চতুর্থ শ্রেণি জন্মেছি এই দেশে কবিতার প্রশ্ন উত্তর: ‘জন্মেছি এই দেশে’ কবিতায় কবির গভীর দেশপ্রেম ও স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। কবির কাছে নিজের দেশ তাঁর গর্ভধারিণী মায়ের মতো। এ দেশের সুমধুর ‘মা’ ডাক এবং কৃষকের মাঠের গানের সুর কবির হৃদয়ে প্রশান্তি জোগায়। এ দেশের নদী, পাহাড়, বন আর খোলা আকাশের নিচে জন্ম নিয়ে কবি নিজেকে ধন্য মনে করেন। এ দেশের মাঠের ধূলিকণা মেখেই এ দেশের সন্তানরা বড় হয় এবং দেশমাতৃকাকে নিয়ে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এ দেশের আলো-বাতাসে লালিত হয়ে প্রতিটি সন্তান বড় গৌরবে এবং সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে প্রকৃত মানুষ হতে চায়। স্বদেশের প্রকৃতির সাথে কবির নাড়ির টান এতই প্রবল যে, তিনি এই পুণ্যভূমিতেই আজীবন বেঁচে থাকতে চান এবং এই দেশের মাটিতেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
চতুর্থ শ্রেণি জন্মেছি এই দেশে কবিতার প্রশ্ন উত্তর:
জন্মেছি এই দেশে
-সুফিয়া কামাল
অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভালো লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কণ্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।
মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।
এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাষা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।
শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড়ো গৌরবে মাথা উঁচু করি
মানুষ হইতে চায়।
বোর্ড বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান-
১. কবিতা থেকে মিল-শব্দ খুঁজি।
বেলা – খেলা
সুর – সুমধুর
ভেসে দেশে
ভাষা – আশা
গায় – চায়
২. বাক্য লিখি।
গুনগুন: মৌমাছি ফুলের ওপর গুনগুন করে গান গায়।
চাষি: রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে চাষি ভাই মাঠে ফসল ফলান।
ক্লান্ত: সারাদিন পরিশ্রমের পর পথিক গাছতলায় বসে ক্লান্ত শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন।
সম্মান: গুণী মানুষকে সম্মান করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
নদী: আমাদের দেশের ওপর দিয়ে ছোট-বড় অনেক নদী বয়ে গেছে
পথ: সামনের আঁকাবাঁকা পথটি সোজা গ্রামের ভেতরে চলে গেছে।
৩. শব্দ নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করি।
আকাশে, কৃষক, পাহাড়, সম্মান, পরিশ্রান্ত, স্বাধীন;
ক. আমরা বড়োদের সম্মান করব।
খ. শ্রমিক পরিশ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে।
গ. কৃষক মাঠে নানা ধরনের ফসল ফলায়।
ঘ. আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়।
ঙ. সিলেটেও ছোটো-বড়ো অনেক পাহাড় আছে।
চ. আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।
৪. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. ক্লান্তি দূর করতে কৃষক কী করেন?
উত্তর: সারাদিন মাঠে কাজ করার পর যখন কৃষক ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন সেই ক্লান্তি দূর করতে তিনি নিজের কণ্ঠে গানের সুর তুলে ধরেন। তাঁর সেই সুর মুক্ত মনের গান হয়ে আকাশের বুকে ভেসে বেড়ায়।
খ. কবি কেন এ দেশেই মরতে চান?
উত্তর: কবি এই দেশের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন এবং এই দেশের আকাশ-বাতাস, নদী, পাহাড় ও বনের সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ। এ দেশের প্রতি গভীর মমতা ও নাড়ির টানের কারণেই তিনি এই দেশের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান।
গ. মা ডাক কেন এত ভালো লাগে?
উত্তর: পৃথিবীতে অনেক কথা ও অনেক গানের সুর থাকলেও কবির কাছে ‘মাগো’ ডাকটি সবচেয়ে মধুর মনে হয়। এই ডাকের মধ্যে যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্ববোধ লুকিয়ে আছে, তা আর অন্য কোনো শব্দে নেই।
ঘ. এ দেশের শিশুরা কী হতে চায়?
উত্তর: এ দেশের শিশুরা এই দেশের ধুলোবালি গায়ে মেখে পরম মমতায় বড় হতে চায়। তারা প্রকৃত মানুষের মতো মানুষ হয়ে বড় গৌরবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়।
ঙ. বাংলাদেশের প্রকৃতির কী কী ভালো লাগে?
উত্তর: বাংলাদেশের নীল আকাশ, স্নিগ্ধ বাতাস, আঁকাবাঁকা নদী, উঁচু পাহাড় (গিরি) এবং সবুজ বনভূমি কবির কাছে খুব ভালো লাগে। এছাড়া এ দেশের মাঠের মাটি আর কৃষকের দরদি গানের সুর প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
৫. আগের চরণ লিখি।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কণ্ঠে যে তার ।
সুর লয়ে করে খেলা।
মুক্ত আকাশের মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে
৬. কবিতাটি আবৃত্তি করি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিক্ষার্থীরা এই কাজটি শ্রেণিশিক্ষকের সহায়তায় করবে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৭. ব্যাখ্যা বলি ও লিখি।
শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড়ো গৌরবে মাথা উঁচু করি
মানুষ হইতে চায়।
ব্যাখ্যা: এই পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে কবি এ দেশের মানুষের সাথে তাদের জন্মভূমির নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। বাংলার ধূলিকণা এ দেশের সন্তানদের কাছে কেবল সাধারণ মাটি নয়, বরং পরম মমতার এক স্থান। তাই এ দেশের শত শত সন্তান গভীর ভালোবাসা ও আগ্রহ নিয়ে এ দেশের ধুলোবালি গায়ে মেখে বড় হয়ে ওঠে। শৈশব থেকেই এই দেশের প্রকৃতি ও মাটির সাথে মিশে তারা বেড়ে ওঠার প্রেরণা পায়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সুশিক্ষা ও আদর্শে বলীয়ান হয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। তারা চায় নিজেদের সৎ কর্ম ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত হতে, যাতে বিশ্বদরবারে তারা সগৌরবে এবং মাথা উঁচু করে সুনাগরিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
৮. নাম-শব্দ বাছাই করে ডানপাশের ঘরে লিখি।
| শব্দ | নাম-শব্দ |
| আকাশ, চায়, মধুর, তিনি, বাতাস, সুন্দর, বন, পাহাড়, সে, দেশ, নদী, ভেসে, সন্তান, উঁচু, ধূলি, মানুষ, করি, গৌরব, সাধ, মাথা, তরল, গাছ। | আকাশ, বন, পাহাড়, দেশ, নদী, সন্তান, ধূলি, মানুষ, মাথা, গাছ। |
Codehorse Learn Free