চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর
চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি জীবের বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি জীবের বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রশ্ন উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকা এবং ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান প্রয়োজন হয়। এই অধ্যায়ে আমরা উদ্ভিদ জন্মানো, বেঁচে থাকা এবং বৃদ্ধির জন্য যা প্রয়োজন সে সম্পর্কে জানব।

চতুর্থ শ্রেণি জীবের বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রশ্ন উত্তর:

উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য সূর্যের আলো, পানি এবং বায়ু প্রয়োজন। খাদ্য তৈরির সময় উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি পেয়ে থাকে। উদ্ভিদ শ্বাসকার্যের জন্য বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। বৃদ্ধির সাথে সাথে এক পর্যায়ে গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে।

ফুলের বিভিন্ন অংশ-

বৃতি: বৃতি সাধারণত সবুজ, দেখতে অনেকটা পাতার মতো। এটি ফুলের সবচেয়ে বাইরের অংশ। কুঁড়ি অবস্থায় বৃতি ফুলের অন্যান্য অংশকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে।

দলমণ্ডল: বাইরে থেকে ভিতর দিকে ফুলের দ্বিতীয় উজ্জ্বল ও রঙিন অংশ হলো দল বা পাপড়ি। কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে। দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকামাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে।

পুংস্তবক: এক বা একাধিক পুংকেশর নিয়ে পুংস্তবক গঠিত। এটি ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ। পুংকেশর এর দন্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণুর মধ্যে থাকে পুরুষ কোষ। পোকামাকড় ও পশুপাখির গায়ে লেগে এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের স্ত্রী কেশরের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলে

স্ত্রীস্তবক: এটি ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এক বা একাধিক গর্ভপত্র বা স্ত্রীকেশর নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ রয়েছে। যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড। গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক থাকে। ডিম্বক হলো স্ত্রী কোষ।

ফল ও বীজ: স্ত্রীকেশরের গর্ভাশয়ের ভিতরে থাকে ডিম্বক। ডিম্বক হলো স্ত্রী কোষ। পরাগরেণুর পুরুষ কোষ গর্ভাশয়ের ডিম্বকের সাথে মিলিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলে নিষেক। নিষেকের পর গর্ভাশয়টি ফলে এবং ডিম্বকটি বীজে পরিণত হয়।

ফলের দুটি অংশ রয়েছে। যেমন- পেরিকার্প এবং বীজ। পেরিকার্পের তিনটি স্তর রয়েছে। যেমন-বহিঃত্বক, মধ্যত্বক ও অন্তঃত্বক। বহিঃত্বক হলো ফলের খোসা। এটি ফলের ভিতরের অংশসমূহকে রক্ষা করে। মধ্যত্বক সাধারণত রসালো, এটি আমরা খাই। এতে ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। অন্তঃত্বক দিয়ে বীজ ঢাকা থাকে। বীজের উপরে পাতলা আবরণই অন্তঃত্বক।

১. শূন্যস্থান পূরণ করি: (বোর্ড বই)

ক) জীব মাত্রই …………… গ্রহণ করে।

খ) খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদের ……………. পানি ও বায়ু প্রয়োজন।

গ) ফুলের উজ্জ্বল ও রঙিন অংশ হলো …………..।

ঘ) বীজ থেকে নতুন ……………. হয়।

উত্তর:

ক) জীব মাত্রই খাদ্য গ্রহণ করে।
খ) খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদের সূর্যের আলো, পানি, বায়ু ও মাটি প্রয়োজন।
গ) ফুলের উজ্জ্বল ও রঙিন অংশ হলো দল বা পাপড়ি।
ঘ) বীজ থেকে নতুন চারাগাছ হয়।

২. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔) দেই: (বোর্ড বই)

১) খাদ্য তৈরি করার সময় উদ্ভিদ কী ত্যাগ করে?
ক) অক্সিজেন
খ) নাইট্রোজেন
গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
ঘ) জলীয়বাষ্প

২) জীবের শক্তি কোথা থেকে আসে?
ক) বায়ু
খ) পানি
গ) মাটি
ঘ) খাদ্য

৩) ফুলের কোন অংশ কুঁড়ি অবস্থায় অন্যান্য অংশকে রক্ষা করে?
ক) বৃতি
খ) দল
গ) পুংকেশর
ঘ) স্ত্রীকেশর

উত্তর: ১. গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড; ২. ঘ) খাদ্য; ৩. ক) বৃতি;

৩. শুদ্ধ বাক্যে ‘শু’ এবং অশুদ্ধ হলে ‘অ’ লিখি: (বোর্ড বই)

ক) উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে।
খ) গাছের পাতায় পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
গ) শ্বাস গ্রহণের সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে।

উত্তর:

ক) উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। → শু
খ) গাছের পাতায় পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। → অ
গ) শ্বাস গ্রহণের সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে। → শু

৪. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (বোর্ড বই)

ক) উদ্ভিদের কোন অংশে বীজ থাকে?

উত্তর: উদ্ভিদের বীজ থাকে ফলের ভিতরে। ডিম্বক নিষেকের পর বীজে পরিণত হয়। বীজের মধ্যে থাকে নতুন উদ্ভিদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কোষ এবং খাদ্য। বীজটি সঠিক পরিবেশে রাখলে নতুন চারাগাছ জন্মায়।

খ) বীজ থেকে চারাগাছ জন্মাতে কী কী প্রয়োজন হয়?

উত্তর: বীজ থেকে চারাগাছ জন্মানোর জন্য পানি, তাপ, আলো এবং বাতাস প্রয়োজন। পানি বীজকে ভিজিয়ে রাখে এবং খাদ্য পরিবহণে সাহায্য করে। তাপ উদ্ভিদকে অঙ্কুরোদ্গমের জন্য উষ্ণতা দেয়। আলো খাদ্য তৈরির জন্য দরকার। বায়ু শ্বাসক্রিয়ায় সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো না থাকলে বীজ অঙ্কুরিত হয় না।

📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now

৫. বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন (বোর্ড বই)

ক) ফুলের বিভিন্ন অংশের কাজ চিত্রসহ বর্ণনা করো।

উত্তর:

বৃতি: এটি সাধারণত সবুজ রঙের হয় এবং ফুলের সবচেয়ে বাইরের অংশ। বৃত্তি কুঁড়ি অবস্থায় ফুলকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
দলমণ্ডল: এটি ফুলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ, যা বিভিন্ন রঙের পাপড়ি দিয়ে তৈরি হয়। এর প্রধান কাজ হলো পরাগরেণু বহনকারী পতঙ্গ ও পাখিদের আকর্ষণ করে পরাগমিলনে সাহায্য করা।
পুংকেশর: এটি ফুলের পুরুষ প্রজনন অঙ্গ। পুংকেশরের মাথায় পরাগধানী থাকে, যার মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণুগুলো ডিম্বকের নিষেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্ত্রীকেশর: এটি ফুলের স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ। এর তিনটি অংশ থাকে: গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও ডিম্বাশয়। ডিম্বাশয়ের ভেতরে ডিম্বক থাকে। পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়লে নিষেক প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ডিম্বাশয় ফলে ও ডিম্বক বীজে পরিণত হয়।

খ) বাড়ির পাশের আম গাছ ও তোমার নিজের পোষা বিড়ালটির জীবনচক্রে কোথায় কোথায় মিল আছে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

নিচে চিত্রের সাহায্যে আম গাছ পোষা বিড়ালটির জীবনচক্রে দেখানো হলো-
আম গাছের জীবনচক্র শুরু হয় বীজ থেকে, আর বিড়ালের জীবনচক্র শুরু হয় বাচ্চা থেকে। উভয়ই জন্মগ্রহণের পর বৃদ্ধি পায়। আম গাছ ধীরে ধীরে ফুল ফোটায়, ফল ধরে এবং নতুন বীজ উৎপন্ন করে। বিড়ালও বাচ্চা জন্ম দিয়ে বংশবৃদ্ধি করে। উভয় জীবনচক্রে জন্ম বৃদ্ধি প্রজনন মৃত্যু ধাপগুলো রয়েছে। মিল হলো নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করা। পার্থক্য হলো, আম গাছ বীজ থেকে জন্মায় আর বিড়াল সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়। তবে জীবনের চক্র সব জিনিসে একই রকম ধারাবাহিকভাবে চলে।

Read More: চতুর্থ শ্রেণি চিল ও বিড়াল প্রশ্ন উত্তর

Read More: চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর

Codehorse App

Check Also

চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর

চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্ন উত্তর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *