্চলের নদ-নদীর সংখ্যা কম, দক্ষিণ অঞ্চলে বেশি।
৩. উত্তর অঞ্চলে খরার প্রবণতা বেশি, দক্ষিণ অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি।
উত্তর: মানুষের সৃষ্ট উপাদান নিয়ে সামাজিক পরিবেশ গঠিত হয়। যেমন- বাড়ি, বিদ্যালয়, খেলার মাঠ ইত্যাদি। একই সাথে সমাজের বিভিন্ন কাজ যেমন ‘কৃষি এবং পরিবহন ব্যবস্থাও সামাজিক পরিবেশের অংশ।
যে প্রাকৃতিক পরিবেশে শীত বেশি সেখানকার মানুষ শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মোটা কাপড় পরে। এ সময়ে তারা ভিন্ন খাবার খায়। এমনভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয় যেন গরম থাকে।
উত্তর: যেখানে জলাশয় ও নদ-নদী বেশি সেখানে পরিবহনের প্রধান মাধ্যম নৌকা। এ ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশের চারটি সুবিধা হলো-
১. যেখানে জলাশয় ও ও নদ-নদী বেশি সেসব এলাকায় মাছের চাষ বেশি হয়।
২. মাছ আমাদের খাদ্যের যোগান দেয় এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
৩. এ ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশে সেচ কাজ সহজ হয়।
৪. সেচ কাজ সহজ হওয়ার কারণে চাষের কাজে সুবিধা হয়।
উত্তর:প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রকৃতির উপাদানগুলো হলো- মাটি, পানি, বাতাস, তাপ, আলো, গাছপালা, সাগর-মহাসাগর, নদ-নদী, পশু-পাখি ইত্যাদি।
প্রকৃতির পরিবেশের চার ধরনের বৈচিত্র্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
(i) প্রকৃতির পরিবেশের কোনো অঞ্চল তুষারে ঢাকা।
(ii) আবার কোনো কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি।
(iii) এর কোথাও জলবায়ু শীতল আবার কোথাও উষ্ণ।
(iv) এর কোনো স্থান খরা আবার কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি।
উত্তর: গাছপালা প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। গাছপালা বেশি থাকার পাঁচটি সুফল নিচে উল্লেখ করা হলো-
(i) গাছপালা বেশি থাকলে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে।
(ii) গাছপালা বেশি থাকলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
(iii) গাছপালায় পাখিরা তাদের বাসা বানায়।
(iv) গাছ থেকে আমরা বাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পাই।
(v) গাছ থেকে আমরা নানা ধরনের ফল পেয়ে থাকি।
Codehorse Learn Free