চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। যেমন-শরীরের কোনো অংশ কেটে যাওয়া, হাড় ভেঙে বা মচকে যাওয়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে যাওয়া, বিদ্যুতায়িত হওয়া ইত্যাদি।
চতুর্থ শ্রেণি বিজ্ঞান দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশ্ন উত্তর:
গাছ থেকে পড়ে আঘাত লেগে আমাদের দেহের কোনো অংশ কেটে বা ভেঙে যেতে পারে। ফলে অঙ্গহানি, রক্তপাত, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। পানিতে ডুবে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আমরা মৃত্যুর মুখোমুখিও হতে পারি। আগুন লাগলে শরীরের নানা অংশ পুড়ে যায়, গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। সাপের কামড়েও মৃত্যু-ঝুঁকি থাকে। সাপের বিষ রক্তে মিশে গিয়ে শ্বাসকষ্ট ও অঙ্গে পচন সৃষ্টি করতে পারে। রোগীর পক্ষাঘাতও হতে পারে। তড়িতাহত হলে আমাদের দেহের ত্বক, পেশি, স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। এতেও মৃত্যু- ঝুঁকি থাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি ঘটে, কখনো মৃত্যুও হয়। দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি। সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।
সতর্ক থাকলে আমরা সহজেই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি। তাই এই সতর্কতামূলক প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলো জানা ও তা মেনে চলা জরুরি।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে আরও কিছু জানি …
খেলার সময় আঘাত-
এরকম আঘাত থেকে রক্ষা পেতে হলে খেলার সময় অন্যদেরকে দেখে দৌড়াব এবং কাউকে ধাক্কা দিব না। অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।
কেটে যাওয়া-
ছুরি, কাঁচি বা ধারালো কিছু ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের হাত বা শরীরের কোনো অংশ কেটে যায়। তাই এরূপ আঘাত থেকে বাঁচতে ধারালো বস্তু ব্যবহারের সময় আমরা বড়োদের সাহায্য নিব। এতে শরীরের কোথাও কেটে গিয়ে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা থাকবে না।
গাছ থেকে পড়ে যাওয়া-
বৃষ্টির দিনে কখনো গাছে উঠব না। অন্য সময়ও সাবধানে গাছে উঠব, যাতে পড়ে না যাই। গাছে উঠার সময় কাউকে গাছের নিচে দাঁড় করিয়ে রাখব।
পানিতে ডোবা-
আমরা অনেকেই সাঁতার কাটতে ও পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি করতে পছন্দ করি। সাঁতার না জানা থাকলে কখনোই পুকুরে, খালে, নদীতে একা একা নামব না বা গোসল করব না। এ সময় অবশ্যই বড়োদেরকে সাথে রাখব। এতে পানিতে ডুবে যাবার সম্ভাবনা থাকবে না। সাঁতার শিখেও পানিতে ডোবাজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
আগুনজনিত দুর্ঘটনা-
খালি হাতে গরম কিছু ধরবো না। অনেক সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। এক্ষেত্রে বাড়ির বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগের ব্যাপারে সাবধান থাকব। দিয়াশলাই, জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেট ও চুলা ইত্যাদি থেকে ঘর-বাড়ি বা স্থাপনায় আগুন লেগে যায়। অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দিয়াশলাই বা আগুনের কোনো উৎস যেমন- কুপি, হারিকেন, মোমবাতি ইত্যাদি নিয়ে খেলব না। সহজে আগুন লাগে এমন কিছু যেমন- কাগজ, কাপড়, কাঠ ইত্যাদি আগুনের কাছ থেকে দূরে রাখব। এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়।
তড়িতাহত হওয়া-
ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক জিনিস ধরলে শক লাগতে পারে। একে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বলে। এটি এড়াতে বড়োদের সাহায্য ছাড়া বা ভেজা হাতে কখনোই বৈদ্যুতিক তার বা কোনো জিনিস ধরব না।
সড়ক দুর্ঘটনা-
নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সব সময় ডান ও বাম দিক লক্ষ করে, সিগনাল বাতি দেখে সতর্কভাবে রাস্তা পার হব। এতে দুর্ঘটনা বহুলাংশে প্রতিরোধ করা যায়। রাস্তায় জেব্রাক্রসিং অথবা রাস্তার পাশে ফুটপাথ থাকলে অবশ্যই তা ব্যবহার করব।
সাপে কাটা-
বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে না। সাপ থাকতে পারে এমন জায়গা এড়িয়ে চলব। রাতে বাতি ও লাঠি নিয়ে চলাফেরা করলে নিরাপদ থাকব। সাপের খেলা দেখার সময়ও সতর্ক থাকব। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় থাকলে তা পরিষ্কার করব, ইঁদুরের গর্ত থাকলে তা ভরাট করব।
১। সঠিক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করি: (বোর্ড বই)
ক) দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি।
খ) সাঁতার না জানলে পানিতে একলা নামব না।
গ) আগুন নিয়ে খেলা বিপজ্জনক।
ঘ) দুর্ঘটনা-কবলিত ব্যক্তিকে প্রথমে স্থির রাখতে হবে।
ঙ) প্রাথমিক চিকিৎসা জীবন হানির সম্ভাবনা কমায়।
২। সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দিই।
১) কোনটি দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি নয়?
ক) রক্তপাত
খ) বদহজম√
গ) অঙ্গহানি
ঘ) মৃত্যুঝুঁকি
২) কোন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?
