ফুলের বিবাহ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের ফুলের বিবাহ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করব।
ফুলের বিবাহ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর:
প্রশ্ন ১। কলিকা-কন্যাকে বিয়ের যোগ্যা বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কলিকা-কন্যাকে বিয়ের যোগ্যা বলার কারণ হলো- কলি ফোটার সময় ফুলের বিয়ে হওয়ার আদর্শ সময়।
ফুল প্রথমে কুঁড়ি থাকে। একটু বড় হয়ে কলিতে রূপান্তরিত হয়। তখন ফুলে ধীরে ধীরে মুধু সঞ্চিত হয়। আর ফুল যখন নিজেকে সম্পূর্ণ বিকশিত করে, তখন তার জীবনের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয় এবং ফুল তখন মধুতে পরিপূর্ণ থাকে। ফুল ফোটার সময় হলো বিয়ের আদর্শ সময়। এই কারণেই কলিকা-কন্যাকে বিয়ের যোগ্যা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ২। “বৃক্ষ শাখা নত করিয়া মুদিতনয়না অবগুন্ঠনবতী কন্যা দেখাইলেন।”- এখানে ‘মুদিতনয়না অবগুন্ঠনরতী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘মুদিতনয়না অরগুষ্ঠনবর্তী’ রলতে লজ্জাশীলা চক্ষু বোজা কুমারী কলিকা কন্যাকে বোঝানো হয়েছে।
মল্লিকাবৃক্ষের কুমারী কলিকা-কন্যার বিয়ের কথা চলছিল। এটা শুনতেই কন্যা খুব লজ্জা পায়। কুমারী কন্যাকে যখন ঘটক দেখতে আসে, তখন তার লজ্জা আরও বেড়ে যায়। সে আরও বেশি করে ঘোমটা পরে এবং চোখ বুজে থাকে। আলোচ্য, লাইনে ‘মুদিতনয়না অরগুষ্ঠনবতী’ বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে। এই বাক্যের মাধ্যমে ফুলের কলি অবস্থাটিও নির্দেশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩। ঘোমটা না খুললে বর কেন আসবে না?- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘোমটা না খুললে বর না আসার কারণ হলো- বর ঘোমটা মোড়ানো কনেকে দেখতে আসবে না। বর কনেকে বিয়ে করে তার রূপ দেখে। ফুলের বিয়েতে রূপের -কদর সবচেয়ে বেশি। মল্লিকা ফুলের বিয়ের কথা হচ্ছিল। কিন্তু মল্লিকা-কন্যা কিছুতেই ঘোমটা খুলছিল না। ঘোমটা না খুললে কলিকা কন্যার রূপও দেখা যাবে না। ঘোমটা না খুলতে তো বর কন্যাকে দেখতেই পাবে না। আর না দেখে কোনো বর-ই কন্যাকে বিয়ে করবে না। তাই সন্ধ্যাঠাকুরাণী দিদি মল্লিকা কলিকে বলেছে, ঘোমটা না খুললে বর আসবে না।
প্রশ্ন ৪। গোলাবকে কুলীন বংশ বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গোলাবকে কুলীন বলার কারণ হলো- গোলাব সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালীর সন্তান। বাঞ্ছামালী নিজ হাতে গোলাপ রোপণ করেছেন।
ফুলের মধ্যে গোলাপ রূপে-গুণে অতুলনীয়। রূপ আর গুণের কারণে গোলাবের অনেক কদর। এছাড়া গোলাবকে রোপণ করেছেন স্বয়ং বাঞ্ছামালী। তাই গোলাবকে বাঞ্ছামালীর সন্তান বলা হয়। আর কোনো ফুলই রূপ আর গুণে এত উন্নত নয়। এ কারণেই গোলাবের বংশকে কুলীন বংশ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫। ফুলের বিয়েতে মৌমাছি কেন যেতে পারেনি?
