ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমরা ৯ম-১০ম ও এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করব।
ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর:
০১. মৌরি একদিন বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাবে। বাবা একদিন ওকে নিয়ে বেড়াতে গেলে সে ভীষণ খুশি হয়। নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে সে অভিভূত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সে যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে খুবই আনন্দিত হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়- বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটা বাগান করবে।
(ক) ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কে ঘটকের দায়িত্ব পালন করে?
(খ) ক্ষুদ্র বৃক্ষটি কেন বিরক্ত হয়েছিল?
(গ) উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয়ের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা।”- যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তরপত্র (১নং প্রশ্ন)
(ক) ফুলের বিবাহ’ গল্পে ভ্রমর ঘটকের দায়িত্ব পালন করে।
(খ) ক্ষুদ্র বৃক্ষটি ভ্রমর বা ঘটকের কথা শুনে বিরক্ত হয়েছিল।
মল্লিকা ফুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য কন্যাকর্তা বৃক্ষ যখন উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করছিল তখন ঘটকের আগমন ঘটে। ঘটক কন্যাকে দেখে পছন্দ করে জিজ্ঞাসা করল মধুর কথা। ক্ষুদ্র বৃক্ষ বলে, ফর্দ দিবেন, সব বুঝিয়ে দেবে। সে ঘটকালিটার খরচও দিতে রাজি হলো। কিন্তু বরের কোনো খোঁজখবর না দিয়েই ঘটকালির খরচ যখন আগাম চাইল তখন ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হলো।
পাত্রের কথা না বলেই ঘটক ঘটকালির খরচ আগাম চাওয়ায় ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হয়েছিল।
(গ) উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয় অর্থাৎ ফুল-ফলগাছের সমারোহের বিষয়টি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমাহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীতে বিভিন্ন রকম ফুল ফোটে। ফুলগুলোয় গন্ধের তারতম্য রয়েছে। সেগুলোর বিভিন্ন রকম নামও লক্ষ করা যায়। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে বহু ফলগাছও রয়েছে। এসব ফুল ও ফলগাছের সমারোহ মানুষকে আনন্দিত করে।
উদ্দীপকের মৌরি একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাওয়ার। সেখানে গিয়ে সে নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। দীর্ঘদিন যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে সে খুবই আনন্দিত হয়। সে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই ভালো লাগার বিষয়টি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও খানিকটা খুঁজে পাওয়া যায়। এই গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলগাছ ও ফুলের পরিচয় জানা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগা ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমারোহের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকের মৌরির ফুল-ফল গাছ দেখে ভালো লাগে। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে প্রচুর ফুলগাছ ও ফুলের কথা বলা হয়েছে।
(ঘ) “মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা।”- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
প্রকৃতির উপাদান বৃক্ষ-লতার অকৃত্রিম দান ফুল। ফুল তার বিচিত্র বর্ণ, গন্ধের সমারোহে সবাইকে মুগ্ধ করে। মানুষ ফুল খুব পছন্দ
করে। প্রকৃতি বর্ণবৈচিত্র্যে সেজে ওঠে।
উদ্দীপকের মৌরি বাবার সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়ে ফুলের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। যেসব ফুলের নাম এতদিন সে শুনেছে, আজ নিজ চোখে সেগুলো দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছে। সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ির আঙিনায় ছোট বাগান করার জন্য। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে লেখক ফুলের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে ফুলের প্রতি লেখকের মুগ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি।
প্রতিটি ফুলের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেখক গল্পে সেগুলোর চরিত্র চিত্রণ করেছেন। ফুল যে শুধু ঘর সাজানো বা ব্যবহারের জন্য নয়, বরং তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুগ্ধতা, লেখক তাই প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে মৌরি ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছে এবং ফুলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মেছে। লেখক ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে ফুলের মুগ্ধতার বিষয়টির প্রতিই আলোকপাত করেছেন। তাই বলা যায়, মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা।
সারকথা: বৃক্ষ ও ফুলের প্রতি মৌরির ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে। ‘ফুলের বিবাহ’ রচনায় ফুলের বর্ণনা দিয়ে লেখকও ফুলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
০২. হাশেম সাহেবের একমাত্র মেয়ের বিয়ে। শৌখিন হাশেম সাহেব তাই সব ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ছোঁয়া দেখতে চান। বিয়ের কার্ড থেকে বাসার সিঁড়ি-প্রতিটি ক্ষেত্র তিনি শিল্পের ছোঁয়ায় ভরিয়ে তোলেন। কাঁচা ফুলের সমারোহে ভরিয়ে তোলেন প্রতিটি স্থান। আলপনায় ভরে ওঠে প্রতিটি মেঝে। ঐ বরপক্ষ অনেক খুশি হাশেম সাহেবের এই সৌন্দর্যবোধ দেখে। সবার মাঝে আনন্দের কোনো কমতি ছিল না হাশেম সাহেবের মেয়ের বিয়েতে।
(ক) ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
