পাহাড়পুর চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর
৪র্থ শ্রেণি: পাহাড়পুর

পাহাড়পুর চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর

পাহাড়পুর চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর: একসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভিক্ষুরা বাংলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে তাঁদের ধর্মচর্চা করতেন। পাহাড়পুর সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ এর সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজা দ্বিতীয় ধর্মপাল প্রায় ১২শ বছর আগে ৪০ একর জায়গা জুড়ে এটি নির্মাণ করেছেন, যা একসময় খালি পড়ে থাকে। ফলে যুগ যুগ ধরে উড়ে আস্য ধুলাবালি ও মাটি এটির চারদিকে জমতে থাকে। একসময় এটি মাটির স্তূপে ঢাকা পড়ে পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। সেই থেকেই এর নাম হয়ে যায় পাহাড়পুর। তাছাড়া এ বিহারটি নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত বলেও একে পাহাড়পুর বলা হয়। এর আরেকটি নাম সোমপুর বিহার।

পাহাড়পুর চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর:

১. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি। অর্থ বলি।
বিহার, সুপ্রাচীন, ভিক্ষু, স্তূপ, বিশাল, প্রাণকেন্দ্র, দুর্লভ, আবিষ্কার, ধর্মচর্চা;
উত্তর:
বিহার – বৌদ্ধ মঠ।
সুপ্রাচীন – পুরাতন (পুরনো), বহুকাল আগের।
ভিক্ষু – বৌদ্ধদের মধ্যে যাঁরা সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী (যাঁরা সংসার করেন না); তাঁদের পরনে থাকে গেরুয়া রঙের লম্বা কাপড়, মাথা থাকে মুড়ানো এবং চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতেই থাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য।
স্তূপ – ঢিবি, ঢিবির মতো বৌদ্ধদের সমাধি।
বিশাল – অনেক বড়, প্রকাণ্ড, বিস্তীর্ণ।
প্রাণকেন্দ্র – প্রধান জায়গা।
দুর্লভ– যা সহজে লাভ করা যায় না বা পাওয়া যায় না।
আবিষ্কার – উদ্ভাবন, নতুন কিছু তৈরি।
স্নানঘাট – গোসল করার জায়গা।
ধর্মচর্চা – ধর্মবিষয়ে জ্ঞান লাভ ও অনুশীলন করা।

২. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
প্রাণকেন্দ্র, স্তূপ, দুর্লভ, বিশাল, বিহার, সুপ্রাচীন ;
ক. পাহাড়পুর ছাড়াও আমাদের দেশে আরও___রয়েছে।
খ. আমাদের দেশে___মঠ রয়েছে।
গ. টেবিলের উপর ধুলোবালি পড়ে ময়লার___হয়ে আছে।
ঘ. আকাশ অনেক ___।
৬. ঢাকা বাংলাদেশের___।
চ. জাদুঘরে অনেক___জিনিস দেখতে পাওয়া যায়।
উত্তর:
ক. পাহাড়পুর ছাড়াও আমাদের দেশে আরও বিহার রয়েছে।
খ. আমাদের দেশে সুপ্রাচীন মঠ রয়েছে।
গ. টেবিলের উপর ধুলোবালি পড়ে ময়লার স্তূপ হয়ে আছে।
ঘ. আকাশ অনেক বিশাল
৬. ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র
চ. জাদুঘরে অনেক দুর্লভ জিনিস দেখতে পাওয়া যায়।

৩. ঠিক উত্তরটিতে টিক (√) চিহ্ন দিই।
ক. বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুগণ থাকতেন –
১. বৌদ্ধ বিহারে
২. পাহাড়পুরে
৩. বদলগাছিতে
৪. জামালপুরে

খ. আলেকজান্ডার কানিংহাম এই পুরাকীর্তি আবিষ্কার করেন –
১. ১৭৭৯ সালে
২. ১৮৭৯ সালে
৩. ১৯৭৯ সালে
৪. ১৬৭৯ সালে

গ. বিহার এলাকাটি বিস্তৃত –
১. ৫০ একর জুড়ে
২. ৪০ একর জুড়ে
৩. ৬০ একর জুড়ে
৪. ৩০ একর জুড়ে

