মা কাজী নজরুল ইসলাম চতুর্থ শ্রেণি: ‘মা’ কথাটির মতো এমন মধুমাখা নাম, এমন সুমধুর ডাক পৃথিবীতে আর একটিও নেই। মায়ের স্নেহ-মমতা অতুলনীয়। মায়ের মুখ দেখলে সন্তানের দুঃখ-যাতনা দূর হয়ে যায়। মায়ের স্নেহ-ছায়ায় সন্তানের প্রাণ জুড়ায়। শৈশবে মা তাঁর সন্তানকে পরম মমতায় অতি যত্নে গড়ে তোলেন। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশে মায়ের স্বার্থত্যাগের কথা বলে শেষ করা যায় না। সন্তানের দুঃখে মা দুঃখিত হন, আবার সন্তানের সুখে ও সাফল্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সুখী হন। সন্তানের মঙ্গল কামনায় মা সর্বদা প্রার্থনা করেন।
মা কাজী নজরুল ইসলাম চতুর্থ শ্রেণি:
১. জেনে নিই।
আমাদের সবার জীবনে ‘মা’ কথাটি একটি মধুমাখা নাম। মায়ের মমতা আমাদের চলার পথের পাথেয়। শৈশবে মা আমাদের গভীর মমতায় লালন করেন। ভালোভাবে লেখাপড়া করলে, জীবনে সফল হলে মা খুশি হন। অন্যদিকে মায়ের আশিস পেলে সন্তানের দুঃখ ঘুচে যায়।
২. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি, অর্থ বলি এবং নতুন বাক্য লিখি।
মতন সুধা, হেরিলে, পরান, যাতনা, নিনু, ছিনু, বাক, শুধাবেন, সোহাগ;
উত্তর:
মতন – মতো, অনুরূপ।- পৃথিবীতে মায়ের মতন আপন কেউ নেই।
সুধা – অমৃত, মধু।- মা ডাকে যত সুধা মেশানো তা আর কিছুতে নেই।
হেরিলে – দেখিলে।- হেরিলে মায়ের মুখ দূর হয় সব দুঃখ।
পরান – প্রাণ।- সন্তানের দুঃখে মায়ের পরান কাঁদে।
যাতনা – কষ্ট।- সন্তান মানুষ করতে সব মাকেই অনেক যাতনা সহ্য করতে হয়।
নিনু – নিলাম।- আমি মায়ের সুখ-দুঃখের ভার নিনু।
ছিনু – ছিলাম।– ছোটবেলায় আমি খুব অসহায় ছিনু।
বাক – কথা, শব্দ।- মাঝ বয়সে এসে কাজী নজরুল ইসলাম বাকশক্তি হারান।
শুধাবেন -জিজ্ঞাসা করবেন, জানতে চাইবেন।- মায়েরা সন্তানদের ভালো-মন্দের কথা শুধাবেন।
সোহাগ – আদর। মা তার সন্তানকে সোহাগ করেন।
৩. কবিতার চরণ দেওয়া আছে, পরবর্তী চরণ লিখি।
উত্তর:
হেরিলে মায়ের মুখ,
দূরে যায় সব দুখ,
মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শীতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কতো না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।
৪. কবিতাটি আবৃত্তি করি।
উত্তর: নিজে দেখে দেখে মুখস্থ করে তারপর না দেখে চেষ্টা কর।
৫. কবিতার প্রথম বারোটি চরণ মুখস্থ লিখি।
উত্তর: নিজে প্রথমে কবিতাটি বারবার পড়ে মুখস্থ কর, তারপর না দেখে লেখ।
৬. কবিতাটিতে কবি কী বলেছেন তা সংক্ষেপে বলি ও লিখি।
উত্তর: পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন হচ্ছে ‘মা’। এই নামটি সবার কাছেই খুব মধুর ও প্রশান্তির। জন্ম নেওয়ার পর সব শিশুই অসহায় থাকে। মা তাকে খুব কষ্ট করে আদর-সোহাগ দিয়ে খাইয়ে পরিয়ে লালন-পালন করেন। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। সন্তানের চাওয়া-পাওয়া মেটানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেন। সন্তান পড়াশুনা করে প্রকৃত মানুষ হতে পারলে মায়ের বুক গর্বে ভরে ওঠে। আর সেই বুক ভরা গর্ব নিয়ে মা সন্তানের জন্য দোয়া করেন, যাতে সন্তান আজীবন সুখে জীবনযাপন করে এবং মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনে।
৭. আমার ‘মা’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখি।
উত্তর:
মা হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় ও আপনজন। তিনি আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন এবং ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত আমাদের ভালোবাসা ও যত্নে বড় করেন। মা সবসময় আমাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন এবং কখনো আমাদের কষ্ট পেতে দেন না। তিনি আমাদের খাওয়ান, পড়াশোনা করান এবং জীবনের সঠিক পথ দেখান। মা আমাদের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেন এবং কোনো কষ্ট হলে সবার আগে আমাদের পাশে দাঁড়ান। তাই আমরা মায়ের কথা শুনবো, তাকে ভালোবাসবো এবং তার যত্ন নেবো। মা সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালু ও ভালোবাসার মানুষ।
Codehorse Learn Free