৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুসারে সব কাজ করাকে ইবাদত বলা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদত করার জন্য আমাদের সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত করলে আল্লাহ খুশি হন। পাক-পবিত্র থাকা ইমানের অঙ্গ। যেকোনো ইবাদতের জন্য পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। পাক-পবিত্র থাকার বহু নিয়মের মধ্যে ওযু একটি উত্তম নিয়ম।
৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর:
ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর:
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (✓) চিহ্ন দাও।
১. ওযুর ফরজ কয়টি?
ক.৩টি ✓খ.৪টি গ.৫টি ঘ.৬টি
২. সালাতের আরকান কয়টি?
✓ক.৭টি খ.৬টি গ.৫টি ঘ.৪টি
৩. সালাতের আহকাম কয়টি?
ক.৪টি খ.৫টি গ.৬টি ✓ঘ. ৭টি
৪. সালাত কয় ওয়াক্ত?
ক. ৬ ওয়াক্ত খ.৭ ওয়াক্ত ✓গ.৫ ওয়াক্ত ঘ.৩ ওয়াক্ত
৫. সালাতে দরুদ কখন পড়তে হয়?
ক.দাঁড়ানো অবস্থায় খ.সেজদায়
গ.রুকুতে ✓ঘ.শেষ বৈঠকে
খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:
ক. পবিত্রতা __ অঙ্গ।
খ. তাহারাত অর্থ __।
গ. সালাতের আগে __ করতে হয়।
ঘ. ওযু ছাড়া __ হয় না।
ঙ. জুমার __ রাকাত সালাত ফরজ।
উত্তর: ক. ইমানের; খ. পবিত্রতা; গ. ওযু; ঘ. সালাত; ঙ. দুই।
গ. রেখা টেনে মেলাও:
১. আল্লাহর ছাড়া কারো → চারটি
২. পবিত্রতা ইমানের → সালাত
৩. ওযুর ফরজ → আনন্দ
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো → অঙ্গ
৫. ঈদ অর্থ → ইবাদত করব না
উত্তর:
১. আল্লাহর ছাড়া কারো → ইবাদত করব না
২. পবিত্রতা ইমানের → অঙ্গ
৩. ওযুর ফরজ → চারটি
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো → সালাত
৫. ঈদ অর্থ → আনন্দ
সংক্ষিপ্ত উত্তর-প্রশ্ন ও উত্তর:
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম লিখ।
উত্তর: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম : (১) ফযর, (২) যোহর, (৩) আসর, (৪) মাগরিব ও (৫) এশা।
২. আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম অর্থ কী?
উত্তর: অর্থ: ঘুম থেকে সালাত উত্তম।
৩. মাগরিব নামাজের ওয়াক্ত কখন শুরু ও শেষ হয়?
উত্তর: সূর্য ডোবার পর মাগরিব নামাজ শুরু হয়। পশ্চিম আকাশে লাল আভা মুছে যাওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়।
৪. ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো কী কী?
উত্তর: ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো হলো- সকালে গোসল করা। খুশবুমাখা, পরিষ্কার কাপড় পরা, মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া, ঈদের সালাত মাঠে আদায় করা।
৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
১. ইবাদত শব্দের অর্থ কী? ইবাদত কাকে বলে?
উত্তর: ইবাদত অর্থ: ইবাদত মানে বন্দেগী, আল্লাহর হুকুম পালন করা।
ইবাদত: আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের নির্দেশমতো সব কাজ করাকে ইবাদত বলে। যেমন- নামায পড়া, রোযা রাখা, কুরআন মজিদ তেলওয়াত করা, মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ইত্যাদি। ভালো কাজ করাও ইবাদত। যেমন- রোগীর সেবা করা, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা, সত্য কথা বলা, দান খয়রাত করা ইত্যাদি। ইবাদত করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। ইবাদত করলে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহর রহমত পাব।
২. ওযুর ফরজ কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ওযুর ফরজ : ওযুর ফরজ চারটি। যথা – (১) মুখমণ্ডল ধৌত করা, (২) কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া, (৩) মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসহ্ করা ও (৪) গিরাসহ উভয় পা ধৌত করা।
৩. আযানের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর: আযানের গুরুত্ব : জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য মহানবি (স) তাগিদ দিয়েছেন। জামায়াতের সাথে সালাত আদায় করলে নেকি ও ফযিলত অনেক বেশি। আর জামায়াতে সালাত আদায় করতে গেলে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। আর একত্রিত হতে গেলে প্রয়োজন মুসলিদের আহ্বান করা বা ডাকা। আযানের মাধ্যমে মুসলিদের জামায়াতে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান করা হয়। এজন্য আযানের গুরুত্ব অনেক।
৪. সালাতের আহকাম কয়টি ও কী কী লিখ।
উত্তর:সালাতের আহকাম সাতটি।
সালাতের আহকামসমূহ: নামায শুরুর আগে সাতটি ফরজ কাজ করতে হয়। এগুলোকে বলে সালাতের আহকাম। সালাতের আহকামগুলো হলো- (১) শরীর পাক, (২) কাপড় পাক, (৩) জায়গা পাক, (৪) সতর ঢাকা (কাপড় পরা) (৫) কিবলামুখী হওয়া, (৬) নিয়ত করা ও (৭) ওয়াক্ত মতো নামায পড়া।
৫. সালাতের আরকান কয়টি ও কী কী?