(খ) “কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন।”- বাক্যটি বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের মনোভাবের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের সৌন্দর্যবোধ ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভাবধারাকে আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে।”-যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তরপত্র (২নং প্রশ্ন)
(ক) ফুলের বিবাহ’ গল্পটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ গ্রন্থের অন্তর্গত।
(খ) কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন- বাক্যটি দ্বারা অভিভাবক হিসেবে মল্লিকাবৃক্ষ গোলাবের হাতে মল্লিকা-কলিকে সম্প্রদান করাকে বোঝানো হয়েছে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের লেখক নসীবাবুর বাগানে দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে মল্লিকা-কলির সাথে গোলাবের বিয়ের লঘু বিষয়কে উপস্থাপন করেছেন। মানবসমাজের প্রচলিত বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুরূপ কল্পনায় উদ্ভাসিত হয়েছে রচনাটি। এখানে মল্লিকাবৃক্ষ কন্যাভারগ্রস্ত পিতা। গোলাবের বংশীয় গৌরবে মুগ্ধ হয়ে ঘটকরাজ ভ্রমরের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে মল্লিকাবৃক্ষ তার পরিপুষ্ট কলিকে গোলাবের হাতে সম্প্রদান করে। আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা এ বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সারকথা: কন্যাকর্তার কন্যা সম্প্রদান বলতে সনাতন রীতি অনুসারে পাত্রের হাতে কন্যার পিতা কর্তৃক কন্যাকে তুলে দেওয়া বোঝায়। এই রচনায় মল্লিকাবৃক্ষ গোলাবের হাতে তার কন্যারূপ কলিকে সম্প্রদান করেছে।
(গ) উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের মনোভাবের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মল্লিকা ফুলের বিয়ের সাজসজ্জা ও আড়ম্বরতায় মিল রয়েছে।
সৌন্দর্যবোধ মানুষের একটি বিশেষ গুণ। এটি ব্যক্তির রুচির পরিচায়ক। মানুষের রুচি প্রকাশ পায় বিশেষ পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তার পোশাক, আচরণ ও সাজসজ্জার নৈপুণ্যের মধ্য দিয়ে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা-কলির বিয়ের দিন বাগানের যাবতীয় ফুল ও কীটপতঙ্গ সেজেছে নতুন রূপে। মৌমাছি সানাই বাজিয়ে, জোনাকিরা ঝাড় জ্বালিয়ে আকাশে তারাবাজি করতে লাগল। জবাগোষ্ঠী, করবী দল, চাঁপা, গন্ধরাজ, অশোক প্রভৃতি ফুল সেজে দুলতে লাগল। যূথী, মালতী, বকুল, রজনিগন্ধা পাতায় পাতায় জড়াজড়ি করে গন্ধ ছড়িয়ে রূপের ভারে ভেঙে পড়েছে। উদ্দীপকের হাশেম সাহেব তার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে সৌন্দর্যবোধের পরিচয় দিয়েছে। বিয়ের কার্ড থেকে বাসার সিঁড়ি-প্রতিটি ক্ষেত্র শিল্পের ছোঁয়ায় ভরিয়ে তুলেছেন। কাঁচা ফুল ও আলপনায় ভরে উঠেছে প্রতিটি স্থান। হাশেম সাহেবের মেয়ের বিয়ের সাজসজ্জার বিষয়টির সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ রচনার মল্লিকা-কলির বিয়ের সাজসজ্জা ও আড়ম্বরতায় সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে বিভিন্ন ফুলের স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মল্লিকা-কলির সাথে গোলাবের বিবাহ বর্ণিল আকার ধারণ করেছে। উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের নান্দনিক মনোভাব সেই বর্ণিল সাজসজ্জার দিকটির সাথে মিলে যায়।
(ঘ) উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের সৌন্দর্যবোধ ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভাবধারাকে আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে।”- উক্তিটি যথার্থ। ব্যক্তির সৌন্দর্যবোধ কোনো স্বয়ম্ভ বিষয় নয়। মানুষের সৌন্দর্যবোধের পশ্চাতে কাজ করে তার পরিবার, পরিবেশ ও সমাজ। এ জন্য স্থান-কাল-পাত্রভেদে সৌন্দর্যবোধে তারতম্য দেখা যায়।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পটি লেখকের সৌন্দর্যবোধেরই পরিচায়ক। লেখক এখানে ফুলের বিবাহকে মানবসমাজে প্রচলিত বিবাহের অনুরূপ ব্যঞ্জনা প্রদান করেছেন। বিবাহের উদ্যোগ, সাজসজ্জা, মধ্যস্থতাকারী, পাত্র-পাত্রী সবই লেখকের কল্পিত সূক্ষ্ম সৌন্দর্যবোধের প্রতিমূর্তি। নসীবাবুর বাগানে বসে লেখক ফুল-পতঙ্গের মধ্যে সেই সৌন্দর্যবোধকেই দেখতে পেয়েছিলেন, যা মানবসমাজের আড়ালে থেকে যায়। উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের মাঝেও সৌন্দর্যবোধের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে সবকিছুতে তিনি নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের সৌন্দর্যবোধ ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের লেখকের সৌন্দর্যবোধেরই পরিচায়ক। নসীবাবুর বাগানে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে লেখক সেই সৌন্দর্যের পরিচয় পেয়েছেন। ফুল নিঃসন্দেহে সৌন্দর্যের প্রতীক। লেখক ফুলের মধ্য দিয়েই নিজের সৌন্দর্যচেতনা ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনব কৌশলে। ফুল-পতঙ্গকে লেখক মানবীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে সমাজের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের সৌন্দর্যবোধ ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভাবধারাকেই আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে।
সারকথা: ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্য প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্যবোধ মানবহৃদয়ে উজ্জীবিত করা। উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের কর্মকান্ড সেই বোধের ধারক হওয়ায় উদ্দীপকটি গল্পের ভাবধারাকেই মূর্ত করে।
০৩. মেয়ের বয়স যে পনেরো, তাই শুনিয়া মামার মন ভার হইল। বংশে তো কোনো দোষ নাই? না, দোষ নাই- বাপ কোথাও তার মেয়ের যোগ্য বর খুঁজিয়া পান না। একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ, কাজেই বাপ কেবলই সবুর করিতেছেন- কিন্তু মেয়ের বয়স সবুর করিতেছে না।
(ক) ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কার বিয়ে ছিল?
