এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করব।

সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর:

০১. সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী ‘তাহমিদ’ ক্লাসে সবার প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে তাহমিদ এগিয়েই থাকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সড়ক দুর্ঘটনায় তাহমিদ একটি পা হারায়। তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে সাহস জোগায় এবং তার পাশে দাঁড়ায়। বন্ধুদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তাহমিদ এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়।

(ক) ‘শুক্লাদ্বাদশী’ অর্থ কী?
(খ) ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি’ সুভার এরূপ মনোভাবের কারণ কী?
(গ) ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাথে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য কোথায় বর্ণনা কর।
(ঘ) ‘উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না’ মন্তব্যটি ‘সুভা’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ কর।

উত্তরপত্র (১নং প্রশ্ন)

ক) ‘শুক্লাদ্বাদশী’ অর্থ চাঁদের বারোতম দিন।

খ) ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি’- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত।
‘সুভা’ গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে তার এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করে। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। এতে সুভার সীমাবদ্ধতা তার বারবার মনে পড়ে। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।

গ) সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
কোনো ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটিগ্রস্ত হলে এবং এর ফলে সাধারণ জীবনযাপনে অক্ষমতা প্রকাশ পেলে সেই অবস্থাকে প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। এটি একটি নিয়তিনির্ভর অবস্থা, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তির কোনো হাত থাকে না।
উদ্দীপকের তাহমিদ সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী একজন ছেলে। সে ক্লাসের প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে সে এগিয়ে থাকে সব সময়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারায় তাহমিদ। অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার কারণে তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। তার ওপরে যেমন বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে তেমনই তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়। ‘সুভা’ গল্পে সুভাও একজন বাম্প্রতিবন্ধী বালিকা। সে কথা বলতে পারত না ঠিক, কিন্তু সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল। তার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত অর্থাৎ তার ছিল তীক্ষ্ণ। অনুভূতি শক্তি। শুধু তার প্রতিবন্ধিতা বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল।। ফলে তাকে দুঃখময় বিষণ্ণ জীবন পার করতে হয়। তাই বলা যায়, ‘সুভা’গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য শরীরিক প্রতিবন্ধিতায়।
উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও। তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না’- মন্তব্যটি যথার্থ।

ঘ) শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানুষের কোনো অযোগ্যতা নয়। সামান্য সহানুভূতি ও উৎসাহ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এতে সমাজের কল্যাণ সাধিত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মূলত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের বিকাশে মমত্বশীল, দৃষ্টিভঙ্গি, সহযোগিতা ও সহানুভূতিই তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে।
উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানো তাহমিদের প্রতি বন্ধুদের সহানুভূতি ও সাহস জোগানের দিকটি আমরা লক্ষ করি। এমন দুঃখ-দুর্দশার সময় তাহমিদের পাশে এসে তার বন্ধুরা দাঁড়িয়েছে। যার ফলে সে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে পেরেছে এবং আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উৎসাহ লাভ করেছে। একটি পা হারিয়ে হতাশার ভয়াল অন্ধকারে সে হারিয়ে যায়নি; বরং বন্ধুদের সাহস ও সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে।। কল অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভা বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে উঠে আসতে পারেনি। কারণ তাকে সাহস ও সহানুভূতি দেখানোর কেউ ছিল না। এমনকি তার পরিবারও তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে মনে করতেন। অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার অভাব সুভাকে দুঃসহ বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়।
উদ্দীপকের তাহমিদ বন্ধুদের কাছে থেকে যেমন উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে তেমনটি কিন্তু গল্পের সুভা পায়নি। সাহস দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করলে সুভাও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মত হতো এবং তার পরিবারও কন্যাদায়গ্রস্ততা থেকে মুক্তি পেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতাপেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।

 

০২. বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২’-এর উদ্বোধনী আসর অনুষ্ঠিত হয় কাতারের আলবাইত স্টেডিয়ামে। মঞ্চে আসেন দুহাতে ভর দিয়ে চলা বিশ বছরের যুবক গানিম আল, মুফতাহ। গানিমের সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জমকালো আসর শুরু হয়। কে এই গানিম? জন্মগতভাবেই তাঁর দুটি পা নেই। এজন্য শিশুকাল থেকে তাঁকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তবে তাঁর মা-বাবা দুজন দুটি পা হয়ে সন্তানের সঙ্গে থেকেছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন। তাই তো তিনি বিশ্বের দরবারে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

(ক) বাঁখারি’ অর্থ কী?
(খ) সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে যে দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবস্থারও পরিবর্তন হতো।”- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তরপত্র (২নং প্রশ্ন)

ক) বাঁখারি অর্থ কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।

খ) বিদেশযাত্রার উদ্যোগ হতে লাগল বলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রটি ছিল জন্ম থেকেই বোবা। বোবা হওয়ার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কিন্তু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না কিন্তু পিতা-মাতাকে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।

গ) উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুভা’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা। সে জন্ম থেকেই বোবা। তার এই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাবা-মা বেশ চিন্তিত থাকেন। কারণ গল্পে দেখা যায় যে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সমাজ অবহেলার চোখে দেখে। তাই তো সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক বলে জ্ঞান করেন। সে কারও কাছে কোনো সহানুভূতি পায় না। তার একমাত্র ভাষাসম্পন্ন বন্ধু ছিল প্রতাপ। তাকেও দেখা যায় সুভার অনুভূতি উপলব্ধি করতে চায় না। বোবা হওয়াটা যেন তার পাপ। তার ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, সিদ্ধান্ত কোনোকিছুরই কেউ তোয়াক্কা করে না।
উদ্দীপকের গানিমকেও দেখা যায় যে জন্মগতভাবে তাঁর পা দুটি নেই। এজন্য শিশুকাল থেকেই তাকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য সেও সমাজে # কারও কাছে কোনো মূল্য পেত না। সমাজ তাকেও সব সময় ছোটো ও হীন করে দেখত, যার পুনরাবৃত্তি সুভা চরিত্রে আমরা পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) “উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবস্থারও পরিবর্তন হতো।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। এটা প্রকৃতিরই এক লীলা। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পরিবারের লোকজন বোঝা মনে করে। তারাও যে আট-দশটা সাধারণ মানুষের মতো তা কেউ মানতেই চায় না। তারা কোনো কাজের নয়- এটা ভেবে তাদের সব সময় দূরে রাখা হয়। কিন্তু তারাও একটু বাড়তি যত্ন আর সুযোগ পেলে অসাধ্যকে সাধন করতে পারবে।
উদ্দীপকের গানিমকে দেখা যায় যে, জন্ম থেকেই তাঁর দুটি পা নেই। এজন্য শিশুকাল থেকে তাঁকে পদে পদে নানা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর বাবা-মা দুজন গানিমের দুটি পা হয়ে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। যার ফলে বিশ্ব দরবারে তিনি আজ মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে শুধু পরিবার তাঁর পাশে ছিল বলে।
‘সুভা’ গল্পে সুভা চরিত্রের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন রূপ। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবার তাকে প্রেরণা না জুগিয়ে বরং আরও বোঝা মনে করেছে। বিশেষ করে সুভার মা। অথচ বোবা কন্যার এই অবস্থায় মা অথবা বাবা যদি তার মুখের বুলি হতেন, তার আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতেন তাহলে সমাজ তাকে এত তাচ্ছিল্য করতে পারত না। তার বাবা-মায়ের কাছেও এতটা বোঝা মনে হতো না। এমনকি প্রেরণা পেলে সুভার কোনো সুপ্ত প্রতিভাও হয়তো বিকশিত হতে পারত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবস্থারও পরিবর্তন হতো। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।


০৩. শৈশবে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে সাবিনা। বাবা-মা তাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পড়াশোনা করে সে আজ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক। সে এখন সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ

(ক) সুভা কীসের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন?
(খ) পিতা-মাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরূক ছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকের সাবিনার সাথে সুভার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) ”সুভা’ গল্পের সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের সাবিনার বাবা- মায়ের মতো হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

উত্তরপত্র (৩নং প্রশ্ন)

ক) সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।

খ) সুভার কথা বলতে না পারার বেদনা ভুলতে পারে না বলে পিতা-মাতার মনে সে সর্বদাই জাগরূক ছিল।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এই ত্রুটির কারণে সবাই তার সামনেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইত। কিন্তু তার কথা বলতে না পারা পিতা-মাতার বেদনার কারণ ছিল। আর বেদনা কেউ কখনো ভুলে যেতে পারে না। তাই সে সর্বদাই পিতা-মাতার মনে জাগরুক ছিল।

গ) সুভার প্রতি অবহেলাই তার সাথে উদ্দীপকের সাবিনার বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়। এই ত্রুটির উপর মানুষের-কোনো হাত থাকে না। তাই কারও মধ্যে এই ত্রুটি দেখা দিলে তাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করা উচিত নয়। বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাবিনা সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এতে তার জীবন থেমে থাকেনি। বাবা-মা তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলে সে পড়াশোনা করে আত্মনির্ভরশীল হতে পেরেছে। সাবিনার জীবনের এই ঘটনা ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছে সে অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের সাবিনার সঙ্গে তার বৈসাদৃশ্য।

ঘ) “সুভা’ গল্পে সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের সাবিনার বাবা- মায়ের মতো হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রতিবন্ধীরা সমাজেরই অংশ। তাদেরও এ সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তবে এদেরকে সুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে দিতে পরিবার ও পারিপার্শ্বের মানুষের সহযোগিতাই সর্বাগ্রে। প্রয়োজন। সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবই এ ধরনের উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো সাবিনার সফল জীবনের। ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়ে সাবিনাকে থেমে থাকতে হয়নি। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। সে সমাজের বোঝা হয়ে থাকেনি।
‘সুভা’ গল্পে জন্ম থেকেই কথা বলতে না পারা সুভাকে পরিবার ও সমাজের অনেক অবজ্ঞা, অবহেলা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তার বাবা-মা তাকে সহযোগিতা করেনি। তারা যদি তার প্রতি সহানভূতিশীল হয়ে তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করত অথবা অন্য উপায়ে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করত, তবে তার জীবন অন্য রকম হতো। সমাজের বোঝা হয়ে এতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো না। যে নির্বাক প্রকৃতিকে সে তার পরম বন্ধু ভেবেছিল, তাকে ছেড়েও শেষ পর্যন্ত চলে যেতে হতো না। তাই সুভার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় তার পরিবার ও সমাজকেও দিতে হয়। বিশেষ করে তার বাবা-মাকে। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ সুভাকে আদর করেন। সন্তানের অসুস্থতা তাকে দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন করে। বয়স হলেও সুভাকে পাত্রস্থ করতে না পারায় গ্রামের মানুষের কটু কথা শুনে চুপ থাকেন। অবশেষে একঘরে করার হুমকিতে শুভাকে পাত্রস্থ করার জন্য তাকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমানোর আয়োজন করেন। তখন সুভা ভীষণ মনঃকষ্টে ভোগে। কারণ সে তার চেনা পরিবেশ ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। বাবাকে সে তার কষ্টের কথা বোঝাতে চেষ্টা করে। বাবার পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে কান্না করে। কিন্তু বাবা তার মনোবেদনা বুঝতে পারে না। উভয় ক্ষেত্রেই অসুস্থ সন্তানের অসহায়ত্ব ও মনোবেদনা বুঝতে না পারার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।


০৪. পোলিও আক্রান্ত হয়ে শাহানের বাম পা বাঁকা হয়ে গেছে। হাঁটতে তার খুব কষ্ট হয়, স্কুলে যাওয়ার জন্য সবার আগে ঘর থেকে বেরিয়েও সে সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারে না। রাস্তায় বেশ কয়েকবার বসতে হয়, তবুও প্রচণ্ড ব্যথা হয়, দেরি হয়ে গেলে প্রায়ই সে স্কুলে যায় না। স্কুলের পাশের প্রকান্ড মাঠের কোণে বসে সারাক্ষণ আকাশের পানে চেয়ে থাকে। শ্রমজীবী বাবাকে এ কথা জানালে তিনি বলেন, ‘এ সবই তার স্কুল কামাইয়ের অজুহাত।’- এতে শাহান খুব কষ্ট পায় এবং কাঁদতে শুরু করে।

(ক) সুভা দিনে কয়বার গোয়ালঘরে যেত?
(খ) ‘প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়’- ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের শাহানের বাবা ও ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবার মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকের শাহান যেন ‘সুভা’ গল্পের সুভার মতোই সামাজিক অবস্থার শিকার”- ‘সুভা’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

উত্তরপত্র (৪নং প্রশ্ন)

ক) সুভা দিনে নিয়মিত তিনবার গোয়ালঘরে যেত।

খ) প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসে। তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

গ) উদ্দীপকের শাহানের বাবা ও ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবার মধ্যে সন্তানের মনোবেদনা বুঝতে পারার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ নানাভাবে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হয়ে থাকে। পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রেই তারা স্বাভাবিক মানুষের কাছ থেকে অমানবিক আচরণের শিকার হয়। আমাদের একটু সহানুভূতি তাদের জীবনে পূর্ণতা বয়ে আনতে পারে।
উদ্দীপকে পোলিও আক্রান্ত শাহানের জীবনের কষ্ট-যন্ত্রণা এবং তার পরিবারের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। শাহানের বাবা একজন শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষ। তার সন্তান পোলিও আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও সে তা বুঝতে পারে না। এ কারণেই শাহান নিজের কষ্টের কথা বললে সে শাহানকে বলে এ সবই তার স্কুল কামাইয়ের অজুহাত। পিতা হয়েও সে শাহানের মনোবেদনা বুঝতে পারেনি।

ঘ) “উদ্দীপকের শাহান যেন ‘সুভা’ গল্পের মতোই সামাজিক অবস্থার শিকার”- ‘সুভা’ গল্প অনুযায়ী মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অবহেলার চোখে দেখে। কারণ এদেরকে তারা কোনো কাজের যোগ্য নয় বলেইবিবেচনা করে। তারা এটা মানতে চায় না যে, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বেঁচে থাকার পথে কখনো বাধা হতে পারে না। সহযোগিতা পেলে তারাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং সুযোগ পেলে সমাজে অবদান রাখতে পারে।
‘সুভা’ গল্পে সুভা বাকপ্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সীরা তাকে খেলায় নেয় না, তার সঙ্গে মেশে না, কথা বলতে চায় না। প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার প্রতিবন্ধিতা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। ফলে সুভা নির্বাক প্রকৃতির কাছে তার মুক্তির আনন্দ খোঁজে। অন্যদিকে নির্বাক হওয়ায় বাণীকণ্ঠ মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারেন না। তাই নিরুপায় হয়ে সুভার বিয়ের কথা ভেবে তাকে নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার আয়োজন করেন। ‘সুভা’ গল্পে সুভার এমন সামাজিক অবস্থার সঙ্গে উদ্দীপকের শাহানের সামাজিক অবস্থানের মিল রয়েছে। শাহানা পোলিও আক্রান্ত হয়েছে বলে সমাজে সে অবহেলিত। বাম পা বাঁকা হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হয়। সবার আগে ঘর থেকে বের হয়েও সে সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারে না। ক্লান্ত হয়েস্কুলের পাশের মাঠের এক কোণে বসে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। তার কষ্টের কথা পরিবারের কেউ অনুধাবন করতে চায় না।
‘সুভা’ গল্পে সুভাকে তার মা যেমন মেনে নিতে পারেন না তেমনই সমাজের মানুষের কাছেও সে অবহেলিত থাকে। প্রতাপও কেবল ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় নির্বাক সঙ্গী হিসেবেই তাকে দেখত, সুভার কষ্ট বা মনোবেদনা অনুধাবন করত না। উদ্দীপকের শাহানের কষ্টও কেউ বুঝতে চায়নি। এমনকি বাবাও শাহানকে অবিশ্বাস করেছে। ঠিক সময়ে স্কুলে না যেতে পারাকে স্কুল কামাইয়ের অজুহাত মনে করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


০৫. একমাত্র সন্তান কাব্য বাকপ্রতিবন্ধী- বিষয়টি যখন জানলেন মিসেস শরীফা- একটুও ঘাবড়ালেন না; স্বামীকেও বোঝালেন। বাবা-মা’র পরম স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্নে বেড়ে উঠতে লাগল কাব্য। একদিন মা লক্ষ করলেন ছেলে আপন মনে কাগজে আঁকিবুঁকি করছে। তিনি বুঝে গেলেন মুখে ভাষা না থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে একদিন বিশ্ব জয় করবে। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে ছেলের আঁকাআঁকির জন্য যা যা করা দরকার সব করলেন। আজ দেশে-বিদেশে কাব্যে’র আঁকা ছবি প্রদর্শনী হচ্ছে; বিক্রি হচ্ছে বহু মূল্যে।

(ক) বাবা-মা’র কোন আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রু-বাষ্পে ভরে উঠেছিল?
(খ) ‘তুমি আমাকে যাইতে দিও না, মা’- সুভার এই অভিব্যক্তি বুঝিয়ে লেখ।
(গ) কাব্যে’র বাবা-মা’র সাথে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র বৈসাদৃশ্য দেখাও।
(ঘ) উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যে’র মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত- যুক্তি দাও।

উত্তরপত্র (৫নং প্রশ্ন)

ক) বাবা-মায়ের বিদেশযাত্রার আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রু- বাষ্পে ভরে উঠেছিল।

খ) নিজের চিরচেনা জগৎকে আঁকড়ে ধরে সুভা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা তাকে কলকাতায় নিয়ে যেতে চান। কলকাতায় যাওয়ার আগের দিন সুভা তার চিরপরিচিত জগৎ নদীতীরে এসে লুটিয়ে পড়ে। দুই বাহু প্রসারিত করে সে যেন ধরণিকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কারণ সে তার এই চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। সে চায় ধরণিও তাকে যেন জড়িয়ে ধরে রাখে। তাকে যেন যেতে না দেয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে সুভার এই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।

গ) কাব্যের বাবা-মা’র সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র মনোভাব ও পদক্ষেপ গ্রহণে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজে স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে কিছু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষও দেখা যায়। তারা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক সময় অবহেলার শিকার হয়। অথচ তারাও মানুষ। সবার সহযোগিতা, আদর-যত্ন পেলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে পারে। তাদের জীবন আরও সুন্দর হতে পারে।
উদ্দীপকের কাব্য বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তার মা মিসেস শরীফা একটুও ঘাবড়ালেন না; স্বামীকেও বোঝালেন। বাবা-মায়ের পরম স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্নে বেড়ে উঠতে লাগল কাব্য। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পে বাবা তাকে কিছুটা ভালোবাসলেও মা সুভাকে নিজের ত্রুটি হিসেবে দেখেন; তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক বিবেচনা করে তার প্রতি খুবই বিরক্ত হন। বয়স বাড়তে শুরু করলে মা-বাবা তাকে বোঝা হিসেবে মনে করেন। লোকের নিন্দা থেকে বাঁচার জন্য পিতা সুভাকে নিয়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তাই বলা যায়, কাব্যের বাবা-মা’র সাথে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র বৈসাদৃশ্য হলো প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি তাদের আচরণ ও মনোভাবে।

ঘ) উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত।
আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীরা নানাভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ তারাও কোনো-না-কোনো প্রতিভা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করা হলে, পরম আদর-যত্নে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে তারা অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের কাব্য একজন বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে পরম স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্ন পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠেছে। কাগজে আঁকিবুকি দেখে মা তাকে নিয়ে আশান্বিত হন। তিনি বুঝে যান মুখে ভাষা না থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে একদিন বিশ্ব জয় করবে। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে ছেলের আঁকাআঁকির জন্য যা যা করা দরকার সব করলেন। ফলে সে তার প্রতিভা সবাইকে দেখিয়ে দেয়। দেশে-বিদেশে প্রদর্শনী হয় তার ছবির, বিক্রি হয় বহু মূল্যে।
সুভা’ গল্পে সুভা একজন বাম্প্রতিবন্ধী। তবে তার চারপাশের সবকিছুই উপলব্ধি করতে পারে। বাম্প্রতিবন্ধী সুভা মা, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা বা সহানুভূতি পায়নি। অথচ সে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পেরেছে। প্রতাপের কথায় সে কষ্টও পেয়েছে। বাবা-মা কলকাতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে সে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছে। গাভীকে সে নিজের বেদনার সঙ্গী করেছে। পরিবার, সমাজ থেকে সে শুধু কষ্টই পেয়েছে। অনুপ্রেরণা পায়নি। কিন্তু পরিবার ও সমাজ থেকে উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত। কেননা সব বোধ এবং অনুভূতি তার পরিপূর্ণ ছিল। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now


০৬. প্রতিবন্ধীরা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। এমনকি হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের একজন। মহাকবি হোমার একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলেন। ইলিয়াড, ওডেসি তাঁরই সৃষ্টি।

(ক) সুভার গ্রামের নাম কী?
(খ) ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব’- কার সম্পর্কে এবং কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) ‘উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।’

উত্তরপত্র (৬নং প্রশ্ন)

ক) সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।

খ) ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব’- এই কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
‘সুভা’ গল্পে সুভা একটি বোবা মেয়ে। গুটিকতক গৃহপালিত প্রাণীর সাথে সে বন্ধুত্ব করে। গোয়ালের দুটি গাভী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মনে মনে তাদের নাম দিয়েছে সর্বশী ও পাঙ্গুলি এই দুই নামে। এগুলো ছাড়াও ছাগল ও বিড়াল শাবককেও সে বন্ধু বানিয়েছে। তবে এগুলো সবই তার মতোই বোবা। উন্নত জীবের মধ্যে তার এক সঙ্গী হলো গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ। তবে সে কথা বলতে পারে। তাই তাকে ভাষাবিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।

গ) উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতিবন্ধিতার দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কিন্তু কিছু মানুষ শারীরিক কিংবা মানসিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা মূলত সমাজে প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অনেকে তাদেরকে নিচু চোখে দেখে। অথচ মানুষের সহানুভূতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দেশ ও জাতির জন্য অনেক ভালো কিছু করতে পারে।
উদ্দীপকের মহাকবি হোমার একজন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়ড ও ওডিসি তাঁরই সৃষ্টি। ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হলেও চারপাশের সবকিছুই বুঝতে পারে। প্রাণিজগতের গাভী, ছাগল, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর সাথে সে সখ্য গড়ে তোলে। উদ্দীপকের হোমারও একজন প্রতিবন্ধী। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। এদিক থেকে হোমারের সাথে সুভা চরিত্রের মিল রয়েছে।

ঘ) উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি, বরং আংশিক ভাব প্রকাশিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
কেউ যখন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে তখন সে সমাজে নানা ধরনের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হয়। অথচ প্রতিবন্ধী হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কোনো হাত থাকে না। একজন প্রতিবন্ধীও সমাজের সকলের কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ প্রাপ্য। মানুষের ভালোবাসা, আদর-স্নেহ ও সহানুভূতি পেলে সেও সুন্দর ও প্রাণোচ্ছল জীবন কাটাতে পারে।
উদ্দীপকে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে মহাকবি হোমারের কথা বলা হয়েছে যে, তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্ব বিখ্যাত মহাকাব্য রচনা করেছেন।
‘সুভা’ গল্পে সুভাকে মা নিজের একটি ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেন। বাবা-মায়ের জন্য সে একটি অভিশাপ স্বরূপ। ফলে সুভা নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তার তেমন বন্ধুও ছিল না। ফলে সে গাভী, ছাগল, বিড়াল, প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করে। আবার প্রতাপের সঙ্গে সুভার বন্ধুত্বও গল্পে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় চলে যেতে চাইলে সে অনেক কষ্ট পায়। গল্পের এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী সুভার জীবনের দুঃখময় অধ্যায়টি উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভার প্রকাশিত হয়নি।

০৭. স্বপ্না সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ায় যেমন ভালো খেলাধুলাতেও তেমনি। এজন্য সহপাঠীরা স্বপ্নাকে খুব ভালোবাসত। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও একটি পা হারাতে হয় তাকে। এতে স্বপ্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সবার সামনে আসতে বিব্রত বোধ করে। লেখাপড়া যে আর হবে না সে ও তার পরিবার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু তার সহপাঠীরা সান্ত্বনা, সহযোগিতা আর সাহস দিয়ে তাকে আবার লেখাপড়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তোলে। এই স্বপ্নাই একদিন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করে।

(ক) সুভা জলকুমারী হলে কী করত?
(খ) আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?’- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের স্বপ্নার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “সুভার প্রতি সমাজের মানসিকতা যদি উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো হতো তাহলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তরপত্র (৭নং প্রশ্ন)

ক) সুভা জলকুমারী হলে আস্তে আস্তে জল থেকে উঠে একটা সাপের মাথার মণি ঘাটে রেখে যেত।

খ) আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?’- উক্তিটি দ্বারা সুভার ব্যথিত হৃদয়ের আক্ষেপ বোঝানো হয়েছে।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের জন্য পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পাত্রস্থ করার জন্য বিদেশযাত্রার আয়োজন করা হয়। উন্নত শ্রেণির’ জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র বন্ধু প্রতাপ। প্রতাপ ছিপ ফেলে মাছ ধরত এবং সুভা তেঁতুলতলায় বসে থাকত। এভাবেই তাদের মধ্যে সখ্য জন্মে। সুভা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ বন্ধু প্রতাপকে ছেড়ে যেতে চায়নি। কিন্তু প্রতাপ যখন বলে “কী রে সু, তোর নাকি পাত্র পাওয়া গেছে, তুই নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিস নে” তখন প্রতাপের এই কথা সুভার অন্তরে মর্মবিদ্ধ হরিণীর তীরের আঘাতের মতো আঘাত করে। মূলত কাছের বন্ধু প্রতাপের কাছ থেকেও এ ধরনের ইঙ্গিতময় কথা ছিল সুভার কাছে অপ্রত্যাশিত।