উত্তর:সালাতের আরকান সাতটি।
সালাতের আরকানসমূহ:
১. তাকবির-ই-তহরিমা বা “ আল্লাহু আকবার” বলে সালাত শুরু করা।
২. কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। (তবে কোনো কারণে দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসে, এমনকি শুয়েও সালাত আদায় করা যায়।)
৩. কিরাআত অর্থাৎ কুরআন শরীফের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা।
৪. রুকু করা।
৫. সিজদা করা।
৬. শেষ বৈঠক।
৭. সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করা।
৬. ঈদের সালাতের সামাজিক তাৎপর্য লিখ।
উত্তর:বছরে ঈদের সালাত দুটি। এ সময় সরকারি- বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। সমগ্র দেশের মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যায় ঈদ উৎসব পালন করার জন্য। এতে এলাকার অনেকের সাথে কোশল বিনিময় হয়। খোঁজ খবর জানা যায়। সুবিধা-অসুবিধা বোঝা যায় এবং সাহায্যের হাত বাড়ানো যায়। ঈদের দিন সমাজের সব মানুষ ঈদের সালাত আদায় করার জন্য একত্রিত হয়। অনেক দিন পরে একে অন্যকে দেখতে পায়। ধনী-গরিবের ভাব বিনিময় হয়। এতে অনেক ধনী ব্যক্তিরা সমাজের গরিবদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এভাবে সমাজ উপকৃত হয়। তাই ঈদের সালাতের সামাজিক তৎপর্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
পরীক্ষা উপযোগী অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
ক. বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘তাহারাত’ শব্দের অর্থ কী?
ক. শৃঙ্খলা খ. সৎগুণ
✓গ. পবিত্রতা ঘ. গোসল করা
২. ইসলামের প্রথম মুয়ায্যিন কে?
ক. হযরত উমর (রা) ✓খ. হযরত বিলাল (রা)
গ. হযরত যায়েদ (রা) ঘ. হযরত উসমান (রা)
৩. জুমার নামায মোট কত রাকাত?
ক. ৮ রাকাত খ. ১২ রাকাত
✓গ. ১০ রাকাত ঘ. ১৫ রাকাত
৪. গোসলের ফরজ হলো কোনটি?
ক. গড়গড়াসহ কুলি করা
খ. পানি দিয়ে সারা শরীর ধোয়া
গ. পানি দিয়ে ভালোভাবে নাক সাফ করা
✓ঘ. উপরের সবগুলো
৫. ওযু নষ্ট হতে পারে-
ক. মুখ ভরে বমি করলে খ. অজ্ঞান হলে
গ. শরীর থেকে রক্ত বের হলে ✓ঘ. উপরের সবগুলো
৬. একামতে আযান থেকে কোন জিনিসটি বেশি বলতে হয়?
ক. আসসালাতু খাইরুম মিনান নাঊম
✓খ. কাদ কামাতিস সালাত
গ. ওয়ালিয়াহিল হামদ
ঘ. আল্লাহু আকাবর
৭.কোনটি ইমানের অঙ্গ?
✓ক. পবিত্রতা খ. অপবিত্রতা
গ. নোংরা থাকা ঘ. অপবিত্র কাপড় পরা
৮.গোসলের অবশ্য করণীয় কাজ কয়টি?
ক. ৬ টি গ. ৫ টি
গ. ৪ টি ✓ঘ. ৩ টি
৯.মুসলমানগণ বছরে কয়টি ঈদ পালন করেন?
ক. ১ টি ✓খ. ২ টি
গ. ৩ টি ঘ. ৪ টি
১০.ঈদের সালাত কত রাকাত?
✓ক. ২ রাকাত খ. ৩ রাকাত
গ. ৪ রাকাত ঘ. ৫ রাকাত
১১.খুতবা অর্থ কী?
ক. আহ্বান ✓খ. বক্তৃতা
গ. আলোচনা ঘ. কথা বলা
১২.ইবাদত করলে কে খুশি হন?
✓ক. আল্লাহতায়ালা খ. মানুষ
গ. নবি ও রসুল ঘ. ফেরেশতা
১৩.সবচেয়ে বড় ইবাদতকোনটি?
ক. রোজা খ. জাকাত
✓গ. সালাত ঘ. হজ
১৪.তাহারাত অর্থ কী?
ক. অপবিত্রতা ✓খ. পবিত্রতা
গ. শালীনতা ঘ. অশালীনতা
১৫.ঈদের সালাত আদায় কী?
ক. ফরজ খ. সুন্নত
গ. নফল ✓ঘ. ওয়াজিব
১৬.সপ্তাহের সর্বোত্তম দিন কোনটি?
✓ক. জুমার দিন খ. শবে মেরাজের দিন
গ. হজের দিন ঘ. শবে বরাতের দিন
১৭.জুমার দিন গোসল করা কী?
ক. ফরজ ✓খ. সুন্নত
গ. নফল ঘ. ওয়াজিব
১৮.ঈদুল আজহার দিন কোনটি?
✓ক. যিলহজ মাসের দশম দিন
খ. যিলক্বদ মাসের দশম দিন
গ. শাওয়াল মাসের অষ্টম দিন
ঘ. যিলহজ মাসের অষ্টম দিন
খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:
ক. আমরা শুধু __ ইবাদত করব।
খ. পাক পবিত্র থাকাকে __ বলে।
গ. দাঁত মাজা ওযুর __।
ঘ. __ হলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়
ঙ. পানি দিয়ে সারা শরীর ধোয়াকে __ বলে।
উত্তর: ক. আল্লাহ; খ. তাহারাত; গ. সুন্নাত; ঘ. অজ্ঞান; ঙ. গোসল।
গ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন কে?
উত্তর: ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রা)।
২. একটি মুনাজাত লিখ।
উত্তর: রব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা আযাবান নার।
৩. একটি মুনাজাতের বাংলা অর্থ লিখ।
উত্তর: “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এ দুনিয়ায় কল্যাণ দাও। আর আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং দোযখের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা কর।”
৪. ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বাক্যটি কোন ওয়াক্তের আযানে বলা হয়?
উত্তর: ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বাক্যটি ফজরের ওয়াক্তের আযানে বলা হয়।
৫. ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ কখন পড়তে হয়?
উত্তর: ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ রুকুতে পড়তে হয়।
৬. ঈদুল আজহায় সালাতের জন্য মসজিদে যেতে হয় কীভাবে?
উত্তর:ঈদুল আজহায় সালাতের জন্য মসজিদে যেতে হয় জোরে জোরে তাকবির পড়ে।
গ. কাঠামোবদ্ধ (যোগ্যতাভিত্তিক) প্রশ্ন:
১. কবি কায়কোবাদ আযান সম্পর্কে যে কবিতাটি লিখেছেন তার ৪টি লাইন লেখ।
উত্তর: আযান সম্পর্কিত কবি কায়কোবাদের লেখা কবিতার ৪টি লাইন:
কে ওই শোনাল মোরে আজানের ধ্বনি
মর্মে মর্মে সেই সুর
বাজিল কী সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ নাচিল ধমনী
২. আল্লাহ তায়ালা এবাদতকে ব্যাপক অর্থে যে পাঁচটি জিনিসকে বুঝিয়েছেন তা লেখ।
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা এবাদতকে ব্যাপক অর্থে যে পাঁচটি জিনিসকে বুঝিয়েছেন তা হলো :
ক. আমরা কেবল আল্লাহ তায়ালার গোলামি করব, অন্য কারো নয়।
খ. আমরা কেবল আল্লাহ তায়ালার আদেশ মতো চলব, অন্য কারো নয়।
গ. কেবলমাত্র তারই সামনে মাথা নত করব, অন্য কাউকে নয়।
ঙ. কেবলমাত্র তাকেই ভয় করব, অন্য কারো সামনে নয়।
চ. কেবলমাত্র তারই কাছে সাহায্য চাইব, অন্য কাউকে নয়।
৩. ওযুর সুন্নতগুলো কী কী ?
উত্তর: ওযুর সুন্নত ১১টি। যথা-
১. নিয়ত করা।
২. বিসমিল্লাহ বলে ওয়ু আরম্ভ করা।
৩. দাঁত মাজা।
৪. কঞ্চি পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধোয়া।
৫. তিনবার কুলি করা।
৬. পানি দিয়ে তিনবার নাক সাফ করা।
৭. পানি দিয়ে অঙ্গ তিনবার ধোয়া।
৮. কান মাসাহ করা।
৯. হাত-পা ধোয়ার সময় ডান হাত ও ডান পা আগে ধোয়া।
১০. সম্পূর্ণ একবার মাসাহ করা।
১১. ওযুর কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে পরপর করা।
৪. ওযু নষ্ট হওয়ার কারণগুলো কী কী?
উত্তর: ওযুর নষ্ট হওয়ার কারণ :
১. প্রশ্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হলে।
২. মুখ ভরে বমি করলে
৩. কোনো কিছু ঠেস দিয়ে বা শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লে।
৪. অজ্ঞান হলে।
৫. রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে শরীর থেকে গড়িয়ে পড়লে।
৬. সালাতের মধ্যে উচ্চস্বরে হেসে ফেললে।
ওযু করা ফরজ। ওযু ছাড়া সালাত আদায় হয় না। ওযু সম্পর্কে আমরা সাবধান থাকব। ওযু নষ্ট হলে পুনরায় ওযু করে নেব।
৫. জুমার সালাত বলতে কী বোঝ?
উত্তর: জুমার সালাত : প্রতি শুক্রবার মুসলমানগণ মসজিদে উপস্থিত হয়ে যোহরের সালাতের পরিবর্তে যে সালাত আদায় করেন তাকে জুমার সালত বলা হয়। শুক্রবারে জুমার সালাতের জন্য অনেক মুসলীর সমাবেশ ঘটে। জামাআত ছাড়া জুমার ফরয আদায় হয় না। ফরজের আগে চার রাকাআত কাবলাল জুমা ও ফরযের পর চার রাকাআত বাদাল জুমা সালাত পড়া সুন্নত।
৬. অর্থসহ বাংলায় একটি মুনাজাত লিখ।
উত্তর: কুরআন ও হাদীসে অনেক মুনাজাত আছে। তার মধ্যে সংক্ষিপ্ত এবং সুন্দর মুনাজাত (বাংলায়) হচ্ছে : রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া-ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াকিনা আযাবান নার।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এ দুনিয়ায় কল্যাণ দাও। আর আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং দোযখের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা কর।
৭. ঈদের সালাত আদায়ের নিয়ম লিখ।
উত্তর: প্রথমে কাতার হয়ে ইমামের পিছনে দাঁড়াতে হবে। তারপর নিয়ত করতে হবে। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে তহরিমা বেঁধে সানা পাঠ করতে হয়। এরপর কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ইমামের সাথে তিন তাকবির দিতে হবে। প্রথম দুইবার হাত না বেঁধে ছেড়ে রাখতে হবে। তৃতীয় তাকবির দিয়ে সালাতে হাত বাঁধার মতো দুই হাত বাঁধতে হবে।
পরে ইমাম সাহেব অন্যান্য সালাতের মতো সূরা ফাতিহা ও যেকোনো সূরা পাঠ করবেন এবং যথারীতি রুকু সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা ও যে কোনো সূরা পাঠ করবেন। এরপর তিন তাকবির দেবেন। আমাদেরকেও তিনবার ‘আলাহু আকবার’ বলতে হবে। তিনবারই কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে, হাত বাঁধতে হবে না। পরে চতুর্থবার ‘আলাহু আকবার’ বলে রুকু করতে হবে।
এরপর অন্যান্য সালাতের মতো সিজদা করতে হবে; তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পাঠ করে ইমামের সাথে সালাম ফিরাতে হবে। সালাত শেষে ইমাম সাহেব দুইটি খুতবা দেবেন। খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই খুতবা শুনতে হবে।