(খ) গোলাবের অধিক গৌরব কেন?- বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কোন বিষয়টির প্রতিনিধিত্ব করছে?- ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।” উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তরপত্র (৩নং প্রশ্ন)
(ক) ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা ফুলের বিয়ে ছিল।
(খ) গোলাব উচ্চ বংশের হওয়ায় তার গৌরব অধিক।
জাতভেদ প্রথা আমাদের একটা সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাজের প্রতিটি রন্দ্রে মিশে মানুষকে বিভক্ত করে দেয়। অর্থবিত্ত ও সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কেউ উচ্চ বংশের, কেউবা আবার নিম্ন বংশের। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্প অনুসারে বংশগত বিচারে গোলাব ফুল হলো উচ্চ বংশের। তার রূপ ও রং অপূর্ব। আর তাই তার এত গৌরব। এখানে মানুষের বংশীয় গৌরবকে প্রতীকায়িত করা হয়েছে।
সারকথা: উচ্চবংশীয় হওয়ার কারণেই গোলাবের গৌরব অধিক।
(গ) উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মানসিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে।
যৌতুকপ্রথা একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যায় পড়ে সমাজের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই যৌতুক বা পণ বহু নারীর জীবন বিপর্যস্ত করে ফেলে। যৌতুক না দিলে মেয়ে সুখী হয় না, আবার দিলে লোভের মাত্রা বেড়ে যায়। আর এই লোভ এতটা ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে, একটা প্রাণকে পর্যন্ত নিঃশেষ করতে পিছপা হয় না।
উদ্দীপকে মেয়ের বাবা চাহিদামতো মেয়ের বর খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ অনেক বেশি যৌতুক দিয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। তাই তিনি কেবলই সবুর করছেন। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও অনুরূপ চিত্র দেখতে পাই। দরিদ্র বাবার কয়েকজন বিবাহযোগ্য মেয়ে। তিনি উপযুক্ত যৌতুকের অভাবে মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছেন না। তাই তিনি কেবল সবুর করছেন। ভালো পাত্র পেলেও তিনি মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেন না। কারণ ভালো পাত্রের দেখা মিললেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় যৌতুক নামের হিংস্র ও লোভী হাঙরের, যা প্রত্যেক বাবার কপালে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটিয়ে তোলে।
সারকথা: যৌতুকপ্রথা এবং এর প্রভাবে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মানসিক অবস্থা উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে ফুটে উঠেছে।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
যৌতুকপ্রথা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। যৌতুকের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয় এদেশের হাজারো মেয়ের জীবন। যৌতুকের দুশ্চিন্তা হাজারো পিতা-মাতাকে গ্রাস করে। হাজারো তরুণীর স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মূল্যবান জীবন নিঃশেষ করে দেয়।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে লেখক যৌতুকের পাশাপাশি বিভিন্ন ফুলের নাম, পরিচয়, গন্ধ, ফোটার সময় প্রভৃতির অন্তরালে বাঙালি মেয়েদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এমনিভাবে হাস্যরসের মাধ্যমে জীবনের অনেক বাস্তবতার ছবি এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বর-কনেকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্কার, রসিক ঘটকের উপস্থিতিও বিদ্যমান রূপকের অন্তরালে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু একটি দিকই উপস্থিত হয়েছে। আর সেটা হলো যৌতুক এবং এর কুপ্রভাব। যৌতুক একজন কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার জন্য কত কষ্টকর তা এখানে ফুটে উঠেছে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পটি বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের সম্মিলনে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্পে রূপ নিয়েছে। এখানে সমাজের নানা অসংগতি, হাসি-আনন্দ, বিরহ, অসহায়ত্ব সবকিছুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। কিন্তু উদ্দীপকে মাত্র অসহায়ত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে। তাই একথা বলা যায় যে, বিষয়বস্তুর বৃহৎ পরিসর বিবেচনায় উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।
সারকথা: যৌতুকপ্রথা, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার কথা উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে বিদ্যমান। কিন্তু বিয়ে সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত তোই প্রশ্নোত্ত মন্ত্যব্যাট যথার্থ।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
০৪. শিমুলের ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে সবাই কন্যার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিয়েবাড়ি পৌছানোর সাথে সাথে কন্যাপক্ষের মেয়েরা গেট বন্ধ করে দাঁড়ায়। একজন বলে এক হাজার টাকা না দিলে যাইতে দিমু না। শিমুলের মামা বিরক্ত হয়ে বলে ওঠেন, টাকা কি গাং দিয়া ভাইসা আসে? টাকা দিতে পারব না। গেট ছাড়ো, নইলে বর নিয়া গেলাম। কন্যাপক্ষের একটি মেয়ে বলে, কী কিপ্টা মানুষরে, যান, টাকা লাগব না। লজ্জার খাতিরে বড় খালা তাদের হাতে পাঁচশ টাকা ধরিয়ে দেন। সবাই অত্যন্ত খুশি হয়ে বরকে বরণ করে নেয়।
(ক) বর কোন সময় বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল?