ক) বৃষ্টি ভিজে সর্দি হলে
খ) খাবার বদহজম হলে
গ) খেলার সময় সামান্য আঘাত পেলে
ঘ) বুকে ব্যাথার সাথে ঘাম হওয়া√
৩) ফানুস নিয়ে অসাবধানে খেললে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে?
ক) আগুনজনিত√
খ) আঘাতজনিত
গ) বিষক্রিয়াঘটিত
ঘ) রক্তপাতঘটিত
৩। সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: (বোর্ড বই)
ক) কয়েকটি দুর্ঘটনার নাম লিখি।
উত্তর: আমাদের জীবনে সাধারণ দুর্ঘটনার মধ্যে আছে গাছ থেকে পড়া, পানিতে ডোবা, আগুনে পোড়া, সাপের কামড়, তড়িতাহত এবং সড়ক দুর্ঘটনা। এগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে পারে এবং কখনো কখনো মৃত্যুর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
খ) কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে কী করতে হয়?
উত্তর: প্রথমে ব্যক্তি স্থির রাখতে হবে। ভেজা হাতে বা তার দ্বারা তাকে স্পর্শ করা যাবে না। বড়দের সাহায্য নেওয়া উচিত। বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।
গ) প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রাথমিক চিকিৎসা হলো দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার আসে সাময়িক সাহায্য দেওয়া। যেমন: পানিতে ডোবা ব্যক্তিকে ফুঁ দিয়ে শ্বাস দেওয়া, সাপে কাটা হলে স্থির রাখা, আগুনে পোড়া হলে ঠান্ডা পানি দেওয়া। এটি জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
📘 সকল গাইড, বই ও সাজেশন পেতে আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করো: Install Now
৪। বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন (বোর্ড বই)
ক) প্রাথমিক চিকিৎসার সাধারণ নিয়মগুলো কী কী?
উত্তর: প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় সবচেয়ে আসে বড়দের বা জরুরি সেবা থেকে সাহায্য নেওয়া উচিত। আহত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব স্থির রাখা জরুরি, যাতে আঘাত আরও বাড়ে না। যদি রক্তপাত হয়, তবে পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধ করতে হবে। আগুনে পোড়া বা গরম বস্তু ছোঁয়া হলে দ্রুত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে এবং ক্ষত পরিষ্কার রাখা উচিত। সাপে কাটা, তড়িৎ আঘাত বা বিষক্রিয়াজনিত আঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। আহত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সরানো ঠিক নয়, কারণ এটি আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে এবং আহত ব্যক্তিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ না ছড়াতে পরিষ্কার রাখা জরুরি। আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। যদি প্রয়োজন হয়, হালকা ঘষামাঝি দিয়ে বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে চোটের তাপ কমানো যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আহত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে দুর্ঘটনার প্রভাব কমানো যায়।
খ) পানিতে ডোবা ব্যক্তিকে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়?
উত্তর: প্রথমে ডোবা ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব পানি থেকে উদ্ধার করতে হবে। তাকে পেটে চাপ দিয়ে শুইয়ে পানি বের করার চেষ্টা করতে হবে। মাথার অবস্থান ঠিক রেখে মুখে মুখে ফুঁ দেওয়া শুরু করতে হবে। মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে সময় দেওয়া উচিত। যদি বুক ফুলে না ওঠে, আবার ফুঁ দেওয়া হবে এবং এ প্রক্রিয়া শ্বাস স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। আহত ব্যক্তিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সরানো যাবে না। যদি সম্ভব হয়, একজন বড় বা অভিজ্ঞ মানুষ সহায়তা করবে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নরম বা সমতল জায়গায় রাখা উচিত। আহত ব্যক্তির কাপড় বা পোশাক চাপা না দিয়ে কেবল আঘাত স্থানকে নিরাপদ রাখা জরুরি। শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক থাকলে তাকে শীত বা হালকা কম্প্রেশন দেওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত। পানি থেকে উদ্ধার করার সময় নিজেরও নিরাপদে থাকা জরুরি।
গ) দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
উত্তর: দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে প্রথমে সব সময় সতর্ক থাকা দরকার। খেলার সময় অন্যদের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি এবং কোনো ঝুঁকিপূর্ণ খেলা করলে বড়দের সাহায্য নেওয়া উচিত। ধারালো বা গরম বস্তু ব্যবহার করার সময় বিশেষ সাবধানতা নেওয়া উচিত। গাছে ওঠার সময় শক্ত জায়গায় পা রাখা এবং সহজভাবে চড়াই না করা উচিত। পানিতে একা নামা বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাওয়া ঠিক নয়। আগুন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং রাস্তার কাছাকাছি যাওয়া এড়ানো উচিত। রাস্তা পার হওয়ার সময় ডান-বাম দেখে এবং হেলমেট বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা জরুরি। সাপ, বিষাক্ত পোকা বা অন্য বিপজ্জনক প্রাণী থাকা স্থান এড়ানো দরকার। খেলাধুলা করার সময় নিরাপদ জায়গা নির্বাচন করা উচিত। সতর্ক থাকলে অপ্রয়োজনীয় আঘাত এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বড়দের পরামর্শ নেওয়া, নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজের সতর্কতা বৃদ্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব অভ্যাসে দৈনন্দিন জীবন অনেক নিরাপদ হয়ে যায়।
Codehorse Learn Free