চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু অসুখ না থাকাকে বোঝায় না; বরং একই সঙ্গে শরীর, মন ও সামাজিক দিক থেকে ভালো থাকাকে বোঝায়। যা কিছু আমাদেরকে শারীরিক, মানসিক বা সামাজিকভাবে সমস্যায় ফেলে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিঘ্ন ঘটায় তা রোগ। আমরা যাতে রোগে না ভুগি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারি সেজন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।
চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর:
আমরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। সেগুলোর কয়েকটি হল- সর্দি, কাশি, বসন্ত, চোখ উঠা, রাতকানা, ডায়রিয়া, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। যেকোনো রোগই আমাদের কষ্ট দেয়।
আমরা যেকোনো সময় রোগে আক্রান্ত হতে পারি। বিভিন্ন কারণে রোগ হতে পারে। কোনো কোনো রোগ একজন থেকে আরেকজনের হতে পারে। সাধারণত অনুজীবের দ্বারা রোগ সৃষ্টি হয়। আবার কোনো অঙ্গের গঠন বা কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলেও আমরা রোগাক্রান্ত হই।
সংক্রামক রোগ-
কিছু কিছু রোগ একজনের থেকে আরেকজনে ছড়ায় সেগুলোকে সংক্রামক রোগ বলে। সংক্রামক রোগগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্য কোনো পরজীবীর কারণে হয়ে থাকে। যেমন: সর্দি, চোখ ওঠা, বসন্ত, করোনা, হাম ইত্যাদি।
অসংক্রামক রোগ-
কিছু কিছু রোগ একজনের থেকে আরেকজনের হয় না। সাধারণত শরীরের কোনো অঙ্গের কর্মক্ষমতা হ্রাস বা বিপাকীয় কার্যক্রম বাধা পেলে মানুষ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। এদেরকে বলে অসংক্রা মক রোগ। যেমন-হৃদরোগ, রাতকানা, আলঝেইমার, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, মানসিক রোগ ইত্যাদি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী মাদকাসক্তিও একটি রোগ।
সংক্রামক রোগের শ্রেণিকরণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি…
সাধারণত বায়ু, পানি বা প্রাণী সংক্রামক রোগের জীবাণু বহন করে এবং রোগের বিস্তার ঘটায়। বিস্তারের মাধ্যমের উপর ভিত্তি করে এ রোগগুলো নানা নামে পরিচিত। যেমন-
পানিবাহিত রোগ: পানির মাধ্যমে যে সব রোগ ছড়ায় সেগুলোকে পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন-ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ ইত্যাদি।
বায়ুবাহিত রোগ: বায়ুর মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, ফুসফুসের যক্ষ্মা, কোভিড-১৯ ইত্যাদি।
প্রাণিবাহিত রোগ: কোনো কোনো রোগের জীবাণু প্রাণীরাবহন করে, এদের প্রাণীবাহিত রোগ বলে। যেমন- মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু, ইঁদুরের মাধ্যমে প্লেগ এবং কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়।
সংক্রামক রোগের কারণ-
বিভিন্ন কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি সংক্রামক রোগের কারণ হলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু। এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে রোগ সৃষ্টি হয়। সুতরাং রোগীর কাছাকাছি থাকলে অথবা জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি পানে রোগ হতে পারে। আবার কখনো কখনো জীবাণু বহনকারী পোকামাকড় বা প্রাণীর মাধ্যমে রোগ হতে পারে। অনেক সময় পুষ্টিহীনতার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে মানুষ রোগে আক্রান্ত হয়।
অসংক্রামক রোগের কারণ-
সাধারণত পরিবেশের নানা উপাদান, যেমন- পানি, বায়ু প্রভৃতি দূষিত হবার কারণে মানুষের রোগ হয়। শারীরিক পরিশ্রম না করাও কিছু অসংক্রামক রোগের জন্য দায়ী। বায়ু দূষণ ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণের কারণে চর্মরোগ, অ্যাজমা ইত্যাদি রোগ হয়। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ হতে পারে। বংশগত কারণেও বেশ কিছু অসংক্রামক রোগ হতে পারে। কখনো আবার ভিটামিনের অভাবেও রোগ হয়। যেমন- ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা ও ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। স্বাস্থ্যকর ও সুষম নয় এসব খাবার খেলে; জীবন-যাপনে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণেও রোগ হতে পারে।
১। নিচের রোগগুলোর নামের সাথে সঠিক কারণ ও লক্ষণ দাগ টেনে মিলাই:
Ans: Check Our App.
২। সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দাও: (বোর্ড বই)
১) নিচের কোনটি সংক্রামক রোগ?
ক) হৃদরোগ
খ) ডায়াবেটিস
গ) ম্যালেরিয়া√
ঘ) রিকেটস
২) কোনটি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য দরকারি?
ক) প্রতিদিন কোমল পানীয় পান করা
খ) নিয়মিত ব্যায়াম করা√
গ) মসলাযুক্ত মজাদার খাবার খাওয়া
ঘ) রাত জেসে পড়াশোনা করা
৩) অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য?
ক) বংশগতভাবে হয় না
খ) নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না
গ) দূষণের ফলে হয় না
ঘ) জীবাণুর দ্বারা ছড়ায় না√
৩. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (বোর্ড বই)
ক) নিচের রোগগুলোকে বিস্তারের মাধ্যম অনুসারে শ্রেণিকরণ করি-
আমাশয়, ডেঙ্গু, সর্দি, প্লেগ, টাইফয়েড, চোখ উঠা।
উত্তর: পানিবাহিত রোগ: আমাশয়, টাইফয়েড
বায়ুবাহিত রোগ: সর্দি, চোখ উঠা
প্রাণীবাহিত রোগ: ডেঙ্গু, প্লেগ
খ) ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হয় কেন?
উত্তর: ডায়রিয়ায় শরীর থেকে অনেক পানি ও লবণ বের হয়। এতে শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। স্যালাইন খেলে হারানো পানি ও লবণ পূরণ হয়। এতে শরীর শক্তি ফিরে পায়। রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়া সহজ হয়।
গ) অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায়গুলো কী কী?
উত্তর: অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য এড়াতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমানো ও পরিষ্কার পানি ব্যবহারও সাহায্য করে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা রোগ প্রতিরোধ করে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৪. বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন (বোর্ড বই)
ক) দুটি বায়ুবাহিত রোগের লক্ষণ লিখি
উত্তর: ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে জ্বর, হাঁচি, কাশি এবং সর্দি হয়। সর্দি হলে নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক লাল হয়। চোখ ওঠা হলে চোখ লাল হয়, চুলকানি ও পিচুটি জমে চোখে সমস্যা হয়। এই রোগগুলো সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে বিশ্রাম ও চিকিৎসা নেওয়া দরকার। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
খ) সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো কী কী?
উত্তর: সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা খুব কার্যকর। নিরাপদ পানি এবং সুষম খাদ্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। মশারি ব্যবহার ও পোকামাকড় দমন সংক্রামক রোগ কমায়। রোগীকে অন্যদের থেকে দূরে রাখা ও জীবাণু পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত টিকা গ্রহণও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
গ) দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্য রক্ষার কোন কোন অভ্যাস অনুশীলন করি, তা লিখি।
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে আমি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নানা অভ্যাস পালন করি। খাবারের আসে ও টয়লেটে যাওয়ার পর হাত ধোয়া আমার নিয়ম। নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করি। বাড়ি ও আশেপাশ পরিষ্কার রাখি। সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাই। প্রতিদিন ব্যায়াম ও খেলাধুলা করি। পর্যাপ্ত ঘুম নি। নিজের ব্যবহার্য জিনিস ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে আমি সংক্রমণ ও অসুস্থতা থেকে নিজেকে রক্ষা করি। এই অভ্যাসগুলো আমাকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখে।
Codehorse Learn Free