(খ) মল্লিকা ফুলের বিয়ে ঠিক হলো কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) ‘উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের বিয়ের ঘটনা গ্রামবাংলার প্রতিটি বিয়ের প্রতিচ্ছবি।” উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তরপত্র (৪নং প্রশ্ন)
(ক) বর গোধূলিলগ্নে বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল।
(খ) অনেক পাত্র দেখার পর যাচাই-বাছাই করেই তবে মল্লিকা ফুলের বিয়ে ঠিক হলো।
মল্লিকা ফুলের বাবা ক্ষুদ্র বৃক্ষ গরিব এবং অনেক কন্যাভারগ্রস্ত। মেয়ের বিয়ের জন্য অনেক পাত্র এলেও বিয়েটা স্থির হচ্ছিল না। স্থলপদ্ম পাত্র হিসেবে নির্দোষ হলেও অনেক উঁচু ঘরের ছেলে। তাই তার সাথে বিয়ে হলো না। জবা এ বিয়েতে সম্মত হলেও পাত্র রাগী হওয়ায় কন্যাকর্তা পেছালেন। আবার গন্ধরাজ সব দিক থেকে ভালো হলেও তার দেমাগ একটু বেশি। অবশেষে ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে এলেন এবং বংশ, সম্পদ, ভদ্রতা সব দিক থেকে উপযুক্ত পাত্র নির্বাচিত হয় গোলাব। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে গোলাবের সাথে মল্লিকার বিয়ে ঠিক হয়।
সারকথা: অনেক দেখাদেখি আর বিচার-বিবেচনার পর মল্লিকা ফুলের বিয়ে ঠিক হয়।
(গ) উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও আনন্দের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে।
বিয়ের অনুষ্ঠান সব সময় আনন্দের হয়। যে যেভাবে খুশি আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ের দিনটি উপভোগ করে। বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান পরিণত হয় আনন্দমেলায়। বিয়ের নানা রীতি, সংস্কৃতি সবটাই হয়ে থাকে আনন্দের।
উদ্দীপকে শিমুলের ভাই বিয়ে করতে এলে কন্যাপক্ষের কয়েকটি মেয়ে গেট আগলে দাঁড়ায়। কিছু টাকাও দাবি করে। এটা নিয়ে গেটে একপ্রকার বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এটা আমাদের গ্রাম্য সমাজের বিয়ের চিরন্তন রূপ। আর বিয়ের এমনই আনন্দময় রূপ ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও দেখা যায়। বরপক্ষ বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে উচ্চিঙ্গড়া নহবৎ বাজানো শুরু করল, খদ্যোতরা ঝাড় ধরল, আকাশে তারাবাজি হলো ইত্যাদি ঘটনায় বিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিয়েকে কেন্দ্র করে বিয়ের আগেই দুই পক্ষের এই আনন্দ, বায়না, বাকবিতণ্ডা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে।
সারকথা: বিয়েবাড়ির আনন্দ, ফুলস্থুল কান্ড উদ্দীপক ও গল্পে অত্যন্ত সুন্দর ও সরলভাবে ফুটে উঠেছে।
(ঘ) “উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের বিয়ের ঘটনা গ্রামবাংলার প্রতিটি বিয়ের প্রতিচ্ছবি।”- উক্তিটি যথার্থ।
বিয়ে মানে শুধু বর-কনেকে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়। বরং এটি আপনজনদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের অনুষ্ঠান। কনে দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের শেষ অনুষ্ঠান পর্যন্ত নানা আচার-অনুষ্ঠান গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা ফুলের সঙ্গে গোলাবের বিয়ে ঠিক হয়। নির্দিষ্ট দিনে বরপক্ষ যাত্রা করে। বাহক হিসেবে বাতাস বায়না করলেও সময়মতো থাকে না। বরযাত্রীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারপর পরম যত্নে তাদের বরণ এবং আপ্যায়ন করানো হয়। আর এ সবকিছুই গ্রামবাংলার বিয়ের চিরন্তন রূপ। এই রূপই প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে। উদ্দীপকেও বিয়েবাড়ির আনন্দ উদযাপন এবং রীতি-নীতি পালন প্রকাশ পেয়েছে। গেট আটকানো এবং বরের সঙ্গে মজা করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তারপর সাদরে তাদের বরণ করা হয়।
উদ্দীপক এবং ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রেক্ষাপট হলো বিয়ের অনুষ্ঠান। যেখানে মুখ্য বিষয় হলো সংস্কার ও রীতিনীতি। বিয়েকে কেন্দ্র করে এসব সংস্কার ও উৎসব সবকিছুই গ্রাম্য সমাজের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাধারণ চিত্র। আলোচ্য উদ্দীপকটি গ্রামবাংলার প্রতিটি বিয়ের একটা প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের বরযাত্রা, গেট ধরা, বরযাত্রী বরণ, অতিথি আপ্যায়ন এসব বিষয়ই গ্রামবাংলার বিয়ের প্রতিচ্ছবি। তাই উক্তিটি যথার্থ।
সারকথা: গ্রামের বিয়ে মানেই আচার-সংস্কারের মুষ্টিবাঁধা রূপ। কতকগুলো রীতিনীতি পালনের অন্যতম মাধ্যম। উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে উক্ত আনুষ্ঠানিকতার চিত্র চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
০৫. বিনোদ মশাইয়ের মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হওয়ায় তার ঘুম হারাম হয়েছে। মেয়েকে ভালো ঘরে পাত্রস্থ না করে তার শান্তি নেই। অনেক পাত্র দেখলেন কিন্তু মেয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে বাছাই করতে তিনি ব্যর্থ হন। এজন্য ঘটকের সাহায্য নেন। ঘটক মেয়ের উপযুক্ত পাত্র খুঁজে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিনোদ মশাই ঘটকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
(ক) কে মেয়ে দেখতে চাইল?
(খ) “ফর্দ দিবেন, কড়ায় গন্ডায় বুঝাইয়া দিবে” বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সাদৃশ্য কোথায়?- বুঝিয়ে দাও।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।”- মূল্যায়ন কর।
উত্তরপত্র (৫নং প্রশ্ন)
(ক) ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে মেয়ে দেখতে চাইল।
(খ) “ফর্দ দিবেন, কড়ায় গন্ডায় বুঝাইয়া দিবে” বলতে বরের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক/পণসামগ্রী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বোঝানো হয়েছে।
মল্লিকা ফুলের বাবা কন্যা বিবাহযোগ্যা হওয়ায় পাত্রের সন্ধান করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুতেই পাত্র স্থির করতে পারলেন না। এ সময় ভ্রমর ঘটক হয়ে মল্লিকা ফুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য মল্লিকাবৃক্ষের বাড়ি আসে। বিয়েতে যৌতুক দেওয়া সামাজিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কন্যার বাবার কাছে পণের খবর জানতে চায়। ঘটকের কথা শুনে মল্লিকারক্ষ আলোচ্য উক্তিটি করে।
সারকথা: বিয়েতে বরপক্ষ কন্যাপক্ষের কাছে পণ দাবি করে। মল্লিকাবৃক্ষ আশ্বাস দেয় তালিকা অনুযায়ী সব দেওয়া হবে।
(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার বিয়ে দেওয়ার চিন্তা এবং তা থেকে ঘটক কীভাবে চিন্তা দূর করল তার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
আমাদের সমাজের স্বাভাবিক চিত্র বিয়ের উপযুক্ত কন্যা ঘরে থাকলে বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। সুপাত্রের হাতে কন্যাকে সমর্পণ না করা পর্যন্ত তারা স্বস্তি পান না। আর এই সুপাত্রের সন্ধানে ঘটকের শরণাপন্ন হতে হয় অনেক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকের বিনোদ মশাই ঘরে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে থাকায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। মেয়েকে ভালো ঘরে পাত্রস্থ না করতে পারলে শান্তি নেই। এজন্য তিনি ঘটকের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ঘটক মেয়ের উপযুক্ত পাত্র খুঁজে বের করে বিয়েতে সহায়তা করেন। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও মল্লিকা ফুল বিয়ের উপযুক্ত হওয়ায় তার বাবা চিন্তিত হয়েছে। নিজে পাত্র স্থির করতে না পেরে ঘটকের সাহায্য নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মল্লিকা ফুলের বিয়ে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার এবং ঘটকের সাহায্যে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায়।
সারকথা: কন্যা বিয়ের যোগ্য হলে বাবা-মা উপযুক্ত পাত্রের হাতে তাকে সমর্পণ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এজন্য ঘটকের প্রয়োজন হয়। এখানেই উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সাদৃশ্য।
(ঘ) উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।”- উক্তিটি যথার্থ।
বিয়ে একটি সামাজিক রীতি। ছেলে-মেয়ে বিয়ের যোগ্য হলে উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচন করে বিয়ে দেওয়া হয়। আর বিয়ের ক্ষেত্রে ঘটক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঙালি বিয়েবাড়িতে নানা রকম আয়োজন করা হয়।
উদ্দীপকে বিনোদ মশাইয়ের বিয়ের যোগ্য মেয়ে নিয়ে চিন্তার বর্ণনা পাই। মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে পেতে পিতা ব্যর্থ হন। এরপর মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রের খোঁজে তিনি ঘটকের সহযোগিতা নেন এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েকে পাত্রস্থ করতে সমর্থ হন।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা ফুলের বিয়ে নিয়ে তার বাবা চিন্তিত। তার সেই চিন্তা থেকে মুক্ত করতে ঘটকের আবির্ভাব ঘটে।
উদ্দীপকে মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তা ও ঘটকের মাধ্যমে সেই চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিনোদ মশাই। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও উদ্দীপকের এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়াও বিয়েতে যৌতুক, ঘটকের পাওনা, বিয়েবাড়ির নানা আয়োজন এবং বিয়েকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসবের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আংশিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
সারকথা: উপযুক্ত পাত্রের হাতে মেয়েকে সমর্পণ করতে ঘটকের মধ্যস্থতার বিষয়টি উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে থাকলেও আলোচ্য গল্পে আরও অনেক আচার ও বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
০৬. রহনপুর গ্রামের মেয়ে নাসিমা বেগম। ছোটবেলায় স্বামী মারা যাওয়ায় আর শ্বশুরবাড়ি তার যাওয়া হয়নি। মাঝবয়সি এই মহিলা এখন ঘটকালির কাজ করেন। গ্রামের বিবাহযোগ্য মেয়েদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কন্যার পিতাকে সুপাত্রের সন্ধান দেন এবং বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন করতে সাহায্য করেন। এজন্য তিনি অবশ্য কন্যার পিতার কাছ থেকে শাড়ি কাপড় ও অর্থসম্পদ গ্রহণ করেন।
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কার ফুলবাগানে বসে একটি বিবাহ দেখলেন?
(খ) স্থলপদ্মকে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে কেন?- বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকের নাসিমা বেগমের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের একটিমাত্র বিষয়কে প্রকাশ করে”- মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তরপত্র (৬নং প্রশ্ন)
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নসীবাবুর বাগানে বসে একটি বিবাহ দেখলেন।
(খ) স্থলপদ্মকে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে, কারণ তার ঘর খুব উঁচু।
‘ফুলের বিবাহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি হাস্যরসাত্মক রচনা। বিবাহের মাস বৈশাখের প্রথম দিনে নসীবাবুর বাগানে বসে লেখক কল্পনায় ফুলের বিয়ে দেখেছেন। সেখানে মল্লিকা ফুলের বিয়ের জন্য উদ্যানের রাজা স্থলপদ্মের সাথে সম্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছিল। তবে স্থলপদ্ম অনেক বড়ো ঘর বা উচ্চবংশীয় ফুল। তাই স্থলপদ্মের সাথে মল্লিকা ফুলের বিয়ে হয়নি। আসলে এখানে স্থলপদ্মকে ফুলের মধ্যে উচ্চ শ্রেণির বিবেচনা করা হয়েছে। বুনো ফুলের মতো অনাদর-অবহেলায় বড় নয়। তাই স্থলপদ্মকে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে।
সারকথা: স্থলপদ্ম ফুলেদের মধ্যে উচ্চ বংশজাত। তাই একে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের নাসিমা বেগমের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ঘটক ভ্রমরের সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের জীবনে অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর দরকার হয়। মধ্যস্থতাকারিত্ব একটি অসাধারণ গুণ। সবার মধ্যে এ গুণটি পরিপূর্ণতা পায় না। মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থাপনা কৌশল চমৎকার।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা-কলি ও গোলাবের সম্বন্ধের মধ্যস্থতাকারী ঘটকরাজ ভ্রমর। ফুল সমাজে ঘটক হিসেবে ভ্রমরের রয়েছে ব্যাপক সুনাম। অসাধারণ কৌশলে গুনগুন আওয়াজে ভ্রমর তার ঘটকালি সম্পাদন করেছে। উচ্চবংশীয় গোলাবের সঙ্গে ভ্রমরের দক্ষতার গুণে মল্লিকা ফুলের বিয়ে হয়। তবে ঘটক এজন্য তার পারিশ্রমিক হিসেবে মধু নিয়েছে। উদ্দীপকের নাসিমা বেগম অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে ঘটকের কাজ নিয়েছেন। গ্রামের বিবাহযোগ্য মেয়েদের বাড়িতে গিয়ে তিনি কন্যার পিতাদের সৎ পাত্রের সন্ধান দিয়ে সম্বন্দ্ব স্থাপনে সহায়তা করেন। তবে এজন্য তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে শাড়ি কাপড় ও নগদ অর্থসম্পদ গ্রহণ করেন। সুতরাং নাসিমা বেগমের ঘটকালির সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমরের ঘটকালির সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মল্লিকা-কলির সাথে গোলাবের বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হলো ভ্রমর। উদ্দীপকের নাসিমা বেগম বিয়েতে ভ্রমরের মতোই ঘটকের কাজ করায় তার সাথে ভ্রমর চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের একটিমাত্র বিষয়কে প্রকাশ করে।”- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
বিবাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চুক্তি। বর-কনে এ চুক্তির কেন্দ্রে থাকলেও ঘটক বা মধ্যস্থতাকারী এ চুক্তিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কন্যাভারগ্রস্ত মল্লিকাবৃক্ষ পাত্র নির্বাচনের চিন্তায় উদ্বিগ্ন। পাত্র হিসেবে কেউ বংশীয় কারণে, কেউ রাগ-দেমাগের কারণে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন সময় ঘটক ভ্রমর তার চিন্তা লাঘব করে দেয়। তবে ঘটক পারিশ্রমিক হিসেবে মধু নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেছে। ভ্রমরের মতো উদ্দীপকের নাসিমা বেগমও অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে পেশা হিসেবে তিনি ঘটকালিকে বেছে নেন। কন্যাভারগ্রস্ত পিতামাতাকে সৎপাত্রের সন্ধান দিয়ে সম্বন্ধ করতে সাহায্য করেন। এর বিনিময়ে তিনি নগদ অর্থ ও শাড়ি পারিশ্রমিক নেন।
উদ্দীপকের নাসিমা বেগমের কর্মকান্ডে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ঘটক ভ্রমরের কর্মকান্ডের দিকটি ফুটে উঠেছে, যা এ গল্পের একটিমাত্র দিক। এছাড়া এ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পাত্র-পাত্রী মল্লিকা ফুল ও গোলাবের বিয়ের অনুষ্ঠান, সাজসজ্জা, দায়িত্বপ্রাপ্ত পতঙ্গ মৌমাছি, পিঁপড়া, জোনাকির বিষয়, মল্লিকাবৃক্ষের প্রতিবেশী যূথী, মৌরী, গন্ধরাজ, রজনিগন্ধা, বরযাত্রী জবা ফুলের বংশ ইত্যাদি প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। বঙ্কিমচন্দ্রের দিব্যকর্ণপ্রাপ্তির কথা, নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতার প্রসঙ্গও উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের একটিমাত্র বিষয়কে প্রকাশ করে।
সারকথা: উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমরের কাজটি নাসিমা বেগমের মাধ্যমে পূর্ণতা পেলেও রচনার পাত্র-পাত্রী, অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ লেখকের কল্পনা দিকটি প্রকাশ না পাওয়ায় উদ্দীপকটি রচনার একটিমাত্র দিকের প্রকাশক।
০৭. বিবাহের দুটি পক্ষ থাকে। একটি বরপক্ষ, অন্যটি কনেপক্ষ। বর ও কনের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত ব্যাপারে নানা বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়। ছেলের বা হবু বরের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, সুখ-শান্তি ও ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ের সাথে যৌতুকের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। আর এ যৌতুকের উপর ভিত্তি করে কনের বিবাহ নির্ধারিত হয়।
(ক) ‘গন্ধোপাধ্যায়’ শব্দটি লেখক কী হিসেবে ব্যবহার করেছেন?
(খ) আমিও যে এই ফুলের বিয়ে দিয়েছি।”- কথাটি ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মিলের ক্ষেত্রটি চিহ্নিত কর।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।”- মূল্যায়ন কর।
উত্তরপত্র (৭নং প্রশ্ন)
ক) ‘গন্ধোপাধ্যায়’ শব্দটি লেখক ‘গন্ধের রাজা’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন।
খ) “আমিও যে এই ফুলের বিয়ে দিয়েছি।”- উক্তিটি দ্বারা নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতার মল্লিকা ফুল ও গোলাব দিয়ে মালা গাঁথার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে বঙ্কিমচন্দ্র নসীবাবুর বাগানে ফুলের ওপর ভ্রমর উড়তে দেখে অন্যমনস্ক হয়ে কল্প-বাস্তবতায় ফুলের বিয়ে দেখেন। মল্লিকা ফুলের কলির সাথে গোলাবের বিয়েতে ঘটকের দায়িত্বে থাকে ভ্রমর। করবী, গন্ধরাজ, জবা, বেলি ফুল এই বিয়েতে আনন্দের সঙ্গে অংশ নেয়। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতা লেখকের অচেতনতা ভেঙে বাস্তবে নিয়ে আসে। লেখক দিব্যকর্ণপ্রাপ্ত হয়ে ফুলের বিয়ের কথা জানালে কুসুমলতা নিজের হাতের ফুলের মালা দেখিয়ে বলে সেও ফুলের বিয়ে দিয়েছে। আর সেখানে স্থান পেয়েছে লেখক কল্পিত ফুল গোলাব ও মল্লিকা।
সারকথা: কমলাকান্ডের কল্পনায় দেখা ফুলের বিয়ের মতো নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতা গোলাব ও মল্লিকা ফুলকে একই সুতায় বেঁধে মালা গেথে বিয়ে দিয়েছে খেলাচ্ছলো।
গ) উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে তাদের অবস্থানের বিবেচনা করার বিষয়ের মিল রয়েছে।
প্রত্যেক চুক্তির মধ্যে কমপক্ষে দুটি পক্ষ থাকে। বিয়ে নামক সামাজিক চুক্তিতেও বর-কনে এই দুটি পক্ষ থাকে। বিয়ে সম্পর্কিত যাবতীয় আলাপে এ দুটি পক্ষের অংশগ্রহণ থাকে, তাদের মত-অমতকে মূল্যায়ন করা হয়।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে নসীবাবুর বাগানের মল্লিকা ফুলের বিবাহযোগ্যা কলির জন্য কন্যাকর্তা পাত্র নির্বাচন সম্পর্কে দ্বন্দ্বে ছিল। মল্লিকাবৃক্ষ বড় বংশের নয়। ওদিকে পাত্র হিসেবে স্থলপদ্ম সৎ হলেও তারা উচ্চ বংশীয়। জবা পাত্র হিসেবে রাগী হওয়ায় তাকে পছন্দ নয় কন্যাকর্তার। গন্ধরাজ পাত্র হিসেবে ভালো হলেও তার বড় দেমাগ। তাই কন্যাকর্তা মল্লিকাবৃক্ষ ইতস্তত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিয়েতে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের বিবাহসংক্রান্ত ব্যাপারে নানা আলোচনা হয়। বরের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, সুখ-শান্তি, ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ের প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেই সাথে যৌতুকের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। বিষয়টি মল্লিকা ফুলের পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বংশমর্যাদা, স্বভাবের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার দিকের সাথে মেলে এবং যৌতুক হিসেবে মধু দেওয়ার বিষয়টিও যৌতুক প্রথা তুলে ধরেছে।
সারকথা: বিবাহ অনুষ্ঠানে পাত্র-পাত্রীর বংশীয় অবস্থা, যোগ্যতা ও মর্যাদার দিক বিবেচনার বিষয়টি উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পকে মেলাতে সক্ষম হয়েছে।
ঘ) “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বিবাহ সমাজে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে বিয়ে ঠিক করে এবং বিয়েতে দানপত্র সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে লেখক দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে মানবসমাজের বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুরূপে ফুলের বিয়ের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। মল্লিকাবৃক্ষ কন্যাভারগ্রস্ত। পাত্র নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় ভুগলে ঘটক ভ্রমর তার কাজটি সহজ করে দেয়। বিয়ের যৌতুক হিসেবে মধু দিতে চান কন্যাকর্তা। সেখানে পাত্রের গুণ, বংশ ইত্যাদি আলোচনা করা হয় বিয়ের পূর্বে। উদ্দীপকেও বিবাহ সম্পর্কে পাত্র-পাত্রীর সামাজিক মতামতের দিকটি ফুটে উঠেছে। পাত্রের যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ সুখ-শান্তির সাথে যৌতুকের
বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্প উভয় ক্ষেত্রেই বিবাহের সামাজিকতার বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে পাত্র
হিসেবে। স্থলপদ্ম, গন্ধরাজ ও জবার বৈশিষ্ট্য ও বংশীয় মর্যাদাকে সামনে আনা হয়েছে। অবশেষে গোলাবের গুণ ও বংশমর্যাদা দেখে বিয়ে দেওয়া হয়েছে মল্লিকা ফুলকে। যৌতুক হিসেবে মল্লিকাবৃক্ষ মধুর ফর্দ কড়ায়-গন্ডায় বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে। আর এই যৌতুকের ওপরই বিয়ের চুক্তি পাকাপাকি করেছে ঘটক ভ্রমর। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের বিষয়গুলো ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
সারকথা: ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের পাত্র-পাত্রী হিসেবে মল্লিকাকলি গোলাবের বংশমর্যাদা, যোগ্যতা, যৌতুক ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকের সাথে সালাকৃত বলে উদ্দীপকটি ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
০৮. গফুর মিয়া হাজির হয়েছেন রামগোপালের বাড়ি। এর আগেও বহুবার এসেছেন তিনি। বহু নামিদামি পাত্র দেখিয়েছেন। কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। অবশ্য এজন্য তাকে প্রতিবারই সম্মানি দেওয়া হয়েছে। এজন্যই তার এত গরজ। অবশেষে আজ রামগোপালের পাত্র পছন্দ হলো। কিছুদিনের মধ্যেই সারা বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দের মেলা বসল।
(ক) বিয়ের পাত্র কে?
(খ) বরপক্ষের বড় বিপদ দেখা দিল কেন? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের গফুর মিয়ার সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “গফুর মিয়া ও ভ্রমরের মতো মানুষই বিয়ের অনুষ্ঠান সার্থক করে তোলে।” তুমি কি একমত? ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তরপত্র (৮নং প্রশ্ন)
ক) বিয়ের পাত্র হলো গোলাব।
খ) যথাসময়ে বাহকের অনুপস্থিতির কারণেই বরপক্ষের বিপদ দেখা দিল।
বরপক্ষ বিয়েবাড়ি যাবে। কিন্তু বাহক অনুপস্থিত। বাহকের বায়না নিয়েছিলেন বাতাস। তখন হুঁ-হুম করে অনেক মর্দানি করেছিলেন কিন্তু কাজের সময় তিনি কোথায় গেলেন, কেউ খুঁজে পায় না। তিনি যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিল না বলেই বরপক্ষ বিপদের মধ্যে পড়ে যায়।
সারকথা: বাহক বাতাসের অনুপস্থিতির জন্য বরপক্ষের বড় বিপদ দেখা দিল।
গ) উদ্দীপকের গফুর মিয়ার সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমরের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই বিয়ের ক্ষেত্রে ঘটকের বিশেষ ভূমিকা থাকে। ঘটক ছেলে ও মেয়ে উভয় পক্ষের বার্তা আদান-প্রদান করেন। ঘটক ছেলে ও মেয়ের পরিবারের প্রিয়পাত্র হন। কারণ উভয় পরিবারের মধ্যমণি হয়ে তিনি ছোট-বড় অনেক সমস্যার সমাধান করেন।
উদ্দীপকে ঘটকের চরিত্রে গফুর মিয়াকে দেখা যায়, যিনি বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে মেয়ের বাড়িতে আসেন। একইভাবে ছেলের বাড়িতেও যান এবং উভয় পরিবারের পছন্দ এক হয়ে গেলে বিয়ের কাজ সমাধা করেন। এটার জন্য তাকে পারিশ্রমিক দিতে হয়। কারণ এটা তার পেশা। এই একই পেশার আরেকটি চরিত্রের সাক্ষাৎ পাই ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমরের মধ্যে। ভ্রমর মল্লিকা ফুলের জন্য পাত্রের সন্ধান নিয়ে আসে। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলাব ও মল্লিকার মধ্যকার সামাজিক বন্ধন তৈরিতে একটি সক্রিয় চরিত্র হলো ভ্রমররাজ। তাই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের গফুর মিয়া ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমর পেশাগত দিক থেকে সাদৃশ্য বজায় রাখে।
সারকথা: উদ্দীপকের গফুর মিয়া ও গল্পের ভ্রমর উভয়ই ঘটক। তাদের এই পেশা দুজনকে একই সুতোয় গেঁথেছে।
ঘ) গফুর মিয়া ও ভ্রমরের মতো মানুষই বিয়ের অনুষ্ঠান সার্থক করে তোলে।”- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।
আমাদের বাঙালি সমাজে এখনও পর্যন্ত বর ও কনে দেখার রীতি প্রচলিত। আর ঘটকরা দুটি অচেনা পরিবারের মধ্যে বর-কনে দেখার মতো সামাজিক রীতিকে সার্থক করে তোলেন। তারাই দুই পক্ষের চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দ উভয়ের সামনে উপস্থাপন করে বিয়ের আয়োজন করতে সহায়তা করেন।
উদ্দীপকের গফুর মিয়া টাকার বিনিময়ে ঘটকালি করেন। তাই বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং কয়েকবারের চেষ্টার পর পছন্দমতো পাত্র জোগাড় করতে সমর্থ হয়েছেন। উদ্দীপকের ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পেও ঘটকরূপী ভ্রমরকে দেখা যায়। সেখানেও ভ্রমর গোলাব আর মল্লিকা ফুলের বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। দুই পরিবারকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছে।
ঘটক হলেন বিয়ের দূত। উদ্দীপকের গফুর মিয়া কিংবা ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ভ্রমরের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং এ থেকে বলা যায়, ঘটকরা টাকার বিনিময়ে কাজ করলেও বিয়ে সুসম্পন্ন করে তুলতে তাদের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, গফুর মিয়া ও ভ্রমরের মতো মানুষরাই বিয়ের অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তোলে।
সারকথা: আমাদের সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে ঘটকের ভূমিকা অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আরও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং এদের PDF কপি সংগ্রহ করে নাও। নিচের “Answer Sheet” বোতামে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাধান।
সকল বিষয়ে সমাধান ও সাজেশন পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটনটি প্রেস করে রাখো এবং সকল গাইড ও সাজেশন মোবাইলে পড়তে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করে নাও। এতে তোমাদের পড়াশোনা হবে আরও সহজ ও মজার!!
Codehorse Learn Free