৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর: ইমান ও আকাইদ ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। একজন প্রকৃত মুসলমানের ইমান ও আকাইদ বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। কেননা একজন ইমানদার হতে হলে তাকে প্রথমে ইমান ও আকাইদের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। মহান আল্লাহতায়ালা সমস্ত বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা এবং মালিক। তিনি এক ও অদ্বিতীয় এবং নিরাকার। তাঁর কোনো অংশীদার বা শরিক নেই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর দান। তিনি পরম দয়ালু।
৪র্থ শ্রেণি ইসলাম শিক্ষা ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর:
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (✓) চিহ্ন দাও।
১. ইমান অর্থ কী?
ক. সত্যকথা বলা ✓খ. বিশ্বাস
গ. গচ্ছিত রাখা ঘ. শৃঙ্খলা
২. আমাদের স্রষ্টা কে?
ক. মাতা খ. পিতা
✓গ. আল্লাহ ঘ. পিতামাতা উভয়ই
৩. আমাদের জীবন-মৃত্যুর মালিক কে?
✓ক. আল্লাহ খ. আযরাইল (আ)
গ. নবিগণ ঘ. রাসূলগণ
৪. সালাম শব্দের অর্থ কী?
ক. দয়া ✓খ. শান্তি
গ. সৃষ্টি ঘ. ক্ষমা
৫. ওহি নিয়ে আসতেন কোন ফেরেশতা?
ক. আযরাইল (আ) খ. মিকাইল (আ)
গ. ইসরাফিল (আ) ✓ঘ. জিবরাইল (আ)
৬. আসমানি কিতাব কতো খানা?
ক. ৪ খানা খ. ১০০ খানা
✓গ. ১০৪ খানা ঘ. ১১০ খানা
খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:
১. যার ইমান আছে তাকে বলে __।
২. আল্লাহু সালামুন অর্থ আল্লাহ__।
৩. পরস্পরে দেখা হলে আমরা __ দেই।
৪. মুহাম্মদ (স) আল্লাহর __ ও রাসুল।
৫. তকদির মানে __।
উত্তর: ১. মুমিন; ২.শান্তিদাতা ; ৩. সালাম; ৪. নবি; ৫. ভাগ্য।
গ. রেখা টেনে অর্থ মেলাও :
১. মালিক → বাক্য
২. কাদীর শান্তি → দাতা
৩. সালাম → অধিপতি
৪. কালিমা → সর্বশক্তিমান
উত্তর:
১. মালিক → অধিপতি
২. কাদীর → সর্বশক্তিমান
৩. সালাম → শান্তি দাতা
৪. কালিমা → বাক্য
১. মালিক → বাক্য
২. কাদীর শান্তি → দাতা
৩. সালাম → অধিপতি
৪. কালিমা → সর্বশক্তিমান
উত্তর:
১. মালিক → অধিপতি
২. কাদীর → সর্বশক্তিমান
৩. সালাম → শান্তি দাতা
৪. কালিমা → বাক্য
সংক্ষেপে উত্তর দাও:
১. আল্লাহ তায়ালার পাঁচটি গুনবাচক নাম লেখ।
উত্তর:আল্লাহ তায়ালার পাঁচটি গুণের নাম : ১.আল্লাহু খালিকুন; ২.আল্লাহু মালিকুন; ৩.আল্লাহু হাকিমুন; ৪.আল্লাহু সালামুন ও ৫.আল্লাহু কাদিরুন।
২. চারজন প্রসিদ্ধ ফেরেশতার নাম লিখ।
উত্তর:চারজন প্রসিদ্ধ ফেরেশতার নাম : ১. হযরত জিবরাইল (আ); ২. হযরত মিকাইল (আ); ৩. হযরত আযরাইল (আ); ৪. হযরত ইসরাফিল (আ)।
৩. চারখানা বড় কিতাবের নাম লেখ।
উত্তর: চারখানা বড় কিতাব : ১. তাওরাত ২. যাবূর. ৩. ইনজিল ৪. কুরআন মজিদ।
৪. আসমানি কিতাব কয়টি?