উত্তর: ফুলের বিয়েতে মৌমাছি না যেতে পারার কারণ হলো-মৌমাছি রাতকানা অর্থাৎ তারা রাতে চোখে দেখে না।
ফুলের বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে অনেকেই নিমন্ত্রণ পেয়েছিল। আবার অনেকেই কাজ পেয়েছিল। সানাই বাদকের কাজ পেয়েছিল মৌমাছি। কারণ সে অনেক ভালো সানাই বাজাতে পারে। ফুলের বিয়ে হয়েছিল রাতে। কিন্তু রাতে মৌমাছি চোখে দেখে না। চোখে না দেখলে মৌমাছির পক্ষে সানাই বাজানোও সম্ভব নয়। এই কারণেই ফুলের বিয়েতে মৌমাছি যেতে পারেনি।
প্রশ্ন ৬। “আকাশে তারাবাজি হইতে লাগিল।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: “আকাশে তারাবাজি হইতে লাগিল” লাইনটি দ্বারা আকাশে জোনাকি পোকার ওড়াউড়িকে বোঝানো হয়েছে।
ফুলের বিয়ের কারণে ফুল বাগানে উৎসব শুরু হয়। মনের খুশিতে সবাই নিজের মতো করে সেজে আনন্দ শুরু করে। বিয়েতে আলো দেওয়ার জন্য জোনাকি পোকা নিজের শরীরের আলো জ্বেলে দেয়। জোনাকি পোকার আলো জ্বেলে ওড়াউড়িকে বোঝাতেই লেখক বলেছেন “আকাশে তারাবাজি হইতে লাগিল”। কারণ তারাবাতি জ্বালালে আগুনে ফুলকি যেভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, জোনাকির দলকেও যেরূপ দেখাচ্ছিল।
প্রশ্ন ৭। করবীর দলকে সেকেলে রাজাদের সাথে তুলনা করার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: করবীর দলকে সেকেলে রাজাদের সাথে তুলনা করার কারণ হলো- সেকেলে রাজাদের মতো উচ্চ ডালে চড়ে করবীর দল মল্লিকা ফুলের বিয়েতে এসেছে।
সেকালে রাজারা চলাফেরা করতেন অনেক উঁচু আসনে চড়ে। বিরাট হাতির পিঠে চড়ে তারা গন্তব্যে যেতেন। মানুষ ঘাড় উঁচু করে রাজাকে দেখত। ফুলের বিয়েতে করবীও অনেক উঁচু ডালে চড়ে এসেছে। তার অবস্থান উচ্চতার দিক থেকে সকল ফুলের ওপরে ছিল। এ কারণেই লেখক করবীর দলকে সেকেলে রাজাদের সাথে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন ৮। “আর কোন বিবাহে না তাহারা, হুল ফুটাইয়া বিবাদ বাধায়?”- পিঁপড়া সম্পর্কে এরূপ বলার কারণ লেখ।
উত্তর: পিঁপড়ার সম্পর্কে এরূপ বলার কারণ হলো- পিঁপড়া ঝগড়াটে স্বভাবের প্রাণী, বিবাদ বাধানোই তাদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। ফুলের বিয়েতে পিপড়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু তারা অশোকের মোসায়েবি করার ছলে বিয়েতে হাজির হয়েছে। তাদের গুণের চেয়ে দাঁতের জ্বালা বেশি। সব বিয়েতেই কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি দেখা যায় পিঁপড়ার মতো যারা ঝগড়া বাধাতে ভীষণ পটু। পিঁপড়াও এই স্বভাবের। যত বিয়েতে তারা যায়, সবখানেই কারও না কারও গায়ে হুল ফোটায় আর বিবাদ সৃষ্টি করে। এ কারণেই পিঁপড়া সম্পর্কে এরূপ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৯। ঘটক মশায়ের সবখানে যাতায়াতের কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘটক মশায়ের সবখানে যাতায়াতের কারণ হলো- তিনি উপযুক্ত বর ও কন্যার খোঁজ করে বিয়ে দেন।
ভ্রমরের কাজ হলো ফুলেদের বিয়ে দেওয়া। কোন কলিকা-কন্যার বিয়ের সময় হয়ে এলো, কোন বর বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছে, এসব জানাই তার একমাত্র কাজ। আর বিয়ের সম্বন্ধ স্থির হলেই ভ্রমর ঘটকালি তথা বিয়ের সম্বন্ধ মিলিয়ে দেওয়ার পারিশ্রমিক নেয়। এ কারণেই ঘটক ভ্রমর সবখানে যাতায়াত করে।
প্রশ্ন ১০। “আহ্লাদে ঘোমটা খুলিয়া মুখ ফুটাইয়া, পরিমল ছুটাইয়া, সুখের হাসি হাসিতেছে।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আলোচ্য লাইনটি দ্বারা মল্লিকার কন্যাকুল ও ভগিনীদের আনন্দকে বোঝানো হয়েছে।
অনেক দেখাশোনার পর মল্লিকা কলিকা-কন্যার বিয়ে স্থির হয়। ফলে মল্লিকা কলিকা কন্যার মনে আনন্দের জোয়ার এসেছে। এক সময় বর আসে। রাজপুত্রের মতো সুন্দর বর দেখে মল্লিকাপুরে সাড়া পড়ে যায়। এ কারণেই কন্যাকুল, ভগিনীরা সুখের হাসি হাসতে থাকে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
প্রশ্ন ১১। রসময়ী মধুময়ী সুন্দরীরা বরকে কেন ঘিরে বসল?-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রসময়ী মধুময়ী সুন্দরীরা বরকে ঘিরে বসার কারণ হলো-বরের সাথে তামাশা করা।
বিয়ের পর বরকে বাসরঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। সদ্য বরের সাথে দুষ্টুমি করার জন্য রসময়ী মধুময়ী সুন্দরীরা উদগ্রীব হয়ে থাকে। কারণ বিয়ের মতো আনন্দদায়ক শুভ কাজে সবার মনেই আনন্দের ফোয়ারা বইতে থাকে। বরকে বাসরঘরে নিয়ে যাওয়ার পর বর খানিকটা লাজুক থাকে। সেই লজ্জাকে আরও বাড়িয়ে দিতে রসময়ীরা বরের চারদিকে ঘিরে বসে ররের সাথে দুষ্টুমি করে।
প্রশ্ন ১২। ঝুমকো ফুলকে বড় মানুষের গৃহিণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ঝুমকো ফুলকে বড় মানুষের গৃহিণীর সাথে তুলনা করার কারণ হলো- আকৃতি আর রঙের কারণে ঝুমকো ফুলকে দেখতে গৃহিণীর মতোই দেখায়।
ঝুমকো ফুল অনেক বড় আকৃতির। এই ফুলের পাপড়ির রং নীল। অনেকের মধ্যেও এই ফুলের উপস্থিতি সহজে চোখে পড়ে। আট-দশজন গৃহবধূর মধ্যে দামি শাড়ি পরা বড়লোকের গৃহবধূকে যেভাবে চিহ্নিত করা যায়, এই ফুলকেও সেভাবে চিহ্নিত করা যায়। এ কারণেই লেখক ঝুমকো ফুলকে বড় মানুষের গৃহিণীর সাথে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৩। “সেই পুষ্পবাসর কোথায় মিশিল?”- লেখকের এই ভাবনার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লেখকের এই ভাবনার কারণ হলো- ফুলের বিয়ে তিনি ঘুমের ঘোরে দেখেছিলেন। ঘুম ভাঙার সাথেই তা মিলিয়ে গিয়েছিল।
লেখক এক সন্ধ্যায় তাঁর বন্ধু নসী বাবুর ফুল বাগানে বসে ছিলেন। ফুল দেখতে দেখতে তাঁর ঘুম এসে গেল। তখন তিনি ফুলের বিয়ে দেখলেন এবং নিজে তাতে অংশগ্রহণও করলেন। এদিকে নসী বাবুর নয় বছর বয়সি মেয়ে কুসুমলতা এসে দেখল যে, লেখক বসে বসে ঘুমাচ্ছেন। সে লেখকের ঘুম ভাঙাতেই তাঁর স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। ঠিক সেই সময় লেখক ফুলের বাসর দেখছিলেন।
জেগে দেখলেন, ফুলের বাসর কোথাও নেই। হাস্যমুখী পুষ্পসুন্দরীরা নেই। সবকিছুর সাথে ফুলের বাসরও যেন উঠে গেছে বা শূন্যে মিশে গেছে। লেখকের ভাবনার কারণ এটাই।
Codehorse Learn Free