চতুর্থ শ্রেণি দোয়েল পাখি প্রশ্ন উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল। দেশের প্রায় সব জায়গায়, বিশেষ করে মানব-বসতি, ফসলের খেত ও জলাশয়ের কাছাকাছি এদের দেখা যায়। দোয়েল ছোটো আকারের সুন্দর একটি পাখি, যার গায়ের রং কালো বা ধূসর এবং পেটের দিক সাদা। এরা গাছের কোটরে বা ঝোপঝাড়ে বাসা বাঁধে এবং এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ডিম পাড়ে। পুরুষ দোয়েল বাসা পাহারা দেয় আর স্ত্রী দোয়েল ডিমে তা দিয়ে ছানা বের করে। দোয়েল সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর বাঁচে এবং কীটপুঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা খুব ভোরে ও বিকালে মিষ্টি সুরে গান গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে। এই পাখির স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘দোয়েল চত্বর’ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণি দোয়েল পাখি প্রশ্ন উত্তর:
বাংলাদেশের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল। দেশের প্রায় সব জায়গায় দোয়েল পাখি দেখা যায়। এরা মানব-বসতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় ফসলের খেত এবং নদী বা জলাশয় আছে।
অন্য সব পাখির মতো দোয়েল পাখিও সুন্দর। এর গায়ের রং কালো বা ধূসর এবং পেটের দিকটা সাদা। দোয়েল ছোটো আকারের পাখি। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ থেকে ৭ইঞ্চি। ওজন ৩০ থেকে ৮০ গ্রাম। চোখের রং কালো। লেজ বেশ লম্বা। বেশিরভাগ সময় লেজ উঁচু হয়ে থাকে।
দোয়েল পাখি গাছের কোটরে ও ঝোপঝাড়ে বাসা বানায়। বেশিরভাগ সময় এদের জোড়ায় থাকতে দেখা যায়। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে স্ত্রী দোয়েল ডিম পাড়ে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং হালকা নীলচে সবুজ। তার উপর বাদামি ছোপ থাকে। পুরুষ দোয়েল বাসা পাহারা দেয়। স্ত্রী দোয়েল ডিমে তা দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ডিম ফুটে ছানা বের হয়।
দোয়েল পাখি ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এরা সাধারণত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ায়। তখন লেজের ডগা নাচায়। প্রয়োজন না হলে এরা একটানা বেশি দূর ওড়ে না। দোয়েল খুব ভোরে কিংবা বিকালবেলায় মিষ্টি সুরে গান গায়। এদের মিষ্টি মোলায়েম সুর মানুষকে মুগ্ধ করে।
আমাদের আশপাশের অনেক দেশে দোয়েল পাখি আছে। নানা কারণে দিনদিন এই পাখি কমে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জোড়া দোয়েলের ভাস্কর্য রয়েছে। এটি দোয়েল চত্বর নামে পরিচিত।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১. পাঠ থেকে প্রশ্ন বানাই।
কী?: দোয়েল পাখি কী খায়?
কোথায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কোথায় দোয়েলের ভাস্কর্য রয়েছে?
কখন? : দোয়েল পাখি কখন মিষ্টি সুরে গান গায়?
কীভাবে?: দোয়েল পাখি কীভাবে লাফিয়ে বেড়ায়?
কেমন? : দোয়েল পাখির ডিমের রং কেমন?
কেন? : কেন দোয়েল পাখির সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে?
কোন? : দোয়েল পাখি কোন সময় ডিম পাড়ে?
কত? : একটি দোয়েল পাখির ওজন কত হতে পারে?
২. বন্ধনী থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গায় লিখি।
ক. পেনসিল বা কলম দিয়ে লেখো। (এবং/বা)
খ. এই গাছে দোয়েল অথবা কোকিল যেকোনো একটি পাখির বাসা আছে। (এবং/অথবা)
গ. আজ মালতি ও সাবিনা কেউই বিদ্যালয়ে আসেনি। (কিংবা/ও)
ঘ. গাছের ডালে অথবা মাটিতে দোয়েল লাফিয়ে বেড়ায়। (অথবা/ও)
ঙ. চা কিংবা শরবত কোনটি খাবে? (এবং/ কিংবা)
৩. শব্দ সাজিয়ে বাক্য লিখি।
ক. নাম জাতীয় বাংলাদেশের পাখির দোয়েল।
সঠিক বাক্য: বাংলাদেশের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল।
খ. দেয় পুরুষ পাহারা বাসা দোয়েল।
সঠিক বাক্য: পুরুষ দোয়েল বাসা পাহারা দেয়।
গ. দোয়েল হয় পাখি ছোটো আকারের।
সঠিক বাক্য: দোয়েল ছোটো আকারের পাখি হয়।
ঘ. উপকার আমাদের পাখি অনেক করে।
সঠিক বাক্য: পাখি আমাদের অনেক উপকার করে।
ঙ. বাসা বেশিরভাগ গাছে বানায় পাখি।
সঠিক বাক্য: পাখি বেশিরভাগ গাছে বাসা বানায়।
চ. গান শুনে জুড়ায় কান পাখির।
সঠিক বাক্য: পাখির গান শুনে কান জুড়ায়।
৪. বিপরীত শব্দ লিখি।
| প্রদত্ত শব্দ | বিপরীত শব্দ |
| পছন্দ | অপছন্দ |
| সুন্দর | অসুন্দর/কুৎসিত |
| প্রিয় | অপ্রিয় |
| খুশি | অখুশি |
| হালকা | ভারী |
| রাত | দিন |
| দূর | নিকট/কাছে |
৫. কোন শব্দটি অন্যগুলোর থেকে আলাদা তা লিখি।
দোয়েল/গাছ/বক/শালিক → গাছ
লেজ/পাখা/ মাথা/ পাতা → পাতা
ফল/ডানা/ মূল/ ফুল → ডানা
সাদা/ধূসর/পাখি/ কালো → পাখি
নদী/ জলাশয়/ পাহাড়/ পুকুর → পাহাড়
এপ্রিল/জুলাই/মে/ছানা → ছানা
পাখি/প্রজাপতি/ মাকড়সা/ তেলাপোকা → পাখি
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৬. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. দোয়েল পাখি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: দোয়েল পাখি দেশের প্রায় সব জায়গায় দেখা যায়। তবে এরা মানব-বসতির কাছাকাছি এবং বিশেষ করে যেসব জায়গায় ফসলের খেত এবং নদী বা জলাশয় আছে, সেখানে থাকতে পছন্দ করে।
খ. দোয়েল পাখি কেন ফসলের খেতে আসে?