উত্তর: আসমানি কিতাব ১০৪ খানা। এর মধ্যে ৪ খানা বড় কিতাব। আর ১০০ খানা ছোট কিতাব। ছোট কিতাবকে সহীফা বলে।
৫. সর্বশেষ নবি কে?
উত্তর:সর্বশেষ নবি হচ্ছেন আমাদের প্রিয় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)।
৬. সর্বশেষ আসমানি কিতাব কী?
উত্তর: সর্বশেষ আসমানি কিতাব হচ্ছে কুরআন মজিদ।
বর্ণনামূলক প্রশ্ন:
১. সংক্ষেপে আল্লাহর পরিচয় দাও।
উত্তর:আল্লাহর পরিচয় : আমাদের চারপাশের আসমান, জমিন, চাঁদ, সূর্য ইত্যাদি সবকিছু যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই আল্লাহ। আল্লাহ মহান, অনাদি ও অনন্ত। তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, নিরাকার। তাঁকে আমরা দেখতে পাই না। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, লালন-পালন করছেন, মৃত্যুর পর আমাদের সকলকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।
২. ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: যিনি সকল শক্তির অধিকারী তাঁকেই সর্বশক্তিমান বলা হয়। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান। আকাশ ও পৃথিবী এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সবকিছু তাঁর (আল্লাহর) শক্তির অধীন। তিনি মানুষকে ক্ষমতা দেন, আবার ক্ষমতা কেড়ে নেন। কাউকে সম্মান দেন, কাউকে লাঞ্ছিত করেন আবার কাউকে ইজ্জত, সম্মান ও মর্যাদা দান করেন। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন ও রিযিক দিয়েছেন। তিনিই আমাদের মৃত্যু ঘটাবেন আবার তিনিই আমাদের জীবিত করবেন। তিনি কারো মঙ্গল করতে চাইলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না। আবার তিনি কারো অনিষ্ট করতে চাইলে কেউ তা রোধ করতে পারে না। সুতরাং ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ কথাটি যথার্থ।
৩. ‘আল্লাহ শান্তিদাতা’ বাক্যটি বুঝিয়ে লিখ।
উত্তর: আল্লাহ সালামুন অর্থ আল্লাহ শান্তিদাতা। আমাদের মন যখন ভালো থাকে, তখন শান্তি লাগে। শরীর ভালো থাকলে মনে শান্তি থাকে। যখন আমাদের মন খারাপ হয় তখন শান্তি লাগে না। শরীর খারাপ হলেও মনে শান্তি থাকে না। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ আমাদের রোগমুক্ত করেন। আমরা সুস্থ হই। শান্তি পাই। আমাদের পরিবারে আছেন আব্বা-আম্মা, ভাইবোন। আছেন দাদা-দাদি। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। আমাদের শান্তি থাকে না। আমরা তাঁদের সেবা করি। আল্লাহর কাছে দু’আ করি। তিনি বিপদমুক্ত করেন। তিনি শান্তি দেন। আমরা শান্তি পাই। তাই বলা হয়, ‘আল্লাহ শান্তিদাতা’।
৪. প্রসিদ্ধ ফেরেশতাদের নাম ও তাঁদের কাজ বর্ণনা কর।
উত্তর: প্রসিদ্ধ ফেরেশতাদের নাম ও তাঁদের কাজ: ফেরেশতারা হলেন মহান আল্লাহর এক সৃষ্টি। আল্লাহ তাঁদেরকে নূর দিয়ে তৈরি করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন চার জন। তাঁদের নাম ও কাজ নিচে বর্ণিত হলো :
হযরত জিবরাইল (আ): তিনি আল্লাহর হুকুমে নবি-রাসুলদের নিকট আল্লাহর ওহি বা বাণী নিয়ে আসতেন।
হযরত মিকাইল (আ): তিনি আল্লাহর হুকুমে রিযিক বণ্টন এবং মেঘ-বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
হযরত আযরাইল (আ): তিনি আল্লাহর হুকুমে মানুষ, জ্বিন, পশুপাখি ও সকল প্রাণীর জান কবজ করেন।
হযরত ইসরাফিল (আ): কিয়ামতের সময় আল্লাহর হুকুমে তিনি শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন। তাতে সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। পরে আল্লাহর হুকুমে আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন। তাতে সবকিছু আবার জীবন ফিরে পাবে।
৫. আসমানি কিতাব কাকে বলে? সর্বশেষ আসমানি কিতাবের সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
উত্তর:আসমানী কিতাব : হযরত জিবরাইল (আ) নবি- রাসুলদের কাছে আল্লাহর ওহি বা বাণী নিয়ে আসতেন। কখনো এ বাণী এসেছে সহীফা রূপে ও কখনো কিতাবরূপে। এ সহীফা ও কিতাবকে আসমানি কিতাব বলে।
সর্বশেষ আসমানি কিতাবের বর্ণনা : কুরআন মজিদ সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এতে আছে কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের সকল মানুুুষের সব সমস্যার সমাধান, ভালো হওয়ার শিক্ষা। আমরা সকল কিতাবে বিশ্বাস করব। আর কুরআন মজিদের শিক্ষা মেনে চলব।
পরিকল্পিত কাজ :
ক. এই শব্দগুলো খাতায় লিখ।
উত্তর: Try it please.
ক. এই শব্দগুলো খাতায় লিখ।
উত্তর: Try it please.
খ. প্রকৃতির একটি ছবি আঁক।
উত্তর: নিচে প্রকৃতির একটি এঁকে দেখানো হলো-


পরীক্ষা উপযোগী অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
ক. বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর
১.আল্লাহু খালিকুন শব্দের অর্থ কী?
✓ক. আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা খ. আল্লাহ মালিক
গ. আল্লাহ পালনকর্তা ঘ. আল্লাহ দয়ালু
২.ফেরেশতারা কী দিয়ে তৈরি?
ক. মাটি খ. আগুন
✓গ. নূর ঘ. পানি
✓গ. নূর ঘ. পানি
৩.কার প্রচুর ধন সম্পদ ছিল?
ক. ফিরআউনের খ. নমরুদের
✓গ. কারুনের ঘ. কাবুলের
৪.যারা ইমান আনে তাদেরকে কী বলে?
✓ক. মুমিন খ. মুশরিক
গ. কাফের ঘ. ভালো মানুষ
৫.ইমান মুফাস্সালে স্বীকার করা হয়-
ক. আল্লাহ খ. শেষ দিবস
গ. তকদির ✓ঘ. উপরের সবগুলো
৬.আমরা কার বিধান মানব?
ক. শিক্ষকের খ. রাষ্ট্রের
✓গ. আল্লাহর ঘ. প্রধানমন্ত্রীর
৭.সহীফা বা পুস্তিকা কয়খানা?
ক. ৫০ খানা খ. ৯০ খানা
গ. ১১০ খানা ✓ঘ. ১০০ খানা
৮.‘ইমান মুফাস্সাল’ অর্থ কী?
✓ক. বিস্তারিত বিশ্বাস খ. আন্তরিক বিশ্বাস
গ. মৌখিক বিশ্বাস ঘ. সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস
৯.আকিদার বহুবচন কী?
ক. ইমান ✓খ. আকাইদ
গ. বিশ্বাস ঘ. আমানত
১০.ইমান মুজমাল অর্থ কী?
✓ক. সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস খ. বিস্তারিত বিশ্বাস
গ. মৌখিক বিশ্বাস ঘ. আন্তরিক বিশ্বাস
১১.কাদীর শব্দের অর্থ কী?
ক. চিরঞ্জিব ✓খ. সর্বশক্তিমান
গ. বিরাজমান ঘ. পরম দয়ালু
১২.খালিক অর্থ কী?
ক. রিজিকদাতা ✓খ. সৃষ্টিকর্তা
গ. সর্বশক্তিমান ঘ. বিধানদাতা
১৩.মৃত্যুর পরের জগতকে কী বলা হয়?
ক. জান্নাত খ. জাহান্নাম
✓গ. আখিরাত ঘ. বয়যক
১৪.মৃত্যুর পর মানুষকে কার কাছে ফিরে যেতে হবে?
ক. ফেরেশতাদের ✓খ. আল্লাহর
গ. নবি ও রসুলদের ঘ. কারও কাছেই না
১৫.জাহান্নাম কোন ধরনের স্থান?
ক. খুবই আরামের ✓খ. কঠিন শাস্তির
গ. অল্প শাস্তির ঘ. আমোদ ফুর্তির
১৬.আসমানি কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বশেষ কিতাব কোনটি?
ক. যাবূর খ. ইনজিল
✓গ. কুরআন মজিদ ঘ. তাওরাত
১৭.আল্লাহ তায়ালার অগণিত ফেরেশতা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। তাঁদের মধ্যে রিজিক বণ্টন এবং মেঘ বর্ষণের দায়িত্ব পালন করেন কে?
ক. হযরত জিবরাইল (আ)
✓ খ. হযরত মিকাইল (আ)
গ. হযরত আজরাইল (আ)
ঘ. হযরত ইসরাফিল (আ)
খ. শূন্যস্থান পূরণ কর:
ক. মুসলমানদের দ্বীনের নাম __ ।
খ. আল্লাহর কোনো __ নেই।
গ. কালিমা অর্থ __।
ঘ. __ ফেরেশতা খুব প্রসিদ্ধ।
ঙ. ছোট কিতাবকে __বলে।
উত্তর: ক. ইসলাম; খ. শরিক; গ. বাক্য; ঘ. চার; ঙ. সহীফা।
গ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. ইমান কাকে বলে?
উত্তর: ইমান অর্থ বিশ্বাস। ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করাকে ইমান বলে।
২. মুমিন বা মুসলিম কাদের বলে?
উত্তর: যারা ইসলামের মূলবিষয়গুলোকে অন্তরে বিশ্বাস করে। মুখে স্বীকার করে এবং সে মোতাবেক আমল করে তাদের মমিন বা মুসলিম বলে।
৩. ইমানের বিষয়গুলো কী কী?
উত্তর: ইমানের বিষয়গুলো হলো- ১. আল্লাহ তায়ালার ওপর বিশ্বাস। ২. মালাইকা বা ফেরেশতাগণে বিশ্বাস। ৩. আসমানি কিতাবে বিশ্বাস। ৪. নবি-রাসুলে বিশ্বাস। ৫. শেষ দিবসে বিশ্বাস। ৬. তকদিরে বিশ্বাস। ৭. পুনরুত্থানে বিশ্বাস।
৪. ইমান মুজমাল কী?
উত্তর: ইমান মুজমাল অর্থ হলো সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস। ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে সংক্ষেপে বিশ্বাস ও স্বীকার করাই হলো হলো ইমান মুজমাল।
৫. ইসলামের মূল কথা কী?
উত্তর: ইসলামের মূল কথা হলো- বিশ্বাস।
৬. নমরুদ, ফিরআউন, আবরাহা এরা কারা?
উত্তর: নমরুদ, ফিরআউন, আবরাহা হচ্ছে জালিম শাসক।
৭. অত্যাচারী নমরুদ কোন নবির ওপর আক্রমণ করেছিল?
উত্তর:অত্যাচারী নমরুদ ইবরাহীম (আ) নবির ওপর আক্রমণ করেছিল।
৮. ইমানের প্রথম বিষয় কোনটি?
উত্তর: ইমানের প্রথম বিষয় হলো- আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাসের বিষয়।
গ. কাঠামোবদ্ধ (যোগ্যতাভিত্তিক) প্রশ্ন:
১. আল্লাহ সবকিছুর মালিক-এ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: আল্লাহ সবকিছুর মালিক কথাটির অর্থ : মালিক অর্থ অধিপতি। আসমান ও যমিনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অতি ক্ষুদ্র প্রাণী থেকে আরম্ভ করে বৃহৎ প্রাণী, মানুষ, পশু-পাখি, বৃক্ষ, তৃণলতা এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে যা কিছু আছে, সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক আল্লাহ। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি তাঁরই সৃষ্টি। গ্রহ-উপগ্রহ, তারকারাজি, ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ, ভূভাগ-এ সবকিছুর মালিক তিনিই। পৃথিবী এবং আকাশে যা কিছু আছে, সবকিছু তাঁরই হুকুমে পরিচালিত হয়।
সুতরাং আল্লাহ সবকিছুর মালিক। আমাদের জানের মালিকও তিনি। আমাদের সুখ-দুঃখের মালিকও তিনি। তাঁর মালিকানার শেষ নেই। তিনি চিরকালের মালিক।
২. ‘আসমান ও জমিনের সমস্ত সম্পদের মালিক একমাত্র আল্লাহ’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:আল্লাহ তায়ালা মহাকাশের ও পৃথিবীর সবকিছুর একমাত্র অধিপতি। তিনি কত সুন্দর করে পৃথিবী সৃষ্টি পর্বত, জীবজন্তু, গাছপালা সবই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। এই পৃথিবীর নদীনালা, খালবিল, পশুপাখি, পাহাড়-পর্বত, জীবজন্তু, গাছপালা সবই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। এ সবকিছুর মালিক তিনি। এছাড়া মহাকাশের চাঁদ, তারা, সূর্য, নক্ষত্র, গ্রহ, নীহারিকা, ছায়াপথ এগুলোও মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সবকিছুই তিনি সৃষ্ট করেছেন। আর সৃষ্টি করেছেন পানি ও মাটির নিচের অসংখ্য বস্তু। আমাদের জীবন-মৃত্যুর মালিকও তিনি। আমাদের সুখ, দুঃখ ও সম্পদের মালিক তিনি। এ বিশ্বজগতের অতিক্ষুদ্র বালুকণা থেকে বিশাল গ্রহ-নক্ষত্রের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র তিনি। মহান আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিনের মধ্যকার সবকিছুর একচ্ছত্র মালিক।
৩.আল্লাহ আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, সকল সৃষ্টির মালিক। বান্দা তাঁর ইবাদত করুক বা না করুক তাতে তাঁর মর্যাদার সামান্যতম ঘাটতি হবে না। তদুপরি তিনি তাঁর বান্দাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে ইহকালীন কল্যাণ এবং পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে।
৪. কালেমা শাহাদতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:কালেমা শাহাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমাদের ইমান রক্ষার ক্ষেত্রে। কালেমা শাহাদত দ্বারা আমরা তওহিদ ও রিসালতের সাক্ষ্য দেই। আমরা মহান আল্লাহকে একমাত্র মাবুদ। হিসেবে স্বীকার করে নিই। এই কালেমা দ্বারা আমরা হযরত মুহাম্মদ (স)-কে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে সাক্ষ্য দেই। এটি ইসলামের মূল বিষয়। তওহিদ ও রিসালতে বিশ্বাস ইমানের মূলভিত্তি। তাই ইমানের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কালেমা শাহাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. আখিরাত বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মৃত্যুর পর আরও এক জগৎ আছে। এই জগৎকে আখিরাতে বলা হয়। আখিরাতের ক্ষেত্রস্বরূপ এই পৃথিবী। দুনিয়াতে যারা ভালো কাজ করবে এবং মহানবি (স)-এর দেখানো পথে চলবে তারা আখিরাতে জান্নাত পাবে। সেখানে কেবল সুখ আর সুখ। আর যারা দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলে না, ভালো কাজ করে না, তাদের জন্য আছে জাহান্নাম। জাহান্নাম হলো কঠিন শাস্তির স্থান। সেখানে কেবল কষ্ট আর কষ্ট।
৬. ‘আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’ কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইমানের প্রথম কথাই হলো আল্লাহর ওপর বিশ্বাস। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ ও তাঁর সত্তায়। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তার কোনো শরিক নেই। তিনি তার গুণাবলিতেও অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। তিনি অনাদি অনন্ত । তিনি প্রথম, তিনিই শেষ। যখন কোনো কিছু ছিল না তখন ছিলেন তিনি। আবার একদিন সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে তখন তিনিই থাকবেন। তিনি সৃষ্টিকর্তা। তিনি সকল সৃষ্টির পালনকারী। তিনি পরম দয়ালু। তিনি সবকিছুর মালিক। আমরা ভালো কাজ করলে তিনি খুশি হন। মন্দ কাজ করলে অসন্তুষ্ট হন। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ভালো কাজ করব।
Codehorse Learn Free