৪. প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।
প্রশ্ন ক. পাহাড়পুর নামটা কীভাবে হলো?
উত্তর: প্রায় ১৪শ বছর আগে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুরা পাহাড়পুরে থাকতেন। সেখানে থেকে তাঁরা ধর্মচর্চা করতেন আর শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন। কিন্তু প্রাচীন এ বিহার এক সময় খালি পড়ে থাকে। অনেকে ধারণা করেন যুগ যুগ ধরে উড়ে আসা ধুলাবালি ও মাটি এটির চারদিকে জমতে জমতে এক সময় এটি মাটির স্তূপে ঢাকা পড়ে পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। এভাবেই এর নাম হয় পাহাড়পুর।

প্রশ্ন খ. এখানে কত বছর আগে কারা থাকত?
উত্তর: এখানে প্রায় ১৪শ বছর আগে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুরা থাকতেন। আর এখানে থেকে তাঁরা নিজেদের ধর্মচর্চা করতেন এবং শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন।

প্রশ্ন গ. বিহারটির মাঝখানে কী কী আছে?
উত্তর: বিহারটি প্রায় ৪০ একর জায়গা জুড়ে লালচে মাটির ভূমিতে বিস্তৃত। এর মাঝে ২৭ একর জমির উপর বিশাল দালান নির্মিত। এ ছাড়াও বিহারটিতে রয়েছে পুকুর, কূপ, স্নানঘাট, স্নানঘর, রান্নাঘর, খাবারঘর ও টয়লেট।

প্রশ্ন ঘ. বৌদ্ধ বিহারটির মাটি ও দেয়াল কোন রঙের এবং কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: বৌদ্ধ বিহারটির মাটি ও দেয়াল লালচে রঙের। দেয়ালের গায়ে পোড়ামাটি দিয়ে নানান রকম ফুল-ফল, পাখি, পুতুল, মূর্তি ইত্যাদি তৈরি করা হয়েছে।

৫. বাম পাশের শব্দাংশের সাথে ডান পাশের ঠিক শব্দাংশ মিলিয়ে বাক্য পড়ি ও লিখি।
উত্তর:
i) পাহাড়পুর একটি সুপ্রাচীন – বৌদ্ধবিহার।
ii) ভিক্ষুগণ সেখানে – ধর্মচর্চা করতেন।
iii) মাটির স্তূপে ঢাকা পড়ে – পাহাড় হয়ে যায়।
iv) পাহাড়পুরের আরেক নাম – সোমপুর মহাবিহার।
v) ভিতরে সুন্দর সারি বাঁধা – ১৭৭টি ছোট ঘর।
vi) বিহারের দক্ষিণ কোণে রয়েছে – সন্ধ্যাবতীর ঘাট।

৬. বাক্য রচনা করি।
ভিক্ষু, ধর্মচর্চা, আবিষ্কার, প্রাণকেন্দ্র, স্নানঘাট।
ভিক্ষু – বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সংসার ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ধর্মচর্চা করেন।
ধর্মচর্চা – অনেকেই ধর্মচর্চা করে মহামানব হয়েছেন।
আবিষ্কার – বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার টেলিফোন আবিষ্কার করেন। গ্রাহাম বেল
প্রাণকেন্দ্র – ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র।
স্নানঘাট – আগেকার দিনে জমিদার বাড়িতে শান বাঁধানো স্নানঘাট থাকত।

৭. কথাগুলো বুঝে নিই।
উড়ে আসা – বাতাসের সঙ্গে যা কিছু উড়ে আসতে পারে তাকে বলে উড়ে আসা। যেমন: উড়ে আসা গাছের পাতা, উড়ে আসা পাখি ইত্যাদি।
পাড়ি দেওয়া – এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছানো বা পার হওয়াকে বলা হয় পাড়ি দেওয়া। যেমন-সাত সমুদ্র পাড়ি দেওয়া সবার কাজ নয়।
দুর্লভ জিনিসপত্র – যেসকল জিনিস সহজে লভ্য নয় বা পাওয়া যায় না, তাকেই দুর্লভজিনিসপত্র বলে।