গ) উদ্দীপকে স্বপ্নার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার মানসিক অবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতার কারণে সমাজের অনেক রকম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়। কিন্তু সহানুভূতি দিয়ে, সান্ত্বনা দিয়ে তাদের জীবনযাত্রাকে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাভাবিক করতে পারি।
উদ্দীপকের স্বপ্না পড়ালেখা ও খেলাধুলায় ভালো। সহপাঠীদের ভালোবাসায় ভালোই কাটছিল সময়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও একটি পা হারালে সে সমাজের মানুষের অবহেলা ও অবজ্ঞার কথা ভেবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কোনো দোষের না হলেও সমাজের মানুষের বিরূপ আচরণের শঙ্কায় স্বপ্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। উদ্দীপকের স্বপ্নার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য রয়েছে। সুভা বাম্প্রতিবন্ধী। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। সে পিতা-মাতার নীরব দুশ্চিন্তার কারণ। তাই শিশুকাল থেকেই নিজেকে সে লোকচক্ষুর অন্তরালে গুটিয়ে রাখে। সে যেন বিধাতার অভিশাপম্বরূপ এই পৃথিবীতে এসেছে। তাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সুভার স্বাভাবিক বিকাশ হয়নি। নিজেকে সব সময় পিতা-মাতা ও সমাজের কাছে বোঝাস্বরূপ মনে হয়েছে। নির্জন দুপুরের নিস্তব্ধতার মতোই সুভা একাকী। সমাজের কাছে নিজেকে বোঝাস্বরূপ মনে হওয়ায় উদ্দীপকের স্বপ্না ও সুভার মানসিক অবস্থা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) “সুভার প্রতি সমাজের মানসিকতা যদি উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো হতো তাহলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।” মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে আমাদের সমাজে মানুষ নানা রকম অবহেলার শিকার হয়। সমাজের মানুষের সহানুভূতি ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ এই মানুষগুলোর জীবনকে আরও সুন্দর করতে পারে।
সাহায্য করে। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে কাজ করে সহপাঠীদের সহযোগিতামূলক আচরণ। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবেশ, সমাজ উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সুভার জীবনের করুণ পরিণতির জন্য পরিবারে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং মায়ের বিরূপ আচরণ দায়ী। ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রতাপও তাকে সহানুভূতি না জানিয়ে তাচ্ছিল্য করেছে। বিয়ের পাত্রের সন্ধানে নিজ পরিবার, মাতৃভূমি, চারপাশের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে তাকে অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমাতে হয়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উদ্দীপকে স্বপ্নার সহপাঠীদের মতো সুভা যদি সহমর্মিতা, সহযোগিতামূলক আচরণ ও সহানুভূতি পেত তাহলে তাকে নিজ মাতৃভূমি ছাড়তে হতো না। সুভার জীবনও উদ্দীপকের স্বপ্নার মতো এক সুন্দরতম সুখময় পরিণতির দিকে অগ্রসর হতো।
উদ্দীপকের স্বপ্না সহপাঠীদের সহযোগিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভা সামাজিক প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পরিবারে দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে এবং মাতৃভূমি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

০৮. দিয়ার বয়স সতেরো পেরিয়ে আঠারোয় পড়েছে। ওর সমবয়সী অনেকেই বিয়ে-শাদি করে রীতিমতো সংসারী। কিন্তু দিয়ার জন্ম থেকেই হাত দুটো অসাড় হওয়ায় অন্যদের মতো তার সংসার করা হয়নি। দিয়ার বিধবা মা মলিনা বেগম এতে বিচলিত নন। ছোট ছেলে পনেরো বছরের রাতুলের চেয়ে কোনো অংশে দিয়ার আদর-যত্ন তিনি কম করেন না। পাড়ার দু-একজন অবশ্য দিয়ার বিকাশের পথে জিন- ভূতের আছরকে দায়ী করে। কিন্তু ওসব পাত্তা দেন না মলিনা বেগম।

(ক) ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
(খ) “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) উদ্দীপকের দিয়া কি ‘সুভা’ গল্পের সুভা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তরপত্র (৮নং প্রশ্ন)

ক) ‘সুভা’ গল্পে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।

খ) “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- ‘সুভা’ গল্পের লেখকের এ উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ।
‘সুভা’ গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে। না। ফলে সুভার বয়সী ছেলেমেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। তাই সে নিজেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে ধরে। নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন প্রকৃতির নানা উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ- অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারত না। এ কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

গ) উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে সন্তানের প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষেরা আমাদের অবহেলার পাত্র নয়। তারাও আমাদের সমাজেরই অংশ। অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি, এড়িয়ে চলি। তাদের সাথে এমন অমানবিক আচরণ না করে বরং তাদেরকে আপন করে কাছে টেনে নিলে তারাও আমাদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। উদ্দীপকে একজন প্রতিবন্ধী কন্যাসন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে মা মলিনা বেগম প্রতিবন্ধী মেয়ে দিয়াকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। জন্ম থেকেই দিয়ার দুহাত অসাড়। ফলে তার মা মলিনা বেগম মেয়ের প্রতি যত্ন নিয়েছেন। তিনি দিয়ার অক্ষমতাকে নিজের ত্রুটি হিসেবে দেখেন না, দিয়াকে তাচ্ছিল্য করেন না। তিনি ছেলেকে যেমন আদর-যত্ন করেন, দিয়াকেও তেমনই আদর- 1 যত্ন করেন। পাড়াপ্রতিবেশীরা দিয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বললে তাতে তিনি বিশেষ বিচলিত হন না। ‘সুভা’ গল্পে সুভার মায়ের মাঝে এ বিষয়গুলো দেখা যায় না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে অক্ষম। সুভার এই ত্রুটিকে তার মা নিজের অযোগ্যতা মনে করেন। সুভার কথা বলতে না পারা যেন তারই গর্ভের কলঙ্ক। তিনি সুভার এই অসম্পূর্ণতাকে নিজের লজ্জার কারণ মনে করে সুভাকে সহ্য করতে পারেন না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ) না, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা নয়।
সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে কেউ শারীরিকভাবে সক্ষম, আবার কেউ অক্ষম। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ সব সময়ই অবহেলার পাত্র হয়। আমরা যদি তাদের প্রতি আন্তরিক হই এবং সহানুভূতি দেখাই, তাহলে তারা আমাদের মতোই সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিয়া জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার হাত দুটো অসাড়। ফলে তার মা তাকে সব সমস্যা থেকে আগলে রেখে পরম মমতায় বড় করেছেন। অন্যের সমালোচনা থেকে দিয়াকে আড়াল করেছেন। ‘সুভা’ গল্পে সুভা মুখে কথা বলতে পারত না, তবে তার মাঝে বোধশক্তি ছিল। তার বোধশক্তি দ্বারা সে অনেক কিছু বুঝে নিত। তবু সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভাবতেন। সুভার ত্রুটিকে নিজের লজ্জার কারণ মনে করতেন। মা অপেক্ষা বাবা সুভাকে বেশি স্নেহ করতেন। প্রকৃতি ও পশুপাখির সঙ্গে সুভার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যাওয়ার সময় তার এই সত্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুভা নিজে নিজের অক্ষমতা ভুলে থাকার জন্য কল্পনাবিলাসী হয়ে উঠত। মনের অজান্তে কল্পনার মধ্য দিয়ে সে অন্যের কাছে গুরুত্ব লাভ করত।
উদ্দীপকের দিয়া প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সুভার মতো হলেও সুভার আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। সুভার প্রখর বোধশক্তি, প্রকৃতিপ্রেম ও সম্পর্ক, কল্পনাপ্রবণতা ছিল। এই দিক এবং মায়ের অনাদরের দিক থেকে দিয়া অপেক্ষা তার জীবন হয়েছে আলাদা। আর এ কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা নয়।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আরও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং এদের PDF কপি সংগ্রহ করে নাও। নিচের “Answer Sheet” বোতামে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাধান।

Answer Sheet

সকল বিষয়ে সমাধান ও সাজেশন পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটনটি প্রেস করে রাখো এবং সকল গাইড ও সাজেশন মোবাইলে পড়তে আমাদের অ্যাপটি  ইনস্টল করে নাও। এতে তোমাদের পড়াশোনা হবে আরও সহজ ও মজার!!

Read More: সুভা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *