বীরশ্রেষ্ঠদের বীরগাথা রচনা (PDF): প্রিয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা সুন্দর একটি রচনা লিখব যার নাম—বীরশ্রেষ্ঠদের বীরগাথা/বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ঠ । চলো, এখন রচনাটি শুরু করি!
বীরশ্রেষ্ঠদের বীরগাথা রচনা (PDF):
বীরশ্রেষ্ঠদের বীরগাথা
অথবা, বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ঠ
ভূমিকা: বর্তমানে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এক সময় এদেশ পাকিস্তানের শাসনাধীনে ছিল। দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়, সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মতিউর রহমান, মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৮ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাকোরামে। সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ত্যাগ করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেবেন। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার দুদিন আগে মহানন্দার সম্মুখযুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন তিনি।
মতিউর রহমান: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মতিউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বৈমানিক। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট তিনি করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ বিমান নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। সঙ্গে পাকিস্তানি বৈমানিক মিনহাজ রশিদ। মতিউর রহমানের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি বিমান নিয়েই ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন। তাই বিমানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিমানের মধ্যেই ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে চল্লিশ মাইল দূরে থাট্টায় বিধ্বস্ত হয়। মতিউর রহমানের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ মাশরুর ঘাঁটিতে কবর দেয়া হয়। ২০০৬ সালে তার দেহাবশেষ এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খর্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা সিদ্ধান্ত নিলেন সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্রীমঙ্গল থানার ধলাই সীমান্ত ফাঁড়ি দখল করা হবে। সিপাহি হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট অভিযানে অংশ নেবে। হামিদুর রহমান তিন প্লাটুন সৈন্য নিয়ে রাতের আঁধারে সন্তর্পণে শত্রু শিবিরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। হঠাৎ মাটিতে পেতে রাখা একটা মাইন বিস্ফোরিত হলো। দুই পক্ষে বেঁধে গেল তুমুল যুদ্ধ। তিনি নির্ভুল নিশানায় শত্রু শিবির লক্ষ্য করে দুটি গ্রেনেড ছুঁড়লেন। শত্রুর আক্রমণ স্তন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু দ্বিতীয় গ্রেনেড ছোঁড়ার মুহূর্তে শত্রুর মেশিনগানের একটি গুলি এসে লাগল তাঁর গায়ে। শাহাদাত বরণ করলেন এই অকুতোভয় বীর। ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর তাঁর দেহাবশেষ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ৪ মাস।
উপসংহার: বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মতিউর রহমান ও মোহাম্মদ হামিদুর রহমান আমাদের গৌরব ও অহংকার। তাঁদের ঋণ জাতি কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা যারা “বীরশ্রেষ্ঠদের বীরগাথা/বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ঠ” রচনাটি পড়েছ, তারা এখন চাইলে এর PDF কপি সংগ্রহ করতে পারো। নিচের “Answer Sheet” বোতামে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাধান।
সকল বিষয়ে সমাধান পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করো এবং সকল গাইড মোবাইলে পড়তে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করে নাও। এতে তোমাদের পড়াশোনা হবে আরও সহজ ও মজার!
Codehorse Learn Free