চতুর্থ শ্রেণি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রশ্ন উত্তর
চতুর্থ শ্রেণি: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

চতুর্থ শ্রেণি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রশ্ন উত্তর: বাংলাদেশে প্রায় ৪৫টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এদের বেশিরভাগই বাস করেন পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। জনসংখ্যার দিক দিয়ে চাকমা হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। চাকমাদের নিজেদের বর্ণমালা ও ভাষা আছে।

চতুর্থ শ্রেণি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রশ্ন উত্তর

অনুশীলনী সমাধান:

অল্প কথায় উত্তর দাও: 
প্রশ্ন ১। চাকমা জনগোষ্ঠী কোন ধরনের বাড়ি নির্মাণ করেন?
উত্তর: চাকমা জনগোষ্ঠী কাঠ ও বাঁশ দিয়ে এবং পাহাড়ের ঢালে ঢালে বাড়ি নির্মাণ করেন।
প্রশ্ন ২। মারমা জনগোষ্ঠী কোন ধর্মের অনুসারী?
উত্তর: মারমা জনগোষ্ঠী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
প্রশ্ন ৩। সাঁওতালদের একটি উৎসবের নাম লেখ।
উত্তর: সাঁওতালদের, একটি উৎসবের নাম হলো ‘মাঘ সিম’। এটি ঘর বানানোর জন্য বন থেকে খড় কুড়ানোর উৎসব।
প্রশ্ন ৪। মণিপুরিরা যে বিশেষ এক ধরনের সবজির খান তার নাম কী?
উত্তর: মণিপুরিরা নানা ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি যে বিশেষ এক ধরনের সবজি খান তার নাম ‘শিংজু’ বা ‘সিজ্ঞেঞা’।

প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: 
প্রশ্ন ১। কীভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অন্যদের চেয়ে আলাদা?
উত্তর: বাংলাদেশে ৪৫টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে। বাংলাদেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নৃ-গোষ্ঠী হলো- চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, মণিপুরি ইত্যাদি। বাঙালির থেকে এদের জীবনধারা সম্পূর্ণ আলাদা। আবার এদের নিজেদের আচার-আচরণ, বিশ্বাস জীবিকার ধরন প্রভৃতিতেও রয়েছে ভিন্নতা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারও কারও নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে। প্রত্যেক গোষ্ঠীর নিজেদের ভাষায় রচিত গান ও ঐতিহ্যবাহী নাচ আছে। এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা পোশাক আছে, যা তারা নিজেরা তৈরি করে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজেদের রাজা এবং গ্রামপ্রধান আছে। নৃ-গোষ্ঠীগুলোর উৎসব ও পার্বণ আলাদা।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেয়। এ কারণে তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি অন্যদের তুলনায় আলাদা।

প্রশ্ন ২। কীভাবে বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে?
উত্তর: বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অনেক বদলে গেছে। পূর্বে তারা আদিম মানুষের মতো বনে-জঙ্গলে ঘুরে শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। আর খড়কুটা, বাঁশ, কাঠ দিয়ে মাচা তৈরি করে বসবাস করত। অসুস্থ হলে নানা ধরনের ঔষধি গাছ থেকে ওষুধ তৈরি করে ব্যবহার করত। কিন্তু এখন সবার মতো আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও তারা বর্তমান সময়ে পড়াশুনা করে শিক্ষিত হচ্ছে এবং নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হাদি, থামি, আঙ্গি, পানচি, পাড়হাট, লাহিং, আহিং পরিত্যাগ করে আধুনিক পোশাক পরিধান করছে। অনেকে বাঙালিদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রশ্ন উত্তর:

অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর: 

