চতুর্থ শ্রেণীর হিন্দুধর্ম তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ
তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ: মুনি-ঋষি

চতুর্থ শ্রেণীর হিন্দুধর্ম তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ

চতুর্থ শ্রেণীর হিন্দুধর্ম তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীনকালে অনেক ধার্মিক লোক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে অরণ্যে বসে ঈশ্বরের তপস্যা করতেন। তাঁদের কোনো লোভ-লালসা ছিল না। তাঁরা তপস্যার দ্বারা লোভ-লালসা জয় করেছিলেন। তপস্যায় তাঁরা বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছিলেন। তাঁরা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছিলেন। ধর্ম সম্পর্কেও অনেক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। তাঁদের বলা হয় মুনি। যেসব মুনি তপস্যাবলে বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন, তাঁদের বলা হতো ঋষি।

চতুর্থ শ্রেণীর হিন্দুধর্ম তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ:

ক. শূন্যস্থান পূরণ কর:
১। মুনি-ঋষিরা অরণ্যে বসে___তপস্যা করতেন।
২। মুনিরা ধর্ম সম্পর্কে অনেক___লাভ করেছিলেন।
৩। বেদের কবিতাগুলোকে বলা হয়___।
৪। বিশ্বামিত্র___নামেও পরিচিত ছিলেন।
৫। আমরাও বিশ্বামিত্রের মতো মানুষের___করব।
৬। ব্রহ্মবিদ্যায়___গার্গী ছিলেন অগ্রগণ্য।
উত্তর:
১। মুনি-ঋষিরা অরণ্যে বসে ঈশ্বরের তপস্যা করতেন।
২। মুনিরা ধর্ম সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ করেছিলেন।
৩। বেদের কবিতাগুলোকে বলা হয় মন্ত্র
৪। বিশ্বামিত্র কৌশিক নামেও পরিচিত ছিলেন।
৫। আমরাও বিশ্বামিত্রের মতো মানুষের মঙ্গল করব।
৬। ব্রহ্মবিদ্যায় ব্রহ্মবাদিনী গার্গী ছিলেন অগ্রগণ্য।

খ. ডান পাশ থেকে শব্দ এনে বাম পাশের শব্দের সঙ্গে মেলাও:
উত্তর:
১। বশিষ্ঠ ছিলেন একজন ব্রহ্মর্ষি।
২। বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের কাছ থেকে নিতে চেয়েছিলেন কামধেনু।
৩। যাজ্ঞবল্ক্যর সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন গার্গী।
৪। মুনি-ঋষিরা ছিলেন ত্যাগী।
৫। মুনি-ঋষিদের কাছে আমরা শিখি কষ্টসহিষ্ণুতা।

গ. সঠিক উত্তরটির পাশে টিক () চিহ্ন দাও:
১। ঋষিদের কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
ক. চারটি
খ. পাঁচটি
গ. ছয়টি
ঘ. সাতটি

২। মুনি-ঋষিরা কেন তপস্যা করেছেন?
ক. ধনী হওয়ার জন্য
খ. রাজা হওয়ার জন্য
গ. মানুষের মঙ্গল করার জন্য
ঘ. নিজের আনন্দের জন্য

৩। বহুদক্ষিণ যজ্ঞে কী করা হতো?
ক. অনেক দান করা হতো
খ.যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হতো
গ.আর্তের সেবা করা হতো
ঘ.আত্মীয়দের খাওয়ানো হতো

৪। ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র ও বিদুষী গার্গীর জীবন থেকে আমরা শিক্ষা পাই-
ক.বাহুবল বড়
খ.জনবল বড়
গ.অস্ত্রবল বড়
ঘ. তপোবল বড়

৫। ব্রহ্মবাদিনী বলতে আমরা কাকে বুঝি?
ক.যিনি জ্ঞান চর্চা করেন
খ.যিনি ব্রহ্মচিন্তা করেন
গ.যিনি ব্রহ্মলোকে বাস করেন
ঘ. যিনি ব্রহ্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন

ঘ. নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষেপে উত্তর দাও:

প্রশ্ন ১। মহর্ষি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ঋষিদের মধ্যে যাঁরা প্রধান ও মহান তাঁরাই হচ্ছেন মহর্ষি।

প্রশ্ন ২। যে কোনো দুই শ্রেণির ঋষির বর্ণনা দাও।
উত্তর: ঋষিদের মধ্যে যাঁরা প্রধান বা মহান তাঁরা মহর্ষি এবং যারা দেবতা হয়েও ঋষি তাঁরা দেবর্ষি।

প্রশ্ন ৩। যাজ্ঞবল্ক্য সহস্র গাভী গ্রহণের দাবি করলেন কেন?
উত্তর: যাজ্ঞবল্ক্য নিজেকে শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী মনে করার জন্য সহস্র গাভী গ্রহণের দাবি করলেন।

প্রশ্ন ৪। কী নিয়ে ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য ও বিদুষী গার্গীর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল?
উত্তর: ব্রহ্মবিদ্যা নিয়ে ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য ও বিদুষী গার্গীর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল।

প্রশ্ন ৫। পাঁচজন মুনি-ঋষির নাম লেখ।
উত্তর: পাঁচজন মুনি-ঋষিগণ হলেন- ১. বশিষ্ঠ, ২. বিশ্বামিত্র, ৩. কথ, ৪. মৈত্রেয়ী ও ৫. গার্গী।

প্রশ্ন ৬। পাঁচজন নারী ঋষির নাম লেখ।
উত্তর: পাঁচজন নারী ঋষি হলেন- ১. গার্গী, ২. ঘোষা, ৩. বিশ্ববারা, ৪. অপালা ও ৫. লোপামুদ্রা।

ঙ. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

প্রশ্ন ১। কাদের মুনি-ঋষি বলা হতো?
উত্তর: প্রাচীনকালে যাঁরা অরণ্যে বসে তপস্যা করতেন এবং বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তাদের বলা হতো মুনি। আবার যেসব মুনি তপস্যা বলে বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাদেরকে বলা হতো ঋষি। তারা ছিলেন ধার্মিক।

প্রশ্ন ২। বিশ্বামিত্র রাজ্য ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: বশিষ্ঠের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিশ্বামিত্র ব্রাহ্মণের তপস্যাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করলেন। এ তপস্যাশক্তির কাছে অস্ত্রশক্তি কিছুই না। এসব চিন্তা করে মনের দুঃখে বিশ্বামিত্র তাঁর ব্রাহ্মণত্ব লাভকরার জন্য রাজ্য ছেড়ে চলে গেলেন তপস্যায়।

প্রশ্ন ৩। বিশ্বামিত্র কোন ঋষির সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন? কেন?
উত্তর: বিশ্বামিত্র যুদ্ধ করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠের সাথে। একদিন বিশ্বামিত্র পিপাসার্ত হয়ে বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে গেলেন। বশিষ্ঠ মুনির একটি কামধেনু ছিল। তার কাছে যা চাওয়া হতো তাই পাওয়া যেত। কামধেনুর এ আশ্চর্য ক্ষমতা দেখে কামধেনুটি বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের কাছে চেয়ে বসলেন। বশিষ্ঠ মুনি কোনোকিছুর বিনিময়ে কামধেনুটি না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে বিশ্বামিত্রের সাথে বশিষ্ঠের যুদ্ধ বাধে।

৪. যাজ্ঞবল্ক্যকে অন্য ঋষিরা শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: রাজা জনক যখন ঘোষণা করলেন যে, যজ্ঞসভায় যিনি শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী তাঁকে তিনি এক হাজার গাভী দান করনে। তখন মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য উঠে দাঁড়িয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী দাবি করলেন এবং এক হাজার গাভী গ্রহণ করার কথা বলেন। কিন্তু সবাই তা বিনাবাক্যে মেনে নিলেন না। তখন সবাই যাজ্ঞবল্ককে ব্রহ্মবিদ্যা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। যাজ্ঞবল্ক্য সব প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিলেন। তখন অন্য ঋষিরা যাজ্ঞবল্ক্যকে শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৫। ঋষি গার্গী কেন বিখ্যাত হয়েছিলেন?
উত্তর: বেদে অনেক নারী ঋষির মধ্যে গার্গী অগ্রগণ্য ছিলেন। লোকে তাঁকে বলত বিদুষী গার্গী, ব্রাহ্মবাদিনী গার্গী। ব্রহ্মজ্ঞান সম্পর্কে গার্গী যাজ্ঞবল্ক্যকে অনেক প্রশ্ন করেন। যাজ্ঞবল্ক্যও সব ঠিক উত্তর দিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী হলেও গার্গীর জ্ঞানও কম ছিল না। তাই সবাই তাকে ব্রহ্মবাদিনী বলে স্বীকার করে নেওয়াতে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৬। মুনি-ঋষির আদর্শ আমরা অনুসরণ করব কেন?
উত্তর: মুনি ঋষিদের অনেক গুণ। তাঁরা সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করেন। জগতের মঙ্গল কামনা করেন। জগতের মঙ্গলের জন্য তাঁরা নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। তাঁদের কাছ থেকে আমরা অনেক জ্ঞানের কথা জানতে পাই। বিশ্বের সকলের মঙ্গলের কথা পাই। তাই আমরা তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে তাঁদের মতো জ্ঞানী হব। তাঁরা যেমন সকলের মঙ্গল করেছেন। আমরাও তেমনি সকলের মঙ্গলের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকব।

আরও পড়ুন: চতুর্থ শ্রেণীর হিন্দুধর্ম দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন: হিন্দুধর্ম তৃতীয় অধ্যায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *