এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করব।

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন ১। সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: বিদেশযাত্রার উদ্যোগ হতে লাগল বলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রটি ছিল জন্ম থেকেই বোবা। বোবা হওয়ার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন।
‘ গৃহপালিত পশু-ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কিন্তু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না কিন্তু পিতা-মাতাকে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার
উদ্যোগ শুরু হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।


প্রশ্ন ২। “তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: নিজের চিরচেনা জগৎকে আঁকড়ে ধরে সুভা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা তাকে কলকাতায় নিয়ে যেতে চান। কলকাতায় যাওয়ার আগের দিন সুভা তার চিরপরিচিত জগৎ নদীতীরে এসে লুটিয়ে পড়ে। দুই বাহু প্রসারিত করে সে যেন ধরণিকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কারণ সে তার এই চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। সে চায় ধরণিও তাকে যেন জড়িয়ে ধরে রাখে। তাকে যেন যেতে না দেয়।


প্রশ্ন ৩। পিতামাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরুক ছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: সুভার কথা বলতে না পারার বেদনা ভুলতে পারে না বলে পিতা-মাতার মনে সে সর্বদাই জাগরুক ছিল।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এই ত্রুটির কারণে সবাই তার সামনেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইত। কিন্তু তার কথা বলতে না পারার ব্যাপারটা পিতা-মাতার বেদনার কারণ ছিল। আর বেদনা কেউ কখনো ভুলে যেতে পারে না। তাই সে সর্বদাই পিতা-মাতার মনে জাগরূক ছিল।

প্রশ্ন ৪। “সে ভাষাবিশিষ্ট জীব”- কার সম্পর্কে এবং কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?
উত্তর: “সে ভাষাবিশিষ্ট জীব”- এই কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
‘সুভা’ গল্পে সুভা একটি বোবা মেয়ে। গুটিকতক গৃহপালিত প্রাণীর সাথে সে বন্ধুত্ব করে। গোয়ালের দুটি গাভী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ‘মনে মনে তাদের নাম দিয়েছে সর্বশী ও পাঙ্গুলি এই দুই নামে। এগুলো ছাড়াও ছাগল ও বিড়াল শাবককেও সে বন্ধু বানিয়েছে। তবে এগুলো সবই তার মতোই বোবা। উন্নত জীবের মধ্যে তার এক সঙ্গী হলো গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ। তবে সে কথা বলতে পারে। তাই তাকে ভাষাবিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৫। কালো চোখকে কিছু তর্জমা করতে হয় না কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুভার মনের ভাব তার চোখে ফুটে ওঠে, তাই তার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
আমরা কথার মধ্য দিয়ে যে ভাষা প্রকাশ করি তা আমাদের নিজ চেষ্টায় গড়ে নিতে হয়। ঠিক কোনোকিছু তর্জমা করার মতো, যা সব সময় ঠিক হয় না। সুভার বড়ো বড়ো কালো চোখের যে ভাষা, যে উজ্জ্বলতা তাতে, অবর্ণনীয় ভাবের প্রকাশ রয়েছে, যেগুলোর দিকে তাকালে আর কোনো তর্জমা করার দরকার হয় না। তার চোখ দুটোই কথা বলে। সুভার মনের ভাব তার চোখের উপরে কখনো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠত, আবার কখনো স্নানভাবে নিভে আসত। কখনো চঞ্চল বিদ্যুতের মতো, আবার কখনো ডুবে যাওয়া চাঁদের মতো হয়ে তার মনের ভাব প্রকাশ করত। সুভার মুখের ভাষা না থাকলেও দৃষ্টির গভীরতা স্পর্শ করা যায়। তাই সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।

প্রশ্ন ৬। “আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?”- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: “আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?”- উক্তিটি দ্বারা সুভার ব্যথিত হৃদয়ের আক্ষেপ বোঝানো হয়েছে।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের জন্য পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পাত্রস্থ করার জন্য বিদেশযাত্রার আয়োজন করা হয়। উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র বন্ধু প্রতাপ। প্রতাপ ছিপ ফেলে মাছ ধরত এবং সুভা তেঁতুলতলায় বসে থাকত। এভাবেই তাদের মধ্যে সখ্য জন্মে। সুভা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ বন্ধু প্রতাপকে ছেড়ে যেতে চায়নি। কিন্তু প্রতাপ যখন বলে “কী রে সু, তোর নাকি পাত্র পাওয়া গেছে, তুই নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিস নে” তখন প্রতাপের এই কথা সুভার অন্তরে মর্মবিদ্ধ হরিণীর তীরের আঘাতের মতো আঘাত করে। মূলত কাছের বন্ধু প্রতাপের কাছ থেকেও এ ধরনের ইঙ্গিতময় কথা ছিল সুভার কাছে অপ্রত্যাশিত।

প্রশ্ন ৭। “আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- সুভার এরূপ মনোভাবের কারণ কী?
উত্তর: “আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত।
‘সুভা’ গল্পে সুভা বাপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে তার এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করে। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। এতে সুভার সীমাবদ্ধতা তার বারবার মনে-পড়ে। সে নিজেকে ‘সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।

প্রশ্ন ৮। “প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
‘সুভা’ গল্পের সুভা কথা বলতে পারে না। মুক প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসে। তখন নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

প্রশ্ন ৯। সুভার পিতা-মাতা চিন্তিত হয়ে পড়লেন কেন?
উত্তর: সুভার পিতা-মাতা মেয়ের বিয়ের বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
‘সুভা’ বাণীকণ্ঠর ছোট মেয়ে। বড় দুই মেয়ে সুকেশিনী ও সুহাসিনীকে বাণীকণ্ঠ বিয়ে দিলেও বাষ্প্রতিবন্ধী বলে সুভার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। অন্যদিকে সুভার বিয়ের বয়স বেড়ে যেতে দেখে গ্রামের লোকজন বাণীকণ্ঠকে নিন্দা করতে শুরু করেছিল। তারা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মিলে বাণীকণ্ঠকে একঘরে করারও গুঞ্জন তুলেছিল। মেয়ের বিয়ের জন্য সমাজ বাণীকণ্ঠকে একঘরে করার হুমকি দিলে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান। সমাজের মতে সুভা আইবুড়ো মেয়ে। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধানে ব্যস্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়লেন।


📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now


প্রশ্ন ১০। প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবার নিরাশ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল বলে মা-বাবা তার প্রতি নিরাশ হয়েছিলেন।
‘সুভা’ গল্পে প্রতাপ বাবা-মায়ের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো যেত না। এ কারণে মা-বাবা তাকে নিয়ে প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিলেন। ফলে সে অবহেলায় সময় কাটানোর জন্য অপরাহে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। কারণ মাছ ধরার বাহানায় অনেকটা সময় কাটানো যায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতাপ ছিল প্রচণ্ড অলস। সে কোনো কাজ করতে চাইত না। এ কারণে প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবা নিরাশ হয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১১। সুভা কলকাতায় যেতে চায় না কেন?
উত্তর: অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিরচেনা প্রকৃতি ছেড়ে কলকাতায় চলে যেতে হবে- এই মনোবেদনায় আচ্ছন্ন হয়ে চিরপরিচিত নদীতীরে সুভা শম্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল।
বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ে হচ্ছে না বলে লোকনিন্দা শুরু হয়ে যায়।
কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা অবশেষে সুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সুভাকে নিয়ে কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সিদ্ধান্তে সুভার হৃদয় চরমভাবে আহত হয়। দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে একে একে সে সবকিছু থেকে বিদায় গ্রহণ করে। সবশেষে শুক্লাদ্বাদশীর রাতে শোওয়ার ঘর থেকে বের হয়ে চিরপরিচিত নদীতীরে ধরণির আশ্রয় প্রত্যাশায় শম্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ে।

প্রশ্ন ১২। সুভাকে সুভার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কথা বলতে পারত না বলে সুভাকে তার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করেন।
‘সুভা’ গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বোবা। তার অনুভব ও অনুভূতি থাকলেও মা তাকে মেনে নিতে পারেনি। সে সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। কারণ মায়েরা কন্যা-সন্তানকে নিজেদের অংশ মনে করে। ফলে মেয়ের কোনো সমস্যা বা ত্রুটিকে মায়েরা তাদের নিজেদের ত্রুটি বলে ধরে নেয়। সুভার মায়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সুভা কথা বলতে পারত না বলে সুভার মা তাকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করত। সে নিজের ত্রুটির কথা স্মরণ করে সুভাকে দেখলে বিরক্তি বোধ করত।

প্রশ্ন ১৩। ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী’ বোঝানো হয়েছে? কথাটি দ্বারা কী বোঝায়?
উত্তর: ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী’ কথাটি দ্বারা চন্ডীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীকে বোঝানো হয়েছে।
সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। এই গ্রামের পাশ দিয়ে ছোট নদীটি বয়ে গেছে গৃহস্থঘরের মেয়েটির মতো। নিরলসভাবে তার ছুটে চলা। দুই তীরে অবস্থিত গ্রামের সবার সঙ্গেই যেন নদীটির ভাব বা সম্পর্ক রয়েছে। তার জল গ্রামের সবার জন্য প্রয়োজন। দুই ধারে লোকালয় এবং তরুচ্ছায়াঘন তীর, নিচ দিয়ে যেন গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী দ্রুত পায়ে নানা মঙ্গল কাজ করে চলেছে।

প্রশ্ন ১৪। সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত তার নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রতাপকে বোঝানোর জন্য।
প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সুভা সেসব কিছুই করতে পারত না। আর এই কারণেই সে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

Read More: সুভা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

Read More: সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

এস এস সি বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *