জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্ণনামূলক প্রশ্ন উত্তর: পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস হলো সূর্য। একে সৌরশক্তি বলে। এই সৌরশক্তি সবুজ উদ্ভিদ বা উৎপাদকের দেহে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে আবদ্ধ বা জমা হয়। উৎপাদক বা সবুজ উদ্ভিদে এই শক্তি খাদ্য হিসেবে থাকে।
প্রথম স্তরের খাদক সবুজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে উদ্ভিদের শক্তি প্রথম স্তরের খাদকে প্রবাহিত হয়। এভাবে শক্তি পর্যায়ক্রমে প্রথম স্তরের খাদক হতে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরের খাদকে পৌঁছে। এভাবে শক্তির প্রবাহ চলতে থাকে। একেই বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ বলা হয়। খাদ্যস্তরের বিভিন্ন জীব এই শক্তি কাজে লাগিয়ে চলাফেরাসহ অন্যান্য কাজ করে। শক্তির এই প্রবাহ একমুখী।
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্ণনামূলক প্রশ্ন উত্তর:
পরিবেশের সকল উপাদানের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা-
পরিবেশের উপাদান হচ্ছে মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপ, উদ্ভিদ ও প্রাণী। এ উপাদানগুলো জীবের আহার ও আশ্রয় জুগিয়ে থাকে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক উপাদান বিলুপ্ত হলে বা হ্রাস-বৃদ্ধি হলে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জড় পদার্থ ও জীবের পারস্পরিক ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।
আলো, বায়ু, মাটি, পানি, উদ্ভিদ, প্রাণী প্রভৃতি আমাদের জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। এ উপাদানগুলো আমরা পরিবেশ থেকে পেয়ে থাকি। পরিবেশের যেকোনো একটি উপাদানের অভাব হলে, দূষণ হলে ও পরিবর্তিত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
আমরা আগেই জেনেছি, পরিবেশে জীব ও জড়বস্তুর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতিতে জীব ও জড় উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই পরিবেশের একটি উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, ফসলহানি, খাদ্যজাল ধ্বংস প্রভৃতি ঘটে থাকে। ফলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই মানুষ ও জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই পরিবেশের উপাদানগুলোর ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন।
বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন: (অতিরিক্ত)
ক) আবাসস্থল কাকে বলে? জীবের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? যদি কোনো আবাসস্থল ধ্বংস হয়, তার প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর:
আবাসস্থল হলো সেই নির্দিষ্ট স্থান যেখানে কোনো জীব থাকে, খাদ্য সংগ্রহ করে, পানি পান করে, বংশবিস্তার করে এবং জীবনযাপন করে। এটি প্রতিটি জীবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো জীব তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছাড়া নিরাপদে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ পায় না। যদি কোনো আবাসস্থল ধ্বংস হয়, তার প্রভাবগুলো হলো—
i) প্রাণী ও উদ্ভিদ খাদ্য ও আশ্রয় হারায় এবং বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়।
ii) কিছু প্রাণী নতুন স্থানে যেতে বাধ্য হয়, যা প্রায়ই নিরাপদ নয়।
iii) জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়, অর্থাৎ অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে চলে যায়।
iv) পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও খরা বৃদ্ধি করতে পারে।
খ) স্থলজ আবাসস্থল কী? স্থলজ প্রাণীদের উদাহরণ এবং বৈশিষ্ট্য লিখো।
উত্তর:
স্থলজ আবাসস্থল হলো এমন অঞ্চল যেখানে জীবরা ভূমির উপর বাস করে। এই পরিবেশে খাদ্য, পানি এবং আশ্রয়ের সহজলভ্যতা থাকে।
স্থলজ প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য হলো—
i) ভূমির উপর চলাফেরা করে এবং প্রাকৃতিক আশ্রয় ব্যবহার করে।
ii) খাদ্য সংগ্রহে ভূমির উপর গাছপালা ব্যবহার করে।
iii) আবহাওয়ার প্রভাবে অভিযোজিত হয়।
উদাহরণ: গরু, বাঘ, শেয়াল, খরগোশ। এই প্রাণীরা প্রাকৃতিক আশ্রয় যেমন গাছ, গুহা বা মাটির গর্ত ব্যবহার করে নিজেদের জীবন রক্ষা করে।
গ) জলজ আবাসস্থল কী? জলজ প্রাণীরা কীভাবে বাঁচে? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
জলজ আবাসস্থল হলো এমন স্থান যেখানে পানি প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে। এখানে প্রাণী ও উদ্ভিদ পানির মধ্যে জীবনধারণ করে।
জলজ প্রাণীরা বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়—
i) শ্বাসনালী, ফুলকা বা ত্বকের মাধ্যমে জল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
ii) দেহের গঠন তাদের পানিতে চলাচলের উপযোগী।
উদাহরণ: মাছ, কুমির, কাঁকড়া। এই প্রাণীরা পানিতে উৎপন্ন খাদ্য যেমন ছোট মাছ, জলজ উদ্ভিদ, পোকামাকড় থেকে বেঁচে থাকে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
ঘ) বনভূমি কাকে বলে? বনভূমির গুরুত্ব এবং বন ধ্বংসের ক্ষতিকর প্রভাব কী?
উত্তর:
বনভূমি হলো গাছপালা ও প্রাণী দ্বারা আচ্ছাদিত অঞ্চল যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বনভূমির গুরুত্ব হলো—
i) বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল সরবরাহ করা।
ii) বাতাসের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করা।
iii) মাটির ক্ষয় রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
বন ধ্বংসের প্রভাব—
i) প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খল বিঘ্নিত হয়।
ii) মাটির ক্ষয়, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন বৃদ্ধি পায়।
iii) প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
iv) মানুষ ও প্রাণীর জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।
ঙ) মরুভূমি কাকে বলে? মরুভূমির প্রাণী কীভাবে অভিযোজিত হয়? উদ্ভিদ কীভাবে জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল? উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য কোন কোন উপাদান প্রয়োজন?
উত্তর:
মরুভূমি হলো এমন স্থান যেখানে পানি অত্যন্ত কম থাকে এবং তাপমাত্রা অনেক বেশি হয়। এখানে জীবনধারণ কঠিন হলেও কিছু প্রাণী অভিযোজিত হয়ে বেঁচে থাকে।
মরুভূমির প্রাণীর অভিযোজন—
i) দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বাঁচতে পারে।
ii) দেহে পানি সংরক্ষণ ও খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা থাকে।
উদাহরণ: উট, মরুভূমির সাপ।
এই প্রাণীরা সাধারণত গভীর গর্তে বাস করে এবং দিনের অধিকাংশ সময় বিশ্রামে থাকে।
উদ্ভিদ জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল—
i) মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে।
ii) পানি উদ্ভিদের দেহে পরিবাহিত হয়ে কোষকে সক্রিয় রাখে।
iii) বায়ুতে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
iv) সূর্যের আলো খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
এই সব উপাদান ব্যতীত উদ্ভিদ বাঁচতে ও বংশবিস্তার করতে পারে না।
Codehorse Learn Free