সংক্ষেপে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

প্রশ্ন ১। জনাব ‘ক’ বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক। জনাব ‘ক’ কে কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক বলা যায়?
উত্তর: জনাব ‘ক’ চাকমা নৃ-গোষ্ঠীর লোক।
প্রশ্ন ২। জুম্মন চাকমা বাংলা নববর্ষের সময়ে তিনদিন ধরে একটি উৎসব পালন করেন। জুম্মন চাকমা কোন উৎসব পালন করেন?
উত্তর: জুম্মন চাকমা ‘বিজু’ উৎসব পালন করেন।
প্রশ্ন ৩। মাহিম আসাদের বন্ধু প্রতিবছর বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় দিনে সাংগ্রাই উৎসব উদ্যাপন করেন। মাহিম আসাদের বন্ধু কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক?
উত্তর: মারমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক।
প্রশ্ন ৪। সিয়াম তার মামার কাছে একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্পর্কে জানে যে, তাদের সমাজে মাংস খাওয়া নিষেধ। সিয়াম কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কে জেনেছেন?
উত্তর: সিয়াম মণিপুরি নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কে জেনেছেন।
প্রশ্ন ৫। তোমার দেশে কয়টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস রয়েছে?
উত্তর: আমার দেশে ৪৫টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস রয়েছে।
প্রশ্ন ৬। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
উত্তর: জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হচ্ছে চাকমা।
প্রশ্ন ৭। বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকদের শ্রেষ্ঠ উৎসব কোনটি?
উত্তর: বাংলাদেশের বৃহত্তম ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তথা চাকমাদের শ্রেষ্ঠ উৎসব হচ্ছে ‘বিজু’।
প্রশ্ন ৮। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
উত্তর: জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হচ্ছে মারমা।
প্রশ্ন ৯। সম্পা মারমা নৃ-গোষ্ঠীর লোক। সম্পা কোন ধর্মাবলম্বী?
উত্তর: সম্পা তথা মারমা নৃ-গোষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
প্রশ্ন ১০। কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও কোনো বর্ণমালা নেই?
উত্তর: সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও কোনো বর্ণমালা নেই।
প্রশ্ন ১১। খাঞ্চিদের প্রিয় খাবারের নাম ‘শিংজু’ বা ‘সিঞেী’। তারা কয়টি জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং কী কী?
উত্তর: খাণ্যিরা তথা মণিপুরিরা তিনটি জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা- ১. মৈতৈ, ২. বিষ্ণুাপ্রিয়া ও ৩. পাঙাল।
প্রশ্ন ১২। মারমারা বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন কী উৎসব পালন করে থাকেন?
উত্তর: মারমারা বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন ‘সাংগ্রাই’ উৎসব পালন করে থাকেন।
প্রশ্ন ১৩। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান খাবার কী?
উত্তর: বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তথা চাকমাদের প্রধান খারার হচ্ছে ভাত।
প্রশ্ন ১৪। বাংলাদেশের মণিপুরিরা কোথায় বসবাস করেন?
উত্তর: বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশের মণিপুরিরা বসবাস করেন।

সঠিক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:

১। বাংলাদেশে প্রায়__ টিরও বেশি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বাস রয়েছে।
২। জনসংখ্যার দিক দিয়ে __ হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
৩। মারমা সমাজেও __আছেন।
৪। মারমা নারী-পুরুষের পোশাক হচ্ছে __।
৫। সাঁওতালদের প্রধান খাবার__।
৬। মণিপুরিরা মূলত__ও__।
৭। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমাহারের কারণে আমাদের সমাজ এত__।
৮। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে __হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
৯। চাকমা বেশিরভাগ __করেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলে।
১০। চাকমা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ হচ্ছে__ ধর্মাবলম্বী।
১১। চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও __আছে।
১২। চাকমাদের নিজেদের ভাষায় রচিত__ আছে।
১৩। চাকমাদের প্রতিটি গ্রামে একজন করে__ থাকেন।
১৪। চাকমারা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মাচার মতো __ তৈরি করেন।
১৫। চাকমারা ‘জুম’ পদ্ধতিতে __করে থাকেন।
১৬। জুম. পদ্ধতিতে পুরাতন ফসল পুড়িয়ে গর্ত খুঁড়ে নতুন করে __ বপন করা হয়।,
১৭। চাকমাদের প্রধান খাবার __।
১৮। চাকমারা নিজেরা তাঁতে নানা নকশায় সুন্দর সুন্দর __ বুনন করেন।
উত্তরমালা: ১। ৪৫; ২। চাকমা; ৩। রাজা; ৪। থামি ও আঙ্গি; ৫। ভাত; ৬। কৃষিজীবী, তাঁতি; ৭। বৈচিত্র্যময়; ৮। চাকমা; ৯। বাস; ১০। বৌদ্ধ; ১১। বর্ণমালা; ১২। গান; ১৩। গ্রামপ্রধান; ঘর; ১৫। কৃষিকাজ; ১৬। বীজ; ১৭। ভাত; ১৮। কাপড়;

নিচের কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

প্রশ্ন ১। বাংলাদেশে কতটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক বাস করে? আমাদের সমাজ এতো বৈচিত্র্যময় কেন? বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখ।
উত্তর: বাংলাদেশে ৪৫টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক বাস করে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমাহারে আমাদের সমাজ এতো বৈচিত্র্যময়।বাংলাাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো-
১. বাংলাদেশের বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম চাকমা।
২. চাকমারা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলে বাস করেন।
৩. এদের অধিকাংশ হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।

প্রশ্ন ২। চাকমারা কোন পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করেন? এ পদ্ধতিতে কীভাবে বীজ বপন করা হয়? চাকমাদের জীবনধারা সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: চাকমার জুম পদ্ধতিকে কৃষি কাজ করেন। এ পদ্ধতিতে পূরাতন ফসল পুড়িয়ে গর্ত খুঁড়ে নতুন করে বীজ বপন করা হয়। চাকমাদের জীবনধারা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে।
২. তাদের নিজেদের ভাষায় রচিত গান আছে।
৩. তাদের নিজেদের রাজা আছেন।
৪. তাদের প্রতিটি গ্রামে একজন করে গ্রামপ্রধান থাকেন, যাকে কারবারি বলা হয়।

প্রশ্ন ৩। ‘বিজু’ কোন নৃ-গোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব? এ উৎসব পালন করা হয় কেন? এ নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: ‘বিজু’ চাকমা নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে এ উৎসব পালন করা হয়। চাকমাদের উৎসব সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. চাকমারা বৌদ্ধদের মূল ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করেন।
২. উৎসবের সময় তারা বাড়িঘর ফুল দিয়ে সাজান।
৩. উৎসবের সময় তারা পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
৪. বিশেষ করে বৈশাখ মাসে বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বাংলা নববর্ষ পালন করেন।

প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম কী? তারা কোন ধর্মালম্বী? তাদের পোশাক সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম চাকমা। তারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী। চাকমাদের পোশাক সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. চাকমারা নিজেরা তাঁতে নানা নকশায় সুন্দর সুন্দর কাপড় বুনন করেন।
২. চাকমা মেয়েরা এক ধরনের পোশাক পরেন, যাকে পিনোন বলা হয়।
৩. মেয়েরা শরীরের উপরের অংশে যে ওড়না পরেন তাকে হাদি বলা হয়।
৪. চাকমা পুরুষেরা সাধারণত ফতুয়া ও লুঙ্গি পরেন।

প্রশ্ন ৫। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কারা? তারা সাংগ্রাই উৎসব পালন করেন কেন? তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।
উত্তর: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো মারমা। মারমারা মূলত বাংলা নববর্ষ পালন উপলক্ষে বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় দিনে সাংগ্রাই উৎসব পালন করেন। মারমাদের জীবনধারা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. মারমাদের নিজেদের রাজা আছেন।
২. মারমারা ‘জুম’ পদ্ধতিতে চাষ করেন।
৩. মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ‘থামি’ ও ‘আঙ্গি’।
৪. মারমা জনগোষ্ঠীর লোকেরা বৌদ্ধ ধর্মের সকল উৎসব পালন করেন।

প্রশ্ন ৬। সাঁওতাল মেয়েরা কয় খন্ড কাপড় পরে? এসব অংশকে কী বলা হয়? তাদের চারটি উৎসব বর্ণনা কর।
উত্তর: সাঁওতাল মেয়েরা দুই খণ্ড কাপড় পরে। উপরের অংশকে বলা হয় ‘পানচি’ এবং নিচের অংশকে বলা হয় ‘পাড়হাট’। সাঁওতালদের চারটি উৎসব হলো-
১. ‘সোহরায় উৎসব’ বছরে প্রধান ফসল তোলার পর পালন করা হয়।
২. ঘর বানানোর জন্য বন থেকে খড় কুড়ানোর উৎসব হলো ‘মাঘ সিম’।
৩. ‘এর’ কংসিম’ উৎসবে প্রত্যেক পরিবার থেকে একটি মুরগি উৎসর্গ করা হয় দেবতাদের উদ্দেশে।
৪. ফাল্গুন বসন্তের প্রথম দিনের উৎসব।

প্রশ্ন ৭ । বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম কোনটি? তারা কোন দুটি জেলায় বাস করেন? তাদের দুটি উৎসবের বর্ণনা দাও।
উত্তর: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম হচ্ছে চাকমা নৃগোষ্ঠী। চাকমারা বেশির ভাগ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করেন। চাকমাদের দুটি উৎসবের নাম হচ্ছে-
(i) বৌদ্ধ পূর্ণিমা;
(ii) বিজু উৎসব।
(i) চাকমারা বৈশাখ মাসে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব পালন করেন।
(ii) বাংলা নববর্ষের সময়ে চাকমারা তিন দিন ধরে বিজু উৎসব পালন করেন।

প্রশ্ন ৮। মণিপুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা কোথায় বসবাস করেন? মণিপুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর: মণিপুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা বাংলাদেশে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাস করেন। মণিপুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা সম্পর্কে নিচে পাঁচটি বাক্য দেওয়া হলো-
(i) মণিপুরিদের বাড়িঘর বাঁশ, কাঠ, ইট বা টিনের তৈরি।
(ii) তারা ভাত, মাছ ও নানা ধরনের সবজি খান।
(iii) মাংস খাওয়া তাদের সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ।
(iv) তাদের একটি প্রিয় খাবারের নাম ‘শিংজু’ বা ‘সিঞো’ যা নানা ধরনের শাক দিয়ে তৈরি।
(v) মণিপুরিরা মূলত কৃষিজীবী ও তাঁতি।

প্রশ্ন ৯। শীতের ছুটিতে রিনা রাজশাহীতে বেড়াতে যায়। যেখানে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ের সাথে পরিচিত হয়। মেয়েটি কোন নৃগোষ্ঠীর? তাদের জীবন ধারা সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর: রিনার সাথে পরিচিত মেয়েটি সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর। সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা সম্পর্কে নিচে পাঁচটি বাক্য দেওয়া হলো-
(i) সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে।
(ii) সাঁওতালদের প্রধান খাবার ভাত।
(iii) তারা ‘নালিতা’ নামে এক ধরনের খাবার খায় যা পাট গাছের পাতা দিয়ে রান্না করা হয়।
(iv) বর্তমানে তাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ।
(v) তাছাড়া তারা মাছ ধরা, চা বাগানের কাজ, কুটির শিল্পসহ আরও নানা ধরনের কাজ করে থাকেন।

আরও পড়ুন: চতুর্থ শ্রেণি সমাজের পরস্পরের সহযোগিতা প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন: নাগরিক অধিকার চতুর্থ শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় আমাদের সংস্কৃতি প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণীর বিশ্বপরিচয় আমাদের সংস্কৃতি প্রশ্ন উত্তর: সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন। এর মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *