তৃতীয় শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ৩ প্রশ্ন উত্তর: এ কে ফজলুল হক ছিলেন উপমহাদেশের একজন সাহসী নেতা। তাই তাকে শেরে বাংলা বলা হয়। শেরে বাংলা অর্থ বাংলার বাঘ। তাঁর পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি ১৮৭৩ সালে এখনকার বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (এসএসসি) এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (এইচএসসি) পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতা আইন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পড়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। যারা আইন পেশায় কাজ করেন তাদের উকিল বলা হয়। তখন আমাদের দেশ স্বাধীন ছিল না। এই দেশ ইংরেজরা শাসন করতো। ১৯৪৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অনেক আন্দোলন করেন। তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি গঠন করেন। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তখন দেশের বেশির ভাগ জমির মালিক ছিল কিছু জমিদার। আর বাকি সবাই ছিল প্রজা। শেরে বাংলা জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল করে কৃষকদের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করেন। মহাজনদের ঋণের অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। শিক্ষার উন্নতির জন্য প্রতিষ্ঠা করেন অনেক স্কুল ও কলেজ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নেতা ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
তৃতীয় শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ৩ প্রশ্ন উত্তর:
অধ্যায় ৩ : আমাদের চার নেতা
ক. সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিই।
১. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক. সিরাজগঞ্জ
খ. বরিশাল√
গ. ফরিদপুর
ঘ. রংপুর
২. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে কী বলে ডাকা হতো?
ক. দেশনেতা
খ. বিপ্লবী নেতা
গ. শ্রমিক নেতা
ঘ. মজলুম জননেতা√
৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে হয় দফা দাবির কথা বলেন?
ক. ১৯৫২
খ. ১৯৪৭
গ. ১৯৬৯
ঘ. ১৯৬৬√
৪. যুক্তফ্রন্ট গঠনের জন্য কে প্রধান ভূমিকা পালন করেন?
ক. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
খ. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী√
গ. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ঘ. বঙ্গাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
খ. সঠিক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করি।
১. জনগণের…… প্রতিষ্ঠার জন্য হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কাজ করেন।
২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র অবস্থায়……… প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেন।
৩. এ কে ফজলুল হক ছিলেন উপমহাদেশের একজন………. নেতা।
৪. মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের………. নেতা।
উত্তর : ১. অধিকার; ২. পাকিস্তান; ৩. সাহসী; ৪. মজলুম।
গ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে ছিলেন?
উত্তর : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি একাধারে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, বাংলা প্রাদেশিক সরকারের শ্রমমন্ত্রী, সরবরাহ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
২. কারা মওলানা আবদুল হামিদ খানকে ‘ভাসানী’ উপাধি দিয়েছিলেন?
উত্তর: ভাসানচরের কৃষকরা মওলানা আব্দুল হামিদ খানকে ‘ভাসানী’ উপাধি দিয়েছিলেন।
৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়া হয় কেন?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কল্যাণের জন্য ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলনকে দমাতে পাকিস্তান সরকার তাঁর নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়।
৪. কেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন?
উত্তর: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মহাজনদের ঋণের অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।
ঘ. বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. নেতা হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবদান লেখ।
উত্তর: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তানের সকল জাতি ও সকল ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি কাজ করেছেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকাই ছিল প্রধান। তাঁর সারাজীবনের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাই তাঁকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।
২. নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান লেখ।
উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। তিনি পাকিস্তান সরকারের নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি ছয়দফা দাবি পেশ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এতে পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য উজ্জীবিত হয়। ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আটক করে। পরে স্বাধীন বাংলাদেশের তিনি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
৩. সমাজের বৈষম্য দূর করতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কীভাবে অবদান রেখেছেন?
উত্তর: মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের মজলুম জননেতা। ‘মজলুম’ শব্দের অর্থ যার উপর অত্যাচার বা নির্যাতন করা হয়। মওলানা ভাসানী সারাজীবন নির্যাতিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কারণ তিনি এমন একটি সমাজ চাইতেন যেখানে মানুষের উপর নির্যাতন থাকবে না, সমাজে বৈষম্য থাকবে না। তাইতো সমাজের বৈষম্য দূর করতে তিনি গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন। এভাবে সমাজের বৈষম্য দূর করতে তিনি সকল যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থেকে অবদান রেখেছেন।
৪. এ কে ফজলুল হককে ‘বাংলার বাঘ’ বলা হয় কেন?
উত্তর: এ কে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের একজন সাহসী নেতা। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পায়। কৃষকদের দুঃখ দূর করতে তিনি বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মহাজনদের ঋণের অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন তাঁর মধ্যে অন্যতম। সর্বোপরি বলা যায়, এ কে ফজলুল হকের সাহসী নেতৃত্ব এবং ভূমিকার কারণে তাঁকে ‘বাংলার বাঘ’ বলা হয়।
Codehorse Learn Free