উত্তর: দোয়েল পাখি সাধারণত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খায়। ফসলের খেতে প্রচুর কীটপতঙ্গ পাওয়া যায় বলে খাবারের খোঁজে এরা সেখানে আসে।
গ. দোয়েল পাখি কখন বাসা বানায়?
উত্তর: দোয়েল পাখি সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে বাসা বানায় এবং এই সময়ের মধ্যেই স্ত্রী দোয়েল ডিম পাড়ে। এরা গাছের কোটরে ও ঝোপঝাড়ে বাসা বানাতে পছন্দ করে।
ঘ. দোয়েল পাখি কীভাবে মানুষকে মুগ্ধ করে?
উত্তর: দোয়েল পাখি খুব ভোরে কিংবা বিকালবেলায় মিষ্টি সুরে গান গায়। এদের এই মিষ্টি ও মোলায়েম গানের সুর মানুষকে মুগ্ধ করে।
ঙ. পাখি কেন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে?
উত্তর: নানা কারণে যেমন-বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়া, ফসলের খেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবুনের ফলে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ও খাবারের অভাব দেখা দিচ্ছে। এ কারণে দিনে দিনে পাখি কমে যাচ্ছে।
চ. পাখির জন্য আমরা কী করতে পারি?
উত্তর: পাখির জন্য আমরা নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারি:
১. বেশি করে গাছ লাগাতে পারি যাতে তারা বাসা বানাতে পারে।
২. পাখির নিরাপদ আবাসন নষ্ট না করা।
৩. বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় ছোট পাত্রে তাদের জন্য পানি ও খাবারের ব্যবস্থা রাখা।
৪. বিনা কারণে পাখি শিকার করা থেকে বিরত থাকা এবং অন্যদের সচেতন করা।
৭. ছক থেকে শব্দ খুঁজে বের করি।
সমাধান: ১. পাখি ২. দোয়েল ৩. গাছ ৪. সবুজ ৫. ডাব ৬. তাল ৭. বন্য ৮. কাল ৯. শালিক ১০. কান ১১. ছাতা ১২. সবার
৮. একটি পাখি নিয়ে রচনা লিখি।
পাখিটির নাম কী?
পাখিটি কোথায় দেখেছ?
পাখিটি দেখতে কেমন?
এরা কেমন করে ডাকে?
এরা কোথায় থাকে?
কী ধরনের খাবার খায়?
উপরে দেওয়া প্রশ্নের উত্তরগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি ‘দোয়েল’ নিয়ে একটি রচনা নিচে দেওয়া হলো:
আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল
ভূমিকা: বাংলাদেশের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল। এটি একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং সুন্দর পাখি। আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গায় এই পাখিটি দেখা যায়।
বাসস্থান: দোয়েল পাখি সাধারণত মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। এরা বড় কোনো ঝোপঝাড়, গাছের কোটরে বা পুরনো দালানের ফাঁকফোকরে খড়কুটো দিয়ে বাসা বানায়। আমি আমার বাড়ির পাশের আম গাছে এবং বিদ্যালয়ের বাগানের ঝোপে এই পাখিটি দেখেছি।
শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্য: দোয়েল একটি ছোট আকারের পাখি, এর মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি এবং ওজন ৩০ থেকে ৮০ গ্রাম হয়ে থাকে। এর গায়ের রঙ সাদা-কালো বা ধূসর। পেটের দিকটা সাদা এবং পিঠের দিক ও গলার নিচের অংশ কুচকুচে কালো। দোয়েলের লেজ বেশ লম্বা এবং এরা যখন ডালে বসে থাকে, তখন লেজটি সুন্দরভাবে নাচায় বা উঁচু করে রাখে।
খাদ্যভাস: দোয়েল পাখি সাধারণত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা ফসলের খেত থেকে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে, মাঝে মাঝে এদের ছোট ছোট ফল বা ফুলের মধু খেতেও দেখা যায়।
ডাক ও স্বভাব: দোয়েল খুব ভোরে এবং বিকালবেলায় মিষ্টি সুরে গান গায়। এদের মোলায়েম ও সুরেলা ডাক যে কাউকে মুগ্ধ করে. এরা খুব চঞ্চল প্রকৃতির; এক ডাল থেকে অন্য ডালে সারাক্ষণ লাফিয়ে বেড়ায়। তবে প্রয়োজন ছাড়া এরা খুব বেশি দূর ওড়ে না।
উপসংহার: দোয়েল আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এর গান আমাদের আনন্দ দেয়। কিন্তু ঝোপঝাড় ও বনজঙ্গল কমে যাওয়ার কারণে এই সুন্দর পাখিটি আগের মতো আর দেখা যায় না। তাই আমাদের উচিত পাখিটির নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করা এবং তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া।
Codehorse Learn Free