৮. কর্ম-অনুশীলন।
ক. পাহাড়পুর পাঠে যেসব স্থান ও ব্যক্তির নাম আছে সেসব নামের একটি তালিকা তৈরি করি। আমার তালিকাটি পাশের বন্ধুর সাথে মিলিয়ে নিই।
উত্তর:
স্থানের নাম: পাহাড়পুর বিহার, কুমিল্লা, ময়নামতি, শালবন বিহার, সোমপুর বিহার, নওগাঁ জেলা, বদলগাছি উপজেলা, পাহাড়পুর গ্রাম ।
ব্যক্তির নাম: আলেকজান্ডার কানিংহাম, রাজা দ্বিতীয় ধর্মপাল ।

খ. ময়নামতির ‘শালবন বিহার’ দিয়ে ৫টি বাক্য লিখি।
উত্তর: কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে শালবন বিহার অবস্থিত। এখানেও একসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বসবাস করতেন। এখানে থেকে তাঁরা নিজেদের ধর্মচর্চা করতেন ও শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন। ঐতিহাসিক এ স্থানটি দেখার জন্য প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে। উঁচু ঢিবির মতো এ প্রাচীন স্থানটিতে অনেক প্রত্ননিদর্শন পাওয়া গেছে।

Extra Question:

ক) এক বাক্যে উত্তর লিখ।

১. পাহাড়পুরে কী আছে?
উত্তর: পাহাড়পুরে আছে বৌদ্ধ বিহার।

২. বাংলাদেশের একটি সুপ্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের নাম কী?
উত্তর: বাংলাদেশের একটি সুপ্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের নাম পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার।

৩. বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ কত বছর আগে একটি বিশেষ জায়গায় থাকতেন?
উত্তর: বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ প্রায় ১৪শ বছর আগে একটি বিশেষ জায়গায় থাকতেন।

৪. বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ বিশেষ জায়গায় থেকে কী করতেন?
উত্তর: বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ বিশেষ জায়গায় থেকে ধর্মচর্চা করতেন এবং শিষ্যদের ধর্ম শিক্ষা দিতেন।

৫. বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ যে বিশেষ জায়গায় থেকে ধর্মচর্চা করতেন তার নাম কী?
উত্তর: বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ভিক্ষুকগণ যে বিশেষ জায়গায় থেকে ধর্মচর্চা করতেন তার নাম বিহার।

৬. কুমিল্লার কোথায় শালবন বিহার আছে?
উত্তর: কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন বিহার আছে।

৭. প্রাচীন এই পাহাড়পুর বিহার এক সময় কেমন থাকতো?
উত্তর: প্রাচীন এই পাহাড়পুর বিহার এক সময় খালি পড়ে থাকতো।

৮. অনেকে প্রাচীন পাহাড়পুর বিহার সম্পর্কে কী মনে করতেন?
উত্তর: অনেকে প্রাচীন পাহাড়পুর বিহার সম্পর্কে মনে করতেন যে যুগযুগ ধরে চারপাশ থেকে ধুলোবালি উড়ে এসে জমা হয়েছে এবং একসময় মাটির স্তুপে এটি ঢাকা পড়ে পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে।

৯. একসময় মাাটির স্তুপে ঢাকা পড়ে পাহাড়পুর বিহার কেমন হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: একসময় মাাটির স্তুপে ঢাকা পড়ে পাহাড়পুর বিহার পাহাড়ের আকৃতি ধারণ করেছিল।

১০. ১৮৭৯ সালে কে পাহাড়পুরে বিশাল পুরাকীর্তি আবিষ্কার করেন?
উত্তর: ১৮৭৯ সালে আলেকজান্ডার কানিংহাম পাহাড়পুরে বিশাল পুরাকীর্তি আবিষ্কার করেন।

১১. পাহাড়পুরের আরেকটি নাম কী?
উত্তর: পাহাড়পুরের আরেকটি নাম সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার।

Read More: বীরপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Read More: লিপির গল্প চতুর্থ শ্রেণি

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *